Home Blog

নিউইয়র্কে ঝিলিক-ইমরান-কনার গানে মুগ্ধ শ্রোতারা

নিউইয়র্কে ঝিলিক-ইমরান-কনার গানে মুগ্ধ শ্রোতারা

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ বাংলা গান, সুর ও সংস্কৃতির আবেশে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতিয়ে তুলল বর্ণাঢ্য মেগা মিউজিক্যাল শো ‘লাইভ ইন কনসার্ট: অ্যান আনফরগেটেবল মিউজিক্যাল নাইট’। ৩ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লং আইল্যান্ড সিটির ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টার মিলনায়তনে বসেছিল সংগীতপ্রেমী প্রবাসী বাঙালিদের প্রাণের মিলনমেলা। ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস অব ইউএসএ’-এর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কনসার্টে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন কণ্ঠশিল্পী ঝিলিক, ইমরান মাহমুদুল ও দিলশাদ নাহার কনার গানে মুগ্ধ হন নিউইয়র্কসহ আশপাশের স্টেট থেকে আসা শত শত দর্শক।

সন্ধ্যা ৬টায় মিলনায়তনের দরজা খুলে দেওয়ার পর থেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে আসতে শুরু করেন প্রবাসী বাঙালিরা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। প্রিয় শিল্পীদের সরাসরি গান শোনার পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা এবং প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের বাইরে বাংলা গান ও সংস্কৃতির আবহে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ।

শুরুতে আয়োজক ‘দ্য বিউটিফুল লেডিস’-এর সিলভি আকন্দ ও নাদিয়া চৌধুরী অতিথি, শিল্পী ও দর্শক-শ্রোতাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। তাঁদের স্বাগত বক্তব্যের পর সোনিয়া সিরাজের সাবলীল সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব।

একই মঞ্চে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন শিল্পীর উপস্থিতি ছিল কনসার্টটির প্রধান আকর্ষণ। তিন শিল্পীর স্বতন্ত্র গায়কি, কণ্ঠের বৈচিত্র্য ও নিজস্ব পরিবেশনা পুরো আয়োজনকে করে তোলে প্রাণবন্ত। একের পর এক গান পরিবেশনের সঙ্গে বাড়তে থাকে দর্শকদের উচ্ছ্বাস। অনেক সময় শিল্পীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান শ্রোতারাও। করতালি ও আনন্দধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন।

jilik MG 6562

ইমরান মাহমুদুলের পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে বিশেষ সাড়া ফেলে। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ছিল ব্যান্ড ‘আই কিংস’। জনপ্রিয় গান পরিবেশনের সময় দর্শকদের একটি বড় অংশকে শিল্পীর সঙ্গে গলা মেলাতে দেখা যায়। প্রাণবন্ত মঞ্চ উপস্থিতি, সাবলীল পরিবেশনা এবং ব্যান্ডের সংগীতায়োজন মিলিয়ে ইমরান দ্রুত শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরি করেন।

দিলশাদ নাহার কনার পরিবেশনায় ছিল ভিন্ন ধরনের আবেগ ও সুরের আবেশ। শক্তিশালী কণ্ঠ ও স্বতন্ত্র গায়কিতে তিনি শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন। তাঁর গান চলাকালে দর্শকদের মনোযোগ ছিল মঞ্চের দিকে। বাংলা গানের আবেগ ও সৌন্দর্য তাঁর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নতুন করে অনুভব করেন উপস্থিত শ্রোতারা।

অন্যদিকে ঝিলিক তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন। তাঁর গানের সঙ্গে শ্রোতারাও কণ্ঠ মেলান এবং করতালিতে উৎসাহ দেন। শিল্পীদের পরিবেশনা ও দর্শকদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ার এই মেলবন্ধন পুরো কনসার্টকে করে তোলে আরও উপভোগ্য।

কনসার্টে আলাদা মাত্রা যোগ করে ‘ফিউশন ড্যান্স ট্রুপ ইউএসএ’-এর নৃত্য পরিবেশনা। কোরিওগ্রাফার রাসেল আহমেদের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় দলটির শিল্পীরা ছন্দ, গতি ও অভিব্যক্তির সমন্বয়ে মঞ্চে তুলে ধরেন নান্দনিক নৃত্য। সংগীতের সঙ্গে তাল-সমন্বয় ও দলগত উপস্থাপনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

কনসার্টটির মূল স্পন্সর ছিলেন এএএ সুপ্রিম প্রোপার্টি ম্যানেজমেন্টের সিইও ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাহিদ আলম। সহযোগিতায় ছিল ফ্রেমওয়ার্ক ফাইন্যান্স এলএলসি ও ড্রিম লোন ফর ড্রিম হোম। সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ছিল এনওয়াইএসডিসি, সোশ্যাল কেয়ার নেটওয়ার্ক ও সোশ্যাল কেয়ার ফাউন্ডেশন।

আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন দেশী মিউজিক অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার জামান মনির। তাঁর পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে বাংলাদেশের জনপ্রিয় তিন শিল্পীকে একই মঞ্চে হাজির করা হয়। সাউন্ড ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সাউন্ড গিয়ারের সায়েম। তাঁর দক্ষ পরিচালনায় শিল্পীদের কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয় পুরো পরিবেশনাকে আরও শ্রুতিমধুর করে তোলে।

আয়োজক সিলভি আকন্দ ও নাদিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের যথাযথ সম্মান জানিয়ে এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। তিন শিল্পীই বাংলাদেশে ও দেশের বাইরে জনপ্রিয় এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত। অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় তাঁরা দর্শক, শিল্পী, কলাকুশলী ও স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

jilik MG 6565

প্রবাসে বাংলা গান ও সংস্কৃতির এমন আয়োজন শুধু বিনোদনের উপলক্ষ নয়, বরং নতুন প্রজন্মসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখারও একটি মাধ্যম। গান, নৃত্য, আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে সন্ধ্যা গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত লং আইল্যান্ড সিটির মিলনায়তনে বজায় ছিল উৎসবের আমেজ। স্মরণীয় এই সংগীতসন্ধ্যা প্রবাসী বাঙালিদের জন্য হয়ে থাকল আনন্দঘন এক রাত।

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা – ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

জ্যাকসন হাইটসের নির্বাচনী সভা
‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘পরিবর্তনের শ্লোগান’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের উদ্যোগে নিউইয়র্ক প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর পক্ষ থেকে মতবিনিময় সভা ও নির্বাচনী সমাবেশ হয়েছে। সভায় প্রবাসী বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সভার বক্তাগণও বিশেষ করে বৃহত্তর কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সকল ভেদাভেদ ভুলে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ বলেও দাবী করেছেন। এই সভার মধ্য দিয়ে সকল কুমিল্লাবাসী ঐক্যবদ্ধ হবেন বলেও আশাদাদ ব্যক্ত করা হয়। অপরদিকে সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ বলেছেন, আমরা কোন বিভক্তির পক্ষে নই, আমরা সকল বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ করার পক্ষে। বাংলাদেশ সোসাইটিকে শক্তিশালী করার পক্ষে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে চাই। নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই। জীবনের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে লুকোচুরি করতে চাই না। সভায় বক্তারা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল-কে যোগ্য ও সবার সেরা পরিষদ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 1

গত ৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে ‘কুনু-ফিরোজ’ কুমিল্লাবাসীদের পক্ষ থেকে প্রথম বৃহৎ আকারে মতবিনিময় ও নির্বাচনী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বিপুল সংখ্যক বৃহত্তর কুমিল্লাবাসী সহ বাংলাদেশীরা উপস্থিতি ছিলেন। সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সভার কার্যক্রম চলে।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে সভায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, বৃহত্তর কুমিল্লার কৃতি সন্তান ও সোসাইটির সাবেক ট্রাষ্টি এমদাদুল হক কামাল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহŸায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহŸায়ক ভিপি জহির মোল্লা, আনোয়ারুল ইসলাম ও প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী, সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশেদ হোসেন, কবি শামসুল আলম, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র (একাংশ) সভাপতি মইনুল ইসলাম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নিউইয়র্ক-এর সভাপতি মোস্তফা রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, জেএফকে এয়ারপোর্ট এমপ্লয়ী এসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন মজুমদার, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম, কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক হাজী আবু তাহের, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুরুল আলম হারুন, মোহাম্মদ আলম সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ শওকত, ইয়ার আহমেদ ও বদরুল হক আজাদ।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি সহ ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ সভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, কসবা সোসাইটির উপদেষ্ঠা ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কালাম ভূইয়া, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের আইয়ুব, সিলেট সদর সমিতি ইউএস’র সভাপতি সাইফুল খান হারুন, ব্রাক্ষণবাড়িয়া কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন, ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান প্রমুখ। সভায় প্যানেল নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া। সভা পরিচালনা করেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি ইউনুস সরকার ও সিদ্দিক পাটোয়ারী।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় 2

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত এবং বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান। এর আগে ব্যক্তিগত জরুরী কাজের জন্য চলে যেতে হয় বিধায় বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান মিয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রতি সর্বাত্বক সমর্থন জানান। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাক্ষণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম।

উল্লেখ্য, সভায় সোসাইটির আগামী নির্বাচনে ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বৃহত্তর কুমিল্লার ৬ প্রার্থীকে সভায় বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় এবং তারা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। প্রার্থীরা হলেন- সহ সভাপতি পদপ্রার্থী, বর্তমানে সোসাইটির সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও পুনরায় একই পদে প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক বি মেহের চৌধুরী, কার্যকরী পরিষদ পদপ্রার্থী সিদ্দিক পাটোয়ারী, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও কাওছার আলম।

সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, খুলনা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী এলিন, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএ’র সভাপতি জাকির হোসেন, কসবা সমিতি ইউএসএ’র উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাসিম, ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা সহ রেজাউল করীম, আবুল ভূইয়া সিদ্দিকী, মোস্তফা মামুন মজুমদার, কবীর হোসেন প্রমুখ।

সভায় আজমল হোসেন কুনু তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে বলেন, আগেও বলেছি, এখনো বলছি সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আশ্বাস দেবো না। সোসাইটির কোন অর্থ অপচয় করবো না। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার তাই করবো। আমরা সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে চাই না, বা প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না। তিনি বলেন, আমাদের ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করবো না। যেদিন সোসাইটির একাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে সেদিনই ভবন কিনবো। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনেরাল হোম প্রতিষ্ঠা করা।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, আমরা জবাবদিহীমূলক সোসাইটি গড়তে চাই। নিউ ইমিগ্র্যান্টদের চাকরীর সুযোগের পথ দেখানো, নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালু সহ প্রবাসীদের সমস্যা মোকাবেলায় তিনি কতিপয় কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং নতুন প্রজন্মকে সোসাইটীমুখী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বাবুল চৌধুরী বলেন, আমাদের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে সোসাইটিতে ছিনিমি খেলতে দেয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা দুই বছরের দায়িত্ব পালন করতে পারেনি, তারা আবার তিন বছর সময় বাড়িয়ে কি দায়িত্ব পালন করবেন? তিনি বলেন, আমরা জবাবদিহিমূলক সবার সোসাইটি চাই। এজন্য ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের বিকল্প নেই।

সভায় আবুল কালাম ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ও সিদ্দিক পাটোয়ারী বলেন, আমরা বিগত নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ প্যানেল থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হয়েছিলাম। কিন্তু কমিটির কর্মকতাদের অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি আর বুহত্তর চাঁপুরবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে আমরা ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের সাখে সম্পৃক্ত হবে নির্বাচন করছি। আজকের সভায় বৃহত্তর চাঁদপুরবাসী যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত করেছে তা সোাসাইটি কমিউনিটির ইতিহাসে দৃষ্টন্ত হয়ে থাকবে।

জামাল উদ্দিন আহমেদ জনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ৯০ হাজার ডলার কিভাবে ইফতারে খরচ হয়, ২৪ হাজার ডলার ফটো কার্ড, ম্যাগাজিনে খরচ হয়েছে- তার হিসাব দিতে হবে। কবর ক্রয়ের অর্থ কেন ফেরৎ আনা হলো তার ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং বিদায়ী কমিটিকে আগের মূল্যেই সোসাইটির কবর ক্রয় করে দিতে হবে। তিনি আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ-কে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে এই প্যানেল-কে জয়যুক্ত করার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

সভায় ‘কুনু-ফিরোজ’ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। প্যানেলের প্রার্থীর হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।

নৈশভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে। উল্লেখ্য, আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক খবর কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
নিউইয়র্কে নিখোঁজের ৫ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিকলীগ নেত আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর মিললো বুধবার স্থানীয় সময় রাতে সাড়ে ১০ টার দিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান।

সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে বাসা থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজিজুল হক খোকন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। নিখোঁজের ওইদিনই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে তাকে সিটির একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এখানে তার নিজের স্বজন ও পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্রুকলিনের আই ৯৯ উইনত্রোপ স্ট্রীট চীফ মেডিকেল এক্সামিনার কার্যালয় ফিউনারেলে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তার মরদেহ রয়েছে।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ, সবার প্রিয় কাজী আজিজুল হক খোকন আর নেই। কিছুতেই কেউ মেনে নিতে পারছে না কেউ , চিরচেনা সেই মানুষটির সঙ্গে আর কখনো দেখা হবে না! এই প্রবাসজীবনে নিঃসন্দেহে কাজী আজিজুল হক খোকন-্এর মুখে থাকত সেই চিরচেনা হাসি। কথাবার্তায় ছিল অদ্ভুত এক আপনত্ব। অত্যন্ত সজ্জন, বিনয়ী, সদালাপী এবং অমায়িক মানুষ ছিলেন তিনি। নিখোঁজের পর থেকে নিউইয়র্কের পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটি উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিল। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কোথায় আছেন খোকন ? কেমন আছেন তিনি? মনে মনে সবাই আশা করছিল, হয়তো হঠাৎ কোনো একদিন খবর আসবে, খোকনকে পাওয়া গেছে। তিনি ভালো আছেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার শেষ হলো সবচেয়ে হৃদয়বিদারক সংবাদ দিয়ে। পাঁচ দিন নিখোঁজ থাকার পর জানা গেল, তিনি আর বেঁচে নেই! কী নির্মম এই সংবাদ! কী অসহায় মানুষের জীবন!

প্রায় তিন দশক আগে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় এসেছিলেন তিনি। মাগুরার সন্তান এই মানুষটি দীর্ঘ প্রবাসজীবনে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে মিশে গিয়েছিলেন। জ্যাকসন হাইটসের পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে অনেক বড় ছিল তাঁর মানবিক পরিচয়। তিনি ছিলেন একজন ভালো মানুষ, একজন আপনজন। নিউইয়র্কের ব্যস্ত প্রবাসজীবনে এমন মানুষ খুব বেশি পাওয়া যায় না, যাঁদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বললেও মনটা ভালো হয়ে যায়। তিনি ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।

প্রসঙ্গত খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্ট সংলগ্ন অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন খোকন। কিউ গার্ডেনের বাসায় একা থাকতেন তিনি। প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র হয়নি বলে জানা গেছে। শারীরিকভাবেও কিছুটা অসুস্থ ছিলেন তিনি।

এদিকে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার প্রয়াত কাজী আজিজুল হক খোকন-এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এবং তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের গভীর সমবেদনা জানান।

সোনালী এক্সচেঞ্জে বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন শুরু

নিউইয়র্ক প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সরকারী প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রবাসী বাংলাদেশী সেবার মান আরো বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’। প্রতিষ্ঠানটির জ্যামাইকা শাখা থেকে শুরু হয়েছে এই ক্যাম্পেইন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মাসব্যাপী এই ক্যাম্পেইন-এর উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর। এসময় সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক ম্যানেজার এমরাম হোসেন ভূইয়া, সিনিয়র অফিসার মনিউর রহমান ও কর্মকর্তা সৈয়দা আর মনসুর উপস্থিত ছিলেন।

সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী ইন্ক প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার ইউএনএ প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে জানান, সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পনী তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশে অর্থ প্রেরণে বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রবাসীদের কথা ভেবে বিশেষ করে গ্রাহক সেবা আরো বাড়াতে অক্টোবর মাসব্যাপী ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। তিনি বলেন, বিশেষ করে অ্যাপসের মাধ্যমে অর্থ প্রেরণে প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করাও এই ক্যাম্পেইন-এর অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। কেননা, অ্যাপসের মাধ্যমে সহজেই ঘরে বসে দেশে অর্থ প্রেরণ সম্ভব। এতে সময়ও বাঁচবে আবার দ্রæত অর্থ প্রেরণ করা যাবে। কাটা যাবে না বাড়তি অর্থ। এছাড়াও সোনালী এক্সচেঞ্জ’র মাধ্যমে বন্ড ক্রয় সহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে।

