Home Blog

আসিয়ানে সামর্থ্যের প্রতিশ্রুতি

০

এতদিন ফিফার টুর্নামেন্ট বলতে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কপালে জুটত স্রেফ বিশ্বকাপের সেই অন্তহীন, ধূসর বাছাই পর্বের শুরুর দিককার কিছু ম্যাচ। যেখানে মূল পর্বের আলো অধরাই থেকে যেত, আর টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যেত শুরুর বাঁশি বাজার অনেক আগেই। কিন্তু এবার গল্পটা আলাদা, প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ নতুন। বাংলাদেশ জাতীয় দল সরাসরি পা রাখছে ফিফার একটি মূল টুর্নামেন্টে ‘ফিফা আসিয়ান কাপ’-এর রাজকীয় আঙিনায়। যেখানে ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় বাংলাদেশের (১৮১ র‍্যাঙ্কিং) প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া (১৩৬ র‍্যাঙ্কিং)। হামজা-শমিতদের জন্য এটা নিছক কোনো ম্যাচ খেলতে নামা নয়, ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের এক নতুন আত্মপরিচয় লেখার ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। কিন্তু তাদের কোচ থমাস ডুলি কেন জানি এই টুর্নামেন্টকে শুধুই ‘শিক্ষা সফর’ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে চাইছেন।

আসিয়ানের মঞ্চে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি যেখানে কোচের মগজে স্রেফ একটি ড্রয়ের নিরাপদ বৃত্তে বন্দি, সেখানে তাঁর পদাতিক সৈন্যরা কিন্তু বুক চিতিয়ে গ্রুপ পর্ব টপকানোর স্বপ্ন দেখছে। ড্রেসিংরুমে চলছে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। একদিকে ৯ জন প্রবাসী ফুটবলারের রক্তে টগবগ করতে থাকা ইউরোপীয় পেশাদারিত্বের বারুদ, যার প্রতিচ্ছবি হামজা চৌধুরীর হুঙ্কার, ‘আমরা এখানে কাউকে ভয় পেতে আসিনি।’ আর ঠিক তার উল্টো পিঠেই দাঁড়িয়ে থমাস ডুলি!  জাকার্তার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও একই বাস্তবতার ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে গেলেন কোচ। ‘মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচটি যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে পারি, সুযোগ তৈরি করতে পারি, অন্তত একটি গোল করে ড্র করতে পারি, তবে সেটি অসাধারণ হবে। আর যদি জিতে যাই, তাহলে তো কথাই নেই। স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে।’ আসলে আসিয়ানের মঞ্চটিকে ডুলি নভেম্বরে সাফের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। ‘আমাদের ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্ট সাফ। তাই এই টুর্নামেন্ট এবং আগামী নভেম্বরে হতে যাওয়া সাফের জন্য এটি চমৎকার প্রস্তুতি।’

কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ২১১ নম্বর ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের দল সান ম্যারিনোর বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলিয়ে জয় পেয়েছেন ডুলি। তাই এখন আসিয়ানের তিন প্রতিপক্ষ র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর আর ইন্দোনেশিয়ার সামনে চ্যালেঞ্জটা কঠিন শুধু নয় ‘অসম্ভব’ মনে করছেন ডুলি।

