Home Blog

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার তিনি বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে সোজা ম্যানহাটানের হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে চলে যাবেন তারেক রহমান। পরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ
অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একটি রেস্টুরেন্টে মিট দ্য প্রেসে বিস্তারিত জানিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেট বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ও সরাসরি একাধিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করি, জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রবাসীর ঢল নামবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় বক্তব্য দেবেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

এ বিষয়কে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাফেলো বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন; আবার এই অধিবেশনে বাংলাদেশ সভাপতিত্ব করছে।

যুবদল নেতা তোফায়েল লিটন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসছেন। তিনি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘে ভাষণ এবং বাংলাদেশের সভাপতিত্ব করার বিষয়টি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।

নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি 

সরেজমিন নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস, ব্রুকলিন ও কুইন্সের প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকাতে গিয়ে দেখা গেছে, সাধারণ প্রবাসী এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আড্ডায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন। সফরটি স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা ও কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে তারেক রহমানের এই সফর ঘিরে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে এক উৎসবমুখর আবহ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আমাদের প্রস্তুতি শেষ। এবার তাঁকে স্বাগত জানানো ও বরণ করে নেওয়ার পালা।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য মিজানুর রহমান ভুঁইয়া মিল্টন বলেন, দলীয় মতাদর্শের বাইরেও অনেক সাধারণ প্রবাসী নেতারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ডিসি, বাফেলো, মিশিগান, টেক্সাস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন প্রদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের অনেক নেতাকর্মী নিউইয়র্কে পৌঁছে গেছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক মঞ্চে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তাঁকে স্বাগত।

ফ্লোরিডা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের যুক্তরাষ্ট্র সফর নানা কারণে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

নিউইয়র্ক দক্ষিণ মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা বলেন, তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন। তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর সফর ঘিরে প্রবাসীদের মাঝে উদ্দীপনা একটু বেশিই। তবে তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয়ভাবে যা করার সবই হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ৩৫ জন 

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আরও থাকবেন যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।

২৭ বছর পর ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ সিনেমার রিমেক, মুক্তির নতুন তারিখ নির্ধারণ

নব্বইয়ের দশকের দর্শকের মনে এখনও উজ্জ্বল ‘হঠাৎ বৃষ্টি’। ১৯৯৮ সালে কোরবানির ঈদের দিন চ্যানেল আইয়ে ওয়ার্ল্ড টেলিভিশন প্রিমিয়ারের পর সিনেমাটি দর্শকের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই জনপ্রিয় সিনেমার ২৭ বছর পর নতুন জুটি আরিয়ান সারোয়ার ও রাদিফা নারমিনকে নিয়ে নির্মিত হয়েছে রিমেক ‘আবার হঠাৎ বৃষ্টি’।
পরিচালক কামরুজ্জামান নির্মিত সিনেমাটি আগে পূজায় মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আগামী ২ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।

পরিচালক জানান, প্রায় তিন মাস আগে সিনেমাটির শুটিং শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে মুক্তির অনুমতিও পেয়েছে এটি।

কামরুজ্জামান বলেন, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ আমাদের দর্শকের কাছে আবেগের একটি সিনেমা। এমন একটি জনপ্রিয় ছবিকে নতুনভাবে নির্মাণ করা নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, পুরোনো ছবিটির সঙ্গে দর্শকের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। সেই জায়গাটিকে সম্মান রেখেই বর্তমান সময়ের দর্শকের কথা মাথায় রেখে আমরা নতুন সিনেমাটি নির্মাণ করেছি। গল্পের মূল আবহ ঠিক রেখে নির্মাণ, অভিনয় ও উপস্থাপনায় আমাদের নিজস্বতা রাখার চেষ্টা করেছি। দর্শক সিনেমাটি দেখার পরই বলতে পারবেন আমরা কতটা সফল হয়েছি। পূজায় মুক্তির পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তখন মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি। এখন ২ অক্টোবর সিনেমাটি দর্শকের সামনে আনতে প্রস্তুত আমরা।’

১৯৯৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র পরিচালক ছিলেন বাসু চ্যাটার্জি। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন ফেরদৌস ও প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদী। রিমেকে ফেরদৌসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিয়ান এবং প্রিয়াঙ্কা ত্রিবেদীর চরিত্রে রাদিফা। এতে আরও অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, ফারজানা ছবি, ক্রিস্টানো তন্ময়, কায়েস আরজু, মৌ খান ও ঝুনা চৌধুরী।

