Home Blog

এরদোগানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই দেশের শীর্ষ নেতারা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কাছে ৮২১ ইউনাইটেড নেশনস প্লাজায় অবস্থিত তুর্কি হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের মধ্যে এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন তাঁরা।

তিনি জানান, বৈঠকের আলোচনাকালে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনেরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

খাবার পরে আবারও খেতে ইচ্ছে করছে? খাদ্যতালিকায় রাখুন ৬ খাবার

অতিরিক্ত ওজন কমানো বা আদর্শ ওজন বজায় রাখা—যেটাই আপনার লক্ষ্য হোক না কেন, খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাওয়া একদমই উচিত নয়; কারণ এতে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি প্রবেশ করে, যার অব্যবহৃত অংশ ত্বকের নিচে চর্বি বা মেদ হিসেবে জমা হতে থাকে।

বাজারে ক্ষুধা কমানোর দাবি করা অনেক সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ পাওয়া গেলেও, সেগুলো সেবন খাওয়া সবসময় নিরাপদ নয়। কারণ, এগুলোর অনেকটিতেই এমন সব উপাদান থাকতে পারে যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদে এসব উপাদান লিভার ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং নতুন কোনো শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।অতিরিক্ত ওজন কমাতে না পারার মূল কারণ যদি আপনার প্রবল ক্ষুধা বা খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়, তবে এমন সব খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা দ্রুত এই আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যখনই আপনার এমন কোনো অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগবে তখন কিছু খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। যেমন-

ওটমিল
এক বাটি গরম ওটমিল খেলে চোখের পলকেই খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর হতে পারে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায়, এটি খাওয়ার পরপরই পেট ভরা বা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি হয়। এর সাথে আপনার পছন্দের কোনো ফলের কয়েক টুকরো মিশিয়ে নিলে ওটমিলের ক্ষুধা-দমনকারী গুণ আরও বেড়ে যায়।

কাঠবাদাম 
এক মুঠো কাঠবাদাম খাওয়া ক্ষুধা কমানোর একটি ভালো উপায়। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাটের কারণে, এটি খাওয়ার পরপরই শরীর তৃপ্তিবোধ করে। কাঠবাদামের  আখরোট, পেস্তা এবং কাজু বাদামের মতো অন্যান্য বাদামও খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতে সমানভাবে কার্যকর।

টক দই 
ঘন ও প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায়, সামান্য পরিমাণ টক দই-ই অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্রেভিং’ মুহূর্তেই দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রিক দই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো, কারণ এতে অন্যান্য দইয়ের তুলনায় ক্যালোরি কম থাকে। তবে ফ্লেভারযুক্ত বা বিভিন্ন স্বাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ সেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে চিনি মেশানো থাকে।

তিসির বীজ 
খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা দূর করতে চাইলে টক দইয়ের ওপর এক টেবিল চামচ তিসির বীজ ছড়িয়ে নিতে পারেন। এর কারণ হলো, তিসির বীজ শরীরকে ফাইবার, প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বা চর্বি সরবরাহ করে—যার প্রতিটিই ক্ষুধা কমানোর জন্য পরিচিত। অন্যান্য বীজও এক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে!

আপেল
‘দিনে একটি আপেল খেলে ডাক্তার থেকে দূরে থাকা যায়’—কথাটি সবারই জানা। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, এটি খাবারের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। প্রচুর পরিমাণে ফাইবার ও পানি থাকায় আপেল কার্যকরভাবে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ক্ষুধা মেটানো বা ক্ষুধা ভাব দূর করার ক্ষেত্রে নাশপাতিও আপেলের মতোই চমৎকার কাজ করে।

পুদিনা পাতার চা 

বারবার খেতে ইচ্ছে করলৈ এক কাপ পুদিনা পাতার চা তৈরি করে পান করতে পারেন। গরম পানিতে পুদিনা পাতার টি-ব্যাগ বা তাজা পুদিনা পাতা কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রেখে খেতে পারেন। এই ভেষজ পানীয়টি ক্ষুধা কমাতে দারুণ কাজ করে, কারণ এর সুগন্ধ ও স্বাদ—দুটিই তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুধা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত: জয়সওয়াল

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ভারত বিদ্যমান কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে সব দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী ভারত।

গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরে আসছে কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন কিনা– এমন খবরের বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, আমার যখন কিছু বলার থাকবে, তখন আমি আপনাদের জানাব।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন কিনা– এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই, এ ধরনের কোনো অগ্রগতি হলে আমি অবশ্যই আপনাদের জানিয়ে রাখব।

এদিন ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকেও আসন্ন বহুপক্ষীয় অনুশীলন ‘তরঙ্গ শক্তি’ নিয়ে একটি ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ সেই অনুশীলনে তাদের ‘সি-১৩০জে’ বিমান পাঠাচ্ছে। এ অবস্থায় ঢাকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রকৃতপক্ষে আরও উন্নত হচ্ছে কিনা– এমন প্রশ্নে জয়সওয়াল বলেন, আমি আপনাদের যেমনটা বলেছি, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি কী তা প্রকাশ করেছি।

সিএনএনের বিশ্লেষণ বিশৃঙ্খলা ত্বরান্বিত করছেন ট্রাম্প

বিশ্বে এখন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত ৮০ বছরের যে কোনো সময় হলে যুক্তরাষ্ট্র স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ভূমিকা পালন করত। বিস্ময়করভাবে এখন পশ্চিমাবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক ভাষণ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশে তার জনপ্রিয়তা কমছে। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধকে আলোচ্যসূচিতে রেখে জাতিসংঘের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া এমন একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন ট্রাম্প, যাতে তিনি না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবু ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প তাঁর ভাষণে দাবি করবেন– যুক্তরাষ্ট্র কখনও এত শক্তিশালী বা সম্মানিত ছিল না।

চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ‘আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন আমরা বেশি সম্মানিত। আমি বৈঠকে গেলে সবাই দাঁড়িয়ে যায়। আমাদের আগের প্রেসিডেন্টের জন্য তারা দাঁড়াত না; তারা তাঁকে গুরুত্ব দিত না।’

কিন্তু বিশ্বের বড় একটি অংশ তাঁর সঙ্গে একমত নয়। কানাডা ও ইউরোপের মতো একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য এক হওয়ার চেষ্টা করছে, যা একসময় কল্পনাও করা যেত না। কারণ, যাকে তারা এতদিন নিরাপত্তার প্রধান রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখেছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে এখন নিজেদের রক্ষা করতে হচ্ছে। ক্রমেই আগ্রাসী হয়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বের আস্থাও কমে যাচ্ছে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নিজেকে ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোর এমন এক নেতার ভূমিকায় তুলে ধরছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক যুগের পরবর্তী সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত মাসে তিনি বলেন, ‘আমেরিকা বদলে গেছে। ওয়াশিংটন থেকে বয়ে আসা ঝড় আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’

ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি এখন প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিত্বেরই সম্প্রসারণ হয়ে উঠেছে। বস্তুগত স্বার্থ আদায়ে হুমকি ও শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এতে স্পষ্ট। গত সপ্তাহে ফক্স নিউজে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানকে ‘পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার’ কথা ভাবা যায় কিনা, তা নিয়েও মন্তব্য করেন।

২০১৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া প্রথম ভাষণে ট্রাম্প এমন একটি পররাষ্ট্রনীতির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা পশ্চিমাবিশ্বকে ভিত থেকে নাড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি সব সময় আমেরিকাকে সবার আগে রাখব।’ দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তিনি সেই রূপান্তর সম্পূর্ণ করেছেন। ট্রাম্প মিত্রদের আক্রমণ করছেন এবং চীনের নেতা শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মতো কর্তৃত্ববাদী নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন।

নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভেনেজুয়েলার তেল ১০০ বছরের একটি চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পূরণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় সাফল্যের এই উচ্ছ্বাস ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি ভেবেছিলেন একইভাবে ইরানকেও ধ্বংস করতে পারবেন। এখন মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে আটকে পড়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কারণে সৃষ্ট চাপের মধ্যে ইউরোপের পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এমন একটি যুদ্ধ; যার কারণে তেল, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। ইউরোপে অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন সেখানকার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আক্রমণকারী ডানপন্থি জনপ্রিয়তাবাদীদের সমর্থন দিচ্ছে।

আধুনিক ভূ-রাজনীতির আরেকটি নতুন বাস্তবতার শিক্ষাও ট্রাম্প গত বছর পেয়েছেন। চীনের সঙ্গে তাঁর বাণিজ্যযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত থেমে যায়, যখন বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজের রপ্তানি কমিয়ে দেয়। ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে হুমকি এমন এক ভাঙন তৈরি করেছে, যাকে ‘জোটব্যবস্থার ভাঙন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন কার্নি।