কিন্তু পরিসংখ্যান বলে আজকের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া কিন্তু তাদের গত পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে। ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন আর থাইল্যান্ডের কাছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে হারিয়েছে সান ম্যারিনো আর ভারতকে। তবে প্রস্তুতির ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে বাংলাদেশের। হামজা যেখানে গত তিন মাসে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, সেখানে মালয়েশিয়া গেল দুই মাসে খেলেছে পাঁচটি ম্যাচ। তার পরও বুক চওড়া করে লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন হামজাদের মতো বিদেশি লিগে খেলা বাংলাদেশিরা। তাদের কাছে ফিফার চেয়ে আসিয়ান কাপের মতো মর্যাদার টুর্নামেন্ট খেলাটা অনেক বেশি প্রেরণার। ডুলির এই অতি-সাবধানী ‘ড্র’ সমীকরণের আড়ালে বাংলাদেশ ফুটবলের আসল বারুদটা কিন্তু লুকিয়ে আছে স্কোয়াডের ভেতরেই। এবার লাল-সবুজের ডেরায় যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের রক্তের নতুন জোয়ার এসেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আক্রমণভাগে যদি ফারহানের মতো গতিশীল আর চতুর উইঙ্গার থাকেন, যিনি ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের কোমর ভেঙে দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছেন, তবে বক্সে কামড় দেওয়ার জন্য আছেন শুকির মতো জাপানি বংশোদ্ভূত খাঁটি গোলশিকারি স্ট্রাইকার। শুধু কী আক্রমণভাগ? মাঝমাঠের সেই ইঞ্জিনরুমে হামজা চৌধুরী আর শমিতের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়েছেন ফাহামিদুল– প্রবাসী ফুটবলের আরও এক নতুন কারিগর। আর রক্ষণদুর্গের দিকে তাকালে তো ভরসার চওড়া বুক! জায়ান আর তারিক কাজীর চেনা দেয়ালের পাশে এবার যোগ হয়েছে জিদান ইউসুফের মতো নিখুঁত ডিফেন্ডার। এই ৯ প্রবাসীর পায়ে ভর করে বাংলাদেশ আজ আর স্রেফ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, আসিয়ানের মঞ্চে যে কোনো পরাশক্তির ঘুম কেড়ে নেওয়ার এক বিস্ফোরক সম্ভাবনা বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যদিও তাদের কোচ নিজেরই তাতে বিশ্বাস নেই!

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমাতে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

০

ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে অনেকেই প্যাকেটজাত নুডলস, চিপস, বিস্কুট, কেক, কোমল পানীয়, ইনস্ট্যান্ট খাবারসহ নানা ধরনের অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ওপর নির্ভর করেন। সহজে পাওয়া যায় এবং দ্রুত খাওয়া যায় বলে এসব খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়মিত ও বেশি পরিমাণে এসব খাবার খাওয়ার অভ্যাস স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন এক গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশি গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তাই খাবার বাছাইয়ের সময় শুধু স্বাদ বা সুবিধার কথা না ভেবে খাবারটি কতটা প্রক্রিয়াজাত, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

গবেষণায় যা পাওয়া গেছে

‘ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও ওশেনিয়ার ৫১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ৮৮ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। গবেষণায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ১১ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এসব ফলাফল সম্পর্ক নির্দেশ করে; প্রতিটি ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করে না।

খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনুন

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর সহজ উপায় হলো দৈনন্দিন খাবারে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ফল, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। বাড়িতে রান্না করা খাবারকে অগ্রাধিকার দিলে খাবারে লবণ, চিনি ও তেলের পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।

প্যাকেটের লেবেল দেখুন

প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে পুষ্টিগুণের তথ্য ও উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি রয়েছে কি না, তা খেয়াল করুন। শুধু ‘হেলদি’, ‘লো ফ্যাট’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখে কোনো খাবারকে স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেটের পেছনে থাকা উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্যও দেখা প্রয়োজন।

ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার রাখুন

ক্ষুধা লাগলে যাতে সহজেই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকে না পড়েন, সে জন্য ঘরে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত রাখতে পারেন। মৌসুমি ফল, বাদাম, দই, সেদ্ধ ডিম বা ঘরে তৈরি হালকা নাশতা হাতের কাছে থাকলে প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরতা কমানো সহজ হয়।

ধীরে ধীরে অভ্যাস বদলান

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার একদিনে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের একটি বা দুটি খাবার থেকে প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে তার বদলে তাজা বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবার যোগ করা যেতে পারে। বাইরে খাওয়ার সময়ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে সহজ ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস করুন।

কেন কমানো জরুরি

গবেষকদের মতে, একাধিক খাদ্য-সংযোজকের সংমিশ্রণ মানবস্বাস্থ্যের ওপর সম্মিলিত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষাগারের গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভৌত গঠনের পরিবর্তন অন্ত্রের অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এতে প্রদাহ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার প্রক্রিয়াজাত করার সময় তৈরি হওয়া অ্যাক্রিলামাইড এবং চর্বি বা তেল গরম করার সময় উৎপন্ন অ্যাক্রোলিনের মতো কিছু উপাদানের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

প্রতিদিনের খাবারে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসে এই পরিবর্তন আনলে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

বেহেশতের টিকিটের দোকানদারি এখনও চলছে: পানিসম্পদমন্ত্রী

০

পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘বেহেশত নাকি আল্লাহর দেওয়া, অথচ কারও কাছে বেহেশতের টিকিট আছে, আর কারও কাছে নেই-এমন প্রচার করা হচ্ছে। এখনো তারা বেহেশতের টিকিটের দোকানদারি করে বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে।’

শুক্রবার লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পিয়ারাপুর শহীদ মাজহারুল মুনির উচ্চবিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সাসটেইনেবল রিকভারি ইমার্জেন্সি প্রিপারেশনস অ্যান্ড রেসপন্স প্রজেক্টের আওতায় তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এ্যানি বলেন, রহমতখালী ও ওয়ার্দ্দা খালের পানির চাপ এবং তীরভাঙনে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্ষা ও বন্যার সময় জলাবদ্ধতার কারণে বাড়িঘর ও উঠানে পানি জমে যায়। এ সমস্যা সমাধানে স্যান্ড-সিমেন্ট জিওব্যাগ পদ্ধতিতে তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি জিওব্যাগ খালের পাড়ে নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত স্থাপন করা হবে। পানির চাপ মোকাবিলায় এ প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এর ফলে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর এলাকার মানুষ ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার পর মান্দারী ও দিঘলী থেকে মজুচৌধুরীর হাট পর্যন্ত প্রয়োজনীয় এলাকায় ব্লক দিয়ে স্থায়ী তীর সংরক্ষণের জন্য ৩০০ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কাজের মান নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে এ্যানি বলেন, ‘আমার এলাকায় কাজ হবে, আর আমিই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। এখানে কোনো ধরনের কাজের গুণগত মান খারাপ হবে, এটা আমি মেনে নেব না।’

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এ্যানি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। তার অভিযোগ, বাইরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অসভ্য ভাষায় বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক ও নারীঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বি-স্ট্রং প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ সামিউল হক, ফেনী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাবেরা আনোয়ার, জেলা যুবদলের সভাপতি আবদুল আলিম হুমায়ুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রশিদুল হাসান লিংকন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহসিন কবির স্বপনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীতে সিএনজি ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে নিহত ২

০

নরসিংদীর পাঁচদোনায় সিএনজি ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনা-টঙ্গী সড়কের ভাটপাড়া বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের অন্তরামপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২) এবং আশুলিয়ার মাতাইল দক্ষিণপাড়ার হারিস মোল্লার ছেলে নুর উদ্দিন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে গাজীপুর থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনার ভাটপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এতে সিএনজির যাত্রী নুর উদ্দিন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত সাইদুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুর উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং সিএনজি চালককে হেফাজতে নেয়।

মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম বলেন, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্রাম্পের লালগালিচা অভ্যর্থনা পেলেন শি, তবে সব চাওয়া পূরণ হলো না

০

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে যুক্তরাষ্ট্র সফরে চীনা প্রেসিডেন্টের সব প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, তাইওয়ান ও বিরল খনিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে দুই দেশের বিরোধের অনেকটাই রয়ে গেছে। ফলে দুই পরাশক্তির সম্পর্কের উত্তেজনা আপাতত কমলেও প্রতিযোগিতা শেষ হয়নি।

চীন মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র একটি পরাশক্তি হিসেবে দেশটির উত্থান ঠেকানোর চেষ্টা করছে। এ কারণে ওয়াশিংটন যেন বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও তাইওয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চীনের পথ আটকে না দাঁড়ায়-এটাই বেইজিংয়ের অন্যতম লক্ষ্য।

তবে এবারের বৈঠকে শি জিনপিং চীনের প্রত্যাশিত সব সুবিধা আদায় করতে পারেননি। দুই দেশের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমানোর যে সমঝোতা হয়েছিল, তার মেয়াদ আরও কয়েক মাস বাড়ানো হয়েছে। নভেম্বর থেকে তা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে চীন অন্তত এক বছরের জন্য এই সমঝোতা বাড়ানোর আশা করেছিল।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক, বিরল খনিজ সরবরাহে চীনের প্রভাব এবং উন্নত মার্কিন চিপে চীনের প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধের সমাধান আরও এক দফা আলোচনার দিকে গড়াল। এতে ইঙ্গিত মিলছে, দীর্ঘমেয়াদি ছাড় দেওয়ার আগে চীনকে নিজেদের প্রতিশ্রুতিগুলো আরও বাস্তবায়ন করতে দেখতে চাইছে ওয়াশিংটন।

চাপে চীনের অর্থনীতি

চীনের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও শি জিনপিংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। দেশটি রেকর্ড পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোক্তাদের ব্যয় কম। তরুণদের বেকারত্বও দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে আবাসন খাতের মূল্যপতন চীনের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে। দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বর্তমানে চীনের রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং গত বছরের মতো বড় ধরনের মার্কিন শুল্ক এড়ানো বেইজিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাইওয়ান নিয়ে পুরোনো বিরোধ

বৈঠকে তাইওয়ান নিয়েও চীনের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শি। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রয়কে চীন দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জন্য একটি ‘লাল রেখা’ হিসেবে দেখে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের। গত মে মাসে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে ভুল পদক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাত, এমনকি যুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এরপর ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজের অনুমোদন পিছিয়ে দেন। তিনি এটিকে বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় একটি ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে শি জিনপিং আলোচনায় তাইওয়ানকে ঘিরে মার্কিন সমর্থন সীমিত করার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার বক্তব্য, এতে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে।

বৃহস্পতিবারও শি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে ‘সঠিক অবস্থান’ বজায় রাখবে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এদিকে তাইওয়ানকে মার্কিন সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের মধ্যেই চাপ রয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও আলোচনা

বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও আলোচনা করেছেন দুই নেতা। তবে এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এআই উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা গবেষক সতর্ক করেছিলেন, এআই মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে-এমন আশঙ্কার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের বেশি।

বৈঠকে শি বলেন, এআইয়ের ব্যবহার এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এটি সব সময় মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে এ বিষয়ে কোনো বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। ট্রাম্প এর আগে এআইয়ের কারণে মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ফিরছে ‘পান্ডা কূটনীতি’

বৈঠকের আলোচনায় বাণিজ্য ও প্রযুক্তির পাশাপাশি চীনের বহুল পরিচিত ‘পান্ডা কূটনীতি’র বিষয়টিও এসেছে। আটলান্টায় পাঠানোর জন্য পিং পিং ও ফু শুয়াং নামের দুটি জায়ান্ট পান্ডার উপহারের ঘোষণা এপ্রিলে দেওয়া হয়েছিল। এবার শি জানিয়েছেন, কয়েক দিনের মধ্যেই পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে।

শুক্রবার দুই নেতার আরও কিছু কর্মসূচি রয়েছে। তারা চা পান করবেন এবং জাতীয় আর্কাইভ পরিদর্শন করবেন। ফলে বৈঠক ঘিরে আরও কিছু ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আপাতত বেইজিংয়ের জন্য বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হয়তো কূটনৈতিক দৃশ্যপট বা ‘অপটিকস’। ট্রাম্পের ব্যক্তিগতভাবে বিমানবন্দরে শিকে স্বাগত জানানো, জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজ-সব মিলিয়ে চীনে এ সফরকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় ভোজে ছিল তিলের আবরণ দেওয়া সামুদ্রিক মাছ ও ব্রেইজড বেবি বক চয়।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দুই নেতাকে নিয়ে বিভিন্ন ছবি ও মিম ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় ছবিতে দেখা যায়, বোমারু বিমান উড়তে থাকায় ট্রাম্পকে অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে দেখা গেলেও শি ছিলেন নির্বিকার।

ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ‘সত্যিই দারুণ বন্ধুত্বের’ কথা বললেও চীনা প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য আরও বড়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমপর্যায়ের একটি বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের অবস্থান নিশ্চিত করাই তার মূল লক্ষ্য। পান্ডা, জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও উষ্ণ বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে কিছুটা মসৃণ করতে পারে। তবে এসব আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিযোগিতা এখনো তীব্র।

ক্ষিপ্ত নেতানিয়াহুকে আবারও গণহত্যার কথা মনে করিয়ে দিলেন মামদানি

০

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের জবাব দিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু মিথ্যা তথ্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য, ফিলিস্তিনের গণহত্যাকে ‘স্যানিটাইজ’ বা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। কোনো মিথ্যাই এই সত্যকে পরিবর্তন করতে পারবে না।’

এর আগে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি নিউইয়র্কে বসবাসরত ইহুদিদের জন্য মামদানিকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ তোলেন।

ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক মামদানি গত জানুয়ারি থেকে মেয়রের দায়িত্বে আছেন। ভাষণের একটি অংশে নেতানিয়াহু বলেন, মামদানির কারণে নিউইয়র্কে ইহুদিরা আর নিরাপদ বোধ করছেন না।

এরপর মামদানিকে উদ্দেশ্য করে ক্ষিপ্ত নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনি বারবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলেছেন। আমার এখানে (জাতিসংঘ) আসা ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। আমাকে নীরব করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আপনি আমাকে নীরব করতে পারবেন না। সত্যকেও চাপা রাখতে পারবেন না।’

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল কোনো গণহত্যা করেনি; বরং গণহত্যা ঠেকিয়েছে। মামদানির হামাস ঘনিষ্ঠদের ঠেকানো না গেলে তারা আমাদের প্রত্যেককে হত্যা করত।’

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে গত বুধবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন মামদানি। গাজা উপত্যকা থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে তাঁকে সরকারি বাসভবনে জলপাই গাছ লাগাতে দেখা যায়।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘গাজা থেকে আসা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর সঙ্গে গ্রেসি ম্যানশনে একটি জলপাই গাছ লাগিয়েছি। আমাদের ভবিষ্যৎ শান্তিময় হোক।’

মালয়েশিয়ার আইসিটি খাতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে

০

মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী লিউ চিন টং বলেছেন, দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনবলের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা গেলে এই খাতে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী এমন তথ্য দেন। এ সময় ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহসভাপতি সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা চেম্বার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

লিউ চিন টং আরও বলেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার আরও আধুনিকায়ন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিশেষ করে ইসলামিক ফাইন্যান্সিং খাতের সম্প্রসারণ, উদ্ভাবনী আর্থিক পণ্যের উন্নয়ন এবং  অধিকতর কার্যকর আর্থিক অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা ও মডেল বাংলাদেশের জন্য অনুসরণযোগ্য হতে পারে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, মুসলিম বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের পাশাপাশি দুই দেশের সরকারের আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক আস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশ নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, প্রভাব পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে

০

সম্প্রতি দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বড় অঙ্কের দাম বাড়ার পর প্রথম শুক্রবারেই এর প্রভাব পড়েছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে। দাম বেড়েছে সব ধরনের সবজি, ডিম, গুঁড়া দুধ, আটা-ময়দা, মাছ ও বিভিন্ন রকম ফলের। তবে মাংস ও মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় খুচরা বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মিরপুর-১ নম্বর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে বেড়েছে বেগুনের দাম বেড়েছে। লম্বা বেগুনের দাম বাজারভেদে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এ ধরনের বেগুন ৯০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কিছুদিন আগে কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় নেমেছিল। এখন মানভেদে তা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পটল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা হয়েছে। এক সপ্তাহ আগেও এসব সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

এছাড়া ঝিঙা, ধুন্দলসহ বিভিন্ন সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেপে আগের মতো ৩০ টাকা কেজি এবং কাঁচামরিচ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা রাসেল হোসেন বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই পাইকারি বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। মিজান নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, যশোর থেকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেগুন আসে। প্রায় ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে পাইকাররা কিনে আনতেন। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি আকারের একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১৮ হাজার টাকা। তেলের দাম বাড়ায় ট্রাকভাড়া বেড়ে ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এখন কারওয়ান বাজারেই ১০০ টাকায় ওপরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাছ পরিবহনেও বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। বিক্রেতাদের হিসাবে, প্রতি ট্রাকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এর প্রভাবে মাছের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বেড়েছে ইলিশ মাছেরও।

গত সপ্তাহের মতোই চলতি সপ্তাহে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে কেজি প্রতি ১৮০ ও ৩২০ টাকার মধ্যে। তবে লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকায়। ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হয়েছিল গত সপ্তাহে। আজ ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা ডজন। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দামে ৫ টাকা করে বেড়েছে।

তবে গরু ও খাসির মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের দামেই গরুর মাংস ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দামেও এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বড় কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

দাম বেড়েছে পাস্তুরিত তরল দুধের। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এর আগে সরকারি প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটাও প্রতি লিটার দুধের দাম ১০ টাকা বাড়িয়েছিল। এরপর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে আটা ও ময়দার দামও আগের তুলনায় বেশি। রাজধানীর নাখালপাড়া, মহাখালী, কলমিলতা কাঁচাবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। সপ্তাহখানেক আগেও প্যাকেটজাত আটা ও ময়দার দাম ছিল যথাক্রমে ৬০ ও ৭০ টাকা। সেই হিসাবে আটা-ময়দা কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।

তবে খোলা আটা ও ময়দার দর কিছুটা কম। পণ্য দুটি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ ও ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে। পাঁচ-ছয় দিনের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দামও বেড়েছে পাঁচ টাকা করে। মহাখালী কাঁচাবাজারের কে বি স্টোরের স্বত্বাধিকারী বিকাশ বণিক সমকালকে বলেন, এক-দেড় মাস আগে আটা-ময়দার দাম বেড়েছিল। এখন আরেক দফা বাড়ল। নতুন করে দুই কেজির যে প্যাকেটজাত আটা ও ময়দা দিয়েছে কোম্পানিগুলো, সেগুলোর খুচরা ‍মূল্য লেখা রয়েছে ১৪০ এবং ১৬০ টাকা।

বাজারে ফলের দাম বেড়েছে। প্রতি কেজি মালটা ও কমলা ৪২০ থেকে ৪৫০ এবং আপেল ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল আঙুরের জন্য কেজিতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম সমকালকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং তা মেনে নিতে হবে– বিষয়টা এমন নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া কত হওয়া উচিত; বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কত হতে পারে– বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে এ বিষয়ে দ্রুত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা উচিত।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, কমিশনের বলা দরকার– জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে গ্রাম থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসতে পাঁচ বা ১০ পয়সা বাড়তি খরচ হবে। এর ভিত্তিতে বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষি, খাদ্য, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংস্থাগুলো বাজার তদারক করলে সুফল মিলবে। কারণ তথ্য-উপাত্ত হাতে থাকলে ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার-সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যমূল্যে সামান্য যে পরিমাণ প্রভাব পড়ার কথা, কিছু ক্ষেত্রে তার চেয়ে প্রভাব বেশি পড়ছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে আমরা ব্যবসায়ীদের সেই সুযোগ দেব না। কারণ পরিবহন ভাড়া কেজিতে ২৫ পয়সা বাড়বে; সেই অজুহাতে দাম দ্বিগুণ বাড়াবে– এই অতি মুনাফা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন বাজার তদারক করছি। পরিবহন ভাড়া কত বাড়ছে আর পণ্যমূল্য কত বাড়ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। নজরদারি আরও কঠোর হবে।’

জাতিসংঘে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জাতিসংঘ সভাপতির কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান

০

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক নিঃসরণ দ্রুত কমানো এবং জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সমুদ্রের উচ্চতার সঙ্গে আমাদের সংকল্পও আরও দৃঢ় হোক। আর আমাদের পদক্ষেপ হোক তার চেয়েও দ্রুত।’

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কনফারেন্স রুম ৪-এ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ পরিণতি মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য বৈশ্বিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্ব যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ করে, সাগর তার প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুধু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এর প্রভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ। দেশের ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে শত শত নদী প্রবাহিত হয়ে সাগরে মিশেছে। তাই দেশের মানুষের জীবন, সমৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ উপকূলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বাড়লে বাংলাদেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে প্রায় এক কোটি মানুষের ঘরবাড়ি, জীবিকা ও মানবিক মর্যাদা হুমকির মুখে পড়বে।

সীমিত সম্পদ নিয়েও বাংলাদেশ এমন একটি বিপর্যয়কর ভবিষ্যৎ ঠেকাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর অংশ হিসেবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার এবং উপকূল সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা হয়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জলবায়ু-সহনশীলতা আরও শক্তিশালী করতে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পানি সংরক্ষণ ও মজুতের জন্য পদ্মা ব্যারাজ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া; মাস্টারপ্ল্যানের মাধ্যমে তিস্তা ব্যারাজের আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ সবুজ প্রবৃদ্ধির পথেও এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুতের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ একই সঙ্গে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনের প্রসার, জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা এবং বন, জলাভূমি ও ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জোরদারে কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সংকট মোকাবিলায় চারটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রথমত, বৈশ্বিক নিঃসরণ আরও দ্রুত, ব্যাপক ও ন্যায়সংগতভাবে কমাতে হবে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমার মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে হবে।’

