Home Blog

বৈঠকে এলজিআরডি মন্ত্রী ঢাকার পানি সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে ডেনমার্ক

ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা ও সংকট মোকাবিলায় ডেনমার্কের সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে ডেনমার্ক বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের দ্বিপাক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পে ডেনমার্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পানি সরবরাহ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডেনমার্ক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ডেনমার্কের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

বৈঠকে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প (ফেজ-৩)-এ ডেনমার্কের অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রকল্পটিতে ডেনমার্ক সরকার সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। এর মধ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুদান এবং তিন হাজার কোটি টাকা স্বল্পসুদে ঋণ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ডেনমার্কের সহযোগিতা সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ পরিবর্তন কমাতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি

প্রতিদিনের খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, একা খাওয়ার বদলে পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস বিষণ্নতার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে এই অভ্যাস মানসিক ভালো থাকা ও জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস

অন্যদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়াকে ‘কমেনসালিটি’ বলা হয়। খাবারের সময় একসঙ্গে থাকা, কথা বলা এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। গবেষকেরা মনে করেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের এক গবেষণায় ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৩৬১ জন নারীকে নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মানুষের সংখ্যা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক পাওয়া যায়।

একা খাওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক

জাপানের একটি গবেষণায়ও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী যেসব ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেও নিয়মিত একা খাবার খেতেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল।

মানসিক ভালো থাকায় ভূমিকা

২০২৪ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা বেশি দিন অন্যদের সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবার খেয়েছেন, তাঁদের মানসিক ভালো থাকার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, অন্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস জীবনের প্রতি সন্তুষ্টির সঙ্গেও সম্পর্কিত। খাবারের টেবিলে নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্ত হতে পারে।

খাবারের সময় ভালো লাগার অনুভূতি

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবিক নৃবিজ্ঞানী রবিন ডানবারের মতে, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিনের কার্যক্রম বাড়তে পারে। এন্ডোরফিন শরীরে তৈরি হওয়া এমন একটি রাসায়নিক, যা ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত বসে খাবার খাওয়ার সুযোগ তাই সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী হতে পারে।

বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের অনুকূলে দেওয়া বিএসটিআই লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত হওয়ায় এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে বিএসটিআই।

আজ বুধবার বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গেলেও কয়েকটি ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থ হয়।

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি। পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে তা ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী অকৃতকার্য হয়েছে। এসব মসলায় মোট অ্যাশ ও লবণের মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।

নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েলের তালিকায় রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।

পরীক্ষায় এসব ঘি ও বাটার অয়েলে রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালু নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল রোধে সার্ভিল্যান্সের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন মহাপরিচালক।

আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র, কার সঙ্গে খেলবে পিএসজি-রিয়াল-বার্সা?

নতুন কাঠামোর চ্যাম্পিয়নস লিগে পর্দা উঠছে নতুন মৌসুমের। বাছাইপর্বের প্লে-অফ শেষ হয়েছে গতকাল রাতে। এবার লিগ পর্বের প্রতিপক্ষ নির্ধারণের পালা। আজ মোনাকোর গ্রিমালদি ফোরামে হবে ২০২৬-২৭ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বের ড্র। বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় শুরু হবে এই ড্র।

২০২৪-২৫ মৌসুম থেকে ৩৬ দলের নতুন কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চ্যাম্পিয়নস লিগ। নতুন ব্যবস্থায় প্রথম দুই আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফরাসি ক্লাব পিএসজি। এবারও শিরোপা ধরে রেখে হ্যাটট্রিক করার লক্ষ্যে লুইস এনরিকের দল মাঠে নামবে।

নতুন কাঠামোয় আগের মতো আলাদা গ্রুপ থাকছে না। লিগ পর্বে প্রতিটি দল খেলবে আটটি ভিন্ন দলের বিপক্ষে। ড্রয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে প্রতিটি দলের ওই আট প্রতিপক্ষ এবং কোন দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ও কার বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে।

যেভাবে হবে ড্র

উয়েফার কো-এফিশিয়েন্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে ৩৬ দলকে চারটি পটে ভাগ করা হবে। প্রতিটি দল চারটি পট থেকেই দুটি করে প্রতিপক্ষ পাবে।

