মণিপুরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ১, উত্তপ্ত পরিস্থিতি

0
16

ভারতের মণিপুরে কুকি-জো অধ্যুষিত এলাকা চুরাচাঁদপুরে মঙ্গলবার হামার ও জোমি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের দুইদিন পরও সেখানকার পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, সংঘাতের পর স্কুল ও দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এলাকায় শান্তি পুনরুদ্ধারে গির্জার নেতারা ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলো কাজ করছে।

এদিকে, বুধবার রাতে আরো সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা কর্মীরা পতাকা মিছিল করে।

মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষে লালরোপুই পাখুয়াংতে (৫১) নামে হামার সম্প্রদায়ের একজন নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিলমাট খ্রিস্টান হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে, রোববার হামার ইনপুইয়ের সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড হামারের ওপর জোমি সম্প্রদায়ের আক্রমণের পর থেকে দুই উপজাতির মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সহিংসতার জেরে পরদিন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়।

ইতোমধ্যে, ত্রাণ শিবিরে থাকা কুকি সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন বাস্তুচ্যুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। চুরাচাঁদপুর শহরটি মূলত জোমি সম্প্রদায়ের আবাসস্থল। তবে কিছু এলাকায় হামার ও কুকি সম্প্রদায়ও বসবাস করে।

বুধবার চুরাচাঁদপুর জেলায় একটি ছাত্র সংগঠন নতুন করে শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছে। এর কয়েক ঘন্টা পর বিধায়কদের একটি দল ও উপজাতি সংগঠনগুলো পৃথকভাবে শান্তির আবেদন জানিয়েছে।

একটি যৌথ বিবৃতিতে চুরাচাঁদপুর জেলায় অবস্থিত কমপক্ষে ১২টি কুকি-জোমি ও হামার সংগঠন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে ভুল বোঝাবুঝি রোধ করার জন্য একটি যৌথ শান্তি কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে।

চুরাচাঁদপুর ও ফেরজাউল জেলার ছয়জন বিধায়ক শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য একটি যৌথ আবেদন জারি করেছেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইটাই ও কুকি-জো গোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত সহিংসতায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার গৃহহীন হয়েছে।

সূত্র : নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here