Home Blog

সাত দশক পেরিয়ে কচি-কাঁচার মেলায় আনন্দোৎসব

০

শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় সাত দশক পূর্ণ করেছে ঐতিহ্যবাহী সংগঠন কচি-কাঁচার মেলা। প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরপূর্তি উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে দুদিনব্যাপী আনন্দোৎসব।

গতকাল সেগুনবাগিচায় দেশের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোর, সংগঠক ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে দিনভর ছিল উৎসবের আবহ। ১৯৫৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত কচি-কাঁচার মেলা দীর্ঘ সাত দশক ধরে শিশু-কিশোরদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, মুক্তচিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কাজ করে আসছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজনেও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে নানা কর্মসূচিতে।

সকালে দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের আয়োজন। দেশের বিভিন্ন শাখার ভাইবোনদের তৈরি দেয়ালপত্রিকায় উঠে আসে তাদের চিন্তা, সাহিত্যচর্চা, চিত্রকর্ম ও সৃজনশীলতার নানা প্রকাশ। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয় রাজেন্দ্রপুর অগ্নিবীণা কচি-কাঁচার মেলা, দ্বিতীয় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মতলব সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় বাংলা বর্ণমালা বিষয়ক কর্মশালা। শিল্পী, ডিজাইনার ও বাংলা টাইপোগ্রাফি গবেষক সব্যসাচী হাজরা কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। বাংলা বর্ণের ইতিহাস, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ শিশু-কিশোরদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বাংলা বর্ণের পরিবর্তন, হরফের গঠন এবং মুদ্রণের সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন।

সাত দশক পূর্তি উপলক্ষে গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট ‘যুক্তিতে শাণিত হোক ভাবনা ও ভাষা’ স্লোগানে অনুষ্ঠিত বিতর্ক কর্মশালার ধারাবাহিকতায় গতকাল বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়। কেন্দ্রীয় মেলাসহ মোট আটটি মেলার ৫৮ জন এতে অংশ নেয়। কর্মশালার বাছাই পর্ব থেকে নির্বাচিত আটজনকে নিয়ে গঠিত হয় ‘কচি দল’ ও ‘কাঁচা দল’।

প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল, ‘শিশু-কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিত।’ টসের মাধ্যমে পক্ষ-বিপক্ষ নির্ধারণের পর দুই দলের বিতার্কিকরা তথ্য, যুক্তি, পাল্টা যুক্তি ও খণ্ডনের মাধ্যমে বিষয়টির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় ‘কাঁচা দল’ এবং রানার্সআপ হয় ‘কচি দল’। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয় কচি দলের স্বস্তিকা সাহা মন।

চ্যাম্পিয়ন কাঁচা দলের সদস্যরা হলেন দলনেতা নিহারা চক্রবর্তী (গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা), ফাইরুজ ইসলাম ও সুদেষ্ণা সাহা দুষ্টু (কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা) এবং অভিরূপ চৌধুরী (অনির্বাণ কচি-কাঁচার মেলা, শ্রীমঙ্গল)। রানার্সআপ কচি দলের সদস্যরা হলো দলনেতা আরিয়ান চৌধুরী (কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা), নূরুননাহার জারিফা (গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচার মেলা), চিত্রিতা সরকার (উল্লাপাড়া রিমঝিম কচি-কাঁচার মেলা) ও স্বস্তিকা সাহা মন (টাঙ্গাইল বৈশাখী কচি-কাঁচার মেলা)।

বিতর্কের মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সক্রিয় বিতার্কিক সুস্ময় চক্রবর্তী। বিচারক ছিলেন বিতার্কিক, একাডেমিক প্রশিক্ষক ও আবৃত্তিশিল্পী লাবণ্য মল্লিক।

কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সভাপতি খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান দেয়ালপত্রিকা প্রদর্শনী, বাংলা বর্ণমালা কর্মশালা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের অভিনন্দন জানান। শিশু-কিশোরদের সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষা, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিচর্চায় আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিকেলে সারাদেশের বিভিন্ন শাখা থেকে আসা শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, নৃত্য ও আবৃত্তির পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ।

আজ শনিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে সকালে রয়েছে স্মৃতিচারণমূলক আয়োজন। বিকেলে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ হবে কচি-কাঁচার মেলার সাত দশকপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ উৎসব।

বিশ্বজুড়ে খাদ্যঝুঁকিতে দুই কোটির বেশি নারী-কন্যাশিশু ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নবিষয়ক সংস্থার (ইউএন উইমেন) প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তাদের সমীক্ষা চালানো ২৮টি দেশে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ কোটি ৮০ লাখ নারী ও কন্যাশিশু খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।

বছরের শেষ নাগাদ নতুন করে আরও দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে পারে। নতুন যুক্ত হতে যাওয়া এই জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ ৫৩ শতাংশই (এক কোটি ১৭ লাখ) নারী ও কন্যাশিশু।

ইউএন উইমেন জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি, সার ও পরিবহন খরচ বাড়ছে, যা বিশ্বজুড়ে খাদ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংকটে জর্জরিত দক্ষিণ সুদান, সুদান, হাইতি, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিনের মতো দেশগুলোতে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

দক্ষিণ সুদানের মোট নারী জনসংখ্যার প্রায় ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনে একজন নতুন করে খাদ্য সংকটে পড়তে পারেন। লেবাননে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর অনুপাত আফগানিস্তানে ৬০, ইয়েমেনে ৫৭ শতাংশের বেশি ও সুদানে ৫৬ শতাংশ।