‘দ্বিতীয়ত, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

‘তৃতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য-উপাত্ত ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ করতে হবে।’

‘চতুর্থত, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি, ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর জন্য মর্যাদাপূর্ণ পুনর্বাসন ও জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠ দ্রুত উচ্চতর হচ্ছে। আমাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকেও তার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসবে; ঘোষণাপত্রে দেওয়া অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেবে এবং কোনো দেশকে যেন একা ‘রাইজিং টাইড’-এর মুখোমুখি হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে।”

বৈঠক আয়োজন এবং ঘোষণাপত্র প্রণয়নে সহায়তা ও প্রচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী
‘অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীসেবার (মিডওয়াইফারি) সমন্বয়’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় গতকাল জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কনফারেন্স রুম ৭-এ আয়োজিত এ উচ্চ পর্যায়ের অনুষ্ঠানে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ধাত্রীসেবার কার্যকর সমন্বয় এবং প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ের ৩৪তম তলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে গঠনমূলক মতবিনিময় হয়।

দুই প্রধানমন্ত্রী পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমঝোতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে নিয়মিত যোগাযোগ ও সংলাপ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে জানান, গত বুধবার দুই নেতার ওই পার্শ্ব বৈঠক হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘জাতিসংঘের মতো নিরপেক্ষ ফোরামে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ লাখ কর্মী কাজ করে। কিন্তু সেখানকার চলমান সংঘাতের কারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ রেমিট্যান্সে প্রভাব পড়ছে। এটি আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে আমাদের পণ্যবাহী জাহাজ আটকে আছে।’ এ পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় সংঘাতের দ্রুত সমাধান চান বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘এ যুদ্ধের সমাধান হওয়ার পর হরমুজে আটকে থাকা জাহাজ যাতে চলাচল করতে পারে, সে অনুরোধ জানিয়েছি। আমরা যাতে গভীর জ্বালানি সংকটে না পড়ি, সে ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এসব অনুরোধ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ৫ জরুরি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর 
জলবায়ু অভিযোজনের জন্য তাঁর সরকার বৃক্ষরোপণ, নদী-খাল খননসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘এবারের বাজেটে আমরা প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করেছি। তারপরও আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া আমরা বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছি।’ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পাঁচ দফা জরুরি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এককভাবে নয়, সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি।

নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত বুধবার বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায্য উত্তরণ’বিষয়ক এক উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।

এগুলো হলো– প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমা বজায় রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে হবে; জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে; জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু উত্তরণ সম্ভব করতে হবে; সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে; ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং নিয়মিতভাবে এর অর্থ পুনঃপূরণ করতে হবে।

খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের লিগ্যাল অফিসার হলেন জাইমা রহমান
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিনা বেতনে এক বছরের জন্য তাঁকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জোবাইদা রহমানের একমাত্র সন্তান তিনি।

খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম কার্যালয়ে উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী; মাফিজুল ইসলাম তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা; জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করবেন।

মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান

০

মৎস্যসম্পদ ও জলজ জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতা, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। মৎস্য অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রের সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি মৎস্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মৎস্যসম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ প্রচারাভিযানের আওতায় ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এবং সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনসহ ৩৭টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
এতে সভাপতিত্ব করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা-এর সদস্য ইকবাল ফারুক। বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

ইকবাল ফারুক বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ছাই, গরম পানি ও বিভিন্ন ধরনের দূষিত পদার্থ নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী ধাতু মাছের শরীরেও জমছে। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করে সেসব জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মৎস্যসম্পদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উড়ন্ত ছাই ও গরম পানি নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়ে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে। তিনি মৎস্য খাতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ধাপে ধাপে বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেন।

ইঞ্জিনিয়ার মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় বিদ্যুৎ চাহিদার অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন বলেন, শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি নয়; জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে। সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, আজকের আলোচনা শুধু মতবিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগে রূপ দিতে হবে।
ড. মো. আনিসুর রহমান বলেন, পানির তাপমাত্রা, দূষণ, দ্রবীভূত অক্সিজেন, অম্ল-ক্ষারত্বসহ বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের সামান্য পরিবর্তনও ইলিশসহ অন্যান্য মাছের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর মতো সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথাও বলেন তিনি।