Home Blog

এক জীবনে আর কি চাই!

এক জীবনে আর কি চাই!

বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে এ জীবনে কত কিছু দেখলাম। পাকিস্তান ভাঙ্গা দেখলাম। স্বাধীন বাংলাদেশ দেখলাম। বঙ্গবন্ধুকে দেখলাম, তাঁর দেশে ফিরে আসা দেখলাম, তার শাসনামল দেখলাম, তাঁর মৃত্যু দেখলাম। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মেজর জিয়ার নির্মম হত্যাকান্ড দেখলাম। সাত্তারকে দেখলাম, বিনা রক্তপাতে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ দেখলাম। নূর হোসেনের ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখার কারণে পুলিশের গুলীতে হত্যা দেখলাম। শেখ হাসিনা’র আগমন দেখলাম। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন দেখলাম। এরশাদের পতন দেখলাম। খালেদা জিয়ার উত্থান দেখলাম। পতন দেখলাম। তত্বাবধায়ক সরকার দেখলাম, এর বিলুপ্তি দেখলাম। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস দেখলাম। বিচার বিভাগ, মিডিয়া, শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংস দেখলাম। শেখ হাসিনা’র শাসন দেখলাম, ক্ষমতাচ্যুতি দেখলাম। জুলাই ষড়যন্ত্র ও মব ভায়োলেন্স দেখলাম। জামাতের গর্তে থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসা দেখলাম। বিশ্ব-বাটপার ইউনূসের দেশ-বিক্রী দেখলাম। এখন দেখছি তারেক জিয়ার উত্থান। এক জীবনে আর কি চাই? আপাতত: দু’টি জিনিষ দেখার অপেক্ষা (১) জুলাই জঙ্গীদের শেষ পরিণতি (২) শেখ হাসিনা’র পুন:-প্রত্যাবর্তন।  

 

ভারত খারাপ, চীন ভাল

পাকিস্তানে কোন কম্যুনিষ্ট নেই, নেই বাম  আন্দোলন। চীনে কোন ইসলামিষ্ট নেই, নেই কোন ইসলামিক জঙ্গী তৎপরতা। কারণ কি? কারণ হচ্ছে, ‘মাইরের ওপর ওষুধ নেই’। বাংলাদেশে সামাজিক সম্প্রীতি বলতে কিছু নেই, কখনো ছিলোনা, আছে শুধু বৈষম্য আর বৈষম্য। চরম ধর্মীয় বিভেদ, বৈষম্য,সাম্প্রদায়িক নির্যাতন থাকা সত্বেও এগুলো কোন ইস্যুই নয়? কারণ হচ্ছে, দেশটা কট্টর সাম্প্রদায়িক, সমাজটা সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্পে ভরপুর, মানুষগুলো মনে ঘৃণা আর ঘৃণা। অন্যদিকে ভারতে আপনি কম্যুনিষ্ট পাবেন, বাম আন্দোলন পাবেন; ইসলামিষ্ট পাবেন, পাকিস্তানপন্থী সন্ত্রাসী পাবেন, ভারত ভাঙ্গার কথাবার্তা শুনবেন। সামাজিক মৈত্রী আছে-বৈষম্যও আছে; সাম্প্রদায়িকতা আছে- ব্যাপক অসাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠী ও চেতনা আছে!! একদল মুসলমানের বিপক্ষে আছে, বিশাল একটি জনগোষ্ঠী মুসলমানের পক্ষে দাঁড়িয়ে কথা বলে। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা চীনে আপনি একটি ইহুদি পরিবার পাবেন না, ভারতে বিপুল সংখ্যক ইহুদি নিরাপদে বসবাস করে? অথচ ভারত ভালো না। বাঁশ দিলেও পাকিস্তান ভাল, চীন ভালো। 

 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? 