ব্রোঞ্জও জেতা হয়নি লিটনদের

০

চারপাশে সবুজায়ন। মাঝে করোগি অ্যাথলেটিক পার্ক। চোখ ধাঁধানো এই গ্রাউন্ডেই কিনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। এশিয়ান গেমসে যে ক্রিকেটকে ঘিরে পদকের স্বপ্ন ছিল, বাইজ গজের সেই লড়াইয়ে লিটন কুমার দাসরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। নারী ক্রিকেট দলের পর ছেলেরাও এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জিততে পারেনি।

গতকাল অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রীলংকার কাছে ৬৩ রানের পরাজয়ে পদকের স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটেছে বাংলাদেশের। সর্বশেষ হ্যাংঝু এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থেকে এসেছিল দুটি ব্রোঞ্জ। এবার শূন্য হাতেই ফিরিয়ে দিয়েছে ক্রিকেট। আইচি নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রাপ্তি বলতে উশুর জিন্নাত আক্তারের অপ্রত্যাশিক সেই ব্রোঞ্জ পদকটি।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ এবং ভারত শক্তিশালী দল পাঠিয়েছিল। তৃতীয় শক্তিধর দল হলো পাকিস্তান। এই শ্রীলংকা দলে নেই কোনো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। পুরোপুরি তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে এশিয়াডে আসে তারা। এই দলটির সঙ্গেই কিনা পেরে ওঠেনি তারায় তারায় খচিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

শ্রীলংকার ১৬৬ রানের টার্গেট তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ শূন্য রানেই হারায় দুই ওপেনার সাইফ হাসান এবং তানজিদ হাসান তামিমকে। রান খরায় ভুগতে থাকা লিটন কুমার দাস পারেননি সময়ের দাবি মিটিয়ে ব্যাট করতে। থুসারার বলে বোল্ড হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক নিজের নামে পাশে কোনো রান যোগ করতে পারেননি। দলের কঠিন সময়ে যেখানে তার হাল ধরার কথা, সেখানে লিটন কিনা বলের লেংথই বুঝতে পারেননি। ৪ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করা তাওহীদ হৃদয় হাঁকিয়েছিলেন হাফ সেঞ্চুরি। লংকানদের বিপক্ষে হাসেনি হৃদয়ের ব্যাট। ৬ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তারপরেও সবাই আশায় বসে ছিল।

কারো ব্যাট যদি সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের মতো হাসে। কারণ শ্রীলংকাও ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল। কিন্তু পারভেজ হোসেন ইমন এবং ইয়াসির আলী তাদের দু’জনের মতো হতে পারেননি। ২৪ রান করা ইমন দলীয় ৫০ রানে আউট হয়ে যান। ভাঙ্গে ৩২ রানের জুটি। শেখ মেহেদিও উইকেটের চরিত্র বুঝতে পারেননি। ভিয়াসকান্তের বলের ফ্লাইট বুঝতে পারেননি। ৫০ রানে ৬ উইকেটে হারানো বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাটা প্রায়ই শেষ হয়ে যায়। তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১ রান করা ইয়াসির আলীর প্রচেষ্টাও বিফলে যায়। বাকি ব্যাটসম্যানরাও পারেননি অবিশ্বাস্য কিছু করতে। নাসুম আহমেদের সর্বোচ্চ ২৬ রানের পরও বাংলাদেশ ১৭.৩ ওভারে ১০২ রানে গুটিয়ে যায়।

এর আগে শ্রীলংকা ১৬৫ রান তুলতে পেরেছে দুই ব্যাটার সাহান আরাচিগে এবং থারিঙ্গু রত্নায়েকের কল্যানে। ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারানো লংকানরা যখন এক’শ রানের আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শংকায় ছিল সেখান থেকে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৩ রানের জুটি গড়ে দলকে শুধু বিপদ থেকেই উদ্ধার করেননি চ্যালেঞ্জিং স্কোরও দাঁড় করিয়ে দেন তারা। থারিন্দু ৬৫ এবং সাহানে করেন ৩৩ রান।  শুরুতে এলোমেলো হওয়া শ্রীলংকা ১৪–১৮ এই পাঁচ ওভারে ৮৩ রান করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নেয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে খরুচে বোলিং করা মুস্তাফিজুর রহমান ১৪তম ওভারে প্রথমবার বোলিং আসেন। দেন ২৫ রান। আগের ম্যাচে ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে এ পেসার এবার ৩ ওভারে দিয়েছেন ৪৩ রান, উইকেট পেয়েছেন ২টি। রহস্যময়ী স্পিনার আলিস আল ইসলামকে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলায়নি বাংলাদেশ। গতকাল ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে প্রথম স্পেলে তিনি ৩ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন। ১৮ বলের মধ্যে ১২ বলই ছিল ডট। বাংলাদেশের সফল বোলার স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি পূর্ণ ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রানে দুই উইকেট নিয়েছেন।

রাজধানীতে মাদক ব্যবসায় যুক্ত ২৭.৪ শতাংশ ১৫ বছরের শিশু

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে অটোরিকশায় মোহাম্মদপুরের দিকে যাচ্ছিল এক কিশোর। সন্দেহ হওয়ায় বছিলা চেকপোস্টে রিকশাটি থামায় পুলিশ। এ সময় কিশোরের সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া যায় ছয় কেজি গাঁজা। এর পর ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনা গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার। শুধু এই কিশোর নয়; মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদক ব্যবসায় যুক্ত থাকার অভিযোগে অনেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করছে।

