Home Blog

রুয়েলের ৫ উইকেট, জয়ের সেঞ্চুরি, ফলো অনে বরিশাল

০

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়েছে খুলনা। বরিশালের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পেসার রুয়েল মিয়া। তবে তার বোলিং সাফল্যও আড়াল হয়ে গেছে বরিশালের ব্যাটিং বিপর্যয়ে। মাত্র ৯৪ রানে গুটিয়ে গেছে দলটি। অন্যদিকে, রাজশাহীর বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে চট্টগ্রামকে ভালো অবস্থানে রেখেছেন মাহমুদুল হাসান জয়।

বরিশালের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩২৮ রান নিয়ে দিন শুরু করা খুলনা প্রথম ইনিংসে তোলে ৪২৬ রান। আফিফ হোসেন করেন ফিফটি। বরিশালের হয়ে রুয়েল নেন পাঁচ উইকেট।

জবাবে খুলনার বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি বরিশালের ব্যাটাররা। অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন ইফতির ৪৪ রান ছাড়া উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি কেউ। মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হওয়া বরিশালের বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা ও শেখ পারভেজ।

৩৩২ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅনে পড়ে বরিশাল। দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরুতে দুই উইকেট হারায় তারা। দিন শেষে ২ উইকেটে ৪৩ রান তুলেছে বরিশাল। ইনিংস হার এড়াতে এখনও প্রয়োজন ২৮৯ রান।

অন্য ম্যাচে চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৯০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা রাজশাহী প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রানে অলআউট হয়। চট্টগ্রামের হয়ে হাসান মুরাদ চারটি ও এনামুল হক আশিক তিনটি উইকেট নেন।

জবাবে দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদিকুর রহমানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দুর্দান্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া জয় ১৬৬ বলে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সপ্তম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। একই সঙ্গে এই সংস্করণে তিন হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।

দিন শেষে ১৭০ বলে ১০২ রানে অপরাজিত জয়। তার সঙ্গী সাদিকুর ১২টি চারে ৮৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন। কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৯০ রান তোলা চট্টগ্রাম এখনও রাজশাহীর চেয়ে ১৭৪ রানে পিছিয়ে।

ছাতকে গ্যাসলাইন লিকেজ হয়ে সড়কে আগুন

সুনামগঞ্জের ছাতক শহরে গ্যাসলাইনে লিকেজ হয়ে সড়কে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় শহরের জালালিয়া মাদ্রাসার সামনের সড়কে এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পরই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে সড়কে আবার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ছাতক শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে পাগল হাসান গোলচত্বর পর্যন্ত ফোর লেন সড়কের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক্সক্যাভেটর ও পেলোডার দিয়ে সড়কের খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শুরু করলে জালালিয়া মাদ্রাসার সামনের গ্যাসলাইন লিকেজ হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় হঠাৎ করে মূল সড়কের ওপর আগুনের সূত্রপাত হলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ছাতক সড়ক ও জনপথের (সওজ) উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জুনদ মিয়া বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী যে ৩ ধরনের আটার রুটি

ডায়াবেটিস থাকলে অনেকেই ভাতের পরিবর্তে রুটি খান। যদিও ডায়াবেটিস থাকলে ভাত বা রুটি পরিমিত পরিমাণেই খেতে বলা হয়। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ অনিয়ন্ত্রিত থাকে তাদের শর্করা জাতীয় খাবার খেতে নিষেধ করা হয়। কেউ যদি ভাত বা রুটি খাওয়া বাদ দিতে না পারেন তাহলে খাওয়ার ধরন বদলানো জরুরি। সেক্ষেত্রে গমের আটার রুটি না খেয়ে এমন রুটি খান যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখবে। আবার খেতেও ভালো লাগে। যেমন-

রাগি ও মেথি শাকের রুটি

রাগি বা মিলেট প্রোটিন, ফাইবারে ভরপুর। রাগি খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে না, সেই সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমে যায়। রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি থাকলে রাগির আটার সঙ্গে মেথি শাক মিশিয়ে নিতে পারেন। মেথি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। একটি পাত্রে রাগির আটা, মেথি শাক, জোয়ান ও লবণ ভালো করে মিশিয়ে নিন। অল্প অল্প গরম পানি দিয়ে নরম করে মাখুন। ১০ মিনিট ঢেকে রেখে দিন। এর পর মাঝারি আকারের লেচি কেটে সামান্য শুকনো আটা ছড়িয়ে হালকা হাতে বেলে তাওয়ায় এপিঠ-ওপিঠ সেঁকে নিন।

জোয়ার ও পালং শাকের রুটি

জোয়ারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স গমের চেয়েও কম। এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বাড়তে পারে না। জোয়ার ও পালং শাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন, ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। জোয়ারের আটার সঙ্গে কুচোনো পালং শাক, জোয়ান এবং রসুনবাটা মিশিয়ে নিন। ভালো করে মেখে লেচি কেটে হালকা হাতে বেলুন। কম আঁচে তাওয়ায় সেঁকে নিন।