নেপালে আসলে কি ঘটেছে? সেখানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা হয়েছে, তিনজন নিহত, পুলিশসহ বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছে। ঠিক কি ঘটেছিলো জানা মুশকিল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিউজ, ভিডিও দেখে যা জানা যায় তা হচ্ছে, দুই সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি তাঁদের ধর্মানুষ্ঠান পালন করছিলো, একদলের বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে অন্য দলের ব্যাঘাত ঘটে। এনিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি, উত্তেজনা ও পরে সেটি দাঙ্গায় রূপ নেয়। নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ অন্তত: ৮জনকে গ্রেফতার করেছে। নেপাল ল্যান্ডলকড রাষ্ট্র, সীমান্ত ভারত ও চীনের সাথে। ২০২১ সালের জনসংখ্যা জরিপ অনুযায়ী জনসংখ্যা ৩কোটি’র একটু কম, ৮২% হিন্দু, ৯% বৌদ্ধ, মুসলিম ৫.১%, খ্রিষ্টান ৩%। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে দ্রুত মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছে, অভিযোগ রয়েছে সেখানে গত দুই দশকে প্রচুর বাংলাদেশী মুসলমানের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। নেপালে আনুমানিক দেড়লক্ষ মুসলমান আছে, অধিকাংশ সুন্নি। অধিকাংশ মুসলমানের বসবাস দক্ষিণের ‘টেরাই’ অঞ্চলে। বেশকিছু রোহিঙ্গা নেপালে ঢুকে পড়েছে। পাকিস্তানের আইএসআই ও বাংলাদেশী কট্টরপন্থী মুসলমান নেপাল থেকে ভারত বিরোধী অনেক ষড়যন্ত্র পরিচালনা করে থাকে। সম্প্রীতি রাজাকার মামুনুল হক নেপাল গেছেন।  

খ্যাতির মোহে নানা রকম কাণ্ডকীর্তি, ফের মৌসুমীদের ‘আমরা ভাইরাল’

শুরু হচ্ছে মৌসুমী হামিদ অভিনীত ধারাবাহিক নাটক ‘আমরা ভাইরাল’। ৫২ পর্বের এই ধারাবাহিক নাটকের কাহিনি লিখেছেন আল আমিন স্বপন। পরিচালনা করেছেন সাজিন আহমেদ বাবু।

মৌসুমী হামিদের পাশাপাশি নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশিদ, আবু হুরায়রা তানভীর, সুজাত শিমুল, ফারজানা চুমকি, নাজনীন চুমকি, সেমন্তি, দিলরুবা তুষি, খায়রুল টিটু, আহসান কবির প্রমুখ। আজ থেকে প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২০ মিনিট নাটকটি আজ বাংলাভিশন চ্যানেলে প্রচার হবে।

ছোট একটা বিরতির পর ‘আমরা ভাইরাল’ নাটকের মধ্য দিয়ে আবার ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় শুরু করেছেন মৌসুমী হামিদ।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘খ্যাতির মোহে মানুষ অনলাইন দুনিয়ায় নিজেদের নানা রকম কাণ্ডকীর্তি তুলে ধরছে। আর তা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে নানা ঘটনার, যা সমাজে দারুণভাবে প্রভাব ফেলছে। বর্তমান সময়ের সেই সত্যটাকে গল্পের আঙ্গিকে এ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে চরিত্রগুলোয় রাখা হয়েছে চেনা মুখের ছায়া। সে কারণে এই নাটকে অভিনয় নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবিনি। আশা করছি, বিনোদনের পাশাপাশি নাটকটি দর্শককে কিছু হলেও ভাবাবে।’

নির্মাতাদের কথায়, সামাজিক মাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হওয়া এখন অনেকে কাছে এক ধরনের নেশায় পরিণত হয়েছে। ভালো কাজ করে যেমন মানুষ ভাইরাল হচ্ছেন, তেমনি আলোচনায় আসতে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন বিতর্কিত কিংবা নেতিবাচক পথ। শুধু ভাইরাল হওয়ার আশায় ভালো-মন্দের তোয়াক্কা না করে নানা কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। হাস্যরসের মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার সেই প্রবণতা এবং সমাজে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে এ নাটকে; যা বিনোদনের পাশাপাশি দর্শককে সামাজিক বার্তাও দেবে।

বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীরা অশুভ, কেন বললেন তানিশা

বলিউড তারকা কাজলের বোন অভিনেত্রী তানিশা মুখোপাধ্যায় মাঝেমধ্যে সমাজ ও নানা বিষয় নিয়ে নিজের মতামত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। এবার বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তানিশার দাবি, এমন নারীরা নারীবাদী হতে পারেন না। বরং তারা অন্য নারীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। এমনকি জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের ‘অশুভ’ ও ‘ক্ষতিকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানিশা লেখেন, ‘বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে যে নারীরা সম্পর্কে জড়ান, তারা নারীবাদী নন। বরং তারা নারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। কারণ, অন্য এক নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো মানে একজন মহিলাকেই অসম্মান করা।’

তবে এমন সম্পর্কে বিবাহিত পুরুষটির দায় কতটা—সেটিও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তানিশা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেই পুরুষও সমানভাবে দায়ী। তার চরিত্রও ভালো নয়। আর যে নারীরা জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের পেছনে ছুটে বেড়ান, তাঁরা অশুভ ও ক্ষতিকর। আমাদের সন্তানদের কাছে তাঁদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।’

তানিশার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। একজন লিখেছেন, এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ—দুজনেই সমানভাবে দায়ী। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সংসার ভাঙেন যাঁরা, তাঁরা লিঙ্গনির্বিশেষে দায়ী হয়ে থাকেন।’

গত বছরও নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তানিশাকে। তখন দেশের সংস্কৃতিতে নারীদের সম্মানের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার মূল্যবোধ বরাবরই ছিল। তবে নানা কারণে সমাজে সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে।

তানিশা মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবনের শুরু ২০০৩ সালে ‘শশশ…’ সিনেমার মাধ্যমে। ভৌতিক ঘরানার ওই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কর্ণ নাথ ও ডিনো মোরিয়া। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। পরে ‘সরকার’, ‘নীল অ্যান্ড নিকি’সহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস্‌’-এ অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তানিশা। ২০১৩ সালে ‘বিগ বস্‌’-এর সপ্তম মৌসুমে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। ওই মৌসুমের বিজয়ী হন গওহর খান।

হুতিদের ঠেকাতে ইসরায়েলের সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব: জেরুজালেম পোস্ট

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, গোয়েন্দা সহায়তা বিনিময় নিয়ে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। হুতিদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য সৌদির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই সহায়তা দেওয়া হবে। আলোচনাটিতে মধ্যস্থতা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।

পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র তাদেরকে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওই সূত্রের ভাষ্য উভয়পক্ষের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের মধ্যে বৈঠকের পর ওই আলোচনা হয়।

মঙ্গলবার এক মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, হুতিদের হামলার মুখে থাকা সৌদির বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও পরিকল্পনা সহায়তা জোরদারে সেন্টকমের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেন্টকম সৌদি অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী নিরাপত্তা জোট বজায় রেখেছে।’

এএফপির প্রতিবেদনটিতে সৌদি-ইসরায়েল বৈঠক ও তাতে সেন্টকমের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গ নেই। জেরুজালেম পোস্টও বিষয়টি নিয়ে তাদের প্রতিবেদনে রিয়াদ কিংবা তেল আবিবের দায়িত্বশীল কারও উদ্ধৃতি প্রকাশ করেনি।

একইদিন ইসরায়েলি আরেক গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে না থাকতে নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) কর্মকর্তারা। এর পরিবর্তে হুমকি মোকাবিলায় তারা বৃহত্তর আঞ্চলিক পদক্ষেপের পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

জেরুজালেম পোস্ট ও হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

জেরুজালেম পোস্ট ও হারেৎজে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

হারেৎজ লিখেছে, গত কয়েকদিনে এসব রুদ্ধদ্বার আলোচনা হয়। হুতিরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখার দখল নেওয়ায় কর্মকর্তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করেন, এই হুমকি মোকাবিলার কার্যকর উপায় হলো একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক জোট গঠন করা।

জেরুজালেম পোস্ট যা লিখেছে
আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি লিখেছে, সৌদি আরবের সহায়তা অনুরোধের মূল লক্ষ্য ছিল সম্ভবত গোয়েন্দা সহায়তা পাওয়া। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় হুতিদের অবস্থান সম্পর্কে জানা ও অভিযানের পরিকল্পনা করা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদকে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার অনুমতি দিয়েছেন। যা নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ আছে। কারণ দুই দেশের সীমান্তে নিকটতম দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

বিষয়টি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনাতেও তোলা হয়েছিল। তিনি রিয়াদ ও তেল আবিবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্ত করে বক্তব্য দেন। সৌদি বলেছে, তারা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সমাধান হওয়ার পর তেল আবিবের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়।

জেরুজালেম পোস্ট লিখেছে, তেল আবিব ও রিয়াদের মধ্যে বেশ কয়েকটি অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ আছে। দুই পক্ষ কীভাবে একটি কূটনৈতিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে সে ব্যাপারে রূপরেখা তৈরি হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

মার্কিন গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে পোস্ট আরও লিখেছে, বাব এল-মান্দেব প্রণালি থেকে হুতিদের সরিয়ে দিতে যুক্তরাজ্যেরও সহযোগিতা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে সম্মত হয়েছেন। কিন্তু অতিরিক্ত কোনো সহায়তা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেননি।

ঢাকায় শুরু হচ্ছে নির্মাণ, কাঠ ও সোলার প্রদর্শনী

রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে নির্মাণ অবকাঠামো, কাঠশিল্প, ইন্টেরিয়র এবং সোলার পণ্যবিষয়ক চারটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী। ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর বসুন্ধরা আইসিসিবির এক্সপো ভিলেজে ‘১০ম বাংলাদেশ বিল্ডকন’, ‘১০ম বাংলাদেশ উড এক্সপো’, ‘ইন্টেরিয়র এক্সপো’ এবং ‘সোলার বাংলা এক্সপো’ নামে এসব প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এএসকে ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশনস ও ফিউচারেক্স ট্রেড যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। নলেজ পার্টনার হিসেবে থাকছে ‘ইন্টেরিয়র ডিজাইন বাংলাদেশ’ (আইডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) মহাপরিচালক ড. প্রকৌশলী গিয়াসউদ্দিন হায়দার প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শনীর পর্দা উঠবে।

একনেকে ১২ প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়সংবলিত ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৮ হাজার ২৫৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকার সংস্থান করা হবে।

সভায় অনুমোদিত ১২টি প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রকল্প সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের। এগুলো হলো—ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বা মেট্রোরেলের লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট), রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং মেট্রোরেলের লাইন-৫ (নর্দান রুট) ও লাইন-১-এর প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর সেকশনে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন বাস্তবায়ন এবং বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ (১ম সংশোধন) প্রকল্প।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল সেনানিবাস স্থাপন (২য় পর্যায়) এবং খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌ সদস্যদের আবাসন সুবিধাসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

এছাড়া, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন (১ম সংশোধন) প্রকল্প, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে টেক্সটাইল ও চামড়া খাতের শ্রমিকদের কাজের উন্নত পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনপুরা দ্বীপাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন ও সম্প্রসারণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি, সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতিপূর্বে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়সংবলিত ১৫টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তর নির্মাণ, ভাসানচরে গ্রিন বেল্ট স্থাপন ও কক্সবাজারে বনায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন, রংপুর জোনে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু প্রতিস্থাপন, আরডিএ ভবনের সম্প্রসারণ, সিলেট বিভাগের বন্যা পূর্বাভাসের জন্য ডিজিটাল এলিভেশন (থ্রি-ডি) মডেল তৈরি এবং সিলেট-১০ নম্বর কূপ খনন প্রকল্প।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সরদার এম এ মুহিত এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

জিন্নাহর স্থলে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি রাখা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন শিক্ষার্থী গিয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সে জায়গায় গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি স্থাপন করেন একটি ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা।

ছাত্রদলসহ একাধিক ছাত্র সংগঠন ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদ করেছে। জিন্নাহর ছবি স্থাপনসহ আরও কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও।

ডাকসু সংগ্রহশালায় বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামের আলোকচিত্র ও নিদর্শনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের গৌরবোজ্জ্বল কিছু ছবি ছিল। গত রোববার সংগ্রহশালা উন্মুক্ত করার পর দেখা যায়, বঙ্গবন্ধুর একক ছবি বাদ দেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি রাখার ঘটনায় গতকাল দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। এর কিছুক্ষণ পর ডাকসুর সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবিগুলোর ফ্রেম ভেঙে ছিঁড়ে ফেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।

জিন্নাহর ছবি রাখার প্রতিবাদে জামায়াতের সাবেক আমির, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত (পরে প্রয়াত) গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি সংগ্রহশালায় টানিয়ে দেন ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা।

আবু তৈয়ব বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহ যখন বলেছিলেন– ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’; তখনই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার জিন্নাহকে পুনর্বাসনের চেষ্টা বড় চক্রান্ত।

গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি টানিয়ে প্রতিবাদ 
গতকাল বিকেল ৩টায় ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়ার নেতৃত্বে এক দল শিক্ষার্থী ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি স্থাপন করেন। সংগ্রহশালায় গিয়ে দেখা যায়, যে স্থানে জিন্নাহর ছবি লাগানো হয়েছিল, তার ওপরে আশির দশকে বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমকে জুতাপেটা করার ছবি লাগানো হয়েছে।

ছাত্র ফেডারেশনের নেতা অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘ইতিহাসের একপক্ষীয় উপস্থাপন কেউ মেনে নেবে না। আর গোলাম আযমরা একাত্তরে যা করেছেন, তার ফলে আশিতে তাঁকে মানুষ জুতাপেটা করেছে। আমরা এ দেশের আপামর মানুষ সেই ইতিহাস সংরক্ষণ করেছি।’

ডাকসু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে: ছাত্রদল
ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘বিতর্কিত ডাকসু থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাসের অধিকাংশ ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের ছবি তারা টানিয়েছে। আমরা এটা সহ্য করতে পারি না। এটা অপসারণ করা না হলে ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অফিস এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’
জিন্নাহর ছবি সরানোর জন্য ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেয় ছাত্রদল।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (একাংশ) ঢাবি সংসদের সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা। আমাদের চাওয়া ছিল, মহান মুক্তিযু্দ্ধকে আওয়ামী দখলদারিত্ব এবং হেয় করা– এই দ্বিমুখী অপতৎপরতার বিপরীতে ডাকসু এ দেশের মানুষের প্রকৃত লড়াইয়ের ইতিহাস ছাত্র-জনতার কাছে তুলে ধরবে। ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; ডাকসু হবে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর। কিন্তু ডাকসু এ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সামনে আনার পরিবর্তে মুছে দেওয়ার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’

‎ছাত্র ফেডারেশন ও অন্যান্য
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের আহ্বায়ক সৈকত আরিফ বলেন, “ডাকসু লজ্জাজনকভাবে ইতিহাসকে বিকৃতি করেছে। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে যে ভাষা আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা জিন্নাহর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই তৈরি হয়েছিল। রেসকোর্স ময়দানের ভাষণে তিনি বলেছিলেন– ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।’ সেখানে ডাকসু জিন্নাহকে নায়ক হিসেবে উত্থাপন করেছে। তা ইতিহাস বিকৃতি। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ডাকসু সংগ্রহশালায় ইতিহাসকে যেভাবে উত্থাপন করা হয়েছে, তা ইতিহাসের বিকৃতি। এ ঘটনায় ডাকসুর নেতৃবৃন্দের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

জিন্নাহর ছবি টানানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট।

ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ সমকালকে বলেন, ‘আমরা জিন্নাহকে দায়মুক্তি দিইনি। জিন্নাহ যে বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, আমরা সেটাই তুলে ধরেছি। বরং যারা জিন্নাহর ছবি ছিঁড়েছে, তারাই জিন্নাহ-প্রেম দেখাচ্ছে।’

সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা অবগত হয়েছি (জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে)। আমরা বলব, যারা রাজনীতির ইতিহাস জানেন না; শুধু প্রথাগত দলীয় রাজনীতিতে যারা অন্ধ, তারা এ ধরনের আচরণ করতে পারেন।’

সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্বেগ 
ডাকসু সংগ্রহশালায় ঐতিহাসিক আলোকচিত্র ও দলিলের উপস্থাপন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটির অভিযোগ, মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি সংযোজন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আলোকচিত্রের উপস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তারা ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা অর্জনের ধারাবাহিক ইতিহাস যথাযথ প্রেক্ষাপটে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইতিহাসবিদ, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতামত নিয়ে সংগ্রহশালার প্রদর্শনী সাজানোর দাবি জানিয়েছে।

এর আগে রোববার ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণআন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা ডাকসু ভবনের নিচতলায় সংস্কার করা এ সংগ্রহশালার উদ্বোধন করেন। ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ অন্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের নেতা মোহাম্মদ আলি জিন্নাহর তিনটি ছবি দেখা যায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন– ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। আরেকটি ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি, যাতে জিন্নাহ রয়েছেন। ওই সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি-সংবলিত প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছিল। অন্য ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি-সংবলিত পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার প্রতিবেদনের কাটিং।

ডাকসুর কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের আপত্তি 
ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শন বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে গতকাল ওক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর উদ্যোগে অনুমোদন ছাড়া একটি ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, শিক্ষক মূল্যায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষণ মূল্যায়ন নীতিমালা রয়েছে এবং তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কাঠামোর বাইরে পৃথক কোনো শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর সুযোগ নেই।

ইউপি নির্বাচন নেতাদের সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থীরা দলীয় সমর্থনের আশায় নেতাদের কাছে ছুটতে শুরু করেছেন। এমন অবস্থা খুলনার কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা আগে থেকেই প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত সোমবার ইউপি নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রাক-প্রস্তুতি সভা শেষে সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়। ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে এ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন ধারণায় প্রার্থীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। প্রায় এক দশক পর এবার নির্দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন হবে।

জানা গেছে, কয়রার সাতটি ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থন পেতে চেষ্টা করছেন ২৪ জন সম্ভাব্য প্রার্থী। তারা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল হামিদ, জাহিদুর রহমান শোভন, জোবায়ের হোসেন, দিলরুবা মিজান; বাগালি ইউনিয়নে আব্দুর রহিম সানা, সাইফুজ্জামান, আশরাফ হোসেন পল্টু; মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে রফিকুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, পীর আলী, হাসান শেখ, নাজমুল হুদা; মহারাজপুর ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান বেল্টু, শরীফুল ইসলাম, কোহিনুর ইসলাম, নুরুল ইসলাম খোকা, আবু সাঈদ বিশ্বাস; কয়রা সদর ইউনিয়নে নুরুল আমীন বাবুল, এমএ হাসান; উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নে সরদার মতিয়ার রহমান, সিরাজুল ইসলাম; দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে মনজুর আলম, সিরাজুল ইসলাম ও ওসমান গনি খোকন।