ঢাকা নগরীর মাদক ব্যবসা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, এখানে মাদক ব্যবসায় যুক্তদের একটি বড় অংশের বয়স ১৫ বছরের নিচে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশই ছিল এই বয়সশ্রেণিতে। ‘আনভেইলিং প্যাটার্নস অ্যান্ড সোশিওডেমোগ্রাফিক ক্যারেক্টারিস্টিকস অব ড্রাগ ট্রাফিকিং ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাটি গত ১০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পিএলওএস ওয়ানে প্রকাশিত হয়। ঢাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত এক হাজার ১৬ জনের সাক্ষাৎকারে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। এর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত শিশুদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অভাব এবং নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে জবরদস্তির তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় অংশই ছিলেন আর্থসামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই রাস্তায় থাকতেন বা গৃহহীন ছিলেন। গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের গড় বয়স ছিল ২৬ দশমিক ৭ বছর। তাদের ৫৫ দশমিক ৭ শতাংশের পড়ালেখা ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বা এর নিচে। প্রায় ২৯ শতাংশ ফুটপাতে থাকতেন এবং আরও প্রায় ১০ শতাংশ নিজেদের গৃহহীন বা ভাসমান হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় এক-চতুর্থাংশ নারী অংশগ্রহণকারী পেশাদার যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করার কথা জানিয়েছেন।

গবেষণার তথ্য বলছে, ১৫ বছর বা এর কম বয়সী শিশুদের ইয়াবা বিক্রিতে সবচেয়ে বেশি সম্পৃক্ততা দেখা গেছে। হেরোইন বিক্রিতেও তাদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের মধ্যে গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির প্রবণতা বেশি। যৌন পেশায় যুক্ত নারীদের মধ্যে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ততা বেশি পাওয়া গেছে। অন্য নারীদের ক্ষেত্রে হেরোইন ও গাঁজা বিক্রির হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার কারণ জানতে চাইলে শিশুদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে কারণটি উঠে এসেছে, তা হলো কর্মসংস্থানের অভাব। নারীদের ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থান না থাকার কথা বেশি এসেছে। তবে শিশু, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বাধ্য করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে পাওয়া গেছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবকে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে।
গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির ধরনেও পার্থক্য দেখা গেছে। এক হাজার ১৬ জনের মধ্যে ২৫৩ জন শুধু গাঁজা বিক্রির কথা জানিয়েছেন। পল্টন ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাদের বেশি উপস্থিতি দেখা যায়। ২৮৫ জন শুধু ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের কমলাপুর রেলস্টেশন ও বাড্ডায় বেশি উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২২৮ জন গাঁজা ও ইয়াবা– দুটোই বিক্রির কথা জানিয়েছেন। তারা মূলত ফার্মগেট ও তেজগাঁওয়ে বেশি বিক্রি করেন। গাঁজা ও হেরোইন– দুটোই বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ২৫০ জন। তাদের সাভার ও পল্টনে বেশি দেখা গেছে।

গবেষকরা জানান, অংশগ্রহণকারীদের বাছাইয়ে ‘পারপাসিভ’ ও ‘স্নোবল স্যাম্পলিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ এটি এলোমেলোভাবে নির্বাচিত নমুনা নয়। অবৈধ ও গোপন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর জন্য গবেষকরা পরিচিত ব্যক্তি ও বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী সংগ্রহ করেছেন। ফলে গবেষণার ফলাফলকে পুরো ঢাকা শহরের মাদক বিক্রেতাদের প্রতিনিধিত্বকারী পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম ও ঢাকার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ড. শাফায়াত হোসেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষণা কেন্দ্র এভিডেন্স ফর পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ইনফরমেশন সেন্টারের গবেষক গ্যারেথ জে হল্যান্ডস, সৌদি আরবের ইমাম মোহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা-সংক্রান্ত বিভাগের ডিন মো. আলামিন, চীনের চাংঝু ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রোকনুজ্জামান, ঢাকার মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহদী হাসান ও সিরাজগঞ্জের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার।

ড. শাফায়াত হোসেন সমকালকে বলেন, গবেষণায় অংশ নেওয়া ব্যক্তির প্রায় ২৮ শতাংশ ১৫ বছর বা কম বয়সী– এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি নির্দেশ করে যে ঢাকার মাদক বাণিজ্যের কাঠামোতে শিশুশ্রমের মতো অপরাধমূলক শিশু-শোষণ গভীরভাবে শিকড় গেড়েছে। ১৫ বছর বা তার কম বয়সীরা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সন্দেহ থেকে দূরে থাকে। তাই মাদক সিন্ডিকেটগুলো এই বয়সসীমার শিশুদের জোর করে বা কৌশলে ব্যবহার করছে। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি সরাসরি প্রতিচ্ছবি।

মাদক পাচারের রুট

গবেষণায় হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা ঢাকায় পৌঁছানোর কয়েকটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে হেরোইন মূলত পাকিস্তানের লাহোর থেকে ওয়াঘা সীমান্ত হয়ে ভারতের পাটনা এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসে। ঢাকায় আসা হেরোইন সাভার, মিরপুর ও মহাখালী, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়ে।

গাঁজা ঢাকায় প্রবেশের দুটি প্রধান রুট চিহ্নিত করেছে গবেষণা। একটি ভারত থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে, অন্যটি কুমিল্লা হয়ে। দুটি রুটই ঢাকায় এসে মিলিত হয়। এর পর ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাঁজা ছড়িয়ে পড়ে।

ইয়াবার উৎস মিয়ানমার। সেখান থেকে টেকনাফ সীমান্ত ছাড়াও ভারতের মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে প্রবেশ করে ইয়াবা। এর পর একাধিক রুটে সিলেট ও সুনামগঞ্জ হয়ে ঢাকায় আসে। গবেষণায় মিয়ানমার থেকে মিজোরাম ও মেঘালয় হয়ে আসা ইয়াবার রুটকে বৃহত্তর ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ মাদক পাচার নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব পথে গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল অঞ্চলের উৎপাদনকেন্দ্র থেকে সরাসরি ঢাকার বাজারে মাদক প্রবেশ করে।

এ ছাড়া ভারতের দিক থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের আরও কয়েকটি রুটের কথা বলা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে– জামালপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ

গবেষণার মানচিত্রে তিনটি প্রধান আন্তঃসীমান্ত রুট আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে– পাকিস্তান-লাহোর-ওয়াঘা-পাটনা-বাংলাদেশ, ভারত-মিজোরাম-মেঘালয়-বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার-টেকনাফ-ঢাকা।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মিথিলার নতুন পথচলা, যুক্ত হলেন শিক্ষকতায়ও

০

অভিনয়ের পাশাপাশি একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন রাফিয়াত রশিদ মিথিলা। এবার পেশাগত জীবনে নতুন এক অধ্যায় শুরু করলেন এই তারকা। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সঙ্গে দুই দশকের পথচলা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শুরু করেছেন শিক্ষকতাও।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে নতুন এই কর্মজীবনের খবর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন মিথিলা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চ’-এ ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।

নতুন দায়িত্বে নিউইয়র্কভিত্তিক ‘আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব’ প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন ও মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবেন তিনি। প্রারম্ভিক শৈশবের বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করবে এই উদ্যোগ।

মিথিলা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গবেষণার সঙ্গে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সমন্বয় ঘটাতে পারবেন। পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত ও গবেষণালব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় ভূমিকা রাখতে পারবেন তিনি।

গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশাতেও যুক্ত হয়েছেন মিথিলা। নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে ‘অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি। সেখানে ‘নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ে পাঠদান করছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অলাভজনক সংস্থার কার্যক্রম ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এই উন্নয়নকর্মী।

নতুন এই পথচলায় দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাকের অবদানের কথাও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন মিথিলা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নত গবেষণা অবকাঠামো এবং মেধাবী গবেষকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন মিথিলা।

বিশেষ সাক্ষাৎকার আমি যা ছিলাম তাই আছি, নিজের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখি না: জেমস

০

ফারুক মাহফুজ আনাম জেমস। নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতায়োজক। আজ দেশের শীর্ষ এই রকতারকার জন্মদিন। বিশেষ এই দিনটি নানাভাবে উদযাপন করে থাকেন দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্ত অনুরাগী। জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংগীতাঙ্গনের বর্তমান প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ কাজের পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয়ে জেমসের সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ

জন্মদিনে দৈনিক সমকাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য রইলো অনেক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। এবার বলুন আজকের এই বিশেষ দিনটি কীভাবে কাটাতে চান?
শুভেচ্ছার জন্য দৈনিক সমকালের সবাইকে ধন্যবাদ। জন্মদিনকে ঘিরে আজ কী করব, না করব তা আসলে ভেবে দেখিনি। কারণ, জন্মদিন তো কখনও ঘটা করে উদযাপন করিনি। ভক্তর উদযাপন করে, আমি শুধু দেখে যাই।

অনেক পথ পার হয়ে এসে আপনার আজকের যে অবস্থান সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান?
আমি যা ছিলাম তাই আছি। নিজের মধ্যে কোনো পার্থক্য তো দেখি না। মাথা ভর্তি চুল ছিল, সেগুলো পাতলা হয়ে এসেছে [হা-হা-হা। এই যা পার্থক্য। সত্যিকার অর্থে যদি আমার পরিবর্তন হয়ে থাকে, সেটি চোখে পড়বে দর্শক-শ্রোতার। শুধু তারা বলতে পারবে সময়ের সঙ্গে আমি কতটা বদলে গেছি।

 

অনেকদিন আপনার নতুন কোনো গান নেই, এ নিয়ে কিছু ভাবছেন?
আগে থেকে পরিকল্পনা করে কিছু হয় না। সংগীতচর্চা তো থেমে নেই। রুটিন বেঁধে নিয়মিত অনুশীলন করছি। অনুশীলন করতে করতেই যখন কোনো সুর চলে আসবে, তা নিয়ে গান বাঁধার চেষ্টা করব। যখন সোট পূর্ণাজ রপ পাবে, তখন তার প্রকাশনা নিয়ে ভাবব। যখন কোনো গান তৈরি হয়ে যাবে, নিজ থেকে জানান দেব।

‘সবই ভুল’ গানের পর নতুন কিছু তৈরি হয়েছে?
গানের কাজ নিয়ে বসব কখন। একের পর এক তো শো করে যাচ্ছি। গত কয়েক বছর তো এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা সব মহাদেশের সবই চষে বেড়ালাম। এক দেশ থেকে অন্য দেশের মঞ্চে ছুটে বেড়ানো-এই দীর্ঘ সফরে গান তৈরির জন্য আলাদাভাবে সময় বের করা হয়ে ওঠেনি। ওই যে বললাম, গানের বিষয়টি হঠাৎ করে হয়ে যায়। তাই আগেও যেখানে গান তৈরি হয়েছে, আগামীতেও হবে। দেখা যাবে একটার পর একটা গান আসছে।