প্রথমে প্রথম পট থেকে ম্যানুয়ালি একটি দলের নাম লেখা বল তোলা হবে। এরপর বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে মুহূর্তেই নির্ধারণ করা হবে ওই দলের আট প্রতিপক্ষ। একই সঙ্গে কোন ম্যাচটি ঘরের মাঠে এবং কোনটি অ্যাওয়ে হবে, সেটিও সফটওয়্যার ঠিক করবে।

এভাবে প্রথম পটের দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণের পর দ্বিতীয় পটের দলগুলোর ড্র হবে। এরপর তৃতীয় ও সবশেষে চতুর্থ পটের দলগুলোর প্রতিপক্ষ নির্ধারণ করা হবে।

ড্রয়ের ক্ষেত্রে একই দেশের দুটি ক্লাব একে অপরের বিপক্ষে খেলতে পারবে না। এ ছাড়া কোনো দল একই দেশের সর্বোচ্চ দুটি ক্লাবের বিপক্ষে খেলতে পারবে।

সরাসরি লিগ পর্বে ২৯ দল

ঘরোয়া লিগে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ২৯টি দল সরাসরি লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে। বাকি সাতটি দল এসেছে বাছাইপর্ব থেকে।

ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি খেলবে আর্সেনাল, ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুল।

স্পেনের বার্সেলোনা, রিয়াল মাদ্রিদ, ভিয়ারিয়াল, আতলেতিকো মাদ্রিদ ও রিয়াল বেতিসও সরাসরি লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে। ইতালি থেকে ইন্টার মিলান, নাপোলি, রোমা ও কোমো এবং জার্মানি থেকে বায়ার্ন মিউনিখ, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড, লাইপজিগ ও স্টুটগার্ট খেলবে।

ফ্রান্সের পিএসজি, লাঁস ও লিল; পর্তুগালের পোর্তো ও স্পোর্তিং সিপি; নেদারল্যান্ডসের পিএসভি ও ফেইনুর্ড; বেলজিয়ামের ব্রুগা, তুরস্কের গালাতাসারাই, ইউক্রেনের শাখতার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের স্লাভিয়া প্রাগও সরাসরি জায়গা পেয়েছে।

প্লে-অফ থেকে আসা সাত দল

প্লে-অফ থেকে লিগ পর্বে জায়গা পেয়েছে সাবাহ (আজারবাইজান), বোদো/গ্লিমট (নরওয়ে), লাস্ক (অস্ট্রিয়া), এইকে এথেন্স (গ্রিস) অথবা লেভস্কি সোফিয়া (বুলগেরিয়া), ভাইকিং (নরওয়ে) অথবা দিনামো জাগরেব (ক্রোয়েশিয়া), সেলিয়ে (স্লোভেনিয়া) অথবা স্লোভান ব্রাতিস্লাভা (স্লোভাকিয়া) এবং লিওঁ (ফ্রান্স) অথবা ফেনেরবাচে (তুরস্ক)।

কো-এফিশিয়েন্টের ভিত্তিতে কোন দল কোন পটে থাকবে, সেটিও আজ দুপুরে নির্ধারিত হবে। এরপর রাতের ড্রতেই জানা যাবে নতুন মৌসুমে ইউরোপের বড় দলগুলোর আট প্রতিপক্ষ কারা।

জলিল টেক্সটাইলে তৈরি হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনুকূলে বিক্রয় অনুমোদনের আলোকে চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ফৌজদারহাটস্থ জলিল টেক্সটাইল মিলসে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

এতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির এমপি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর উপস্থিত থাকবেন বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী একান্ত সচিব (উপসচিব) ফখরুদ্দিন আহমেদ।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, চুক্তি স্বাক্ষর ও মিল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসার থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি ও স্থাপনার এ মিলে একসময় যেখানে সুতা ও কাপড় তৈরি হতো এখন ব্যবহার হবে অত্যাধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত মিলটির সব সম্পদ প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) মিল প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর ও হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন কারখানাটির জমিতে বিওএফের নতুন প্ল্যান্ট ও কৌশলগত সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের প্রতিরক্ষা খাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানো ও সমরাস্ত্রের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যেই ফৌজদারহাটের এই জমি ব্যবহার করা হবে।

সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ফৌজদারহাটের এই জমিতে আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিধি বাড়াতে উচ্চপ্রযুক্তির উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সামরিক লজিস্টিকস ও সংবেদনশীল সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণের জন্য স্থায়ী অবকাঠামো ও বিশেষায়িত সংরক্ষণাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলের জমি ব্যবহারের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৪ সালে। ওই বছরের জুনে তৎকালীন সেনাপ্রধান একটি বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে মিলটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর জায়গাটিকে বিওএফ সম্প্রসারণের জন্য কৌশলগতভাবে উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩১ অক্টোবর সেনাসদরের কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) শাখা থেকে মিলটি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে সরকারের পটপরিবর্তনের পর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত প্রস্তাব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফের কাছে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে, এই হস্তান্তর ঘিরে অসন্তোষ রয়েছে জলিল টেক্সটাইলের সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে। ২০০৪ সালে মিলটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণার পর থেকে ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা তাদের বকেয়া পাওনার অপেক্ষায় রয়েছেন। জলিল টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম শফিক বসাক অ্যান্ড কোংয়ের অডিট অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন, গ্র্যাচুইটি ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বাবদ মোট ২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে।

জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড সিবিএ সভাপতি মসিউদ্দৌলা বলেন, আমাদের পাওনা টাকা এখনো বুঝে পাইনি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আমরা একাধিক মন্ত্রণালয়ে ও বিটিএমসিতে বৈঠক ও যোগাযোগ করেছি। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের পাওনা টাকার কোনো সমাধান না করেই কারখানাটি হস্তান্তর করা হচ্ছে। অতীতে আমরা পাওনা টাকার জন্য কর্মসূচি পালন করেছি। আগামীকালও আমাদের কর্মসূচি থাকবে। আমরা প্রোগ্রাম স্থল থেকে কিছুটা দূরে থাকব। বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করব।

পাকিস্তান আমলে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত মিলটি ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয়করণ করে বিটিএমসির অধীনে নেওয়া হয়। মিলটিতে ১২ হাজার ৪০০ স্পিন্ডলের আধুনিক স্পিনিং ইউনিট ছিল। জাতীয়করণের পর উৎপাদন বাড়াতে উইভিং ও ডাইং ভাগও চালু করা হয়। মানসম্মত সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় দেশীয় বাজারে মিলটির সুনাম ছিল এবং তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। লাভজনক এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি লোকসান ও অব্যবস্থাপনায় ২০০৪ সালে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত বিজিবির

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রামদাসপুর সীমান্ত দিয়ে ছয় জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির রামদাসপুর বিওপি এলাকার সীমান্ত পিলার ২১৬/এমপি দিয়ে এ চেষ্টা করা হয়।

বিজিবি সূত্র জানায়, ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর ক্যাম্পের সদস্যরা ছয় জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে রামদাসপুর বিওপির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে। এ সময় ওই ছয়জনকে ভারতীয় সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশে বাধা দেন। পরে তাদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়।

১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বিএসএফের কাছে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

নেপালে বন্যা ও ভূমিধস ‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে’

‘আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও আছে।’ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এমনই হৃদয়বিদারক কথা বলেছেন ৬৮ বছর বয়সী কেশভ প্রসাদ বারাল। খবর বিবিসির

বন্যায় আহত হয়ে একটি ছোট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বন্যার পানি বাড়িতে ঢোকার আগে তা ক্রমেই ওপরে উঠছিল। একপর্যায়ে কাদার বিশাল স্রোত তাঁদের বাড়ির দিকে ধেয়ে আসে।

কেশভ প্রসাদ বলেন, তিনি স্ত্রীকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু প্রবল স্রোতে তাঁর হাত থেকে স্ত্রী ভেসে যান। পরে কাদা তাঁর বাড়ির ওপরের তলা পর্যন্ত উঠে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর কাদার স্রোত নেমে যায়।