মোহাম্মদ মহসিন কবীর বলেন, সোনালী এক্সচেঞ্জ’র জ্যামাইকা শাখার মাধ্যমে ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’ শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে নিউইয়র্কের আরো ৫টি শাখা এবং নিউজার্সী, লস এঞ্জেলেস ও জর্জিয়া রাজ্যের আটলান্টা শাখায় ‘বিজনেস প্রমোশনাল ক্যাম্পেইন’-এর কার্যক্রম চলবে।

প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ মহসিন কবীর মঙ্গলবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত জ্যামাইকা শাখায় অবস্থান করেন এবং আগত গ্রাহকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সেবার কথা জানান। এছাড়াও তিনি জ্যামাইকা শাখার কর্মর্তাদের নিয়ে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ কথা বলে গ্রহক সেবা আরো বৃদ্ধির আহবান জানান।

উল্লেখ্য, সোনালী এক্সেচেঞ্জের মাধ্যমে বছরব্যাপী স্বজনদের কাছে অর্থ প্রেরণ করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। বিশেষ করে দুই ঈদের সময় রেকর্ড পরিমান অর্থ প্রেরণ করে থাকেন প্রবাসীরা।

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটির বাংলা স্কুল চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলা স্কুলের নতুন শাখা চালু করেছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি। গত ২ অক্টোবর বিকেলে জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৫ স্ট্রিটের কর্নারে আনুষ্ঠানিকভাবে স্কুলটির উদ্বোধন করা হয়। সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে নতুন শাখার উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আহসান হাবীব, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার ও আজিমুর রহমান বোরহান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট জে মোল্লা সানি, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, নওশাদ হায়দার, ডিউক খান, ফারুক মজুমদার ও ইসলামী চিন্তাবিদ মুহাম্মদ শহিদুল্লাহসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা শিশুদের ইংরেজি বলতে পারা স্বাভাবিক বিষয়। তাই সন্তান ভালো ইংরেজি বলতে পারে— এটি নিয়ে গর্ব করার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ইংরেজির পাশাপাশি তাকে নিজের মাতৃভাষা বাংলা শেখানো এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পরিচিত করা।

তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাংলা ভাষা ঠিকমতো বলতে বা বুঝতে পারে না। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা, মেক্সিকান, ইহুদি ও স্প্যানিশ ভাষাভাষী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সন্তানরা নিজেদের মাতৃভাষা চর্চার পাশাপাশি ইংরেজিতেও দক্ষ হয়ে উঠছে। তাই বাংলা ভাষায় কথা বলাকে কোনোভাবেই হীনমন্যতার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং মাতৃভাষার চর্চাকে শিকড়ের সঙ্গে প্রবাসী প্রজন্মের বন্ধন হিসেবে দেখতে হবে।

বক্তারা আরো বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা শেখানোর মাধ্যমে শুধু ভাষার চর্চাই নয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিও আগ্রহ তৈরি করা সম্ভব। এ ধরণের উদ্যোগ প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সোসাইটি ইতিমধ্যে ব্রুকলিন ও কুইন্সে দুটি বাংলা স্কুল পরিচালনা করছে। জ্যামাইকায় নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে সংগঠনটির পরিচালিত বাংলা স্কুলের সংখ্যা দাঁড়াল তিনটিতে।

নতুন শাখায় জ্যামাইকা ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের সন্তানদের বাংলা ভাষা শেখানোর পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

ব্রঙ্কসে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি আইটি ইঞ্জিনিয়ার শাহ মো. আরদি (২৪) নিহত হয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর শনবিার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে ব্রঙ্কসরে মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহ মো. আরদি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুনারুঘাট অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ ইনকের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহ মো. ছাদেক মিয়ার ছোট ভাই শাহ মো. আসাদ মিয়ার বড় ছেলে।

পরিবার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নিজ কাজ শেষ করে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরছিলেন আরদি। এ সময় মেজর ডিগান এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চুনারুঘাটের প্রবাসীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি, প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

টাঙ্গাইলে হবে বিশ্বমানের হেলথ সিটি
প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসীর সাথে সাবেক গভর্নর ড. মনসুরের মতবিনিময়

নিউইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন। সভায় টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান ড. মনসুর বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় শক্তি ডায়াসপোরা কমিউনিটি। যুক্তরাষ্ট্র সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অর্থ বিনিয়য়োগ করে। তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সাথে নিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতেও বিনিয়োগ করতে চাই। প্রতিষ্ঠা করতে চাই বিশ্বমানের হাসপাতাল। এজন্য প্রাথমিকভাবে টাঙ্গাইলে একটি হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ড. মনসুর বলেন, আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট এক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আশা করছি দেশের জন্য। গত ৫ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই মতবিনিময় সভা।

ব্যতিক্রমী এই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ’র উপদেষ্টা ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক হককথা ও বার্তা সংস্থা ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ সংগঠনের উপদেষ্টা আশেক খন্দকার শামীম, মোহাম্মদ ফরহাদ তালুকদার, সাবেক সভাপতি ফরিদুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সভাপতি আরিফ বিন আনোয়ার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আনিস, সাধারণ সম্পাদক শামীম মিয়া, সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ আব্দুর রব ইসলাম।

এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন আরমান চৌধুরী সিপিএ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মনসুর আহমেদ। সভায় ড. মনসুর খোলামেলা মতবিনিময়কালে বলেন, দেশ-বিদেশে আমাদের অনেক মেধাবী মানুষ রয়েছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার ব্যাপারে দেশের হাসপাতালের উপর মানুষের আস্থা নেই বলেই তারা চিকিৎসার জন্য ছুটছেন ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড। ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আর্থিকভাবে। আর আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে বিদেশীরা। আমরা চাই দেশের ভিতরেই বিশ্বমানের চিকিৎসা ব্যবস্থা। এজন্য উদ্যোগে নেয়া হয়েছে বেসরকারী পর্যায়ে। ইতিমধ্যেই ঢাকায় একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য হাতিরঝিল ও মগবাজার এলাকায় ১৬তলা একটি ভবনে কাজ চলছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছর থেকেই এই হাসপাতালে কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে ৩০/৪০ একর জায়গায় প্রাথমিকভাবে হাতে নেয়া হয়েছে হেলথ সিটি প্রতিষ্ঠার প্রকল্প। টাঙ্গাইল রাজধানী ঢাকার নিকটে আর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মানুষেরা সহজেই এই প্রকল্প থেকে সেবা নিতে পারবেন। এজন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের পাশে টাঙ্গাইল শহরের প্রবেশ পথের পাশে বিশাল জায়গা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস প্রতিষ্ঠিত সুখী প্রকল্প নিয়েও মানুষের সেবায় কাজ করার পরিকল্পনা চলছে। সুখী প্রকল্পে ৫০ লক্ষ সদস্য রয়েছে। কোরিয়ান সরকার এই খাতে আইটি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ড. মনসুর বলেন, দেশে ভালো কাজ বেসরকারী উদ্যোগেই সফল হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্রাক, গণস্বাস্থ্য, গ্রামীণ ব্যাংক প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ বেসরকারী উদ্যোগে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হবে। এতে প্রবাসীরা তথা ডায়াসপোরা কমিউনিটি শেয়ার ক্রয় করতে পারবেন। মূলত: আমরা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে চাই। আমরা ১০০, ২০০, ৩০০, ৫০০ ডলার করে ছোট ছোট বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই। সবার অংশগ্রহণ চাই। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনি সকল প্রবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় দেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বেসরকারী উদ্যাগে কোন কোন মহলের বিরোধীতা, সিন্ডিকেট ব্যবস্থা প্রভৃতির প্রসঙ্গ উঠলেও ড. মনসুর বলেন, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর মধ্যেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে, দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভা শেষে প্রবাসী টাঙ্গাইলবাসী ইউএসএ ইনক’র পক্ষ থেকে ড. আহসান এইচ মনসুর-কে ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন – প্রার্থীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময়