নব্বই দশক ছিল দেশীয় ব্যান্ড সংগীতের সোনালি সময়। কখনও কী মনে হয়, সেই সময়ের চিত্রটা নতুন করে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
আমরা ভাগ্যবান, যারা দারুণ কিছু শিল্পী, মিউজিশিয়ান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে পেরেছি। প্রতিদ্বন্দিতা ছিল প্রবল। কে কী করছে, তারও খোঁজ-খবর রাখতাম। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ হতো। এভাবে নব্বই দশকের চিত্রটা তৈরি হয়েছিল, যা এই সময়ের সঙ্গে কোনোভাবেই মেলানো যাবে না। খেয়াল করলে দেখবেন, এই সময়ে আমাদের
চেয়ে অনেক ভালো শিল্পী, মিউজিশিয়ান আছেন। সেই শিল্পীদের অনেকে নিজেকে প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছেন না, যা আমরা পেয়েছি।

 

এর কারণ কী বলে মনে হয়?
যখন কোনো কিছু সহজলভ্য হয়ে যায়, তখন তার কাদর থাকে না। ফটোগ্রাফির কথাই বলি। এক সময় ফটোগ্রাফি করতে পারা ছিল বড় একটা বিষয়। এখন তো যার হাতে ফোন আছে, সেই নিজেই একজন ফটোগ্রাফার। একই ঘটনা গানের বেলাও ঘটেছে। সমাজ মাধ্যম, ইউটিউব, স্ট্রিমিং প্ল‍্যাটফর্মে সবাই ফ্রিতে গান শুনছেন। বিনামূল্যে এই প্রাপ্তিটাই ভুলিয়ে দিচ্ছে সৃষ্টির মাহাত্ম্য। একসময় টাকা খরচ করে গান শুনতে হতো। তাই শ্রোতা সেই গানই বেছে নিতেন, যা তাদের কাছে মনের তৃষ্ণা মেটানোর মতো কিংবা ব্যতিক্রমী ও সময়োপযোগী মনে হতো। নতুন ও ভিন্ন রকম আয়োজনের জন্য, কার কাজের ধরন কেমন, সে বিষয়েও নজর রাখতেন। এখন সেই চিত্র তো চোখে পড়ে না।

এই বাস্তবতায় কী মনে হয় না, গানের ভুবনে এক ধরনের খরা দেখা দিতে পারে?
আমার তো মনে হয়, আগামী ২০ বছর নতুন কিছু সৃষ্টি না হলেও শ্রোতার কাছে গানের কোনো অভাব থাকবে না। মনের তৃষ্ণা মেটানোর জন্য এ পর্যন্ত যত গান তৈরি হয়েছে, সেগুলোই যথেষ্ট। তারপরও শিল্পী ও মিউজিশিয়ানরা নিজের মতো করে কাজ করে যাচ্ছেন, সৃষ্টির নেশায়। আমার কথাই যদি বলি, আমার প্রকাশিত গানগুলো আমি মঞ্চে বিভিন্নভাবে গাওয়ার চেষ্টা করি। যেখানে গানের মূল কাঠামো ঠিক থাকে, কেবল অ্যারেঞ্জমেন্ট ও গায়কীতে কিছু নতুনত্ব তুলে আনা হয়। এভাবেই দর্শক-শ্রোতার কাছে পুরোনো গানও একটু আলাদা হয়ে ওঠে। তাই যতক্ষণ প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো কিছুর অভাব থাকার কথা নয়।

দীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে পেছন ফিরে তাকালে কখনও কারও শূন্যতা অনুভব করেন?
আমাদের সময়ের অনেক সংগীতযোদ্ধা আজ পৃথিবীতে নেই। তাদের অনেকের শূন্যতা অনুভব করি। নিলয় দাসের কথা যদি বলি, একসময় সারগাম স্টুডিওতে আমাদের আড্ডা হতো। মারা যাওয়ার কিছুদিন আগেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। সেই মানুষটি আর নেই। তাঁর কথা এখনও মনে পড়ে। তবে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে আইয়ুব বাচ্চু ভাইয়ের কথা। কত শত স্মৃতি তাঁকে ঘিরে, তা বলে শেষ করা যাবে না। এর বাইরেও আজম ভাই [আজম খান], খালিদ, শাফিন আহমেদ থেকে শুরু করে অনেকে আমাদের ছেড়ে গেছেন, যাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগাভাগি করেছি। তাদের না থাকাটা এখন মনে আঁচড় কাটে।

আমি কোনো যাত্রীকে মরতে দিতে চাইনি: ফ্লাইদুবাইয়ের সেই পাইলট

ককপিটে সহপাইলটের প্রাণঘাতী আক্রমণের শিকার হয়েও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটের সেই সাহসী ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। আকাশে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেবল নিজের জন্য নয়, উড়োজাহাজে থাকা অন্য সব যাত্রীকে তিনি কিছুতেই মরতে দিতে পারেন না। শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ভিডিও কলে কথা বলার সময় স্মিত মচ্ছার এভাবেই নিজের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

