Home Blog

কুমিল্লায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বিদ্যুৎ-গ্যাসে সাত মাসের ভর্তুকি দিতে হয়েছে এক মাসে

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের একটু সমস্যা আছে। বিশ্বের কয়েকটি দেশে যুদ্ধ চলছে। বিশ্বের পরাশক্তিগুলো নিজেদের খেলায় ব্যস্ত। যে গ্যাসের জন্য আমরা প্রতিবছর ভর্তুকি দিই, গত সাত মাসের ভর্তুকি এক মাসে দিতে হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন
মোস্তাক মিয়া, আমিরুজ্জামান আমির, উদবাতুল বারী আবু প্রমুখ।

হাসপাতালে সাড়ে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং

বরিশালে ১০০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতাল নগরের মধ্যভাগে অবস্থিত। বিদ্যুৎ বিভাগ ওই এলাকার ফিডারের নাম রেখেছে ‘সদর হাসপাতাল ফিডার’। প্রতিদিন শতাধিক রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি থাকে। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন আরও কয়েকশ রোগী। গত শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার রাত ১২টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ছয়বার লোডশেডিং হয়। মোট এই সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। অথচ কর্মকর্তারা বলছেন, মানবিক কারণে তারা সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দেন।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের আওতাধীন পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশন থেকে ‘সদর হাসপাতাল ফিডার’ নিয়ন্ত্রিত হয়। সাব-স্টেশনের লোডশেডিংয়ের তথ্য লেখার খাতা ঘেঁটে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত– এই ৩৯ ঘণ্টায় মোট ৯ বার সদর হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। ৯ বারে মোট সাত ঘণ্টা ৪০ মিনিট হাসপাতালটি বিদ্যুৎহীন ছিল। তার মধ্যে এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং হয়েছে ছয়বার এবং অপর তিনবার ছিল ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট করে। এই ৩৯ ঘণ্টার হিসাবের মধ্যে শনিবার রাত ২টা ৪০ মিনিট থেকে ৩টা ৪০ মিনিট এবং রোববার রাত ২টা ৪৯ মিনিট থেকে ৩টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালে বিদ্যুৎ ছিল না।

সদর হাসপাতালের ফিডারে ৩৯ ঘণ্টায় ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লোডশেডিং দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে পলাশপুর সাব-স্টেশন বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট (এসবিএ) আবু জাফর মো. সালেহ সমকালকে বলেন, ‘শুধু হাসপাতালটির জন্য মানবিক কারণে আমরা সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দিই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের এ নির্দেশনা দিয়েছেন।’

সোমবার দুপুর আড়াইটায় সদর হাসপাতালে ঢুকে দেখা যায়, তখন সেখানে লোডশেডিং চলছে। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে রোগীরা হাঁসফাঁস করছেন। স্বজনরা হাতপাখায় বাতাস করছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ড নামে পরিচিত টিনশেড ভবনে ঢুকে দেখা যায়, কয়েকটি শয্যায় সাদা মশারির ভেতর ডেঙ্গু রোগী রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটর বহু বছর ধরে বিকল হয়ে আছে। এ কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ হলে বিকল্প ব্যবস্থা হলো মোমবাতি ও হাতপাখা।

এ প্রসঙ্গে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল সমকালকে বলেন, বিকল জেনারেটরটি করোনা মহামারির সময়ে সচলের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে

প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এটি আর সচল করা হবে না। লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএস দিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখা হয়।

ওজোপাডিকোর বরিশাল বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় নগরী ও আশপাশ এলাকাকে মোট ৩৮টি ফিডারে ভাগ করা হয়েছে। ফিডারগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সাতটি সাব-স্টেশন। পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতাধীন সাতটি ফিডার হচ্ছে– সদর রোড, চকবাজার, সদর হাসপাতাল, আমানতগঞ্জ, পোর্টরোড, তালতলী ও এমইপি।

নগরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোড ও গির্জামহল্লা এলাকা নিয়ে হলো সদর রোড ফিডার। চকবাজার নগরের বড় বিপণিকেন্দ্র। সদর হাসপাতাল ফিডারে সরকারি হাসপাতাল ছাড়াও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার রয়েছে। পোর্ট রোডে পাইকারি মৎস্য মোকাম। হাটখোলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বিদ্যুৎসামগ্রী উৎপাদনকারী কারখানার এমইপির জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট একটি ফিডার।

এসবিএ মো. মাসুম জানান, পলাশপুর স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা পিক সময়ে ১৭ মেগাওয়াট এবং অফপিকে ১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু কখনও ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ পান না। এ জন্য স্টেশনের সাতটি ফিডারের মধ্যে সার্বক্ষণিক কমপক্ষে তিনটিতে লোডশেডিং চলে। মাঝেমধ্যে চারটিতেও দিতে হয়।

সদর রোড ফিডারের তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে, শনিবার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত সোয়া ৮টা পর্যন্ত ৪৪ ঘণ্টায় ১১ বার লোডশেডিং হয়েছে। রোববার রাত ১২টা থেকে হিসাব অনুযায়ী রাত ১২টা থেকে ২টা ১০ মিনিট, সোমবার বেলা সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট, দুপুর ১টা ৩৫ থেকে ২টা ৩৫ মিনিট, ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা, বিকেল ৫টা ৪৫ থেকে ৬টা ৪৫ এবং সন্ধ্যা ৭টা ২০ থেকে রাত ৮টা ২০ পর্যন্ত লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে। অথচ এই ফিডার এলাকায় সবচেয়ে বেশি ব্যাংক ও অন্যান্য বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

জনরোষের আতঙ্কে সাব-স্টেশনে দায়িত্বরতরা
পলাশপুর সাব-স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন তিনজন এসবিএ আবু সালেহ মো. জাফর, মো. মাসুম ও মোশারফ হোসেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিং নিয়ে তারা জনরোষের শিকার হওয়ার আতঙ্কে থাকেন। প্রায় ১৫ দিন আগে রাত আড়াইটার দিকে লোডশেডিং দেওয়া হলে পলাশপুর এলাকার কয়েকশ বাসিন্দা গিয়ে স্টেশনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। সদর রোডে নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ভিআইপিদের নানা কর্মসূচি থাকায় এ ফিডারে লোডশেডিং দিতে তাদের নানা হিসাব-নিকাশ করতে হয়।

আবার মানবিক অনেক আবেদনও রাখতে হয় জানিয়ে মো. মাসুম জানান, কয়েক দিন আগে গভীর রাতে হাসপাতাল ফিডারে লোডশেডিং দেওয়ার পরই একজন স্বজন ফোন দিয়ে জানান, রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎটা খুব প্রয়োজন। তাৎক্ষণিক ওই ফিডারে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়।

লোডশেডিং করার পর প্রভাবশালীর ফোন ও রূঢ় ব্যবহারের মুখে বিদ্যুৎ দিতে হয়েছে– এমন ঘটনা অসংখ্যবার ঘটেছে বলে জানান তিনজন এসবিএ। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রাহকের অনুরোধ রাখতে গিয়ে পুরো সাব-স্টেশনকে আবার শাস্তি পেতে হয়। শাস্তি হিসেবে প্রধান গ্রিড থেকে সাব-স্টেশনে কমপক্ষে আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন স্টেশনের আওতাধীন সব ফিডার বিদ্যুৎহীন থাকে। প্রতি সপ্তাহে একাধিকবার এমন শাস্তি ভোগ করতে হয়।

ওজোপাডিকোর বরিশাল গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ সমকালকে জানান, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা হলো পিক সময়ে ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পান ১৬০ মেগাওয়াট। এ ঘাটতির কারণে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ হারে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

শজিমেক হাসপাতালে রোগীর স্বজন-ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সংঘর্ষ, আহত ১২ রোগীর মৃত্যু