নিউ ইয়র্ক নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের সামনে ভোটিং মেশিন ও নমুনা ব্যালট পেপার প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি ভোট গ্রহণের পদ্ধতি, ভোটকেন্দ্রে প্রার্থী ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং নির্বাচন বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে কমিশন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের সঙ্গে কী কী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকতে হবে এবং ভোট প্রদানের নিয়মাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সেলিম-আলী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদসহ দুই প্যানেলের বিভিন্ন পদের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব প্রার্থী, প্যানেল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, পোলিং এজেন্ট ও সমর্থককে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মতবিনিময়ে বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে কোনো ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার কেবল একবারই তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
‘ডাবল ভোট’ ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধিকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এ জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্যানেলের প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও নির্বাচনী উত্তেজনা।

স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা নয়

০

শিতাংশু গুহ, নিউইয়র্ক।। ককরোচ-রা প্রথমে এসেছিলো ‘শিক্ষা-সংস্কার’-র দাবি নিয়ে। এর কিছুটা ন্যায্যতা ছিলো। সরকার দাবি মেনে নেয়। শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ককরোচ-রা উৎসাহিত হয়। এবার তারা মাঠে নেমেছে প্রধান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবীতে। এটি ভুল পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে প্রধান তেলাপোকা বোম্বেতে জনতার হাতে মৃদু লাঞ্ছিত হয়েছেন। সামনে হয়তো অন্য নেতাদের গায়ে পঁচা ডিম্ পড়বে। কারণ মানুষ বুঝে গেছে ককরোচদের লক্ষ্য শিক্ষা-সংস্কার নয়, তাঁরা সরকারের পতন চায়। এরচেয়ে বরং ককরোচ-রা স্মিট মাচ্ছার-কে অভিনন্দিত করে একদিনের আনন্দ-উৎসবের ডাক দিলে পুরো ভারতের সমর্থন পেতেন।

ককরোচ-রা বাংলাদেশ ষ্টাইলে বিপ্লব ঘটাতে চাচ্ছেন। বাংলাদেশে কোন বিপ্লব হয়নি, ইসলামী শক্তি ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং মাত্র দুই বছরে দেশের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে, ওই দেশের জনগণের এখন ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’ অবস্থা। ভারতের ‘জেন-জি’ শিক্ষিত, স্মার্ট, তাঁরা এ ফাঁদে পা দেবেনা। ভারত এমন বহু আন্দোলন দেখেছে, এর ফেডারেল শাসন ব্যবস্থা এর অন্যতম রক্ষাকবচ। ভারতে ক্ষমতা বহুকেন্দ্রিক, স্বৈরাচার হবার সুযোগ নেই। নির্বাচনই হচ্ছে ভারতে ক্ষমতার হাতবদলের একমাত্র পথ। ভারতে নির্বাচনী ব্যবস্থা স্বচ্ছ, বিশ্ব=নন্দিত। ভারতে বিচার ব্যবস্থা অত্যন্ত স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য। ভারতে মিডিয়া অবাধ ও স্বাধীন। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে কোন সরকারের ‘লাগামহীন’ হবার সুযোগ কম।

ককরোচ-রা তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারেনি। এ আন্দোলন প্রমান করে তাঁরা ‘অন্যের হাতে খেলছে’। তাঁদের সহায়ক শক্তি হচ্ছে বাম, মৌলবাদী ইসলামী শক্তি, এন্টি-হিন্দু শক্তি এবং কিছু ক্ষমতাচ্যুত ও ক্ষমতালোভী পরিত্যক্ত রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী। ভারতে এন্টি-হিন্দু রাজনীতি এখন অচল, সামনের যেকোন নির্বাচনে এদের অবস্থা আরো শোচনীয় হবে। মানুষ জেনে গেছে যে, ‘বাম ও ইসলামী শক্তি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ’। বাইরের চাইতে ভারতের ভেতরে ভারতের শত্রু বেশি। গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে এরা ভারতের ক্ষতি করছে। পুরো বিশ্ব যখন স্মিট মাচ্ছারের প্রশংসায় করছে, আন্দোলনকারী অনেকেই তাঁকে অভিনন্দন জানাতে পারছেন না! সমস্যাটা হচ্ছে তাতে মুসলিম কো=পাইলটের নিন্দা জানাতে হয়, এতে ভোটব্যাঙ্ক বিগড়ে যেতে পারে!

ভারত সরকার বা ক্ষমতাসীন দল কিন্তু স্মিট মাচ্ছারের সম্মানে পুরো ভারতে দুইদিব্যাপী এখনই উৎসবের ডাক দিতে পারেন। স্মিট মাচ্ছার-ই ভারত, ককরোচ-রা বা তাদের সমর্থকরা নয়। পাঠক, আমি ভারতীয় নই, থাকি আমেরিকা, আমার এ পর্যবেক্ষণ কেউ পছন্দ করতে পারেন, আবার পছন্দ নাও করতে পারেন, কিন্তু যারা ‘অপারেশন সিন্দুর’র বিরোধিতা করে বা প্রশ্ন তুলে অথবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদী’ শ্লোগান দেয় বা ‘হিন্দুধর্ম গান্ধা ধর্ম’ বলে তারা আর যাই হোক ভারতের শুভাকাঙ্ক্ষী নন, এদের থেকে সাবধান থাকাটা জরুরি, ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে এরা ভারত ভাঙ্গতেও প্রস্তুত। ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র, এটি আরো সমবৃদ্ধ হোক কিন্তু এরমানে এই নয় যে, অবৈধ-অনুপ্রবেশকারীদের ভোট দেয়ার অধিকার দিতে হবে? ভারতের স্বার্থেই এসআইআর/ এনআরসি দরকার।

১০/০৬/২৬

ওজোনপার্কে খলিল বিরিয়ানির নতুন শাখা চালু

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নিউইয়র্কের বাংলাদেশি খাবারের বাজারে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করেছে ‘খলিল বিরিয়ানি হাউজ’। এবার ওজোনপার্ক-সংলগ্ন ব্রুকলিনের পিটকিন অ্যাভিনিউতে চালু হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নতুন শাখা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান দেশীয় খাবারের চাহিদা বিবেচনায় গত ২ অক্টোবর ২০২৬ পিটকিন অ্যাভিনিউতে শাখাটির গ্র্যান্ড ওপেনিং অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইসলামিক স্কলার ড. রুহুল আমিন। পরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জাহেদ আহমেদ ও মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ এবং শেফ খলিলুর রহমান অতিথি ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে ফিতা কেটে নতুন শাখার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, শুভানুধ্যায়ী ও বিপুলসংখ্যক প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। নতুন শাখা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। উদ্বোধনী আয়োজনে অতিথি ও গ্রাহকেরা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দেশীয় খাবার উপভোগ করেন।

প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. খলিলুর রহমান জানান, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের দেশীয় খাবারের চাহিদা ও স্থানীয় বাজারের সম্ভাবনা বিবেচনা করেই এ এলাকায় নতুন শাখা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাছাকাছি বসবাসকারী গ্রাহকদের কাছে বাংলাদেশি খাবার আরও সহজলভ্য করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, নতুন শাখায় খাবারের মান, স্বাদ ও সেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। হালাল, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন বাংলাদেশি খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের স্বাদ ও গুণগত মান ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের জন্য উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতেও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশি কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অন্যান্য কমিউনিটির মানুষের কাছেও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিতে চান তারা। নিউইয়র্কের বহুজাতিক খাদ্যসংস্কৃতিতে বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

স্থানীয় প্রবাসীরা নতুন শাখা চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ওজোন পার্ক ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশি খাবারের আরও একটি বিকল্প তৈরি হলো। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে দেশীয় খাবার উপভোগ করতে আগ্রহীদের জন্য নতুন শাখাটি বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। একই সঙ্গে খাবারের স্বাদ, মান ও সেবায় ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তারা।
শেফ খলিলুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ‘খলিল বিরিয়ানি’ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি খাবারের একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শাখায় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি বিরিয়ানির পাশাপাশি তেহারি, বিভিন্ন ধরনের মাংস, মাছ, সবজি, কাবাব, সমুচাসহ নানা দেশীয় খাবার পরিবেশন করা হয়।

নতুন শাখা চালুর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলো। উদ্যোক্তারা বলছেন, ভবিষ্যতেও খাবারের মান ও স্বাদ অক্ষুণ্ন রেখে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখা এবং বাংলাদেশি খাবারের পরিচিতি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই তারা কাজ করবেন।