মোদিকে সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ওই সময়ে আমি নিজের জীবনের জন্য লড়াই করছিলাম। আমি এতটাই জখম হয়েছিলাম যে, মেঝেতে পড়ে গিয়েছিলাম। তখন এক মুহূর্তের জন্য আমার মনে হয়েছিল যে, আমি যদি কিছু না করি তবে অন্য সবাই মারা যাবে। আমি ১৭ বছর ধরে বিমান চালাচ্ছি এবং গত ১১ বছর ধরে ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছি। যখন আমি নিচে পড়ে গিয়েছিলাম, তখনও আমি অনুভব করতে পারছিলাম যে উড়োজাহাজটি খাড়াভাবে নিচের দিকে নামছে। তিনি বলেন, আমি আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিলাম, কিন্তু ভেতর থেকে ককপিটের দরজা খোলার জন্য শেষবারের মতো একবার চেষ্টা করার কথা নিজেকে বললাম।

 স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

স্মিত মাচ্ছারের সঙ্গে শুক্রবার ভিডিও কলে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

‘আক্রমণ’ নিয়ে সৌদির প্রাথমিক তদন্ত 
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ক্যাপ্টেনের ওপর সহকারী পাইলট (কো-পাইলট) শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। এতে দুজনেই আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় জানায়, দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এই ফ্লাইটের প্রাথমিক তদন্ত চালিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ওই তদন্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি নিরাপত্তা দলও অংশ নেয়।

‘হামলাকারী ইসলামপন্থি উগ্র মতাদর্শে দীক্ষিত’
উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তি ‘ইসলামপন্থি চরমপন্থায় দীক্ষিত’ ছিলেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, তদন্তের প্রাথমিক তথ্য প্রমাণ থেকে এমনটাই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলাকারী উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, হামলাকারী ‘খুব সম্ভবত’ উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করতে চেয়েছিলেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ওমানের।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কেনাকাটা-প্রচারে ৭২ কোটি টাকা ব্যয় করবে ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং প্রচারণা ও মুদ্রণে ৭২ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আগে থেকে মজুত নির্বাচনসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন করে বেশ কিছু সামগ্রী কেনাকাটা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য এই অর্থ খরচ হবে।

নানা জটিলতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও আগামী জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এর আগে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটের সামগ্রী কেনাকাটা শুরু করতে চায় তারা। যা ধাপে ধাপে আগামী বছরের ১৭ জুন শেষ হবে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুনের মধ্যে কেনাকাটা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণার সব ব্যয় রাজস্ব বাজেট থেকে মেটানো হবে।

ইসি সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসে সংস্থার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক ব্যয় বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা এরই মধ্যে ইসির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। ইসির এই বার্ষিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনাকাটা ছাড়াও ইসির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় মোট প্রায় ১৩২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা এবং প্রচারণা ও মুদ্রণ খাতে। বরাদ্দের বাকি অর্থ ইসির তথ্যপ্রযুক্তি, জনসংযোগ, যানবাহন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও গণভোটের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সংগ্রহ, মেরামতসহ ২৭ ধরনের নির্বাচনসামগ্রী কিনেছিল ইসি। ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনসামগ্রীর একটি বড় অংশ মজুত রয়েছে। আগে থেকে মজুত এসব সামগ্রীর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে অন্তত ১৫ ধরনের নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও মুদ্রণের প্রয়োজন হবে। এই খাতে ব্যয় হবে ৬২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উপনির্বাচন ও জাতীয় ভোটার দিবসকেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য ব্যানার, পোস্টার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি খাতে আরও ১০ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে সামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণায় ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

যেসব নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও মুদ্রণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ব্যয় ধরা হয়েছে মুদ্রণ খাতে। সরকারি ছাপাখানা থেকে এক লাখ ৭০ হাজার রিম সামগ্রী মুদ্রণে ৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য পোলিং অফিসারদের জন্য ১৬ লাখ ৬০ হাজার কপি গাইডলাইন প্রস্তুতে

আট কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য ৯ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ কপি ম্যানুয়াল প্রস্তুতে আট কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে অমোচনীয় কালি কিনতে। চার লাখ ১০ হাজার বোতল অমোচনীয় কালি কিনতে তিন কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১০০ কেজি রেড সিলিং ওয়াক্স কিনতে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৫০ হাজার সিল কিনতে ৮৬ লাখ টাকা, চার লাখ ১০ হাজার সেলফ-ইঙ্কিং স্ট্যাম্প কিনতে দুই কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, তিন লাখ ৬০ হাজার অফিসিয়াল সিল কিনতে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, সাত লাখ ২০ হাজার মার্কিং সিল কিনতে ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৫১ হাজার ব্রাস সিল কিনতে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৭৩ হাজার গানি ব্যাগ কিনতে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ১৭ হাজার বড় হেসিয়ান ব্যাগ কিনতে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৫১ হাজার ছোট হেসিয়ান ব্যাগ কিনতে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।

প্রচারণায় যত ব্যয়
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার জন্য ৫১ হাজার ২০০টি পরিবেশবান্ধব ব্যানার, ৫১ হাজার ২০০টি ড্রপ-ডাউন ব্যানার এবং এক লাখ ৩০ হাজার লিফলেট প্রস্তুতের পরিকল্পনা করেছে ইসি। এ জন্য চার কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সমপরিমাণ ব্যানার ও লিফলেট কেনার লক্ষ্যে ইসি আরও চার কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে।