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন ও মিড লেভেল চিকিৎসকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তাসহ কয়েকটি দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজন ও বহিরাগতরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে ছয়জন চিকিৎসক আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতের হাড় ভেঙেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ- ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর হাতাহাতি হয়। পরে তাদের সঙ্গে থাকা ছয়জনকে মারধর করে হাসপাতালের ভেতরে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মঞ্জুর ই মুর্শেদ বলেন, একজন অ্যাজমা রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের হামলায় ইন্টার্ন ও মিড লেভেলের ছয়জন চিকিৎসক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিনিয়র ও মিড লেভেলের চিকিৎসকদের সেবায় নিয়োজিত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ছয়জনকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এখনও কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তারকা ও গল্পে নজর কাড়বে যে ৫ সিনেমা

সেপ্টেম্বরজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে আসছে ভিন্ন স্বাদের বেশ কিছু সিনেমা। হরর, অ্যাকশন, সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চার থেকে শুরু করে অতিপ্রাকৃত গল্প—দর্শকদের জন্য থাকছে নানা ধরনের আয়োজন। বড় তারকার উপস্থিতির পাশাপাশি কয়েকটি সিনেমা এরই মধ্যে নির্মাণশৈলী, গল্প ও অভিনয়ের কারণে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ব্র্যাড পিটের সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চার, নিকোল কিডম্যান ও স্যান্ড্রা বুলকের বহু প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল এবং নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’—সিনেপ্রেমীদের নজর কাড়তে পারে এসব সিনেমা। সেপ্টেম্বরে দেখার মতো আলোচিত পাঁচ সিনেমা নিয়ে এই আয়োজন।

Untitled 1 1788323838

রেসিডেন্ট ইভিল

জ্যাক ক্রেগারের ‘ওয়েপনস’ সিনেমার সাফল্যের পর তার নতুন কাজ ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ভিডিও গেম অবলম্বনে নির্মিত হলেও পরিচালক জানিয়েছেন, এটি মূলত তার নিজস্ব ধরনের একটি সিনেমা, যা ঘটনাচক্রে ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ হয়ে উঠেছে। পল ডব্লিউ. এস. অ্যান্ডারসনের আগের সিনেমাগুলোর তুলনায় নতুন এই সংস্করণটি আরও ভীতিকর ও অন্ধকার আবহের। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে ব্রায়ান নামের এক মেডিকেল কুরিয়ার। র‍্যাকুন সিটির একটি হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর আগেই শহরের বাসিন্দারা ভয়ংকর জম্বিতে পরিণত হতে শুরু করে। এরপর একজন সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকা এবং দায়িত্ব পালনের লড়াইই হয়ে ওঠে গল্পের মূল আকর্ষণ।

Untitled 1 1788323925

প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২

১৯৯৮ সালের ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক’-এর দীর্ঘ ২৮ বছর পর ফিরছে এর সিক্যুয়েল। নিকোল কিডম্যান ও স্যান্ড্রা বুলক আবারও ফিরছেন বোন জিলিয়ান ও স্যালির চরিত্রে। মুক্তির সময় খুব বড় সাফল্য না পেলেও সময়ের সঙ্গে সিনেমাটি দর্শকদের মধ্যে শক্তিশালী ভক্তগোষ্ঠী তৈরি করেছে। নতুন সিনেমায় আগের গল্পের জাদুকরী আবহ আরও বিস্তৃত হচ্ছে। স্যালির মেয়েদের চরিত্রে নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন জোয়ি কিং ও মেইসি উইলিয়ামস। তারা জানতে পারে, পরিবারের ওপর থাকা একটি অভিশাপের কারণে তারা যেকোনো পুরুষের প্রেমে পড়লেই সেই পুরুষের মৃত্যু ঘটবে। ফলে প্রেম, পারিবারিক সম্পর্ক, জাদু ও অভিশাপ মিলিয়ে নতুন গল্পের দিকে এগোবে সিনেমাটি।

Untitled 1 1788324004

হার্ট অব দ্য বিস্ট

সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য সেপ্টেম্বরে অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে ডেভিড আয়ার পরিচালিত ‘হার্ট অব দ্য বিস্ট’। সিনেমাটিতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব্র্যাড পিট। এতে তিনি একজন আহত সাবেক স্পেশাল ফোর্সেস সদস্যের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। আলাস্কার দুর্গম জঙ্গলে বিমান দুর্ঘটনার পর লোকালয়ে ফেরার কঠিন যাত্রায় নামতে হয় তাকে। এই বিপজ্জনক অভিযানে তার একমাত্র সঙ্গী বিশ্বস্ত সামরিক কুকুর ওডিন। তীব্র প্রতিকূল পরিবেশ, বেঁচে থাকার সংগ্রাম এবং মানুষ ও প্রাণীর মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এগিয়েছে সিনেমার গল্প। পরিচালক ডেভিড আয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে ব্র্যাড পিটকে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম শক্তিশালী ফর্মে দেখা যাবে।

Untitled 1 1788324184

অনসলট

অ্যাকশন ও হরর ঘরানার সিনেমাপ্রেমীদের জন্য ‘অনসলট’ হতে পারে সেপ্টেম্বারের অন্যতম আলোচিত ছবি। অ্যাডাম উইনগার্ড পরিচালিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন আদ্রিয়া আরজোনা ও মাইকেল বিহন। গল্পে আদ্রিয়া আরজোনাকে দেখা যাবে একা মায়ের চরিত্রে, যিনি মেয়েকে নিয়ে মরুভূমির একটি ট্রেইলার পার্কে থাকেন। স্থানীয় একটি গোপন গবেষণাকেন্দ্র থেকে জিনগতভাবে পরিবর্তিত তিন সুপার সোলজার পালিয়ে গেলে পরিস্থিতি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সাবেক সেনা স্নাইপার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা তখন কাজে আসে। অ্যাকশন, হরর ও সহিংসতার মিশেলে নির্মিত সিনেমাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।

Untitled 1 1788324265

দ্য ওয়েট

১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার সময়ের যুক্তরাষ্ট্রকে পটভূমি করে নির্মিত ‘দ্য ওয়েট’ একটি পিরিয়ড ড্রামা ও সারভাইভাল অ্যাডভেঞ্চারের মিশেল। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ইথান হক ও রাসেল ক্রো।গল্পে ইথান হক অভিনীত এক বাবাকে অন্যায়ভাবে একটি শ্রমশিবিরে পাঠানো হয়। দ্রুত বাড়ি ফিরতে না পারলে তিনি তার ছোট মেয়ের অভিভাবকত্ব হারাতে পারেন। এ অবস্থায় শিবিরের নিষ্ঠুর ওয়ার্ডেন তাকে একটি শর্তে মুক্তির প্রস্তাব দেয়। চুরি করা সোনার বারভর্তি ব্যাগ নিয়ে কয়েকজন বন্দির সঙ্গে তাকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। এরপর শুরু হয় প্রতিকূল পরিবেশ, সহিংসতা ও বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই।

সেপ্টেম্বরের সিনেমার তালিকায় শুধু বড় তারকার উপস্থিতিই নয়, গল্পের বৈচিত্র্যও দর্শকদের টানবে। ভয়, জাদু, অ্যাকশন, বেঁচে থাকার সংগ্রাম কিংবা পারিবারিক আবেগ—প্রতিটি ঘরানার দর্শকের জন্যই থাকছে আলাদা কিছু। আর ব্র্যাড পিট, নিকোল কিডম্যান, স্যান্ড্রা বুলক ও ইথান হকের মতো তারকাদের পাশাপাশি নতুন নির্মাতাদের ভিন্নধর্মী ভাবনা মাসটিকে সিনেমাপ্রেমীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে।

ইমরান খান-বুশরাকে নির্জন কারাগারে না রাখতে হাইকোর্টের নির্দেশ

পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী কারাবন্দী রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরস্পরের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে আদিয়ালা কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি খাদিম হুসেইন সোমরো এসব নির্দেশ দেন।

ইমরান খান ও বুশরা বিবি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মামলায় তাদের দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ইমরান খানকে কথিত একাকী কারাবন্দী রাখার অভিযোগে তার বোন আলিমা খান আদালতে আবেদন করেছিলেন। অন্যদিকে বুশরা বিবিকে নিয়ে পৃথক আবেদন করেন তার মেয়ে মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার ব্যবস্থাও করতে হবে।

ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে এসব নির্দেশ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) শুরু থেকেই এসব মামলায় দেওয়া সাজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। তার পরিবারের সদস্য ও সমর্থকেরাও অভিযোগ করে আসছেন, কারা কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ সীমিত করছে। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে দুর্নীতির একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুশরা বিবিকে ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রথমবার কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় নয় মাস পর ওই বছরের ২৪ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

পরে আরেকটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দুর্নীতিসংক্রান্ত আরও কয়েকটি মামলায় তাকে অতিরিক্ত সাজা দেওয়া হয়। তিনি এখনো আদিয়ালা কারাগারে বন্দী।

ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া নিয়েও সম্প্রতি তার পরিবার ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে বেসরকারি হাসপাতাল শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার পরিবার ও সমর্থকেরা কয়েক মাস ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। বিশেষ করে চলতি বছরের শুরুতে শনাক্ত হওয়া তার চোখের সমস্যা নিয়ে তারা উদ্বেগ জানিয়েছিলেন।

তবে ২০ ও ২১ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে না নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরে তাকে আবার আদিয়ালা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

এরপর ইমরান খানের পরিবার আবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাদের অভিযোগ, তাকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশের লঙ্ঘন। ওই নির্দেশে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি রাখার কথা বলা হয়েছিল।

তবে ইমরান খানকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পক্ষে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়েছে পাকিস্তান সরকার।

এ ঘটনায় আদালত অবমাননার আবেদনটির শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ ওই শুনানি করবেন। বেঞ্চের সদস্যরা হলেন বিচারপতি শহীদ ওয়াহিদ, নাঈম আখতার আফগান ও ইশতিয়াক ইব্রাহিম।

একই বেঞ্চে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের সুযোগসংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলোরও শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

ভয়াবহ বন্যার পরও কেন পর্যটকদের নেপাল যেতে বলছে সরকার

ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত বিদেশি নিখোঁজ হওয়ার পরও পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণে নিরুৎসাহিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার। পর্যটনমন্ত্রী খড়গ রাজ পাওদেল বলেছেন, দেশের অনেক পর্যটন এলাকা এখনো নিরাপদ ও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।

ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের পাহাড়ি পথ ও ট্রেকিং রুটগুলো এখনো আপনাদের অপেক্ষায়।’ তিনি পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই সময়ে নেপালে আসা শুধু ছুটি কাটানোর বিষয় নয়, ভয়াবহ দুর্যোগে লড়াই করা দেশটির জন্য এটি বড় ধরনের সহায়তা।

পর্যটনমন্ত্রী তার বার্তায় ‘#নেপাল কলিং’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন।

%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AD%20%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%A4%E0%A7%87%20%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%20%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%20%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A6%AE%20(13) 1788325301

গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাম, সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে দেশটির পর্যটনশিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন অনেক পর্যটন এলাকাও স্বাভাবিক রয়েছে, দুর্যোগের ভয়াবহ ছবি ও প্রাণহানির খবরের কারণে বিদেশি পর্যটকেরা নেপাল ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে সরকার।

দুর্যোগের কারণে এরই মধ্যে দেশটির অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য, পর্যটন খাতে দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার মধ্যে নেপালকে এখন বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রম চালাতে হবে।

গত সপ্তাহে হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা, পাথর ও পানির প্রবল স্রোত একটি উপত্যকায় নেমে আসে। এতে পথে থাকা বসতি, সড়ক ও সেতু ভেসে যায়। বিভিন্ন ভিডিওতে মানুষকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াতে এবং পানির স্রোতে ভবন, বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, পাথর ও যানবাহন ভেসে যেতে দেখা গেছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত দুর্যোগে নেপালে অন্তত ১ হাজার ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোতে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে নেপাল, ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। কয়েক শ শ্রমিক এখনো বিভিন্ন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছেছেন। এখন তারা পাওয়ারহাউসের ওপর থেকে নিচের দিকে খনন করে আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, এখনো তাঁদের আশা শেষ হয়ে যায়নি।

দুর্যোগে নেপালের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, নুওয়াকোট ও রাসুয়া জেলায় অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা বিবেচনায় পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য নেপালের উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘নেপালের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কঠিন সময়।’

এদিকে বন্যা ও ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া বিভিন্ন এলাকার মানুষকে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার ৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

তীব্র এই দুর্যোগের মধ্যেও পর্যটকদের নেপাল ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, পর্যটকেরা সেখানে গেলে তা শুধু পর্যটনশিল্পকেই সহায়তা করবে না, বরং দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার লড়াইয়ে দেশটির অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এমপিও শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল চায় জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, রহস্যজনক কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ রাখতে চাইছে। যেটা আগে থেকেই ছিল। ইসির এমন সুপারিশ সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকের সমতা ও বৈষম্যহীনতার অধিকারের পরিপন্থি। এমপিওভুক্ত হয়ে একজন সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারলেও স্থানীয় নির্বাচনে পারবেন না, এটা হতে পারে না। কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জামায়াতের দাবি না মানলে স্থানীয় নির্বাচন বর্জনের কথা বলার মতো সময় ও পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। আমরা নির্বাচন কমিশনের ওপর এখনও আস্থাশীল। তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নেই, ক্ষমতায় যেহেতু দলীয় সরকার– তাদের একটা চাপ কমিশনের ওপর আছে। সেটা কমিশনের কথা শুনলেও বোঝা যায়। কোথাও একটা অসহায়ত্ব তাদের মধ্যে আছে। সবটা যেন মন খুলে বলতে পারেন না।

এর আগে মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়াসহ ৯ দফা লিখিত দাবি তুলে ধরা হয়। এই ৯ দফা দাবির বেশির ভাগই গত ২৯ জুলাই সিইসির সঙ্গে সর্বশেষ বৈঠকেও দিয়ে এসেছিল জামায়াতে ইসলামী।

বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও নির্বাচন কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, নির্বাচন কমিটির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, নির্বাচন কমিটির সদস্য আব্দুর রব এবং ইয়াসির আরাফাত।

অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়াল নেতাকর্মীরা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুমিল্লা, গলাচিপা, সীতাকুণ্ড ও মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ৮০

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালীর গলাচিপার কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।

গলাচিপায় দফায় দফায় সংঘর্ষ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। কালীবাড়ি, হাইস্কুল রোড, বটতলা ও ফিডার রোডসহ গলাচিপা পৌর শহর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার অনুসারী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসান মামুনের অনুসারীরা পৌর শহরের সিনেমা হল এলাকায় এবং গোলাম মোস্তফার অনুসারীরা শহরের পৌর মঞ্চ এলাকায় অবস্থান নেয়।

দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে সিনেমা হল এলাকার দিকে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করেছিলেন মামুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। মোস্তফা পক্ষের নেতাকর্মীরা র‍্যালি নিয়ে শহরের চৌরাস্তা হয়ে সদর রোডের দিকে আসে। এ সময় হাসান মামুনের গ্রুপের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে আরেকটি র‍্যালি সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে সদর রোডের দিকে যাচ্ছিল। র‍্যালিটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষে ২০ জন আহত
বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও বিএনপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বেলা ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাইপাস এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথকভাবে কর্মসূচি আয়োজন করায় পুলিশ দুটি পক্ষকে আলাদা সময় বেধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দুপুর ২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলা হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে মুনস্টার কনভেনশন সেন্টার চত্বরে অবস্থান নেয় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এবং উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোরছালীনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। এ সময় সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব থেকে দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।

দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশসহ আহত ১০
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে আনন্দ মিছিল বের করার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলীর অনুসারীদের। অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে কর্মসূচি পালনের কথা ছিল শেখ আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীদের। সরফতের অনুসারীরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি শেখ আবদুল্লাহর অনুসারী হাফিজুল ইসলামের কয়েক নেতাকর্মী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলে দাবি করেছেন।

কুমিল্লায় সংঘর্ষে ১০ জন আহত
কুমিল্লার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষের নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। বিকেলে লালমাই উপজেলার বাগমারা রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যালিতে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মিছিল বের হয়ে চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর এ ঘটনা ঘটে।
(সমকাল প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব আইপিইউ সেক্রেটারির সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

আইপিইউ সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি। বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্দা ফিলিপ আরও বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

কাতারের এলএনজি বন্ধ স্পটে মিলছে না কার্গো, গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে কাতার এনার্জি। এতে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া এই গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে বাংলাদেশকে। কিন্তু স্পট মার্কেট থেকে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উচ্চ দামেও কার্গো পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব কারণে চলমান গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি থেকে এলএনজি আমদানি করা হয়। ওমানের সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে দীর্ঘ সময় গ্যাস পাওয়া যায়। স্পট মার্কেটের মতো প্রতিদিন দামের বড় ওঠানামার ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে কম।

কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাই এখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ পথ। কাতারের এলএনজি রপ্তানির বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে কাতার থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ব্যাহত হয়।

চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতার সরবরাহ বন্ধ রাখে। জুলাইয়ে কাতার থেকে একটি কার্গো বাংলাদেশে এলেও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সর্বশেষ অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে কাতারের সরবরাহের মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাই আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে নিয়মিত কার্গো পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) ও অপারেশনের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ বলেন, কাতার এনার্জির কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি পেট্রোবাংলা। এর আগেও ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে কাতার অনিবার্য পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। তিনি বলেন, আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আপাতত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা ছাড়া তেমন বিকল্প নেই।

স্পট মার্কেটে কার্গো নিয়ে সংকট

কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ার মধ্যে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। কিন্তু সেখানেও কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহের জন্য এলএনজি কিনতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও ৮-৯ সেপ্টেম্বর সরবরাহের একটি কার্গোর জন্য কোনো সরবরাহকারী প্রস্তাব দেয়নি। একইভাবে ১-২ অক্টোবর সরবরাহের জন্য আহ্বান করা কার্গোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য দুটি কার্গোর প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হয় অস্বাভাবিক বেশি দাম। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম চাওয়া হয় ২৫ দশমিক ৯২ ডলার।

এ পরিপ্রেক্ষিতে চারটি কার্গোর জন্য আবারও দর প্রস্তাব চেয়েছে পেট্রোবাংলা। গত সোমবার জারি করা এক নোটিশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চারটি কার্গোর জন্য মূল্য প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, ৮-৯ সেপ্টেম্বর, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ১-২ অক্টোবর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য এসব কার্গো কেনা হবে। প্রতিটি কার্গোর দর প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব দিতে হবে এলএনজি স্পট পারচেজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকে এলএনজির দাম রয়েছে প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে। এর চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ডলার বেশি দামে কার্গো কেনা হলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। খুব অল্প সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে কিছুটা বেশি দাম স্বাভাবিক হলেও এত বড় ব্যবধানকে অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে সাত থেকে আটটি স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ওই গ্যাস বিক্রি করে সরকার পায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্গোতে লোকসান হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে প্রতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই সরকারের বাড়তি লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

এরই মধ্যে আগস্টের এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলাকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের জন্যও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে চলতি বছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট

দেশে প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট চলছে। দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি জুলাই-আগস্ট মাসে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়। পরে টার্মিনাল চালু হলেও কার্গো নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে।

গতকাল রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি বা আরএলএনজি ৭০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট।

বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৭০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা গেলেও জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

শিল্পে বাড়ছে উৎকণ্ঠা

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ পড়ছে শিল্পে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।

কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং স্পট মার্কেট থেকেও প্রয়োজনীয় সময়ে কার্গো পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিল্পে সংকট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সামনে এলএনজি সরবরাহে বড় কোনো স্বস্তি না এলে গ্যাসনির্ভর শিল্পে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ কম। ২০ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে এরই মধ্যে দুটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। আরও পাঁচটি কারখানার গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

ভালুকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও সিরামিক শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটিও দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।

তিতাস গ্যাসের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংকটের সময়ে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনও ৬০ থেকে ৯০ পিএসআই পর্যন্ত উঠলেও স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শুধু উৎপাদন কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।