ক্রিকেট মানেই যেখানে অনিশ্চয়তার খেলা, পাকিস্তান যেন সেখানে একটু বেশিই রহস্যে ঘেরা। আনপ্রেডিক্টেবল শব্দটা তো এমনি এমনিই জুটেনি। অকল্যান্ডেও তার ব্যক্তিক্রম কিছু ঘটেনি।
অকল্যান্ডে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের করা ২০৪ রান ২৪ বল ও ৯ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে পাকিস্তান। ১৬ ওভারেই দুই শতাধিক রান তাড়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই প্রথম।
এমন দাপুটে জয় দেখে কে বলবে, এই দলটাই আগের দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ধুঁকেছে। প্রথম ম্যাচে ৯১ রানে গুটিয়ে যাবার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে ১৩৫ রান। হেরে যায় সেই দুটো ম্যাচেই। আর এবার যখন লক্ষ্য ২০৫ রানের। দেখা দেয় দুই ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হারের শঙ্কা।
সেই শঙ্কা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন হাসান-নাওয়াজ। সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টিতে রানের খাতা খুলতে না পারা এই তরুণ ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই পৌঁছে যান তিন অংকের ঘরে! খেলেন ৪৫ বলে ১০৫ রানের ইনিংস।
হার না মানা এই ইনিংস খেলার পথে হাসান ভাঙেন পাকিস্তানের হয়ে বাবর আজমের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। মাত্র ৪৪ বলে পৌঁছান তিন অংকের ঘরে। বাবরের দ্রুততম সেঞ্চুরিটি ছিল ৪৯ বলে।
ওপেনার হারিসের সাথে তুলেন ৭৪ রান। ২০ বলে ৪১ রান করে ৫.৫ ওভারে আউট হন হারিস। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সালমান আগার সাথে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১৩৩ রানের জুটি। যেখানে ৩০ বলে ৭৫ রানই তোলেন হাসান।
৩১ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন আগা সালমান। তাতে মাত্র ১৬ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছায় পাকিস্তান। দুই শতাধিক রান তাড়ায় যা সবচেয়ে দ্রুততম জয়ের রেকর্ড।
এর আগে আগে ব্যাট করে ১৯.৫ ওভারে ২০৪ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন মার্ক চাপম্যান। ১৮ বলে ৩১ রান আসে ব্রেসওয়েলের ব্যাটে।
পাকিস্তানের হয়ে হারিস রউফ ৩, শাহিন আফ্রিদি, আব্বাস আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ নেন দুটো করে উইকেট।