ওটস ও সবজির রুটি

দেড় কাপ ওট্স ব্লেন্ডারে দিয়ে গুঁড়ো করে আটা তৈরি করে নিন। এবার ভাল ভাবে মেখে বানিয়ে নেওয়া নিন স্বাস্থ্যকর রুটি। চাইলে ওট্‌সের আটার সঙ্গে মিহি করে গ্রেট করা গাজর, শিম মিশিয়ে নিতে পারেন। এই আটা মাখার সময়ে গরম পানি আর এক ফোঁটা তেল দিয়ে দিন। তাহলে রুটি নরম হবে।আটার রুটি যেভাবে বানান সেভাবেই ওটস আর সবজির রুটি তৈরি করুন।

খুন-ধর্ষণ বেশি ওয়ারীতে, চুরি গুলশান-উত্তরায়

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুরে বাদল সরদার রোডের শেষ মাথায় একটি রিকশার গ্যারেজ। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন দুই বন্ধু। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে সাত দুর্বৃত্ত এসে তাদের ঘিরে ফেলে। পরে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইমরান হোসেনকে। গুলিতে আহত হন তাঁর বন্ধু সাদ্দাম হোসেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট সকালে বাসা থেকে যাত্রাবাড়ীতে মাছের আড়তে যাওয়ার পথে আড়তের পেছনেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। তাঁকে কুপিয়ে ২৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

অপরাধ দুটি সংঘটিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগে। শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়। এই এলাকায় খুন ও ধর্ষণের ঘটনা রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। ছিনতাই, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনাও বেশি এই বিভাগে। খুন এবং নারী-শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর বিভাগ।

ঢাকায় পুলিশের আটটি বিভাগের মধ্যে চুরির ঘটনা বেশি গুলশানে। এর পর রয়েছে উত্তরা ও মতিঝিল বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ওয়ারী বিভাগ ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত, এর মধ্যে অন্যতম যাত্রাবাড়ী। ওয়ারী বিভাগে অন্য পাঁচ থানা হলো– ডেমরা, ওয়ারী, শ্যামপুর, গেণ্ডারিয়া ও কদমতলী। এ ছাড়া মিরপুর বিভাগের মধ্যে পড়েছে গাবতলী এলাকা। এটি দারুস সালাম থানার আওতাধীন। এ ছাড়া এই বিভাগের অন্য থানাগুলো হলো– কাফরুল, মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, শাহ আলী ও রূপনগর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়ারী ও মিরপুর বিভাগের এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে অনেক ভাসমান অপরাধীর বাস। তারা অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত আত্মগোপনে চলে যেতে পারে।
খুনের ঘটনায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে তেজগাঁও বিভাগ। সম্প্রতি আদাবর ও মোহাম্মদপুরে কয়েকটি বাড়ি-জমি দখলে হামলার ঘটনায় এ বিভাগের অপরাধ আলোচনায় এসেছে। ২০২৫ সালেও ছিনতাইয়ের ঘটনায় শীর্ষে ছিল তেজগাঁও বিভাগ।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় জমি দখল ঘিরে একটি কার্যালয়ে হামলা ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। একই দিন আদাবরে শ্যামলী হাউজিংয়ের ৪১/৪২ নম্বর বাড়ি দখলের চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশি অস্ত্রসহ বাড়ির গেটে হামলা চালায়। গেট ভাঙার চেষ্টা করে।

ঢাকা মহানগরের এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র পাওয়া যায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সংঘটিত খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই-ডাকাতি, দখল, হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় নথিভুক্ত মামলার পরিসংখ্যান থেকে। তবে খুন ছাড়া অন্য অপরাধের অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা করেন না। ফলে এসব অপরাধের প্রকৃত চিত্র পুলিশের পরিসংখ্যানে পুরোটা উঠে আসে না। এর পরও যেসব ঘটনায় রাজধানীর থানাগুলোতে মামলা নথিভুক্ত হয়, সেই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে মহানগরের কোন এলাকায় কী ধরনের অপরাধ বেশি ঘটছে, এর একটি ধারণা পাওয়া যায়।

ঢাকা মহানগরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ৫০ থানাকে আট ভাগে ভাগ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডিএমপি। বিভাগগুলোর মধ্যে এলাকার আয়তন ও জনসংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা, নাগরিকের পেশা, তারা কোথা থেকে এসে বাস করছে– এগুলোর ওপর অপরাধের ধরন নির্ভর করে। ভৌগোলিক অবস্থা ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে অপরাধের ভিন্নতা থাকে। এলাকাভিত্তিক অপরাধপ্রবণতা কমবেশি হয় শ্রেণি, অর্থ ও শিক্ষাব্যবস্থার ফলে। যে এলাকায় ভাসমান জনসংখ্যা বেশি, ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরাধ ঘটিয়ে পালানোর অবাধ সুযোগ আছে, সেখানে অপরাধ বেশি হয়।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধী চক্রগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণের হাত বা পৃষ্ঠপোষকতা বদলে গেছে। অনেক এলাকায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহিংসতা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে কিশোর গ্যাং ও স্থানীয় অপরাধী চক্র। কোথাও আবার অপরাধীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যোগসাজশের বিষয়টি সামনে আসছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মিরপুর, উত্তরা, ওয়ারী ও মতিঝিলের মতো এলাকায়  অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরে পালিয়ে যাওয়া সহজ। এটি অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক। বাস টার্মিনাল, লেগুনা স্ট্যান্ড ও আবাসন প্রকল্প থাকার কারণে এসব এলাকায় ভাসমান অপরাধীদের আনাগোনা ও আশ্রয় পাওয়া সহজ হয়।

ডিএমপির কোনো বিভাগে থানার সংখ্যা বেশি, কোনো বিভাগে কম। তবে প্রতিটি বিভাগে থানার সংখ্যা ছয় থেকে সর্বোচ্চ সাতটি। থানায় হওয়া মামলার ভিত্তিতে অপরাধের পরিসংখ্যান তৈরি করে ডিএমপি সদরদপ্তর। এলাকাভিত্তিক অপরাধীদের তালিকাও করে পুলিশ।

ডিএমপির হালনাগাদ করা তালিকায় রাজধানীতে এক হাজার ৩৮৭ ছিনতাইকারীর নাম উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি ছিনতাইকারী ওয়ারী বিভাগে; ৩০৮ জন। তেজগাঁও বিভাগে ২৪০, মতিঝিলে ১৬৮, লালবাগে ১৫৯, রমনা বিভাগে ১৫২, মিরপুরে ৫৩, গুলশানে ৬৭ এবং উত্তরা বিভাগে ২৪০ জন।

ডিএমপি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ৫০ থানায় ১০ হাজার ৯০৫টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩০ হাজার ১৭০ জনকে। এর মধ্যে মামলায় এগিয়ে ওয়ারী বিভাগ, এক হাজার ৮৯৬ মামলা। আসামি গ্রেপ্তার বেশি তেজগাঁও বিভাগে, ১১ হাজার ৯৫ জন।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত থানাগুলোতে ১৬৮টি হত্যা মামলা হয়েছে। বেশি খুনের ঘটনা ওয়ারী বিভাগে ৩৪টি। গত বছরও এ বিভাগে খুনের মামলা ছিল সর্বোচ্চ ৯৫টি। ওই বছর সবচেয়ে কম খুনের ঘটনা ছিল রমনা বিভাগে ২৪টি।

এ বছর ২৬ খুনের ঘটনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিরপুর বিভাগ। গত বছরও মিরপুর এলাকা খুনের ঘটনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছিল, ৭৪টি মামলা। এ বছরের আট মাসে নারী নির্যাতনের মামলায় মিরপুর বিভাগ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা ১৭৬টি। এর মধ্যে ধর্ষণের ঘটনায় ৭৪টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এই এলাকার থানাগুলোতে, যা ধর্ষণের ঘটনায় ঢাকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা। গত বছরও ধর্ষণের ঘটনা বেশি ছিল মিরপুর এলাকায়, মামলা হয়েছিল ১১৬টি।

তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম আট মাসে খুনের ঘটনায় তৃতীয় তেজগাঁও বিভাগ, মামলা হয়েছে ২২টি। গত বছরও খুনের ঘটনায় তৃতীয় ছিল এই এলাকা, মামলা হয় ৫২টি। ছিনতাই-ডাকাতির ঘটনায়ও তৃতীয় এই বিভাগ, মামলা হয়েছে ৩৩টি। তবে গত বছর ছিনতাইয়ে শীর্ষে থাকা বিভাগটিতে এ-বিষয়ক মামলা ছিল ১০৬টি।

অন্যদিকে, চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিল বিভাগে। গুলশানে ১৬৮টি এবং উত্তরা ও মতিঝিলে ১৬৩টি করে মামলা। গত বছর চুরি এবং শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় শীর্ষে ছিল মতিঝিল বিভাগ। চুরির ঘটনায় ৪১৫ মামলা এবং শিশু ও নারী নির্যাতনবিষয়ক মামলা হয়েছিল ৩৩৬টি। চুরির ঘটনায় এ বছরের প্রথম আট মাসে ওয়ারী ১৪৯, তেজগাঁওয়ে ১৪১, মিরপুরে ১৩৮, রমনায় ১৩২ এবং লালবাগে ৬৪টি মামলা হয়েছে। অপহরণের ঘটনায় বেশি মামলা হয়েছে মতিঝিল বিভাগে, ২৭টি মামলা। গত বছরও এ-বিষয়ক অপরাধ বেশি ছিল এই এলাকায়, মামলা হয় ৫০টি।

গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনায় ২২৬টি মামলা হয়েছে। এ-বিষয়ক সর্বোচ্চ মামলা ওয়ারী বিভাগে, ৫০টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মতিঝিল বিভাগে, ৩৯টি। এ ছাড়া গুলশানে ২৫টি, রমনা ও উত্তরায় ২৪টি করে, মিরপুরে ২৩ ও লালবাগে আটটি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চুরি-ছিনতাইয়ের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না। ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ কম হলে এবং মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে সাধারণত ভুক্তভোগী নিজেই থানা-পুলিশ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

মামলার পরিসংখ্যান বলছে, আট মাসে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় ওয়ারী বিভাগের থানাগুলোতে ২১২টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ-বিষযক মামলা মতিঝিল বিভাগে ১৪৫টি, তেজগাঁওয়ে ১২৭, গুলশানে ১২৫, উত্তরায় ৯০, রমনা ৭৭ ও লালবাগ বিভাগে ৭৬টি মামলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা বেশি ওয়ারী বিভাগে, মামলা হয়েছে ৮৯টি। মিরপুরে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা ৭৪টি।

মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সমকালকে বলেন, এই এলাকায় নিম্ন আয় ও পিছিয়ে পড়া জনসংখ্যা বেশি, এলাকার ঘনত্বও তুলনামূলক বেশি মিরপুরে। এ কারণে অপরাধপ্রবণতা বেশি দেখা যায়।

উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার রেজাউল করিম বলেন, আমি কিছুদিন হলো উত্তরা বিভাগের দায়িত্বে এসেছি। দক্ষিণখান ও উত্তরখান ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। অনেক ভাসমান মানুষ। দেখা যায়, হঠাৎ চুরি করে পালিয়ে যায়।

আইনের শাসনের ঘাটতির সুযোগ নেয় অপরাধীরা 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, আইনের শাসনের ঘাটতি থাকলে অপরাধীরা মাথাচাড়া দেয়। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক রীতিনীতি, সামাজিক অনুশাসন প্রয়োগও জরুরি। এই দুটি বিষয় যথাযথ প্রয়োগে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর সূত্র ধরেই অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।

তিনি আরও বলেন, এলাকাভেদে অপরাধের ধরন, সংখ্যা, ভয়াবহতার ভিন্নতা আছে। সংঘটিত অপরাধের ঘটনা তিনটি শ্রেণীকরণ রয়েছে। এক. রাজনৈতিক কারণে অপরাধ। রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধার প্রশ্ন, স্বার্থের প্রশ্নে অপরাধ হচ্ছে। দুই. দুর্বৃত্তদের কাছে জীবন-জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম হয়ে উঠেছে অপরাধ। ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি মাদক বিক্রি– এসব অপরাধ কোনো কোনো এলাকায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। এর পেছনেও দুটি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা দেখা যায়। কখনও রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তি এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে, আবার যারা অপরাধ করছে তারা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে। তিন. জেন্ডারভিত্তিক সংবেদনশীলতার যে ঘাটতি, সব ক্ষেত্রে আইনের অনুশাসন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ব্যক্তির সুরক্ষা না থাকায় নারী-শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক সহিংসতাও বাড়ছে।

পদত্যাগ করেছেন ইরানের তেলমন্ত্রী

ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ পদত্যাগ করেছেন। তার জায়গায় দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানির (এনআইওসি) প্রধান হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মোহসেন পাকনেজাদের পদত্যাগ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্টের ডিক্রির মাধ্যমে হামিদ বোভার্দকে ভারপ্রাপ্ত তেলমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার মধ্যেই দেশটির তেল মন্ত্রণালয়ে এই পরিবর্তন হলো।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ বুলেটিনে পাকনেজাদের পদত্যাগের কারণ নিয়েও কথা বলা হয়। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত কারণে পাকনেজাদ কিছুদিন আগে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তখন তার পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়নি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকনেজাদকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছিলেন। তবে তেলমন্ত্রী পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট তার পদত্যাগ গ্রহণ করেন।

পাকনেজাদের পদত্যাগ গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার ‘প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সেবার’ প্রশংসা করেছেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

মহাকাশ চাঁদে পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের প্রতিযোগিতা

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পক্ষ থেকে ঠিকাদারদের একটি পারমাণবিক চুল্লি (নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর) তৈরির প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। ওই নির্দেশনা দেওয়া হয় গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে। চুল্লিটি মহাকাশ যাত্রায় টিকে থাকার পাশাপাশি চাঁদের দক্ষিণ মেরু এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই চলতে পারবে।

নাসা ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এটি উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করতে চাচ্ছে। সংস্থাটির এই তাড়াহুড়োর পেছনে একটি কারণ আছে। চীনের সঙ্গে গোপন চুক্তির ভিত্তিতে ২০৩৬ সালের মধ্যে চাঁদে একটি পারমাণবিক চুল্লি চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাশিয়া। আর তাই প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে যেতে নাসা তাদের সময়সূচি এগিয়ে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন– উভয়ই সবার আগে চাঁদে নিজেদের ঘাঁটি স্থাপন করতে চায়। তাদের লক্ষ্য উপগ্রহটিতে জমে থাকা বরফ বা পানির মতো সম্পদের সন্ধান করা এবং সৌরজগতের আরও গভীরে অভিযান চালানো। এই অভিযানের জন্য চাঁদের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি। দুই পরাশক্তির বিশ্বাস, উচ্চাকাঙ্ক্ষাটি পূরণের মূল হাতিয়ার হলো একটি পারমাণবিক চুল্লি।
দেশগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, চুল্লিগুলো চাঁদে পৌঁছানোর পরই কেবল সেগুলো চালু করা হবে। তবে শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন বিজ্ঞানী এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, কয়েকটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের পরও দেশগুলো মহাকাশ গবেষণায় অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছে।

গত ছয় বছরে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার একাধিক রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ ও বিস্ফোরিত হয়েছে। চুল্লি স্থাপনে কোনো ব্যর্থতার কারণে মারাত্মক পরিণতিসহ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ইউনিয়ন অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক বিদ্যুৎ নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক এডউইন লিম্যান বলেন, মহাকাশ প্রতিযোগিতার সঙ্গে যদি পারমাণবিক শক্তি যুক্ত হয়, তবে তা সম্ভাব্য আরও বিপদের দিকে মোড় নিতে পারে।

এদিকে, উপগ্রহটিতে যে কোনো স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রয়োজন। পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালানোর জন্য সূর্যের আলো দরকার হয় না। এগুলো আকারেও বেশ ছোট হতে পারে। নাসা ও কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের মতে, সঠিকভাবে নকশা করা গেলে এগুলো পরিচালনায় মানুষের হস্তক্ষেপেরও তেমন প্রয়োজন হবে না।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নাসা ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মঙ্গলগ্রহে একটি মহাকাশযান পাঠাতে চায়, যেটিতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।
এর আগে প্রকল্পগুলোর নির্ধারিত সময়সূচি কয়েক দফায় পেছানো হয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশগুলো তাদের কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাছাড়া চাঁদের অমসৃণ পৃষ্ঠে ভারী এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থ নামাতে সক্ষম ল্যান্ডারও কারও কাছে নেই।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া জানিয়েছে, চাঁদে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাদের চুল্লিগুলো নিষ্ক্রিয় থাকবে। বিজ্ঞানীদের ভাষায় এটিকে ‘আন-ইরেডিয়েটেড’ বা তেজস্ক্রিয়তামুক্ত বলা হয়। এর ফলে ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে রকেট উৎক্ষেপণের সময়। মহাকাশে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিওপোল্ড সুমারার বলেন, উৎক্ষেপণের মুহূর্তটিতে প্রচুর ঝুঁকি থাকে। অতীতে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ার অনেক ঘটনা ঘটেছে।

বেশির ভাগ উৎক্ষেপণ কেন্দ্রই (লঞ্চপ্যাড) কোনো না কোনো জলাশয়ের কাছাকাছি অবস্থিত। কোনো চুল্লি পানিতে আছড়ে পড়লে নিউট্রনের গতি কমে যায়। ফলে পরমাণু বিভাজনের শঙ্কা বাড়ে। এটি একটি চুল্লিকে ‘ক্রিটিক্যাল’ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে পারে।

পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৯ সালে রাশিয়ায় সম্ভবত এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় চুল্লিচালিত একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যর্থ হয়ে শ্বেত সাগরে (হোয়াইট সি) আছড়ে পড়ে। তবে রাশিয়া এই দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি চুল্লিচালিত ছিল না।

নাসা বলেছে, তারা বিপদ এড়াতে সক্ষম এমন নকশা তৈরি করছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক শক্তি কোম্পানি রোসাটম মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জনগণ নিরাপদ নয় এমন সরকারের দরকার নেই: বিরোধীদলীয় নেতা

শুধু স্বাস্থ্যখাত নয় দেশে সব প্রতিষ্ঠান বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যে সরকারের অধীনে জনগণ নিরাপদে ঘুমাতে পারে না, সে সরকারের দরকার নেই।

আজ রোববার রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সপ্তাহ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। জামায়াত আমির বলেছেন, ব্যাংক, বিমা, পুঁজিবাজার মাটির সঙ্গে হামাগুড়ি খাচ্ছে। দিনে-দুপুরে খোদ রাজধানীতেই বিভিন্ন রকম অপকর্ম চলছে- যেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য রয়েছেন। রাজধানীর অবস্থা থেকে বুঝা যায় সারা দেশের অবস্থা কী।

বিমানবন্দরে হট্টগোলের মামলায় জামায়াতের সহযোগী সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তাঁর মুক্তি দাবি করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেদিন বিমানবন্দরে জামায়াতের ৩৪ এমপি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। আখতারুজ্জামানকে উত্ত্যক্ত করা হয়েছে।

মেজর আখতার অপরাধী নন, প্রতিবাদ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেন দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখা প্রবাসীদের জন্য। যাদের ব্যাগ কেটে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করা হয়। তিনি এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। তাকে হাতকড়া পরানো হয়েছে। অপমান করার জন্য হেলমেট পড়ানো হয়েছে। তা দেশের ১৮ কোটি মানুষ জানুক।

সরকারকে সতর্ক করে শফিকুর রহমান বলেছেন, মেজর আখতারের গ্রেপ্তারকে প্রবাসীরাও হালকাভাবে নেবে না। সরকারকে সাবধান করে দিচ্ছি। একটি মেডিকেল কেন্দ্র রাতের অন্ধকারে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হলো, সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করা হলো, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা আড়ালে আবডালে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জনগণের চোখে ধুলো দিতে একজন এমপিকে পদত্যাগ করিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করেননি। গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনেননি। জনগণকে বোকা ভাববেন না, আড়াল করতে পারবেন না।

৯ মাসে ডেঙ্গুতে ২৬২ জনের মৃত্যুর জন্য সরকারকে দায়ী করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর আগে হামে মৃত্যুর ঘটনায় সরকার অতীতের সরকারকে দায় দিয়েছে। কিন্তু এ সরকার গত সাত মাসে কি করল? এখনও হাম ও ডেঙ্গুতে মানুষ মরছে। ব্যর্থতা স্বীকার করে নেন। বিশ্বে ডেঙ্গুর টিকা আছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারিভাবে টিকা আনার যদি উদ্যোগ না থাকে, তাহলে বেসরকারিভাবে আনার রাস্তা খুলে দেন। দুর্যোগে জামায়াত বসে থাকার সংগঠন নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ সপ্তাহ ঘোষণা করেছি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেলিমউদ্দিন এবং দক্ষিণে আবু সাদিক কায়েম আছেন। গ্রাম পর্যন্ত জামায়াতের সহকর্মীরা জনগণের কাছে পৌঁছে যাবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার চরম ব্যর্থ হয়েছে। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর জায়গা হয় না। সরকার পারছে না, দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা দাঁড়াবার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় এমপি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিএনপি চাঁদাবাজ, দখলবাজ দলে পরিণত হয়েছে।

মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তৃতা করেন।

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদ এনসিপির

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি। গতকাল রোববার রাতে দলটির পক্ষ থেকে মিডিয়া সেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাতের পাঠানো বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফেসবুক পোস্টের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রামদা, চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সংবাদ সংগ্রহে গেলে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। হামলায় সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম আহত হয়েছেন। জাহিদুল ইসলাম মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা এ সময় সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকিও দেয়। এই হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমসহ অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী সরাসরি অংশ নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মুক্তবুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের এ ধরনের সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ প্রশাসনও এর দায় এড়াতে পারে না। ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং সংবাদকর্মীদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে মতপ্রকাশের পরিবেশ অবিলম্বে ফিরিয়ে আনতে হবে। ক্যাম্পাসে সব ধরনের সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির রাজনীতি শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।

আরও ১৯৪ কিশোর আটক সাদা কাগজে সই, নিয়ম না মেনে জিজ্ঞাসাবাদ

০

সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়েছিল ১৪ বছরের কিশোর সুমন। রাত ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় সন্তানের খোঁজে উদ্বিগ্ন মা তাহের বানু ছুটে যান থানায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, কয়েকজন বন্ধুসহ তাঁর ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে এসেছে।

কী অপরাধ করেছে, তখনও তা পরিষ্কার ছিল না লক্ষ্মীপুর পৌরসভার এই বাসিন্দার কাছে। সন্তানকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁকে শেষ পর্যন্ত সাদা কাগজে সই করতে হয়। আবার অভিভাবকসহ এসব কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় সমাজসেবা কর্মকর্তা বা প্রবেশন অফিসার না রাখা এবং ছাড়িয়ে আনতে অভিভাবকদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

সর্বশেষ গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৯৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চাঁদপুরে পাঁচ দফা পর্যন্ত এই অভিযানে তিন হাজার ২৩৪ জনকে আটক করা হয়।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থানা পুলিশের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রায় ৯ মিনিটের ওই ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, আটক কিশোরদের থানায় অভিভাবকদের পাশে দাঁড় করিয়ে নাম, পরিচয় এবং আটকের ঘটনাস্থল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় ওসিকে বলতে শোনা যায়, ‘কাউকে এক টাকাও দিবেন না, দিলে আল্লার কাছে ঠেকা থাকবেন।’ পাশাপাশি তিনি অভিভাবকদের সামনে দাঁড় করিয়ে নিজের ছেলেদের চুল ছোট করার নির্দেশও দেন।

এভাবে প্রকাশ্যে কিশোরদের ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে প্রকাশ করা কতটা আইনসংগত– এমন প্রশ্নে ওসি সাজেদুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘অভিভাবকদের ভালো উদ্দেশ্যে তাদের সন্তানদের সামনে কিছু ভালো পরামর্শ দিয়েছি।’

ওসির ফেসবুকে আটক কিশোরদের ভিডিও পোস্ট করা ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। তিনি সমকালকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ওসিকে সতর্ক করে দেওয়া হবে।’

অপরাধ প্রমাণের আগেই কিশোরদের ছবি ও ভিডিও এভাবে ছড়িয়ে দেওয়ায় জনমনে এই অভিযান নিয়ে স্বস্তির পরিবর্তে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নোয়াখালীর সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার শ্যামল পাল বলেন, যে কোনো অপরাধে শিশু-কিশোর আটক হলে থানা পুলিশ জেলা প্রবেশন অফিসারকে অবহিত করবে এবং তাঁর সামনে জিজ্ঞাসাবাদ করার বিধান রয়েছে। জেলা পুলিশের গত এক সপ্তাহের অভিযানে আটক কিশোরদের সম্পর্কে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। তবে তাদের সামনে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

সাদা কাগজে মুচলেকা ও হয়রানির অভিযোগ 

অভিভাবকদের বড় একটি অভিযোগ হলো, আটক কিশোরদের ছাড়িয়ে আনতে গেলে তাদের কাছ থেকে কোনো নির্ধারিত ফরমে নয়, বরং সাদা কাগজে স্বাক্ষর বা মুচলেকা নিয়ে সন্তানদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘সাদা কাগজে সই করতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে কী লেখা ছিল, তা পড়ার সুযোগ বা পরে কাগজের কপি আমাদের দেওয়া হয়নি। সন্তানকে নিয়ে চিন্তায় থাকায় আমরা সই করে তাকে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।’

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার সামনে গত শনিবার দুপুরে ২৩ বছর বয়সী স্বামী রাকিবুল ইসলাম রিফাতকে ছাড়িয়ে নিতে অপেক্ষা করছিলেন স্ত্রী আকলিমা আক্তার। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরতলির বালুতোপা এলাকা থেকে পুলিশ রিফাতকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে ধরে নিয়ে আসে। তাঁর নামে কোনো মামলা নেই। পুলিশ তাঁকে ছাড়ছে না, দেখা করে পানি ও পাউরুটিও দিতে পারছি না।’

নগরীর নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আটক ছাত্রের মা বলেন, ‘পুলিশের এ অভিযান চালু থাকুক। তবে নিরপরাধ ছেলেদের আটক করে যেন হয়রানি করা না হয়।’

আটক আরেক কিশোরের বাবা ব্যবসায়ী চান মিয়া বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিবি কার্যালয়ে চেষ্টা তদবির করে ছেলেকে মুক্ত করি। ছেলের কোনো অপরাধ ছিল না।’

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এনআরডিএসের নির্বাহী পরিচালক ও সমাজবিজ্ঞানী আবদুল আউয়াল বলেন, আমাদের সমাজে কিশোরদের মাঝে অপরাধে জড়িয়ে পড়া উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। রাষ্ট্রের কিশোর অপরাধীদের সংশোধনের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, কিশোর-কিশোরীরা জন্মগতভাবে অপরাধী হয় না। তারা মূলত সমাজের পরিবেশ, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা, দারিদ্র্য, সঙ্গদোষ বা সঠিক নির্দেশনার অভাবে অপরাধের পথ বেছে নেয়। এ জন্য তাদের শুধু অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে, অপরাধের মূল সামাজিক কারণগুলোও চিহ্নিত করতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, কিশোর ও উঠতি বয়সী তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং সচেতন করার লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় আড্ডা এবং অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে মোট তিন হাজার ২৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দুই হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়; যাদের এক হাজার ২০৯ জন মুচলেকায় মুক্ত হলেও ৮৩৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুরে তিন দিনের অভিযানে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ২১৫ জন মুচলেকায় ছাড়া পান এবং ৫১ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। অন্যদিকে, নোয়াখালীতে গত শনিবার রাতে ১৭০ জনসহ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া অভিযানে মোট ৮৫১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুরের মতলব উত্তরে শনিবার সন্ধ্যার পর পরিচালিত অভিযানে ২১ কিশোরকে আটক করা হয়, যাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় একই অভিযানে ৫১ জনকে আটক করা হয়।

এদিকে, চট্টগ্রামের খুলশীর জালালাবাদে অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাং নেতা ওয়াকিল হোসেন ওরফে বিহারী বগাকে নারী ও তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তারের পর গতকাল তাদের কারাগারে পাঠান আদালত। অন্য আসামিরা হলেন– মো. আবদুল হান্নান, মো. মনির হোসেন ওরফে ইমন ও সাবিহা বেগম। এর মধ্যে হান্নান ও ইমনের বিরুদ্ধে পাঁচ থেকে ছয়টি করে মামলা রয়েছে।