তিনি বলেন, ‘চার-পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার আমাকে উদ্ধার করতে আসে। আমার স্ত্রী এখনও কাদার নিচে কোথাও চাপা পড়ে আছেন। তিনি আর নেই।’

বুধবার নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি হয়। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অন্তত ৪০৩ জন। তাঁদের অধিকাংশই বিদেশি পর্যটক বলে জানা গেছে।

নেপাল পুলিশের স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে রসুয়ায় একজন, নুয়াকোটে ১১, ধাদিংয়ে ১৮, চিতওয়ানে ৩৩, গোর্খায় ১৯, তানাহুঁতে সাত এবং নওয়ালপুরে ১১ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে।

দুর্যোগের পর নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকারী দল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

নেপালে দ্বিতীয় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা

নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার আঘাত হানা এক শক্তিশালী আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড) জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনও একটি বিশাল বাধা আটকে আছে। এর ফলে যেকোনো সময় দ্বিতীয় একটি জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে।

হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশ— ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং আফগানিস্তান নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসিমোড হিমালয় জুড়ে পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করা শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি।

গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ করেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি এবং ত্রিশূলী নদী দিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছছিতে ত্রিশূলী নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নির্গত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোও বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইসিমোডের সবচেয়ে জোরালো সতর্কতাটি এসেছে সংস্থাটির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং-এর কাছ থেকে। তিনি বলেন, ‘গত বছরের রাসুয়ার বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একই স্থান আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধস এর কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনও একটি বাধা আটকে থাকায়, দ্বিতীয় একটি বন্যা আশঙ্কা রয়েছে। জিলং বন্দর এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই মানুষ সরিয়ে নেওয়ার (ইভাকুয়েশন) নির্দেশ জারি করা হয়েছে।’

পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে উদ্ভূত বিপদগুলোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই ঘটনা।

ইসিমোডের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিশেষজ্ঞ শাশ্বত সান্যাল জানান, লেন্দে খোলায় গত চৌদ্দ মাসে দুবার বন্যা হলো। ক্রায়োস্ফিয়ারের সামান্য একটি পরিবর্তন বা বিপদ কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লোকালয়ে ভয়াবহ বন্যায় পরিণত হতে পারে, এটি তারই উদাহরণ।

সংস্থাটির সিনিয়র ক্রায়োস্ফিয়ার স্পেশালিস্ট মো. ফারুক আজম এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত চরম বিপদ মোকাবিলায় হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর যৌথ ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন।

আজম বলেন, ‘ক্রায়োস্ফিয়ার বিপর্যয়ের ক্রমবর্ধমান মাত্রা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান। এর গতি এত দ্রুত যে আমাদের চলমান প্রচেষ্টাগুলো এই দ্রুত পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে না। সরকারগুলোর উচিত এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত বিপদ মোকাবিলায় কিছু যৌথ, সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে নেপালের সরকার ও জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন ইসিমোডের মহাপরিচালক পেমা গ্যাম্তশো।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, সিসমিক ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানের সন্দেহভাজন বাধার স্থিতিশীলতা নির্ধারণে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার তীরের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।

উল্লেখ্য, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালি পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ৬৪ জনের মরদেহ চিতওয়ান জেলার ভাটির দিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে এবং ২৬ জনের মরদেহ নাওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের সমাধিতে ঢাবি ছাত্রদলের শ্রদ্ধা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবির সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছি। কবি নজরুলের সাম্য, মানবতা, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের আদর্শকে ধারণ করে একটি সুন্দর, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয়ই হোক তাঁর প্রতি আমাদের শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি।’

গাজীপুরে ১২ ঝুটের গোডাউনের আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীতে ১২টি ঝুটের গোডাউনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর আগে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কোনাবাড়ী মেট্রো থানাধীন দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, দেওয়ালিয়া বাড়ি এলাকার বাচ্চু মিয়ার পলি গোডাউন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা পাশের গোডাউনগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পরে সারাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের আরও দুটি ইউনিট যোগ দেয়। মোট পাঁচটি ইউনিট প্রায় চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোনাবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নেভাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল।

তিনি জানান, আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।