এ ছাড়া পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ব্যানার ও লিফলেট বাবদ ৬০ লাখ টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ব্যানার ও লিফলেট বাবদ ৯৮ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপনির্বাচন ও আগামী বছরের ২ মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উপলক্ষে প্রচারণার জন্য ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট বাবদ আরও ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব খাতে ইসির ব্যয় বরাদ্দ ১০ কোটি আট লাখ টাকা।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হয়। ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছি। এর অংশ হিসেবেই প্রয়োজনীয় নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে।

অবশেষে রূপপুরের জ্বালানি দেশে পৌঁছেছে

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে রাশিয়া থেকে আসা বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আজ ভোরে কঠোর নিরাপত্তায় চালানটি পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।

রসাটমের সূত্রে জানা গেছে, উড়োজাহাজ থেকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ গাড়িতে চালানটি তুলতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে তা রূপপুরে নেওয়া হবে। চালান পরিবহনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দায়িত্ব পালন করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুরের দুই ইউনিটের জন্য মোট ৯টি কার্গোতে ইউরেনিয়াম আসবে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য সাতটি এবং প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি চালান রয়েছে।
নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে এসব চালানে প্রথম ইউনিটের জন্য বাড়তি ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসার কথা।

রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে আসছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর একটি চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হয়। পরে জটিলতা কাটিয়ে নতুন সূচিতে চালান পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম শুক্রবার জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর সেটি রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে এরই মধ্যে জ্বালানি লোড করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময় পর চুল্লির জ্বালানির একটি অংশ পরিবর্তন করতে হয়। এ কারণে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জ্বালানিও আগাম আনা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করবে। পরে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাংলাদেশকে আমদানি করতে হবে।

রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দুই ইউনিটের মোট উৎপাদন ক্ষমতা দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।

এলপিজির বাজারে অস্থিরতা, সারাদেশে ক্রেতারা ভুগছেন

ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুর গ্রামের লিটন মিয়া। বৃহস্পতিবার সকালে বের হয়েছিলেন ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে। সঙ্গে নিয়েছিলেন ২২০০ টাকা। কিন্তু কয়েক দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার কিনতে পারেননি। হতাশ হয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় তাঁকে।

লিটন মিয়া আক্ষেপ করে সমকালকে বলেন, ‘১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কিনতে ২২০০ টাকা নিয়ে বের হয়েছিলাম। সাত দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি। সব দোকানদারই বলছেন, সরবরাহ নেই। এখন রান্নার চুলা জ্বালাব কীভাবে।’

লিটন মিয়া কিনতে না পারলেও তাঁর গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান আগের দিন সিলিন্ডার কিনেছেন। এ জন্য তাঁকে বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে। আনিছুর বলেন, ‘আমি বুধবার পাঁচ দোকান ঘুরে ২ হাজার ৩৫০ টাকায় সিলিন্ডার কিনেছি। তবে দোকানদার অতিরিক্ত দামে বিক্রির কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন।’

শুধু ধামরাই নয়, দেশের কমপক্ষে ১৩ জেলায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও বেশি দামেও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, বেশি দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগে দুই দিনে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান চলবে।
অপারেটরদের দাবি, দেশে এলপিজির আমদানি ও মজুত স্বাভাবিক। কিন্তু কিনতে গেলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন অবস্থা সৃষ্টির পেছনে কৃত্রিম সংকটের মতো বিষয় আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে বলেছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক অনলাইন সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি করতে হবে।

সরকারি হিসাবে, আগস্টে দেশে প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে প্রায় এক লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এরপরও রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকার বাজারে সিলিন্ডার নিয়ে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।

দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন। প্রায় এক কোটি গ্রাহক এ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। চাহিদার ৮০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় বাসাবাড়ির রান্নায়। তাই বাজারে সিলিন্ডারের সরবরাহ ও দামের এই অস্বাভাবিকতায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

কয়েক কোম্পানির হাতে বাজারের বড় অংশ
দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে। লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অনেক হলেও নিয়মিত আমদানি করে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি। বাজারের বড় অংশ রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের হাতে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের বাজার হিস্যা ১৯ শতাংশ, পেট্রোম্যাক্সের ১৭, মেঘনা গ্রুপের ১৬ এবং যমুনা স্পেসটেকের ১৬ শতাংশ। অর্থাৎ এ চার কোম্পানি প্রায় ৬৮ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। বিএম এনার্জির হিস্যা ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আইগ্যাসের ৭ এবং ডেল্টার ৪ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরের আমদানিতেও বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য দেখা গেছে। গত শনিবার পর্যন্ত ইউনাইটেড আইগ্যাস ২৩ হাজার ৪৩২ টন, যমুনা স্পেসটেক ২০ হাজার ৬০২, বিএম এনার্জি ১৮ হাজার ২৫২, ওমেরা পেট্রোলিয়াম ১৪ হাজার ৩০১, মেঘনার ফ্রেশ ১৩ হাজার ৪০১ এবং পেট্রোম্যাক্স ১০ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানি করেছে। সান গ্যাস আমদানি করেছে আট হাজার ৪০০, এসকেএস চার হাজার এক, টিএমএসএস তিন হাজার ৩০০ এবং প্রিমিয়াম এলপি গ্যাস দুই হাজার ৪৫০ টন।

দেশজুড়ে বেশি দামে সিলিন্ডার
রাজধানীতেও নির্ধারিত দামে পাওয়া যাচ্ছে না এলপিজি সিলিন্ডার। সেপ্টেম্বরে সরকার ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও বিভিন্ন এলাকায় তা দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে।