পাঁচ মাসে বিপিসির লোকসান ২০ হাজার কোটি টাকা

চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া এর কারণ। গতকাল মঙ্গলবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে একথা বলা হয়েছে। চিঠিতে বিপিসির জন্য নতুন করে ভর্তুকির আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকার থেকে নেওয়া বিপিসির সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ আবারও ভর্তুকিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এ প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তবে দেশে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থে বিশ্ববাজারের সঙ্গে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় না করায় গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বিপিসির মোট লোকসান হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে মার্চে ২ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা, এপ্রিলে ৭ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, মে মাসে ২ হাজার ৬২১ কোটি টাকা, জুনে ৬ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ১২৫ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

চিঠিতে দাবি করা হয়, পরিস্থিতি একই রকম থাকায় বিপিসির লোকসান চলমান রয়েছে। এ লোকসান সমন্বয়ের জন্য গত ১৭ আগস্ট বিপিসি জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগে ভর্তুকির আবেদন করেছে। এর আগে ২ জুলাই, ২৮ জুলাই ও ১৩ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিপিসির জন্য ভর্তুকি দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ভর্তুকি পাওয়া যায়নি।
জ্বালানি তেলের আমদানি মূল্য ও দেশে সরকার নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের পার্থক্যজনিত লোকসান সমন্বয়ের জন্য বিপিসিকে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণকে সংস্থাটি ভর্তুকিতে রূপান্তরের প্রস্তাব করেছে বলে জানানো হয় চিঠিতে। এতে বলা হয়, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এ ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের সুপারিশ থাকলেও এতদিন এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এ অবস্থায় ঋণের দায় থেকে বিপিসিকে অব্যাহতি দিয়ে ডেট সার্ভিস লাইয়াবিলিটিজ (ডিএসএল) বই থেকে তা অবলোপনের (রাইট-অফ) ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিপিসির নথি অনুযায়ী, ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও সরকার স্থানীয় বাজারে সে অনুযায়ী দাম সমন্বয় করেনি। ফলে জ্বালানি তেল কম দামে বিক্রির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা সমন্বয়ের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিপিসিকে ঋণ দেওয়া হয়। পরে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরাসরি ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা এবং লোকসান সমন্বয়ের জন্য ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ২২ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ বিপিসির অনুকূলে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের জন্য অর্থ বিভাগকে অনুরোধ করে। পরে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এনবিআরের পাওনা বকেয়া ভ্যাট পরিশোধ সাপেক্ষে বিষয়টি নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত দেন। সে অনুযায়ী বিপিসি এনবিআরের মোট ২ হাজার ৬০৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বকেয়া ভ্যাট পাঁচ কিস্তিতে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে পরিশোধ করে। পরে ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল আবারও ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়, লোকসান সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ভর্তুকির বিপরীতে দেওয়া ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা ঋণ ভর্তুকিতে রূপান্তরের বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। এ অবস্থায় বিপিসি উদ্বৃত্ত তহবিল ও লভ্যাংশ হিসেবে মোট ১৬ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে।
প্রস্তাবের সংযুক্তিতে আরও বলা হয়, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে থাকায় বিপিসি মুনাফা করতে শুরু করে। এরপর সংস্থাটি সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের কাছে ৩০ হাজার ৮৭৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা দেনা পরিশোধ করেছে। পাশাপাশি পেট্রোবাংলার ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, ভ্যাট কর্তৃপক্ষের ৬০৩ কোটি টাকা এবং রিফাইনারি ইউনিটের জন্য জমি কেনায় ২৩৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সরকারকে লভ্যাংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থের সংস্থান রাখতে হচ্ছে।

ইসলামী ব্যাংকে পরীক্ষা ছাড়া ৮৫৪২ নিয়োগ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

এস আলম গ্রুপের হাতে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ থাকার সময় ব্যাংকটিতে ১০ হাজার ৮৩২ জন কর্মী নিয়োগ হয়েছে। এদের মধ্যে কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও পরীক্ষা ছাড়া কেবল জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি জমা নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে বেশির ভাগ এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া এবং গ্রুপের আসাদগঞ্জ অফিসে রাখা বাক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক বিশেষ পরিদর্শন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ এবং আগস্টে সরকার পতনের পর ছাঁটাই প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কিনা, তা যাচাইয়ের জন্য চলতি বছরের এপ্রিলে গঠিত কমিটি এই প্রতিবেদন দেয়।

বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সাধারণত বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয় যুগ্ম পরিচালকের নেতৃত্বে।

মূল্যায়ন পরীক্ষার পর ছাঁটাই হওয়া কর্মী এবং ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিদর্শন প্রতিবেদনে কোনো সুপারিশ না করে শুধু ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, কর্মী নিয়োগ এবং ছাঁটাই– দুটিই ব্যাংকের নিজস্ব বিষয়। ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এসব কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল। তারাই ছাঁটাই করেছে। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা সমীচীন হবে না।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগ দেওয়া হয় ১০ হাজার ৮৩২ জন। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই শুধু প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আট হাজার ৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম জেলার আট হাজার ৯৯ জন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছিল পাঁচ হাজার ১৪৮ জন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের পটিয়ার বাড়ি ও আসাদগঞ্জের অফিসে জীবনবৃত্তান্ত জমার বাক্স থাকত। এসব বাক্সে লেখা থাকত পটিয়া জেনারেল, পটিয়া ক্যাশ, পুরুষ জেনারেল-সাতকানিয়া-লোহাগাড়া, পুরুষ ক্যাশ-গণ্ডামারা-বাঁশখালী, সনাতন জেনারেল, মহিলা ক্যাশ, পিয়ন-ডিপ্লোমা, পুরুষ জেনারেল, পুরুষ ক্যাশ ইত্যাদি।

সলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী, যে কোনো পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের থেকে আবেদন আহ্বান করে অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। এরপর যোগ্য প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মার্কসকে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কোন পদে কতজন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। ব্যাংকটি মোট ২৭টি পদে এসব নিয়োগ দেয়। এর মধ্যে পরীক্ষা ছাড়া সর্বোচ্চ দুই হাজার ৭৮৯ জন ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার (ক্যাশ) ও দুই হাজার ১৬০ ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়। এর বাইরে মেসেঞ্জার কাম গার্ড এক হাজার ৫৪৪ জন এবং রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) প্রকল্পের স্টাফ হিসেবে ৯১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৫০১ জন ট্রেইনি জুনিয়র অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

ওই সময়ে উচ্চপদের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া দুজন এমডি, আটজন ডিএমডি, দুজন এসইভিপি, ব্যাংকটির ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটের জন্য একজন প্রিন্সিপাল নিয়োগ হয়। আর পাঁচজন ইভিপির মধ্যে চারজনকে নিয়োগ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিএমডি হতে হলে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং পূর্ববর্তী পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতা লাগবে। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিনকে মাত্র আট বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা এবং মিফতাহ উদ্দীনকে ১৭ বছর অভিজ্ঞতায় ডিএমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।

ছাঁটাইয়ের বিষয়ে যা আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশদ পরিদর্শন ও চারটি বহির্নিরীক্ষকের বিশেষ নিরীক্ষায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট সময়কালের নিয়োগে অনিয়ম চিহ্নিত হয়। ফলে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়াদের যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ। মূল্যায়ন পরীক্ষা বন্ধের জন্য দুই কর্মী ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট হাইকোর্টে একটি রিট করেন।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ওই বছরের ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন আদালত। ২৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষা নিতে বাধা নেই বলে জানানো হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে। প্রাথমিকভাবে সেখানে পাঁচ হাজার ৩৭৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে অংশগ্রহণকারী ৪০২ জনের সবাই চাকরিতে বহাল আছেন। চার হাজার ৯৭১ জন কর্মকর্তা পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বিভিন্ন কারণে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারাদেরও ২৮৭ জনকে পরবর্তী সময়ে আবার যুক্ত করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্ষদের সিদ্ধান্তে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ চার হাজার ৬৮৫ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এদের মধ্যে চার হাজার ৪৪০ জনের বাড়ি চট্টগ্রামে। ১৫৫ জনের বাড়ি কক্সবাজার, ঢাকার ১০ জন এবং বাকি ৬১ জেলার ছিলেন ৮০ জন।

এর বাইরে পাঁচজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগে ১২১ জন, চুক্তির মেয়াদপূর্তিতে নবায়ন না করায় এক হাজার ১৯০ জন এবং অন্যান্য কারণে ১৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন সমকালকে বলেন, সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিয়োগ পাওয়াদের জন্য গত বছর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় যারা অংশ নেয়নি, শুরুতে তাদের ওএসডি করা হয়। পরবর্তী সময়ে সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছাঁটাই করা হয়।

কোন জেলার কত নিয়োগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার সর্বোচ্চ আট হাজার ৯৯ জন নিয়োগ পান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯৮ জন নিয়োগ দেওয়া হয় কক্সবাজার জেলা থেকে। এর পরের অবস্থানে কুমিল্লার, ১১৪ জন। ময়মনসিংহের ৯৯, বগুড়ার ৯৭ ও ঢাকা জেলা থেকে নিয়োগ পান ৯৬ জন।

এ ছাড়া রাজশাহী থেকে ৮৩, যশোর থেকে ৭৮, গাইবান্ধা থেকে ৭৫, রংপুর থেকে ৬৬ এবং অন্যান্য ৫৪টি জেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় বাকি এক হাজার ৬২৭ জনকে। ২০১৭ সালে মাত্র ৩৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে এক হাজার ১১৮ জন এবং ২০১৯ সালে দুই হাজার ৪৬৭ জন নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২০ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় দুই হাজার ১১০, পরের বছর ৮৬৫ জন। চরম তারল্য সংকটের সময় ২০২২ সালে দুই হাজার ১১৯ জন, ২০২৩ সালে ৩৯৭ জন এবং ২০২৪ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় এক হাজার ৩৯২ জন কর্মী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শক দল দৈবচয়ন ভিত্তিতে ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ১০ জন কর্মকর্তার লিখিত বক্তব্য নিয়েছে, যারা বর্তমানে ঢাকায় চাকরিতে আছেন। তারা জানিয়েছেন, এস আলমের নিজ বাড়ি ও আসাদগঞ্জ অফিসের বক্সে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন তারা। সেখানেই তাদের মৌখিক পরীক্ষা এবং যোগদানপত্র দেওয়া হয়। এই ১০ জনের মধ্যে দুজনের মৌখিক পরীক্ষাও নেওয়া হয়নি।

প্রবেশনারি অফিসার নিয়োগেও নিয়ম লঙ্ঘন
কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়া ব্যাংকে সর্বোচ্চ পদ হিসেবে বিবেচিত হয় প্রবেশনারি অফিসার। সব ব্যাংক এই নিয়োগ দেয় যাচাই-বাছাই করে। ইসলামী ব্যাংকে এ ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। এস আলমের সময়ে প্রবেশনারি অফিসারের চারটি ব্যাচ নিয়োগ হয়। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ২৪তম ব্যাচের ১৯০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ছাড়া। এর মধ্যে ১২ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও নিয়োগ পেয়ে যান। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। ৮৪০ জনের সিভি পাঠানো হয় প্রধান কার্যালয়ে। এদের মধ্য থেকে ৭৬৩ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র ৩৬ জন ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পান। পরে শর্ত শিথিল করে ২০ শতাংশ নম্বর পাওয়াদেরসহ ৫৫২ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। এদের পরে ৩০৪ জনকে উত্তীর্ণ করে লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১২ জনসহ ১৯০ জনকে ইসলামী ব্যাংকে এবং বাকি ১২৬ জনকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পাঠানো হয়। এদের সবার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলায়। এদের মধ্যে ১৮৪ জন যোগদান করেন। এখনও চাকরিতে আছেন ৩১ জন। বাকিদের মধ্যে ২১ জন পদত্যাগ করেছেন, চাকরি হারিয়েছেন ১৩১ জন এবং একজন মারা গেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবেশনারি অফিসারের ২৫তম ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে। এই ব্যাচের লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়া ৯০৭ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ৯৮ জনের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। এই ব্যাচে নিয়োগ পাওয়া ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই চট্টগ্রামের। এই ব্যাচের নিয়োগের সময় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়।

২০১৭ সালে ১৪৪ জন এবং ২০২৪ সালে ২০০ জন প্রবেশনারি অফিসারের নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ২০০ জনের মধ্যে মাত্র ৩৬ জন ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার।

 

ফার্মগেটে কৃষিবিদদের বিক্ষোভ মিছিল, নেতৃত্বে রিজভী

দেশে পরিকল্পিতভাবে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির প্রতিবাদে রাজধানীর ফার্মগেটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব)। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে আজ মঙ্গলবার সকালে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টার দিকে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে এ্যাবের নেতাকর্মীসহ কয়েক শত কৃষিবিদ অংশ নেন।

মিছিলের পরে আয়োজিত সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। এ্যাবের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদাত হোসেন বিপ্লব।

সমাবেশে রিজভী বলেন, জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নেই। জনগণের সঙ্গে প্রতারণার কারণে দলটি কখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুব ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবিরসহ এ্যাবের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

এ্যাবের নেতারা বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কৃষিবিদ ও কৃষি পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধ। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

মিছিলে এ্যাবের আহ্বায়ক ড. কামরুজ্জামান কায়সার ও সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেন বিপ্লব ছাড়াও নুরুন্নবী ভূঁইয়া শ্যামল, আমিরুল হক টিপু, কেআইএফ সবুর, শাহ এমরান রানা, আমানুল্লাহ আমান, অধ্যাপক জামশেদ, ডা. মান্না, ডা. মিঠু, ডা. ভয়েজার, ডা. তারেক, প্রকৌশলী সারোয়ার মাওলা ও ড. আকিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিবিদ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পেশাজীবী কৃষিবিদ নেতারাও মিছিলে অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অভিযোগ এবং এর প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তাঁদের ভাষ্য, রাজনৈতিক সহিংসতা ও নৈরাজ্য বন্ধ করে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

রিজভীর বক্তব্যকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জামায়াতের

‘ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে’- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এই বক্তব্যকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রেনে অগ্নিসংযোগের দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক, দায়িত্বজ্ঞানহীন, দুরভিসন্ধিমূলক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ঢাকা লকডাউন কর্মসূচির দিনে গত রোববার রাজধানীর কমলাপুরে হাওর এক্সপ্রেসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে সামাজিকমাধ্যমে ভুয়া ফটোকার্ডে ছড়ানো হয়, ট্রেনে আগুনের মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি জামায়াত নেতা। সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত কোনো খবর প্রকাশ করা হয়নি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল বাংলাভিশনের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো হয়।

এরপর মঙ্গলবার নয়াপল্টনে কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন,  ‘ট্রেনে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে’। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানতে চেয়েছেন বিভিন্নস্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও ভাঙচুরের কারা জড়িত। একই নীতিতে ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাটিও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো উচিত ছিল। কিন্তু কোনো প্রকার প্রমাণ ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে মারধরের ঘটনার জেরে গত সোমবার রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ভাঙচুর চালায় শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে জামায়াতকে লংমার্চ করছে না বলে প্রশ্ন তোলেন রিজভী। এর জবাবে এহছানুল মাহবুব বলেন, এসব বক্তব্য মূল ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার বিকল্প হতে পারে না। কে বা কারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে- এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

পাহারায় দূর হলো ডাকাত আতঙ্ক, ফিরেছে স্বস্তি

এক সময় আতঙ্কের নাম ছিল সারাইগাছী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক। সন্ধ্যা নামলেই সড়কে গাছ ফেলে পথরোধ, কিংবা রামদা ও লোহার রড হাতে ডাকাত দলের হামলার ভয়ে মানুষ চলাচল বন্ধ করে দিতেন। সেখানে এখন রাতেও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। গভীর রাতেও স্বাভাবিক ও নিরাপদে যানবাহন চলাচল করছে।
জেলা পুলিশের তথ্যমতে, গত বছর এ সড়কে ১৬টি ডাকাতি ও দস্যুতার মতো বড় অপরাধ ঘটলেও চলতি বছর নেওয়া বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে গত আট মাসে এখানে কোনো ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি।

সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন বেশ কিছু বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এরমধ্যে রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা; পুরো সড়কে অন্তত ছয়টি স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহনে তল্লাশি; যাত্রীদের সুবিধার জন্য সারাইগাছী মোড়ে পুলিশ বক্স স্থাপন; রাতে দূরপাল্লার ও পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে সারাইগাছী চেকপোস্টে জড়ো করে পুলিশের বিশেষ পাহারায় বা এসকর্ট দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পার করে দেওয়া; অন্ধকার ও ঝুঁকিপূর্ণ মোড়গুলোতে সোলার লাইট স্থাপন। পুলিশের এই উদ্যোগে সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন যানবাহনের চালক, যাত্রী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

সিএনজি ও পিকআপ চালকরা জানান, কয়েক মাস আগেও রাত ৮টার পর এই পথে যেতে ডাকাত দলের হামলায় সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। বর্তমানে পুলিশের নিয়মিত টহল ও চেকপোস্টের  কারণে রাত ২টা বা ৩টাতেও নির্ভয়ে যানবাহন চালানো যাচ্ছে।
অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আগে ডাকাতির ভয়ে সন্ধ্যার পরপরই দোকানপাট বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে হতো। এমনকি বেজোড়া বাজারের মতো স্থানে একসঙ্গে একাধিক দোকানে ডাকাতির ঘটনাও ঘটেছিল। বর্তমানে বাজারে পুলিশের সার্বক্ষণিক টহল থাকায় রাত ১০টা পর্যন্ত নিশ্চিন্তে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।
পোরশা থানার এসআই অমিত কুমার দাস জানান, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক চেকপোস্ট ও টহল পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ডাকাতি প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর পোরশা থানায় জনবল ও প্রয়োজনীয় যানবাহন বাড়ানো হয়েছে। আগের ডাকাতির মামলার আসামিদের ধরতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ স্কোয়াড।

তিন কিলোমিটারে ৫ হাজারেরও বেশি গর্ত

সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডে ঢুকলে বদলে যায় বগুড়া শহরের চেহারা। তিন কিলোমিটার সড়কজুড়ে গর্তের পর গর্ত। কোথাও পিচ উঠে খোয়া বেরিয়ে এসেছে, কোথাও খোয়ার স্তরও নেই। পানিতে ডুবে থাকা এসব গর্তের গভীরতা বোঝার উপায় নেই।

গত সোমবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত স্কুটি নিয়ে ঘোরেন এ প্রতিবেদক। এই আড়াই ঘণ্টায়  পাঁচ হাজার গর্ত গোনার পর আর হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি। এসব গর্তের কোনোটি এত গভীর যে, মোটরসাইকেল ও স্কুটির বডি ঠেকে যায়। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, ট্রাক ও বাস।
বগুড়ার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের দুর্ভোগ ঘোচাতে চার মাস আগে শুরু হয়েছে ২৬ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকার কাজ। প্রকল্পে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত ও স্ট্রিট লাইট নির্মাণের কথা। গত ২৭ মে খান্দারে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন করা হয়। চার মাস পেরিয়ে গেলেও মূল কাজের অগ্রগতি নেই। পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরুর পরই থেমে আছে। ফলে যে প্রকল্পে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ঘোচার কথা, সেটি এখন ভাঙা সড়ক, পাঁচ হাজারের বেশি গর্ত, জমে থাকা পানি, খোঁড়াখুঁড়ি ও অসমাপ্ত ড্রেনের কারণে নগরবাসীর নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গর্তে গর্তে তিন কিলোমিটার
সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডের কৈগাড়ী থেকে ফুলতলা অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। এখানে কোথাও কোথাও ইটের সোলিং করা হয়েছিল। সেই ইট দেবে তৈরি হয়েছে নতুন গর্ত। কোথাও সড়কের মাঝখানেই পিচ উঠে খোয়ার স্তর বেরিয়ে আছে। সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র সিঅ্যান্ডবি গোডাউন থেকে মাহাবুব নগরের সামনের অংশে। এই অংশের কার্পেটিং এমনভাবে উঠে গেছে, এখানে এক সময় পাকা সড়ক ছিল কিনা, তা বোঝাই কঠিন। একটি মোটরসাইকেল গর্তে পড়ার পর চালককে ভারসাম্য হারাতে দেখা যায়। এলাকাবাসী বলছেন, এ অংশে প্রায় রিকশা উল্টে যায়। মোটরসাইকেল ও স্কুটি চালকদেরও গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।
সাতমাথা থেকে গোহাইল রোডে রিকশা, ভ্যান কিংবা অটোরিকশা নিয়ে যেতে চান না অনেক চালক। গত সোমবার সকালে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক মনির হোসেন বলেন, গর্তে চাকা পড়লে রিকশা উল্টে যাওয়ার ভয় থাকে। রিকশারও ক্ষতি হয়। অনেক সময় মোটর পুড়ে যায়। তাই অনেক চালক এই রাস্তা এড়িয়ে চলেন।
প্রতিদিন অফিস যাওয়ার সময় মোটরসাইকেল নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন আমির হামজা। তাঁর ভাষ্য, কোন গর্ত কতটা গভীর বোঝা যায় না। কিছু গর্তে চাকা পড়লে মোটরসাইকেলের নিচের অংশ মাটিতে ঠেকে যায়। পানি জমলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।

 শুরুর পর থমকে আছে ড্রেনের কাজ
এই সড়কের পশ্চিম পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু মাত্র কয়েক মিটারের মতো বক্সড্রেনের কাজ দেখা গেছে। এর পরই কাজ থমকে আছে। এখন সড়কের কোথাও ড্রেনের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা, কোথাও অর্ধনির্মিত কাঠামো পড়ে আছে। ড্রেনের পাশ বালু দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে মাটি ও খোয়ার রাবিশ ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
প্রকল্প নথি অনুযায়ী, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নর্মাণের সঙ্গে তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন ও ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার স্ট্রিট লাইট নির্মাণের কথা রয়েছে। এর সঙ্গে ফুটপাতসহ আনুষঙ্গিক কাজও সংযুক্ত আছে। কিন্তু ফুলতলা থেকে বন বিভাগের কার্যালয় পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে ড্রেনের কাজে হাত দেওয়া হয়নি।

নথিতে বেহাল, মাঠে আরও ভয়াবহ
গোহাইল রোডের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা প্রকল্পের মূল্যায়নেও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নথিতে বলা হয়েছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও উঁচুনিচু পৃষ্ঠ রয়েছে। বিদ্যমান ড্রেন সরু, ক্ষতিগ্রস্ত ও পলিতে ভরা। কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ফলে বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে নথিতে যে কথা বলা হয়েছিল, সরেজমিন আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যায়। পাঁচ হাজার গর্তের হিসাব থামিয়ে দিতে হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের একাধিক প্রকৌশলী বলেন, গত পাঁচ বছরে এই সড়কে বড় কোনো কাজ হয়নি। মেরামতের বাজেট থেকে ছোটখাটো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা হয়েছে। এসব কাজ দু-তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি।

গোহাইল রোডের এই অংশটি সহনশীল নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রকল্প (আরইউটিডিপি) প্যাকেজের আওতাধীন। সরকারি নথি অনুযায়ী, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত ৩ দশমিক ০৯২ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত বিসি সড়ক পুনর্নির্মাণ, তিন কিলোমিটার আরসিসি ড্রেন, ফুটপাত, স্ট্রিট লাইটসহ আনুষঙ্গিক উন্নয়ন হবে। চুক্তিপত্র অনুযায়ী প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ২৬ কোটি ৬০ লাখ ১১ হাজার ৩০০ টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২৭ মে ২০২৬। ২০২৭ সালের ২৬ নভেম্বর যা শেষ হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে কাজটি বাস্তবায়ন করছে বগুড়া সিটি করপোরেশন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শামিম এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড, এসইপিএল-আরএসই (জেভি)। নথিতে থাকা ময়মনসিংহের ইসমাইল রোড, কাচারিঘাটের ঠিকানায় একটি ও ঢাকার একটি ল্যান্ডফোন নম্বরে যোগাযোগ করেও শামিম এন্টারপ্রাইজের কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। সিটি করপোরেশনের প্রধান সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তারাও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।

মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজটি করছে বগুড়ার আর এস কনস্ট্রাকশন। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম বলেন, নেকটার থেকে সাতমাথা পর্যন্ত তিন কিলোমিটার সড়ক এবং সাতমাথা থেকে করতোয়া নদী পর্যন্ত আরেকটি প্রকল্পের ড্রেনের কাজ তারা করছেন। ইতোমধ্যে তাদের বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়েছে। বিল না পাওয়ায় কাজের গতি কমানো হয়েছে। তিনি বলেন, তিন কোটি ১৭ লাখ টাকার একটি আংশিক বিল সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বিলটি পেলে কাজ পুরোদমে শুরু করা হবে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মুহম্মদ সাইদ আলী বলেন, কাজটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে। কাজের শর্তেই বিল প্রাপ্তিসাপেক্ষে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এখন এই অজুহাতে কাজ বন্ধ বা ধীরগতির সুযোগ নেই। ঠিকাদারকে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাজ শুরু না করলে প্রয়োজনে পুনরায় ঠিকাদার নির্বাচন করা হবে।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, মূল ঠিকাদার কাজে আসছেন না। তিনিও ঠিকাদারকে চেনেন না। তাঁর বদলে বগুড়ার প্রতিনিধি কাজ করছেন। তারা সময়মতো কাজ করতে পারছেন না। তাগাদা দিয়েও লাভ হচ্ছে না। এখন এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।