আরিয়ান সারোয়ারের এটি দ্বিতীয় সিনেমা হলেও প্রধান চরিত্রে প্রথম। তিনি বলেন, ‘শুটিংয়ের আগে পুরো ছবিটি একাধিকবার দেখেছি। ফেরদৌস ভাইকে অনুসরণ করেছি, তবে অনুকরণ করিনি।’

বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ প্রযোজনা করেছিল আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও গ্রামকো ফিল্মস। নতুন সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে আশীর্বাদ চলচ্চিত্র ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম।

মুক্তি উপলক্ষে ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টায় বিমানবন্দর এলাকার একটি সিনেপ্লেক্সে প্রিমিয়ার শোর আয়োজন করা হয়েছে। এতে সিনেমার শিল্পী, কলাকুশলী ও নির্মাতা উপস্থিত থাকবেন।

সাত কোটি টাকার সেতুতে ফাটল

সেতু আছে, কিন্তু তাতে ওঠার জন্য দুই পাশে নেই সংযোগ সড়ক। ফলে নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সেতুটি ছয় বছরেও মানুষের কোনো কাজে আসেনি। সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি এখন যেন সংযোগহীন এক অবকাঠামো। কৃষককে ফসল নিয়ে হাট-বাজারে যেতে হচ্ছে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে। এদিকে উদ্বোধনের আগে সেতুর বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে ফাটল ও ভাঙন।

ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের চরকুড়ুলিয়া গনির ঘাটের এই সেতুর এমন দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে ধীরগতি চলার পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ এখনও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। এতে সেতুর দুই পাশের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত যোগাযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয় বছর ধরে অপেক্ষার পর সেতু দাঁড়িয়েছে ঠিকই; তার সঙ্গে দাঁড়ায়নি দুই পাশের যোগাযোগ। সাড়ে ৭ কোটি টাকার এই সেতু এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়; বরং অপূর্ণ কাজের এক দৃশ্যমান স্মারক। তাদের অপেক্ষা–কবে রাস্তা হবে, কবে সেতু খুলবে, কবে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে না গিয়ে সরাসরি বাজারে পৌঁছানো যাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, চরকুড়ুলিয়া এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাতে গনির ঘাট এলাকায় পদ্মার শাখা নদীর ওপর ২০২১ সালে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ কোটি ৪ লাখ ১৩ হাজার ৭৪৯ টাকা। কাজ পায় যশোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানটি তিন দফায় সময় বাড়িয়ে নেয়। সময় বাড়ার সঙ্গে প্রকল্প ব্যয়ও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩৩ টাকা।
দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর সম্প্রতি সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেতু শেষ হলেও দুই পাশে তৈরি হয়নি প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার বাস্তব সুযোগ নেই।

সেতুটি চালু না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে তাদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন খরচ দুটোই বাড়ছে।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, সেতুটি চালু হবে– এই আশায় তারা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছেন। সেতু নির্মাণের পরও রাস্তা না থাকায় আগের দুর্ভোগই রয়ে গেছে।

এদিকে সেতুটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। এরই মধ্যে বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে শুরু থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুর বর্তমান অবস্থা দেখে তাদের কারও কারও মনে হচ্ছে, এটি যেন বহু বছরের পুরোনো জরাজীর্ণ কোনো স্থাপনা।

স্থানীয়দের দাবি, সেতুর নির্মাণকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান যাচাই করে দায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং দ্রুত মানসম্মত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কথা বলতে যশোরের আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ফুল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাড়া মেলেনি। এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম জানান, সেতুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর হিমাগারে পড়ে আছে আলু বাড়ছে লোকসানের বোঝা

আলু ঘরে তুলেছিলেন লাভের আশায়। সেই আলুই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সাদুল্লাপুরের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে উৎপাদন, পরিবহন, শ্রমিক ও সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। প্রতি কেজি আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ৬ থেকে ৮ টাকা। ফলে ধাপেরহাটের আরভি কোল্ডস্টোরে মজুত করা আলুর বড় অংশই পড়ে আছে। ব্যবসায়ীর কেউ কেউ পুঁজি হারিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছেন, কারও আবার নতুন করে আলু ব্যবসায় নামার সামর্থ্যও ফুরিয়ে এসেছে।

হিমাগারটিতে চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু মজুত করেছিলেন স্থানীয় চার শতাধিক ব্যবসায়ী ও কৃষক। প্রতি বস্তায় আলু ছিল ৬৫ কেজি। বর্তমানে এর মধ্যে ৯৫ হাজার বস্তা বা প্রায় ৬ হাজার ১৭৫ টন আলু মজুত রয়েছে। বাজারে দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরা আলু তুলছেন না বলে জানিয়েছেন হিমাগার কর্তৃপক্ষ।

আরভি কোল্ডস্টোরের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, আলু কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি, চটের বস্তা, পরিবহন ও হিমাগার ভাড়া– সব মিলিয়ে প্রতি কেজিতে ব্যবসায়ীদের ৬ থেকে ৮ টাকা লোকসান হচ্ছে। এ কারণে অনেকে আলু তুলছেন না।

ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সব খরচ মিলিয়ে এক কেজি আলু কোল্ডস্টোরে রাখা পর্যন্ত তাঁর ব্যয় হয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। কিন্তু এখন বিক্রি করতে গেলে পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ টাকা। তাঁর ভাষায়, ‘এভাবে লোকসান দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।’ আরেক ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র সরকার বলেন, গত মৌসুমে লোকসান গুনে পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। এবার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার করে আলু মজুত করেছিলাম। এবারও লোকসান হওয়ায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

সাদুল্লাপুরে চলতি মৌসুমে লালপাকড়ি, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, সাদাহল্যান্ড ও বার্মা জাতের আলুর চাষ বেশি হয়েছে। রোপণ মৌসুমে বীজের দামও ছিল বেশি।

শহরের সুজন বীজ ভান্ডারের মালিক সুজন কুমার সরকার বলেন, রোপণ মৌসুমে তিনি প্রতি কেজি বীজ আলু ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অনেক কৃষক এর চেয়েও বেশি দামে বীজ কিনেছেন। এর সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের খরচ যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ ১০ থেকে ১২ টাকা ছাড়িয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে সাদুল্লাপুরে ২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ২৫০ টন। এর আগের ২০২৪-২৫ মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ৩০ হাজার ৫০০ টন। উপজেলায় বছরে আলুর চাহিদা প্রায় ২০ হাজার টন। সেই হিসাবে চলতি মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর প্রায় ৩৬ হাজার ২৫০ টন আলু উদ্বৃত্ত থাকার কথা। উৎপাদন বাড়ায় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হয়েছে বলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন।

গত মঙ্গলবার সাদুল্লাপুর শহরের খোলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি আলু ১৬ থেকে ১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি মহাজনের কাছ থেকে আলু কিনেছেন। মহাজন আবার গ্রামের পাইকারের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন। কয়েক দফা হাতবদলের পর সেই আলু খুচরা বাজারে আসছে।

সাধারণ ক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৬ টাকা কেজিতেই আলু পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য সবজির তুলনায় দাম কম থাকায় ক্রেতারা স্বস্তিতে রয়েছেন।

তীলকপাড়া গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, টানা দুই মৌসুম ধরে আলুতে লোকসান হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চাষের আগ্রহ কমছে। এভাবে চলতে থাকলে আসন্ন মৌসুমে আলুর চাষ কমে যেতে পারে।

ইসলামপুর গ্রামের কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রণোদনা না দিলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। তাঁর মতে, আলুর চাষ কমে গেলে পরবর্তী সময়ে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে ভোক্তাদের বেশি দামে আলু কিনতে হতে পারে। তাই এখনই কৃষকদের সহায়তায় উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, স্থানীয় চাহিদার তুলনায় গত দুই মৌসুমে আলুর উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও ভালো হয়েছে। জমির ধরন অনুযায়ী এ এলাকায় কিছুটা বিলম্বে আলু উৎপাদন হওয়ায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলে কৃষক উপকৃত হতে পারেন।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজারদরে ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও আলু মজুত করে রাখা প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারি প্রণোদনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ ৮০ জন বিজয়ী পেলেন ৭৮টি মোটরসাইকেল ও দুটি ফ্রিজ

বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘এমইপি অ্যাকসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ বিজয়ী সংবর্ধনা ও উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নতমানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। এতে দেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়কারীদের মধ্যে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও দুটি ফ্রিজ তুলে দিয়ে এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে বাজার আরও বিস্তৃত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

গ্রুপটির পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসবে। সেজন্য অংশীদার-গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিশেষ এই অফার আগামী অক্টোবর হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ১০ একর জমিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের স্বীকৃতি প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে এমইপি গ্রুপ নতুন কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ ৮০ জন বিজয়ী পেলেন ৭৮টি মোটরসাইকেল ও দুটি ফ্রিজ

বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। সেখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট, সার্কিট ব্রেকার, ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে। রোববার রাজধানীর রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে ‘এমইপি অ্যাকসেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ বিজয়ী সংবর্ধনা ও উদযাপন’ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানিটি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির নতুন বিনিয়োগ ও আধুনিক কারখানা উন্নতমানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। এতে দেশে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে।

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়কারীদের মধ্যে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও দুটি ফ্রিজ তুলে দিয়ে এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক, ব্যবসায়িক অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে বাজার আরও বিস্তৃত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নতুন কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এমইপিকে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতের অন্যতম বড় বাজার-অবদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে।

গ্রুপটির পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে নতুন কারখানায় উৎপাদিত পণ্য বাজারে আসবে। সেজন্য অংশীদার-গ্রাহকদের সঙ্গে নতুন পণ্যের বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এমইপি অ্যাকসেসরিজের বিশেষ এই অফার আগামী অক্টোবর হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

এমইপি গ্রুপ জানিয়েছে, মিরসরাইয়ে ১০ একর জমিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের কারখানা নির্মাণ করবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এ প্রকল্পটি উৎপাদন, পণ্যের উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, এটি বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে একটি যুগান্তকারী উদ্ভাবনী প্রকল্প হয়ে উঠতে পারে।

অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের স্বীকৃতি প্রদান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি এমইপি পণ্যের প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। গুণগত মান, নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও গ্রাহকের আস্থাকে ভিত্তি করে এমইপি গ্রুপ নতুন কারখানার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈদ্যুতিক পণ্য বাজারে আরও বড় ও টেকসই অবদান রাখতে চায়। অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের স্কুলে হামলা: এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল ছিল যুক্তরাষ্ট্র ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন

ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে হামলার পেছনে একাধিক ভুল সিদ্ধান্তের ভূমিকা ছিল। এর মধ্যে একটি হলো- এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের পাশাপাশি কর্মী কমানো এবং দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের তাড়াহুড়াও প্রাণঘাতী হামলার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। হামলাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো দায় স্বীকার করেনি। সম্প্রতি জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য তারা যথেষ্ট কারণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ১২৩ শিশুসহ ১৫০ জনের বেশি নিহত হন। বিদ্যালয়টির পাশেই একটি নৌঘাঁটি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেটিই ছিল হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত প্রতিবেদন। স্ক্রিনশট

ঘটনাটি নিয়ে গত মার্চ মাসে তদন্ত শুরু হয়। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেদন তৈরির কাজ সম্পন্ন হলেও তা কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার তদন্তটি শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত মে মাসে কংগ্রেস সদস্যদের তিনি জানান, ‘এ কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।’ কিন্তু প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য কতটা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে প্রথম দিককার কিছু বিবরণ দিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, কোনো একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে হামলাটি ঘটেনি। বরং একাধিক ছোট সিদ্ধান্তের কারণে এমনটা হয়েছে।

সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় কর্মকর্তারা নাম প্রকাশে রাজি হননি। তারা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ কয়েকদিনে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে থেকে ব্যাপক বিমান হামলার নির্দেশ এসেছিল। কিন্তু হাতে সময় ছিল কম। তাই তাড়াহুড়া করে লক্ষ্যবস্তু চূড়ান্ত করা হয়। স্থাপনাটি সম্পর্কে মূল তথ্যের ঘাটতি, বেসামরিক সুরক্ষায় নিয়োজিত কর্মী কমানো এবং এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ভুলের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

মার্কিন সামরিক বাহিনীতে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ, জটিল সামরিক অভিযান পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের কাজ করা হয় ‘ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমের’ মাধ্যমে। এআই চালিত সফটওয়্যারটি তৈরি করেছে প্যালান্টির টেকনোলজিস। সফটওয়্যারটি দেড়শোর বেশি সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহের পর সেগুলো সমন্বয় করে। যাতে কমান্ডারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ সহজ হয়। ব্লুমবার্গকে কর্মকর্তারা বলেছেন, সেন্টকমের কিছু কর্মী এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টির সামনে স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টির সামনে স্থানীয়রা। ছবি: রয়টার্স

গত এক বছরে ম্যাভেন স্মার্ট সিস্টেমকে মার্কিন সামরিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান প্রযুক্তিতে পরিণত করেছে পেন্টাগন। বেশ কয়েকজন সাবেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বর্তমানে ম্যাভেনের মূল প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরে কাজ করছেন। তাদের দায়িত্ব নিরাপদ সামরিক পরিবেশের মধ্যে সফটওয়্যারটি সচল রাখা।

কর্মকর্তারা বলেন, সেন্টকমের কর্মীরা আশা করেছিলেন গোয়েন্দা তথ্যে যদি পুরোনো কিছু থাকে, তাহলে ম্যাভেন সেটি শনাক্ত করে সতর্কবার্তা দেবে। কিন্তু কেন তারা এমনটি আশা করেছিলেন তা স্পষ্ট নয়।

প্যালান্টিরের এক মুখপাত্র বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি শনাক্ত করার জন্য কোম্পানিটি দায়ী নয়। মিনাব হামলায় তাদের সফটওয়্যারের ত্রুটি থাকার বিষয়টিও প্রমাণ হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনও মন্তব্য করেনি। একজন মুখপাত্র শুধু বলেছেন, ‘ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন।’ অপরদিকে প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনো বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানায় না।

ডিজিটাল ভবিষ্যতের লক্ষ্যে নতুন রূপে স্টেডফাস্ট

দেশের অন্যতম কুরিয়ার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টেডফাস্ট নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতি উন্মোচন করেছে। ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের সেবার মান আরো সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রোববার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে নতুন লোগো উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন। পরে ই-কমার্স উদ্যোক্তা, মার্চেন্ট ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নতুন লোগো উন্মোচন করেন স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি। নতুন ব্র্যান্ড পরিচিতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, মার্চেন্ট অ্যাপ ও গ্রাহক অ্যাপের নতুন সংস্করণও উন্মুক্ত করা হচ্ছে।

স্টেডফাস্টের নতুন লোগোর কেন্দ্রে রয়েছে ‘ঘুড়ি’। প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, ঘুড়ি আকাশে উড়লেও এর সুতো থাকে হাতে। একইভাবে মার্চেন্টের পণ্য দেশের যে প্রান্তেই পৌঁছাক, এর নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য মার্চেন্টের হাতেই থাকবে— এই ধারণা থেকেই নতুন ব্র্যান্ড ট্যাগলাইন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আস্থার ঘুড়ি, আপনার হাতে’। তবে প্রতিষ্ঠানের পুরোনো স্লোগান ‘সবার আগে, সবখানে’ অপরিবর্তিত থাকছে।

স্টেডফাস্ট জানিয়েছে, নতুন পরিচিতির সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল অটোমেশন বাড়ানো, পার্সেলের ট্রেসেবিলিটি উন্নত করা, দেশজুড়ে কাভারেজ বাড়ানো, দ্রুত ও নিরাপদে পার্সেল পৌঁছে দেওয়া এবং পেমেন্ট প্রক্রিয়াকে আরও ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

বর্তমানে তিন লাখের বেশি ই-কমার্স উদ্যোক্তা ডেলিভারি সেবার জন্য স্টেডফাস্টের ওপর নির্ভর করছেন। কয়েক হাজার ডেলিভারি রাইডার দেশের বিভিন্ন এলাকায় সেবা দিচ্ছেন। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় হোম ডেলিভারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের উদ্যোক্তারাও সারা দেশে পণ্য পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের ক্ষেত্রেও কাজ করছে, যার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে পণ্য পাঠাতে পারছেন।

ব্র্যান্ড পরিচিতি পরিবর্তন হলেও মার্চেন্টদের জন্য বিদ্যমান সেবার শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে স্টেডফাস্ট। এর মধ্যে ডেলিভারি চার্জ, পরের দিনের পেমেন্ট, রাইডার সেবা ও কাভারেজ আগের মতোই থাকবে।

অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম রিদওয়ানুল বারী জিয়ন বলেন, ‘দশ বছর আগে আমরা কয়েকজন মিলে শুরু করেছিলাম। আজ দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের রাইডাররা পৌঁছে যাচ্ছেন। আমাদের কাজটা বদলায়নি, কিন্তু আমাদের সামর্থ্য বদলেছে। আজকের স্টেডফাস্ট শুধু দ্রুত নয়, প্রযুক্তিনির্ভর। নতুন লোগো সেই পরিবর্তনকেই স্বীকৃতি দিল।’

স্টেডফাস্টের চেয়ারম্যান জোয়াইরিয়া মোস্তারি বলেন, ‘ঘুড়িটা আমাদের, সুতো আর নাটাইটা আমাদের মার্চেন্টদের। আগামী দিনে প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও মানুষে বিনিয়োগ করে আমরা সেই আস্থার জায়গাটা আরও শক্ত করতে চাই।’ অনুষ্ঠানে স্টেডফাস্টের দশ বছরের পথচলা নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

যানবাহনে আগুনের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোমাবাজি এবং যানবাহনে আগুনের প্রতিবাদে রোববার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। দলটির অভিযোগ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বোমাবাজি এবং আগুন সন্ত্রাস করেছে।

রোববার রাতে শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। দলটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর অঞ্চলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান। তারা আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, অধ্যক্ষ মো. নাসির উদ্দিন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শাহ আলম তুহিন, মো. শহীদুল্লাহ, মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য মাস্টার আশরাফুল আলম, মনিরুল ইসলাম মৃধা, অ্যাডভোকেট আলাউদ্দিন সোহেল, আব্দুল মোতাকাব্বির প্রমুখ।

কলেজগুলোতে একাদশে ভর্তির তোড়জোড়

সারাদেশে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার থেকে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সশরীরে গিয়ে নির্ধারিত কলেজে ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। এ প্রক্রিয়া চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তবে ভর্তির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এসেছে বড় একটি চিত্র– চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তির আবেদনই করেনি।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে একাদশে অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন করেছে আট লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ, পাস করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ২৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এ হিসাবে পাস করা প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় একজন একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি।

ভর্তির আবেদন না করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন জিপিএ ৫ পাওয়া। তারা কেন আবেদন করেনি, প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এর ব্যাখ্যা নেই। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন।

বিপুল আসন, কম শিক্ষার্থী

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এবার দেশের আট হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট আসন ২৬ লাখ এক হাজার ৭৭৯টি। বিপরীতে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে আট লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থীর। ফলে মোট আসনের তুলনায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এখনও অনেক কম। ভর্তি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন (বিভাগ পরিবর্তন) এবং শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার পর প্রকৃত খালি আসনের চিত্র স্পষ্ট হবে। অনেক প্রতিষ্ঠানেই আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত শনিবার রাতে প্রকাশিত দ্বিতীয় ধাপের ফল অনুযায়ী, এ ধাপে আট লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি আবেদন জমা পড়ে। মাইগ্রেশনের মাধ্যমে পছন্দক্রম অনুযায়ী কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে ৫৬ হাজার ৮০৪ জন।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ধাপে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়।

২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভর্তি

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা গতকাল থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবে। এর পর আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হবে।

ভর্তি ফি সর্বোচ্চ সাড়ে ৮ হাজার

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফি সর্বনিম্ন এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা, অন্যান্য মেট্রোপলিটন ও বিভাগীয় শহরে তিন হাজার, জেলা পর্যায়ে দুই হাজার এবং উপজেলা ও মফস্বলে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ সাত হাজার ৫০০ এবং ইংরেজি ভার্সনে আট হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে এ ফি যথাক্রমে তিন হাজার ও চার হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় দুই হাজার ৫০০ ও তিন হাজার টাকা।

৯৩ শতাংশ আসন উন্মুক্ত

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। বাকি ৭ শতাংশের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।