সম্ভাব্য এসব প্রার্থীর বেশির ভাগই এখন খুলনা জেলা শহরে অবস্থান করছেন। বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি দুজন কেন্দ্রীয় নেতার বাসা খুলনা শহরে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের নিজ নিজ পছন্দের নেতাদের সমর্থন পাওয়ার আশায় তাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

কয়রা উপজেলায় বিএনপির কমিটি নেই প্রায় দুই বছর। যে কারণে স্থানীয়ভাবে ইউপি নির্বাচনে ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে কাউকে সমর্থন দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্তের ব্যাপারে কেন্দ্রীয়ভাবে সঠিক কোনো দিকনির্দেশনা নেই। ফলে যিনি যেভাবে পারছেন, দলীয় সমর্থনের আশায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। অনেকেই নানাভাবে নেতাদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না থাকায় দলীয় শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। কেউ কারও নির্দেশনা মানতে চাইছেন না। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে এখানে। তারা মনে করছেন, দলীয় সমর্থন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেই সহজে জয়লাভ করা যাবে। এ কারণে এলাকার জনসমর্থনের চেয়ে নেতাদের কাছে ছুটছেন তারা।

এদিকে অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচনে তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে রেখেছে। এসব প্রার্থী প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইউপি নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন– আমাদি ইউনিয়নে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, বাগালি ইউনিয়নে মাওলানা সালাউদ্দীন, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এম আয়ুব আলী, মহারাজপুর ইউনিয়নে সাইফুল্লাহ হায়দার, কয়রা সদরে সরদার জুলফিকার আলম, উত্তর বেদকাশিতে নুর কামাল, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নে গাজী বেলাল হোসেন।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, কয়েক মাস আগে সংগঠনের বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের জন্য দলীয় প্রার্থী বাছাই চূড়ান্ত করে গণসংযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে না পারলেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা মাঠে থাকবেন। তাদের সাংগাঠনিক শক্তি এ উপজেলায় বিএনপির চেয়ে বেশি। বিএনপির প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই না করলে ফল বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী খুব শিগগির ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য দলীয়ভাবে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হবে। এ মুহূর্তে অনেকেই মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে দলীয় সমর্থনের আশায় লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে এলাকার মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আছে, কেবল তাদেরই সমর্থন দেওয়া হবে।

সামাজিক মাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল ও অপতথ্য বিস্তারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।

আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। নাগরিকরা যাতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিরাপদ বোধ করেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়েও আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু সর্বোচ্চ

দেশের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন।

এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে মৃত্যু হলো ৬৭ জনের। এটা চলতি বছর এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন। ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ ও সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।

এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সোমবার ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই চিত্র রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। এর মধ্যেই দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। দুদিন আগে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তি।

অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। মঙ্গলবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলোর পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন।

শয্যা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের ২০ বছর বয়সী নাতনি জাহিন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন স্বজনরা। তিন-চারটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জাহিনকে। শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। নুরজাহান বলেন, অনেক হাসপাতালে ঘুরেছেন, কোথাও শয্যা পাননি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৮৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫, রংপুর বিভাগে ৮৬ ও সিলেট বিভাগে সাতজন রয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৩ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৮২ জন। দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল গত আগস্ট মাসে। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন। চলতি বছর ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির হার দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমকালকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শুধু রাজধানীতে নয়; ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য।

অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এডিস মশা রাতেও কামড়ায়।

শীতে কিউলেক্স মশা বেশি দেখা গেলেও এডিস মশা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। এ কারণে মানুষ এডিস মশাকে অবহেলা করে। তাই মশার আচরণ সম্পর্কে মানুষকে জানতে হবে। বাংলাদেশকে ‘মশার দেশ’ উল্লেখ করে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেশের ঘাড়ে ডেঙ্গু চেপে বসেছে। দেশে ১২৬ প্রজাতির মশা আছে। এর মধ্যে সাত থেকে আট প্রজাতির মশার কলোনি রয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রোগ। এ রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন।