Home Blog

প্রতিদিন সূর্যমুখীর বীজ খেলে যেসব উপকার পাবেন

০

দেখতে খুব ছোট হলেও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের ভালো উৎস এ বীজ। অর্থাৎ প্রায় ৩০ গ্রাম বা এক মুঠো সূর্যমুখীর বীজে ৫ গ্রাম প্রোটিন, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলেন, সূর্যমুখীর বীজে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।

সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

সূর্যমুখীর বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম, শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। ফ্রি র‌্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।

শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যতম। সূর্যমুখীর বীজ ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখে। আবার শরীরে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদানকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। অবশ্য সূর্যমুখীর বীজ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয় না। তবে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের সমন্বয় এটিকে পুষ্টিকর ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবারের অংশ করে তোলে।

কাঁচা নাকি ভাজা, কোনটি বেশি উপকারী?
সূর্যমুখীর বীজের উপকারিতা পেতে কাঁচা খেতেই হবে, তা নয়। কাঁচা কিংবা হালকা ভাজা, দুই ভাবেই এ বীজ খেতে পারেন। তবে বীজ কেনার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত, অপ্রয়োজনীয় তেল কিংবা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত কিনা তা দেখে কিনুন।

উন্নয়ন দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক পতেঙ্গায়

০

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কের দুই পাশে সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা ট্র্যাক থাকে। সেই ট্র্যাকে সাইকেলে প্যাডেল ঘুরিয়ে গন্তব্যে ফিরছে মানুষ– এমন চিত্র সেসব দেশে চিরচেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চিত্র বিপরীত। যানজট, ধুলাবালি আর গাড়ির ভিড়ে আলাদা ট্র্যাক না থাকায় শহরগুলোতে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া যায় না। তাই গড়ে ওঠেনি অভ্যাস। অথচ এক গবেষণা জরিপে দেখা গেছে, বিশ্বে বেশি সাইকেল চালানোর তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে ১৫ নম্বরে।

তবে এবার সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশে এমন একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যার দুই পাশে রাখা হয়েছে সাইকেল চালানোর দুটি ট্র্যাক। কিছুদিনের মধ্যেই সড়কটিতে সাইকেল চালানো যাবে। এর মধ্য দিয়ে সাইকেল চলাচলে নতুন যুগের সূচনা হচ্ছে।

আধুনিক নগর পরিকল্পনায় নিরাপদ ফুটপাত, সাইকেলের লেন (ট্র্যাক), পথচারীবান্ধব অবকাঠামো ও সবুজায়নকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা সৈকতের পাশেই সড়কটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বেড়াতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকও সাইকেলে চড়ে চমৎকার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। অদূর ভবিষ্যতে এটা সাইকেল-ট্যুরিজমের নতুন দুয়ারও খুলতে পারে।

পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়কে পৃথক সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ঘেঁষেই সড়কটির অবস্থান। এটির নির্মাণকাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রাথমিকভাবে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ বিমানবন্দর সড়কটির চার লেনের দুপাশে রাখা হয়েছে ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে মিড আইল্যান্ড। সড়কের একপাশে ল্যান্ডস্কেপিং ও ওয়াকওয়ের সঙ্গে পাশাপাশি রাখা হয়েছে সাইকেল চলাচলের জন্য দুটি ট্র্যাক। সাইকেল ট্র্যাকের দুপাশে ইটের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন পাথরের কার্পেটিং করেই চলাচলের জন্য সাইকেল ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।

সায়েন্টিফিক আমেরিকান ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক গবেষণা জরিপে বাংলাদেশের নাম উঠে এসেছে। গবেষকরা ১২১টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ৫৮৭টি শহরের গুগল ম্যাপের তথ্য ঘেঁটে এই তালিকা তৈরি করেছেন। তাতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে সেরা ১৫ নম্বরে। সাইকেল চালানোর দিক দিয়ে বিশ্বসেরা শহর এখন নেদারল্যান্ডসের ওয়াজেনিনজেন। সেখানে বেশির ভাগ মানুষই সাইকেল চালান।

চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়কে সাইকেলের জন্য আলাদা ট্র্যাক রাখা হয়। আমি নিজেই অনেক দেশে এটা দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে এই ধরনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়নি। তাই প্রথমবারের মতো আমি একটি সড়কের দুপাশে সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করেছি। কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শিগগির সাইকেল চালানোর জন্য এই ট্র্যাক খুলে দেওয়া হবে।’

শিক্ষা বরিশালের ৮ কলেজে কোনো শিক্ষার্থীই ভর্তি হয়নি

০

শিক্ষা বোর্ডের পাঠদান অনুমতি নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের যাত্রা শুরু করা হয়েছিল। পরে নানা কারণে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডারভুক্ত (এমপিও) হয়নি এসব প্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্তির আশায় যারা বিনা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন, তারাও অন্যত্র চলে যান। ফলে শিক্ষকের অভাবে কলেজ কার্যক্রমের যবনিকা ঘটে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সেই আট কলেজের পরিণতি প্রায় একই রকম হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক ভর্তিতে দেশের ১০টি কলেজ একজন শিক্ষার্থীও পায়নি। এর মধ্যে আটটিই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের। কেন শিক্ষার্থী পেল না কলেজগুলো– এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে সমকাল।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ কয়েক বছর কার্যক্রম চালানোর পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা সমকালকে বলেছেন, শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় কলেজ টিকিয়ে রাখা যায়নি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় দলাদলির শিকার হয়েছে। কলেজ কার্যক্রম বন্ধের পর তারা পাঠদান অনুমতি বাতিল চেয়ে শিক্ষা বোর্ডে অনেক আগে আবেদন করেছে। তবু বোর্ডের ব্যান্ডবেজে তথ্য থাকায় এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষার্থীশূন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।

কেন বন্ধ হলো এসব প্রতিষ্ঠান 

বেতাগীর ব্যস্ততম এলাকা চান্দুখালী বাজারে বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়কের পাশে কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপিত হয় ১৯৭৪ সালে। ২০১৬ সালে এটি উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়, পরে ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন দাবি করেন, প্রতিবছর প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পাস করে। তাদের ভরসাতেই কলেজের কার্যক্রম চালু হয়। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সংকটের জন্য কলেজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে বক্তব্যের বিপরীতে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে
ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ সালের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক নিজের নাম ছড়ানোর জন্য দাতা হয়ে উচ্চ মাধ্যমিক কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু বোর্ড থেকে পাঠদান অনুমতি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। খরচ মেটাতে হিমশিম খেয়ে দাতা ফারুক এক পর্যায়ে সটকে পড়লে চার বছর আগে কলেজের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের উচ্চ মাধ্যমিকে দুজন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে একজন।

একই উপজেলায় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো– এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে ছয়জন পরীক্ষা দেন।

স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তাঁর কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ সালে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আমি তিন মাস আগে যোগদান করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে যেসব কলেজে শিক্ষার্থী নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সবকিছু জানি না। সবেমাত্র ভর্তি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। শিক্ষার্থীশূন্য কলেজগুলোর তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠাব।

১২ হাজার কোটি টাকার আমানতের মাইলফলক মধুমতি ব্যাংকের

০

১২ হাজার কোটি টাকার আমানত (ডিপোজিট) সংগ্রহের মাইলফলক অর্জন করেছে মধুমতি ব্যাংক পিএলসি। এ উপলক্ষে রোববার রাজধানীতে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্যাংকটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এ মান্নান খান এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র পরিচালক মো. শফিকুল আলম ও মনজুরুল আহসান বুলবুল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিউল আজম, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ চৌধুরী, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ বিজনেস অফিসার আরব ফজলুর রহমান, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ রিস্ক অফিসার আরিফ হাসান খানসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির আমানত সংগ্রহে ধারাবাহিক অগ্রগতি, গ্রাহকদের আস্থা এবং সুশাসনভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১২ হাজার কোটি টাকার আমানত অর্জন তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ অর্জনের পেছনে গ্রাহকদের আস্থা এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কথা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের প্রতিবাদ জামায়াতের

০

হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া, কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিতে ভাঙচুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা-ভাঙচুরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির শফিকুর রহমান রোববার ফেসবুক পোস্টে সালমান মুক্তাদিরকে জুলাইযোদ্ধা আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘কর্তৃত্বশালীরা নিজেদের চাঁদাবাজদের কী সামলাবেন? একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। হ্যাঁ, এর শেষ হবে একদিন, ইনশাআল্লাহ।’

বিএনপির চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার রোববার বিবৃতিতে বলেছেন, তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে জনগণের সম্পদকে দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। প্রশাসনের ভূমিকা ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে, বিশেষ করে মিরপুরের রাড্ডার ঘটনায়।

মিরপুরে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়ে দখল নেওয়ায় বিএনপির সংসদ সদস্য জড়িত বলে অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, দ্রুত মূলহোতাসহ সব অপরাধীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে বিএনপির সন্ত্রাসীরা রামদা ও কুড়াল নিয়ে হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে। গোলাম পরওয়ার বলেন, শনিবার রাতভর মব তৈরি করে কথিত স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদল নেতা লিয়ন ও ফরহাদের নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও স্টাফদের মারধর করেছে। সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে। জড়িত বিএনপির সন্ত্রাসীদের অতি দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।

রোববার রাড্ডায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা গণমাধ্যমে এসেছে।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার নিন্দা করে করে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে দেশের তরুণ ও মেধাবীরা ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিজেদের মেধা বিনিয়োগের পরিবর্তে বিদেশমুখী হতে পারেন।

বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বৈঠক, উদ্বেগ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

০

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএএমইএ) নেতারা। রোববার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই বৈঠকের পর জামায়াত নেতা এবং ব্যবসায়ীরা আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, হাসপাতাল গুড়িয়ে দেওয়া, বিভিন্নস্থানে হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুরের ঘটনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত। এ পরিস্থিতি অব্যহত থাকলে  শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ কোনো খাতই নিরাপদ থাকবে না। সরকারের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মব, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং সহিংসতার মাধ্যমে পুরোনো পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার যেকোনো অপচেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে।

ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে ব্যবসায়ের জন্য হুমকি বলে আখ্যা দেন বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসা নিয়ে থাকতে চাই। দেশের অর্থনীতি নিয়ে থাকতে চাই। কর্মসংস্থান নিয়ে থাকতে চাই। রাজনীতির যে ব্যাপার আছে, রাজনীতিবিদ যাঁরা আছেন, তাঁদেরই রাজনীতিটা করা উচিত।’

জামায়াত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এর আগে বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতা প্যাকেজিং-অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যা সংসদে তুলে ধরে ভূমিকা রাখার আশ্বাস বিরোধীদলীয় নেতা। এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা, সম্ভাবনা এবং রপ্তানি সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পসহ দেশের বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের সঙ্গে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজ খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা এবং রপ্তানি বাড়াতে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মো. শাহরিয়ার বলেন, প্যাকেজিং-অ্যাক্সেসরিজ খাতের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। একই সঙ্গে এ খাতের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছি। লিখিত প্রতিবেদন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা এগুলো সংসদে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিপিএএমইএর প্রেসিডেন্ট বলেন, প্যাকেজিং শুধু তৈরি পোশাকশিল্পে সীমাবদ্ধ নয়; টেরিটাওয়েল, ওষুধ, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বৈশ্বিক বাজারে শুধু পেপার প্যাকেজিংয়ের বাজার প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ এ বাজারে খুবই সামান্য অংশ দখল করতে পেরেছে।

আগামী ৬ থেকে ৯ জানুয়ারি রাজধানীতে প্যাকেজিং ও অ্যাক্সেসরিজের আন্তর্জাতিক ট্রেড ফেয়ার হবে বলে জানান মো. শাহরিয়ার। বৈঠকে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠিত হয়েছে মাত্র ছয় মাস। সরকারকে আমরা সময় দিতে চাই, সর্বোচ্চ সহযোগিতাও করতে চাই। বিরোধী দলও বলেছে, তারা সরকারকে সহযোগিতা করছে।

সভায় কনভিন্স জিপার অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক; বিপিএএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও খান অ্যাক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল কাদের খান; বিপিএএমইএর উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার অ্যাক্সেসরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার লতিফুর রহমান আজিমসহ জ্যেষ্ঠ নেতা এবং ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

জামায়াতের পক্ষে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি ডা. আনোয়ারুল আজিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাকা ভাংতি করে না দেওয়ায় দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা

০

রাজশাহীতে টাকা ভাংতি করে না দেওয়ায় পেট্রোলবোমা দিয়ে মুদি দোকান পুড়িয়ে দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নড়াইলের কালিয়া ও বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দুজন খুন হয়েছেন। বাগেরহাটের মোল্লাহাটে শিশুর, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় শ্রমিকের, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ব্যবসায়ী এবং ভোলার চরফ্যাসনে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রাজশাহীতে নিহত মুদি দোকানির নাম আবদুল বারী (৪০)। তিনি রাজপাড়া থানার বাকির মোড় এলাকার বদরুল সরকারের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী দিলরুবা বেগম বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ চন্দ্র নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় বাকির মোড় এলাকায় মাদক সেবন করতে আসে কয়েক যুবক। তারা টাকা খুচরা করতে আব্দুল বারীর দোকানে যায়। আব্দুল বারী টাকা খুচরা করে দিতে পারবে না জানালে যুবকরা ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে রাত পৌনে ২টার দিকে ৫০-৫৫ জন যুবক দেশি অস্ত্র এবং পেট্রোলবোমা নিয়ে আব্দুল বারীর দোকানে হামলা করে। তারা  দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে পেট্রোলবোমা মেরে দোকানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেখে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হন আবদুল বারী। হামলাকারীরা তাঁকে দেখে উত্তেজিত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে চলে যায়। বারীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নড়াইলের কালিয়ায় এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনায় মানসুর মোল্যা (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় নুর ইসলাম নামে একজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার কদমতলা ত্রিমোহনায় এ ঘটনা ঘটে। মানসুর মোল্যা কদমতলা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান মোল্যার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কদমতলা গ্রামের লিপটন মোল্যার ছেলে হাসিব মোল্যার পরিবারে জমি নিয়ে পরিবার চলছে। গত শুক্রবার নড়াইল সদর উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কাসেদ মোল্যার সঙ্গে হাসিব মোল্যার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে হাসিব মোল্লা ইউপি সদস্য কাসেদ মোল্যাকে কিল-ঘুষি মারেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে হাসিব কদমতলা ত্রিমোহনা মোড়ে দোকানে গেলে কাসেদের চাচাতো ভাই মানসুর ও নূর ইসলাম তাঁর কাছে কাসেদের গায়ে হাত তোলার কারণ জানতে চান। এ সময় হাসিব মোল্যা মানসুর মোল্যা ও নূর ইসলামকে কুপিয়ে জখম করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে মানসুর মারা যান।

বগুড়ায় অটোরিকশাচালক খুন

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় আলমগীর হোসেন আকন্দ (৫০) নামে এক অটোরিকশাচালক খুন হয়েছেন। গত শনিবার রাতে উপজেলার বড়ইতলা নামক স্থানে কচুরিপানার মধ্য থেকে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। আলমগীর জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর থল গ্রামের আবুল হোসেন আকন্দের ছেলে। এ সময় তাঁর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম কাহালু থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, মরদেহ উদ্ধারের আগে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বড়ইতলা এলাকায় শিশুসহ এক পুরুষ ও এক মহিলাকে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

বাগেরহাটে শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩

বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মাছের ঘেরের পাশ থেকে মুসলিমা (৭) নামে এক শিশুর পলিথিনে মোড়ানো গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে কচুড়িয়া মধ্যপাড়া থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর কয়েকটি বাড়িতে আগুন দিয়েছে নিহতের স্বজনরা। মুসলিমা ওই এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা করলে পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন কচুড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর এবং তাঁর দুই ছেলে রমজান ও আব্দুর রহমান।

জানা যায়, শনিবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলছিল মুসলিমা। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যার পর মাছের ঘেরের পাশে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরেদহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

গজারিয়ায় কারখানায় শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় নিউ হোপ এগ্রোটেক বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি কারখানার ভেতর থেকে বিল্লাল হোসেন (৫৫) নামে শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার ভোরে শান্তিনগর এলাকায় অবস্থিত মাছ ও পশুখাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানটির স্টোররুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিল্লাল হোসেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। তিনি কারখানাতেই থাকতেন।

নিহতের স্ত্রী আঁখি আক্তার বলেন, ‘রোববার সকাল ৬টায় ফোন করে জানানো হয় আমার স্বামী এক্সিডেন্ট করেছেন। এসে দেখি সারা শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন, দুই কান কাটা। এই মৃত্যু কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। থানায় মামলা করব।’

বাঞ্ছারামপুরে নদী থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে নিখোঁজের ছয় দিন পর তিতাস নদ থেকে মুকবুল হোসেন (৪০) নামে এক বালু ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার মিরপুর এলাকায় নৌকার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা। মুকবুল হোসেন পাঠামারা গ্রামের মৃত মন মিয়া ব্যাপারীর ছেলে।

চরফ্যাসনে ডোবা থেকে মরদেহ উদ্ধার

ভোলার চরফ্যাসন উপজেলায় ডোবা থেকে শিকল বাঁধা পেটকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত আবুল বাসার (৩৫) আবুল কাসেমের ছেলে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী খুনি সন্দেহে সালমা, তাঁর স্বামী সাইদুল ও প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ সময় তাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছে এলাকাবাসী।

(ব্যুরো, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্য)

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বাদ পড়াদের তথ্য পুনর্যাচাই নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে

০

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য আবার যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন করে জেলায় জেলায় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গতকাল রোববার এসব প্রার্থীর তথ্য পুনর্যাচাই শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি জেলায় বাদ পড়া প্রার্থীদের নামে দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র ইস্যুও শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, যাচাই-বাছাইয়ের কারণে যেসব সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর নিয়োগপত্র আটকে আছে, প্রয়োজনে নতুন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তাদের তথ্য আবার যাচাই করা হবে। ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।

এদিকে নিয়োগপত্র না পেয়ে গতকাল রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কয়েকশ প্রার্থী। বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ থানার সামনে জাতীয় জাদুঘর-সংলগ্ন এলাকায় ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্র বঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে তারা অবস্থান নেন। বিভিন্ন জেলার নিয়োগপত্র ধাপে ধাপে প্রকাশের খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর আন্দোলনকারীদের অনেকে শাহবাগ ছাড়েন।

আন্দোলনকারীরা জানান, আজ সোমবার সকালে আবার শাহবাগে জড়ো হয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন তারা। সবার নিয়োগপত্র প্রকাশ হলে কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হবে।
ভোলা থেকে আসা চাকরিপ্রার্থী শাখাওয়াত হোসেন সমকালকে বলেন, ‘যেসব প্রার্থীর নাম বাদ পড়েছিল, ধাপে ধাপে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে। এ খবরে আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট।’

গাইবান্ধা থেকে আসা সালেহীন বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কয়েকজন বাদ যেতে পারেন। বাকিদের নিয়োগপত্র শিগগির প্রকাশ হবে বলে আমরা আশা করছি।’

সচিবালয়ে সাক্ষাৎ পাননি প্রতিনিধিরা

শাহবাগে অবস্থানের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে যায়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির কথা জানানোর চেষ্টা করেন তারা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎ না পেয়ে বিকেল ৩টার পর তারা শাহবাগে ফিরে আসেন।

জবিতে জকসু-ছাত্রশক্তির মানববন্ধন 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি জবি শাখা। সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে জকসু। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

কয়েক জেলায় দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র

কয়েকটি জেলায় দ্বিতীয় দফায় নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। রাজশাহীতে গতকাল ২২ জনকে নতুন করে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে তাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে প্রথম দফায় ১৩৯ জনসহ রাজশাহীতে দুই দফায় মোট ১৬১ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়োগপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর উপজেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ও নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয় ২৪ সেপ্টেম্বর। এরপর বিভিন্ন জেলার প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও তারা নিয়োগপত্র পাননি। ৪১ জেলায় সহস্রাধিক প্রার্থী এভাবে বাদ পড়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের দাবি। তাদের একটি প্ল্যাটফর্মের হিসাবে সংখ্যাটি প্রায় দুই হাজার। ৬১ জেলায় এ সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

গাইবান্ধার ৪১ জন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থী গতকাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। এতে তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী করণীয় জানানোর দাবি করা হয়। চুয়াডাঙ্গার প্রার্থীরাও স্মারকলিপি দিয়েছেন।

এর আগে ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়ার কারণ প্রকাশ, তথ্য পুনঃযাচাই, প্রশাসনিক ভুল সংশোধনের সুযোগ এবং যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়া।

গত বছরের শেষ দিকে ৬১ জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পার্বত্য তিন জেলা বাদে ৬১ জেলায় দুই ধাপে ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা হয়। এতে অংশ নেন ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ জন।

২১ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের মাধ্যমে তাদের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় আট মাস পর ২৪ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। কিন্তু নিয়োগপত্র বিতরণ শুরুর পরই চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও একাংশের নিয়োগপত্র না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

খুলনায় আরও ৬৭ জন নিয়োগপত্র পাবেন 

খুলনায় নেতিবাচক পুলিশ প্রতিবেদনের কারণে চূড়ান্ত নিয়োগ থেকে বাদ পড়েন ৬৯ জন চাকরিপ্রত্যাশী। তাদের মধ্যে ৬৭ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি 

গাইবান্ধায় গতকাল দুপুরে নিয়োগবঞ্চিত ৪১ জনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দেন পলাশবাড়ী উপজেলার নুরবানু ঝর্ণা।

গোবিন্দগঞ্জে উপজেলার কাটাবাড়ি এলাকার আবু তালহা নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে আমার বাদ পড়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি জানিয়েছেন, আমার গোয়েন্দা রিপোর্ট নাকি সন্তোষজনক নয়। আমার নামে না আছে মামলা, পরিবারের কেউ রাজনীতি করে না, তবুও আমি বঞ্চিত।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লক্ষ্মণ কুমার বলেন, ‘সহকারী শিক্ষক পদে ৪৫৬ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৮ জন কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ৪১ জনের পুলিশ ভেরিফিকেশন সন্তোষজনক নয়। কেন সন্তোষজনক নয়, তা আমারও জানা নেই।’

বরিশালে ৭২ জন নিয়োগপত্র পাননি

বরিশাল জেলায় ৭২ জন নিয়োগপত্র পাননি। এর সুরাহা চেয়ে গতকাল দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। নিয়োগ বাতিল বা স্থগিতের কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন কিংবা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন বঞ্চিতরা।

এদিকে মানিকগঞ্জে ২২ জন নিয়োগপত্র পাননি। গতকাল দুপুরে বঞ্চিতরা দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে  জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন।

চট্টগ্রামে নিয়োগপত্র পাননি ৪৮ জন 

চট্টগ্রামে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি ৪৮ জন। দুটি গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা নিয়োগপত্র পাননি বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মদ বলেন, ‘৪৮ জন নিয়োগপত্র পাননি। এতে আমাদের কিছুই করার নেই।’

বগুড়ায় বাদ পড়েছেন ৪৮ জন 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানায়, বগুড়ায় ৩০৭ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ২৯৬ জন। চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পান ২৪৮ জন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজোয়ান হোসেন বলেন, বাদ পড়া ৪৮ জনের বিষয়ে আজকে জরুরি সভা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে নেওয়া হবে।

এদিকে সিরাজগঞ্জে নিয়োগপত্র পাননি তিনজন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ও প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ে তাদের বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদন আসার পর নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি বলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগপত্র পাননি ৫০ জন

ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়োগপত্র পাননি ৫০ জন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘বাদপড়াদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত যা আসবে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’

অন্যদিকে কুমিল্লায় ৫০৮ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করার পর ৪৭৭ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। এর মধ্যে পুলিশ প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন কারণে ৭৭ জন নিয়োগপত্র পাননি।

পটুয়াখালীতে নিয়োগপত্র পাননি ২০ জন 

পটুয়াখালীতে নিয়োগপত্র পাননি ২০ জন। তবে তারা কী কারণে বাদ পড়েছেন তা জানায়নি প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়।

এদিকে রাজবাড়ীতে বঞ্চিত ১০ জন প্রার্থী। জেলায় ৮৪ জন প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে ৬ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। ৭৮ জনের মধ্যে ৬৮ জনের নিয়োগের বিষয়ে আদেশ জারি হলেও ১০ জন নিয়োগপত্র পাননি।

‘আমরা আতঙ্কে আছি, কখন আবার কী ঘটে’ আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা

০

‘শনিবার সকালে ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রসহ বাড়ির গেটে হামলা ও ক্যামেরা ভেঙে ফেলার পর থেকে আতঙ্কে আছি। কখন আবার কী ঘটে এই আশঙ্কায় বাজার-সদাই করতেও বের হতে ভয় পাচ্ছি।’

রাজধানীর আদাবরে শ্যামলী হাউজিং এলাকায় ৪১/৪২ নম্বর বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন রোববার সমকালকে এসব কথা বলেন। শনিবার সকালে ওই বাড়িটি দখলচেষ্টার বর্ণনা করে মনির বলেন, যারা অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে এসেছিল, তাদের মধ্যে তিন থেকে চারজন মুখোশ পরিহিত ছিল। তারা গেটের তালা ভাঙার চেষ্টা করে। কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গেট কোপাতে থাকে। এক পর্যায়ে অনেক ভাড়াটিয়া নেমে আসেন। তখন হামলাকারীরা চলে যায়।

মনির বলেন, হামলাকারীরা এসে বলছিল, টাকা দে। বাসা খালি কর। কীভাবে বাসায় থাকিস দেখাব। মাস দুয়েক আগেও একবার মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে হুমকি দিয়ে যায়।

মনির বলেন, হামলার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রোববার থানার ওসি এসেছিলেন। ডিবির লোকজন আসে। তারা আসার পর একটু সাহস পাচ্ছি।

সিসি ফুটেজে দেখা যায়, জানালার কাচ ভাঙচুর করা হচ্ছে। ইটের টুকরা দিয়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ভাঙচুর করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

আটতলা বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি অসুস্থ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরও একবার বাড়িটি দখল করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন।

মনির হোসেন দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নেন। পরে আদাবর থানায় একটি অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আদালতে মামলা করেন। আদালত আদাবর থানাকে তদন্ত করতে বলেন। পরবর্তী সময়ে এই মামলা পিবিআই তদন্ত করে। গত ১২ মার্চ বাড়িটির দখল ফেরত পান তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, ভাঙচুর চলাকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে এসে পৌঁছায়। শনিবার বাড়িতে হামলার পর পুলিশ বাড়ির বিষয়ে একটি নোটিশ পাঠায়। এ বিষয়টি তাদের বিস্মিত করেছে। এ ছাড়া সম্প্রতি আদাবর থানার ওসি ওই বাড়ির সামনে হাজির হয়ে ভিডিও করেন।

আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আদাবরে বাড়ি দখল ও অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

ওসি বলেন, ‘পুলিশ খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে গেছে। কয়েক দিন আগে একটি অভিযোগ পাওয়ার পর আমি একা সেই বাড়ির সামনে গিয়ে তথ্য নিয়েছি। আমার পুলিশিং স্টাইল আলাদা। তদন্তের কাজে ওই বাড়ির সামনে গিয়ে ভিডিও করা হয়েছিল।’

বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস আজ দুই বছরে কুকুর-বিড়ালের আক্রমণ বেড়েছে ৫৫%

০

কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। সারাদেশে কত মানুষ কুকুর-বিড়ালের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন, সে তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে। দেশে জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য বলছে, গত দুই বছরে কুকুর ও বিড়ালের আক্রমণের শিকার হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৫৫ শতাংশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের মতে, কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যাওয়া, বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়া এবং পোষা বিড়াল পালনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। এতে জলাতঙ্কের সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এমন বাস্তবতায় আজ (সোমবার) পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস। প্রতিবছর দিনটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য– ‘একসঙ্গে আমরা আরও শক্তিশালী’। এ দিন জলাতঙ্ক নির্মূল ও রোগটি প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর জলাতঙ্কে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ মারা যান। মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে হয়ে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুকুরের অন্তত ৭০ শতাংশকে নিয়মিত টিকা দেওয়া গেলে সংক্রমণের চক্র ভাঙা সম্ভব।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাতঙ্কের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। তাই আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত টিকা নেওয়াই এ রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিভিন্ন প্রাণীর কামড়ের শিকার হয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৩ জন। ২০২৪ সালেও এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৩। আর চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজারে।

দেশে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ২০২৪ সালে এ রোগে মারা যান ৫৮ জন। ২০২৫ সালে ৫৯ জন। চলতি বছরের প্রথম আড়াই মাসেই মৃত্যু হয়েছে ৩৫ জনের।

দেশে জলাতঙ্কের চিকিৎসা দেওয়া হয় দুটি হাসপাতালে। তবে এসব হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মোট সংখ্যা নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ করে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তর মূলত রোগ প্রতিরোধে টিকা দেওয়ার কাজ করে। মাঠ পর্যায়ের কিছু কেন্দ্রেও টিকার সংকট রয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর হাজারীবাগের ঝাউচর থেকে মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের বহির্বিভাগে এসেছেন মা রেহেনা আক্তার। তাঁর দেড় বছরের শিশু রাইয়ান ইনজেকশনের যন্ত্রণায় হাসপাতালের বারান্দায় বসেই কান্না করছিল। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাড়িতে পোষা বিড়াল তার ডান হাতে কামড় দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসেন মা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শুরু হয়েছে জলাতঙ্কের টিকা।

একই হাসপাতালে টিকা নিতে এসেছিলেন মোহাম্মাদপুরের চাঁদ উদ্যানের শারমিনা আক্তার খাদিজা। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে বাসার পাশে একটি বিড়াল বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চাগুলোকে খাওয়ানোর সময় আকস্মিকভাবে বিড়ালটি তাঁর বাম হাতে কামড় দেয়।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা এক নার্স বলেন, এখন আসা রোগীদের বড় অংশই পোষা বিড়ালের আক্রমণের শিকার। অনেকেই পোষা বিড়ালকে টিকা দেন না। গত তিন-চার বছরে বিড়ালের আক্রমণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।

অচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা

জলাতঙ্ক নির্মূলে ২০১০ সাল থেকে দেশে সমন্বিত কর্মসূচি চালু ছিল। এর আওতায় কুকুরকে টিকা দেওয়া, জন্মনিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় ৬০টির বেশি জেলায় প্রায় ২৯ লাখ কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। ৬৪ জেলার সবকটিতে প্রথম দফার টিকাদান শেষ হয়। দ্বিতীয় দফায় টিকা দেওয়া হয় ৪৬ জেলায়। তৃতীয় দফা হয় আট জেলায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের পর কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। অর্থের অভাবে নতুন করে কুকুরের টিকাদান ও জন্মনিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

দরপত্র ছাড়াই ৯ লাখ জোড়া টিকা

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অপারেশন প্ল্যান (ওপি) ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর জলাতঙ্কের টিকার সংকট দেখা দেয়। আগে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হতো। ওপি বন্ধ হওয়ার পর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় টিকার সংকট দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত এপ্রিল ৯ লাখ জোড়া টিকা দরপত্র ছাড়াই ইনসেপ্‌টা ফার্মাসিউটিক্যালস্ লিমিটেডের কাছ থেকে কেনা হয়। বর্তমানে সরকারের হাতে প্রায় ৫৯ হাজার ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনা হলে কম দামে কেনার সুযোগ ছিল। তবে দ্রুত সংকট কাটাতে দরপত্র ছাড়াই টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফএ আসমা খান। তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে টিকার সংকট মেটাতে ইনসেপ্‌টা থেকে টিকা কেনা হয়। পরে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তবে ওই দরপত্রে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যাতে ইনসেপ্‌টা ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অংশ নিতে না পারে। রেনাটাও জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ করে।

দেরি করলেই বাড়ে ঝুঁকি

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বলেন, কুকুর বা বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচড়ের পর দ্রুত টিকা নিতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে অনেকেই দেরি করে হাসপাতালে আসেন। কেউ কেউ প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন, পরে হাসপাতালে আসেন। এতে ঝুঁকি বাড়ে।

সিডিসির সহকারী পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৯ লাখ ডোজ র‍্যাবিস ভ্যাকসিন এবং ৩ লাখ ডোজ র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন সরবরাহের কার্যক্রম রয়েছে। জলাতঙ্ক প্রতিরোধে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে ওই পরিকল্পনায় মানুষের টিকাদানের বিষয়টিই রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে কুকুরকে টিকা দেওয়া বা কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কোনো পরিকল্পনা নেই।