বিশ্ব শিশু দিবস আজ একই বয়স, শৈশব দুই রকম

একই বয়সের দুটি শিশু, অথচ শৈশব দুই রকম। একজনের দিন শুরু হয় স্কুলের পোশাক পরে বই-খাতা গুছিয়ে। অন্যজনের দিন কাটে জীবিকার তাগিদে। একজন বেড়ে ওঠে বই, ইন্টারনেট ও পড়ার অনুকূল পরিবেশে। অন্যজন বেড়ে ওঠে অভাব, অপুষ্টি আর অনিরাপদ পরিবেশে। বৈষম্যের দেয়াল আলাদা করে দেয় তাদের বেড়ে ওঠার পথ।

বাংলাদেশে আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার দিবসটি পালন করা হয়। শিশু অধিকার ও সুরক্ষার নানা দিক সামনে রেখে এবারও দিবসটি উদযাপিত হবে। উদযাপনের পাশাপাশি দেশের সব শিশু কি সমান অধিকার ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠছে কিনা– সেই প্রশ্নও সামনে আসছে।

এ বছর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (এমআইসিএস) ২০২৫-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শিশুদের জীবনযাত্রার একটি বিস্তৃত চিত্র উঠে এসেছে। ৬২ হাজার ৯৮০টি পরিবারের নমুনার মধ্যে ৬১ হাজার ২০৭টি পরিবার থেকে সফলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

জরিপে ১৭৩টি সূচক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। শিক্ষায় অগ্রগতি থাকলেও ঝরে পড়ার চিত্রটি উদ্বেগের। প্রাথমিক স্তরে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৮৫ শতাংশ হলেও নিম্ন মাধ্যমিকে তা ৬০ দশমিক ১ এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ।

উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বয়সসীমায় ৩৩ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে। আবার ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত পাঠদক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিগত সংখ্যাগত দক্ষতা রয়েছে।

একটি বেসরকারি স্কুলে কর্মরত চাকরিজীবী ও অভিভাবক শাহানা জামান নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, বাবা-মা চাকরি করলে সন্তানকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে যায়। স্কুলের পড়া, অনলাইন ক্লাস, খাবার ও নিরাপত্তা– সব সামলাতে বাড়তি সহায়তা দরকার হয়। অনেক পরিবার সেই সুযোগ পায় না। ফলে একই শহরে থেকেও শিশুর সুযোগের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়।
শিশুশ্রমও সেই বৈষম্যের বড় উদাহরণ। এমআইসিএস ২০২৫ অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের ৯.২ শতাংশ শিশুশ্রমে যুক্ত। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬.৮ শতাংশ।

কন্যাশিশুর সামনে এখনও বড় বাধা বাল্যবিবাহ। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের বিয়ে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮.৯ শতাংশ বর্তমানে বিবাহিত। যদিও ২০১৯ সালের তুলনায় বাল্যবিবাহের হার কমেছে, পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।

শিশুর নিরাপত্তার চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। এক থেকে ১৪ বছর বয়সী ৮৫ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু গত এক মাসে শারীরিক শাস্তি বা মানসিক আগ্রাসনসহ সহিংস শৃঙ্খলার অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্মনিবন্ধনের হার ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ।

পুষ্টির ক্ষেত্রেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ২৪ শতাংশ খর্বাকৃতির, ১২ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্বল ও অতিরিক্ত রোগা এবং ২৩ শতাংশ কম ওজনের। ৬ থেকে ২৩ মাস বয়সী শিশুদের মাত্র ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য খাদ্য পাচ্ছে।

অভিভাবক এবং জিম ট্রেইনার ফাহমিদা হক বলেন, ‘আমরা দুজনই চাকরি করি। সন্তানের জন্য ভালো খাবার ও ভালো স্কুল নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। শিশুর নিরাপত্তা, মানসিক বিকাশ, সময় দেওয়া এবং সুস্থ পরিবেশও দরকার। কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য এ জায়গাগুলোতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও প্রয়োজন।’

শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশের প্রশ্নেও উদ্বেগ আছে। উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও নিরাপদভাবে ব্যবস্থাপিত পানির সুবিধা পাচ্ছে মাত্র ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। পানির উৎসের ৪৭ দশমিক ১ শতাংশে ই. কোলাই দূষণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ৩৮.৪ শতাংশের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে এমআইসিএস ২০২৫-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অগ্রগতি যেমন হয়েছে, তেমনি বৈষম্য ও ঝুঁকিও রয়ে গেছে। কোনো শিশু স্কুলে যাচ্ছে, অন্য শিশু শ্রমে যুক্ত; কেউ পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে, কেউ অপুষ্টিতে আছে; কেউ নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠছে, কেউ সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, অগ্রগতির পাশাপাশি এখনও পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু, যাদের জন্য প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা ও সেবার সুযোগ। শিশুতে শিশুতে পারিবারিক বাস্তবতায় পার্থক্য থাকলেও তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিশ্ব শিশু দিবসে শিশুদের অধিকার ও সুযোগের এই বৈষম্য কমানোর বিষয়টিই আলোচনায় রয়েছে।