রাজধানীর বাইরে এলপিজির বাড়তি দামের চিত্র আরও স্পষ্ট। কোথাও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সিরাজগঞ্জে বাড়তি দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এই অভিযান শুরু হয়। বুধবার একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। জেলার তাড়াশ উপজেলা সদরের কৃষিজীবী নিয়াজ আহমেদ বলেন, বুধবার তাড়াশ পৌর বাজার থেকে তিনি ১২ কেজির ফ্রেশ সিলিন্ডার গ্যাস কিনেছেন ২ হাজার ৩০০ টাকায়।

বেলকুচি উপজেলার সমেশপুর বাজারে যমুনা তেল কোম্পানির ডিলার ইসমাইল হোসেনের মালিকানাধীন সাথী এন্টারপ্রাইজের দোকানে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের বিক্রয়মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত উল্লেখ করে তালিকা টানানো রয়েছে। তবে কিনতে গেলে ২১৫ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া উপজেলা সদরের মুকুন্দগাতী বাজারের শতরুপা স্টোরের মালিক হাবিবুর রহমান হাবিব হোসেন স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতাদের কাছে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস ২১৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

রাজবাড়ীতে বিভিন্ন দোকান ঘুরে অনেক সময় সিলিন্ডার পাচ্ছেন না ক্রেতারা। পাওয়া গেলেও ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য দিতে হচ্ছে এক হাজার ৮০০ থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা। কয়েকটি কোম্পানির সরবরাহ না থাকায় অন্য কোম্পানির ওপর চাপ বেড়েছে।

কুড়িগ্রামে প্রায় এক মাস ধরে ওমেরা, বসুন্ধরা ও যমুনা ব্র্যান্ডের গ্যাসের সরবরাহ নেই বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। তাদের হিসাবে, প্রতিটি কোম্পানি মাসে গড়ে সাত থেকে আট হাজার সিলিন্ডার প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় মজুত থাকা সিলিন্ডারও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

মৌলভীবাজারে সংকটের পাশাপাশি বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। জেলার ডিস্ট্রিবিউটরদের অধিকাংশই কম সরবরাহ পাচ্ছে। বাজারে ওরিয়ন ও টোটাল গ্যাসের সংকট রয়েছে। আইগ্যাস, পেট্রোম্যাক্স, ওমেরা ও ফ্রেশের ১২ কেজির সিলিন্ডার খুচরায় এক হাজার ৯৫০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানির সিলিন্ডারের দাম উঠেছে দুই হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁর রাণীনগরেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো কোম্পানির সিলিন্ডার এক মাস ধরে না আসায় স্থানীয় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। লালমনিরহাটে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দামের সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৬২০ থেকে ১ হাজার ৬৭০ টাকায়। এ ছাড়া নরসিংদী, খুলনা, বরগুনা, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও লালমনিরহাটেও প্রায় একই রকম চিত্র পাওয়া গেছে।

এক পক্ষের দায় অন্য পক্ষের ঘাড়ে
বাড়তি দামের কারণ নিয়ে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের মধ্যে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের অভিযোগ, অপারেটররা চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার দিচ্ছেন না। আমদানি ও মজুত থাকার পরও প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে। এতে ডিস্ট্রিবিউটররা প্রয়োজনীয় পণ্য পাচ্ছেন না, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

সিলেটের এক ডিস্ট্রিবিউটরের অভিযোগ, কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার সরবরাহ মিলছে না। এমনকি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য কিনতে হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, ডিলারদের বেশি দামে বিক্রি না করে উপায় নেই। কারণ তারা অপারেটরের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন।

অপারেটরদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, আমদানি কমেনি; দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি এসেছে। সরবরাহ কমার সুযোগ নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের একাংশ সিলিন্ডার মজুত করে বাড়তি দামে বিক্রি করছে।

বাংলাদেশ এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, আমদানি কমেনি। খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের কারণে সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। কোনো অপারেটর বেশি দামে বিক্রি করছে– এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আন্তর্জাতিক বাজারেও চাপ
এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের দাম ও জাহাজ ভাড়া বাড়লে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়ে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অনেক আমদানিকারক চুক্তির পরিমাণের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম কার্গো পাচ্ছেন। নতুন কার্গো সংগ্রহেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বিইআরসি মূল্য নির্ধারণের সময় টনপ্রতি ১৬০ ডলার প্রিমিয়াম ধরে হিসাব করলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তা এখন ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। এতে নির্ধারিত দামে বিক্রি করে বাড়তি আমদানি ব্যয় সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আমদানি কমিয়েছে বা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগস্টে ১৩টি প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি করলেও সেপ্টেম্বরে আমদানি করেছে ৯টি প্রতিষ্ঠান।

পাঁচ বছরে নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ
২০২১ সালের এপ্রিলে বিইআরসি প্রথমবার বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তখন ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। ২০২৬ সালের এপ্রিলে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

চলতি বছরেও দামে বড় ওঠানামা হয়েছে। এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। পরে জুনে ৫৫ টাকা ও জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। আগস্টে আবার ৭০ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা। সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, বিইআরসির নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না। এতে ভোক্তাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এলপিজি খাতের অনিয়ম ঠেকাতে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

শামসুল আলমের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বুধবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন সভায় জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখে তথ্যপ্রমাণসহ প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট বা বিইআরসি নির্ধারিত দামের বেশি নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  বৃহস্পতিবার লোয়াবও অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে।