Home Blog

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় রংপুরে ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ১ হাজার ৯টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় ১৩৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দিবা-রাত্রি টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুজব প্রতিরোধ ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হাকিমপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে হরিজন সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিজিবির রংপুর রিজিয়নের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার কর্নেল ফয়সল হাসান খান।

তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকার পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে বিজিবি। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে।

এ সময় গুজবে কান না দিয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান কর্নেল ফয়সল হাসান খান। পরে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেন তিনি। পাশাপাশি মণ্ডপ কমিটির সদস্যদের ফুল ও মিষ্টি দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।

এ সময় জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল লতিফুর বারী, উপ-অধিনায়ক মেজর ইব্রাহিমুল্লাহ আসাদসহ বিজিবির অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী হত্যার প্রতিবাদে থানার সামনে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

০

কুমিল্লায় যুবদল কর্মী মো. আবু কাউছারকে প্রকাশ্য দিবালোকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে কোতয়ালী মডেল থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন এলাকার লোকজন। আজ রোববার দুপুরের দিকে কোতয়ালী মডেল থানার সামনে এই বিক্ষোভ করা হয়।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া এবং নেপথ্যে থাকা সবার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণের দাবিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বেশ কিছু সময় তর্কবিতর্কে লিপ্ত হতে দেখা গেছে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় যারা সম্পৃক্ত তাদের পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার এ হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতদের আটক করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান কাউছার হত্যার ঘটনায় তৌহিদুল আলম তৌহিদ ও তার বড় ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তারের কথা জানান।
এদিকে, আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে জেলা ও মহানগর বিএনপি ও যুবদলের একটি প্রতিনিধি দল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কক্ষে গিয়ে তাদের দেওয়া অভিযোগ অনুসারে মামলা রেকর্ড করার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে এ সময় আসামির সংখ্যা নিয়ে ওসির কক্ষে পুলিশ ও দলীয় নেতারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় দলীয় নেতাদের বলতে শুনা যায়, ‘এমপি-মন্ত্রীর কথায় মামলা হবে না। তাদের (এমপি-মন্ত্রী) গিয়ে বলেন, আমরা তাদের তৈরি করেছি, কথা বলে লাভ নাই। বাদীর বড় ভাই যেভাবে চায় সেভাবেই মামলা হতে হবে। পুলিশের চাওয়ায় মামলা হবে না।’

নিহত আবু কাউছারের বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কবির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই মারা গেছে, তার ছেলে-মেয়ের কান্নায় বাসায় যেতে পারি না। আমি আশা করেছিলাম আমাদের দল ক্ষমতায় আছে, আমরা দ্রুত বিচার আইনে মামলা করতে পারবো। কিন্তু আমি মামলার জন্য ঘুরছি।’

মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বিপ্লব সমকালকে জানান, মামলার অভিযোগে তো আমরা গণহারে আসামি করিনি। সরাসরি হত্যায় জড়িত ছাড়াও হত্যা পরিকল্পনায় আরও একাধিক ব্যক্তি জড়িত আছে। তাদেরকেও আসামি করে অভিযোগ দেওয়ার পর মামলা রেকর্ড বিলম্ব হয়। তাই, আমরা ওসির কক্ষে গিয়েছিলাম। পরে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’

বিকেল ৫টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার জানান, আবু কাউসার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তৌহিদ ও তানজিরসহ ৫ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনের বিরুদ্ধে রোববার থানায় মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত এ মামলায় হত্যায় জড়িত তৌহিদ ও তার ভাই তানজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এর আগে, গত শুক্রবার সকালে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গোমতী নদীর উত্তর পাড়ের ছত্রখিল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি জমি নিয়ে বিরোধে আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।

রাবাদাকে ঘিরে প্রোটিয়াদের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন

০

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ডারবানে ২১৪ রানে হেরেছে তারা। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ঘুরে দাঁড়াতে দৃঢ়প্রত্যয়ী স্বাগতিক কোচ শুকরি কনরাড।

তার সে আশায় অন্যতম ভরসা তারকা পেসার কাগিসো রাবাদার দলে ফেরা। সিরিজে টিকে থাকার লড়াইয়ে রাবাদার কাছ থেকে অসাধারণ পারফরম্যান্স প্রত্যাশা করছেন দলের ব্যাটার ডেভিড বেডিংহাম।

চোটের কারণে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি রাবাদা। ওই টেস্টে ৪৬ ও ৪৯ রানের দুটি ইনিংস খেলা বেডিংহামের আশা, দ্বিতীয় টেস্টে সফরকারী ব্যাটারদের আতঙ্ক হয়ে উঠবেন রাবাদা, ‘সে (রাবাদা) আমাদের জন্য অপরিহার্য এবং অনেক বড় একজন খেলোয়াড়। তাঁকে দেখে মনে হয়েছে, অনেক জোরে বল করছে আবার। বেশ ক্ষুরধার মনে হয়েছে। এমনকি যদি পেছনে ফিরে তাকান, গত বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৯ উইকেট নিয়েছিল। যে কোনো দলের বিপক্ষেই খেলতে প্রস্তুত সে। আশা করি, পরের টেস্টে ৯ বা ১০ উইকেট নেবে। সেটা করলে দারুণ হবে।’

রাবাদা ছাড়া আরও পরিবর্তন আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে।

পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় দূতদের ওপর হামলা, ফ্রান্সের মেয়রকে মারধর

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এ সময় ফ্রান্সের এক মেয়রকে মারধর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকের ওপর হামলার একদিন পর এ ঘটনা ঘটলো।

পশ্চিম তীরে বর্তমানে জলপাই পাড়ার মৌসুম চলছে। কিন্তু বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি কৃষকদের জলপাই সংগ্রহে বাধা দিচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শনিবার সেখানে গিয়েছিলেন ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকরা। প্রতিনিধি দলে ফ্রান্সের ওলনোয়া-আইমেরিজ শহরের মেয়র বার্নার্ড বোদুও (৭৮) ছিলেন।

এএফপিকে ফরাসি মেয়র বলেন, ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার সময় মুখোশধারী বসতি স্থাপনকারীরা ফ্রান্সকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করছিল। এক সময় তাঁকে লাথি ও লোহার রড দিয়ে তারা আঘাত করে।

বার্নার্ড বোদু বলেন, ‘আমার মনে হয়, বসতি স্থাপনকারীদের এমন আচরণকে ইসরায়েল সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। সেখানে কী ঘটছে তা সারা বিশ্বের জানা প্রয়োজন। আমি হয়তো নিজ দেশে ফিরে যাব। কিন্তু এখানে যারা (ফিলিস্তিনি) আছে তারা আরও ভুগবে।’

ফিলিস্তিনি জলপাই চাষিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে। ছবি: রয়টার্স

ফিলিস্তিনি জলপাই চাষিদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরে। ছবি: রয়টার্স

হামলার পর ফরাসি মেয়রকে একটি গাড়ির পাশে লুটিয়ে পড়তে দেখা যায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েলকে জরুরি ভিত্তিতে সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।’ তিনিসহ বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

এই হামলার একদিন আগে বসতি স্থাপনকারীরা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের আলোকচিত্রী হেইডি লেভিনকে মারধর করে। তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আমরা সেখানকার যেসব ছবি দেখছি, সেগুলো খুবই উদ্বেগের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পশ্চিম তীরে আর কোনো সংঘাত দেখতে চান না।

ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক।

মধ্য এশিয়ায় চীন-রাশিয়ার বলয়ে প্রভাব বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার একাধিক ফ্রন্টে জড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের তৎপরতা থেমে নেই। চীন-রাশিয়ার বিপরীতে নিজেদের প্রভাব শক্ত করতে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। লক্ষ্য একাধিক চুক্তি করা।

এই সফরে রুবিওর প্রথম গন্তব্য উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর সমরকন্দ। সঙ্গে আছে ২০০ ব্যবসায়ী নেতার প্রতিনিধি দল। সোমবার সমরকন্দে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের মন্ত্রীদের একটি বৈঠকে যোগ দেবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার রওনা দেওয়ার সময় এই সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন রুবিও। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এমন কিছু দেশ আছে, যাদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’

এই সফর উপলক্ষে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, মধ্য এশিয়াজুড়ে অংশীদারত্ব গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতের প্রতি ওয়াশিংটন সদিচ্ছা দেখাচ্ছে।

কেন সক্রিয়তা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র?
মধ্য এশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মতোই সম্পদসমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বিপরীতে জনসংখ্যা মাত্র ৮ কোটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তারা কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চল নিয়ে পরিকল্পনা করেছেন। বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করার এটি সেরা সুযোগ।

সমরকন্দকে ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের প্রতীকী বিরতিস্থল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন রুবিও। গত বছরের নভেম্বরে এই দেশগুলোর নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দেশগুলো এক সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য ছিল। জ্বালানি পাইপলাইনের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও অভিবাসন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশগুলোর ওপর মস্কোর প্রভাব কমে গেছে। বর্তমানে এর সুবিধা নিচ্ছে চীন।

বেইজিং মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশেরই প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। তাদের সঙ্গে চীনা কোম্পানিগুলো জ্বালানি-সম্পর্কিত বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে তারা তুর্কমেনিস্তানে প্রাকৃতিক গ্যাস, কাজাখস্তানে ইউরেনিয়াম ও তাজিকিস্তানের বিরল মৃত্তিকা উপাদান (রেয়ার আর্থ) কেনার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি বিরল মৃত্তিকা উপাদান সংগ্রহ ও জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার মতো বিষয়গুলোকে পররাষ্ট্রনীতির মূল অংশ বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গরকে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক দূতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এই অঞ্চলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর বারবার জোর দিয়েছেন।

বাণিজ্য চুক্তি
উজবেকিস্তান সফরের পর ভারতে যাবেন রুবিও। সেখানে তিনি মুম্বাই ও গুজরাটের জামনগরে যাত্রাবিরতি দেবেন। দুটি শহরই আন্তর্জাতিক বন্দর ও শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

গত মে মাসে নয়াদিল্লি ও কলকাতা সফর করেছিলেন রুবিও। চার মাসের ব্যবধানে এটি তাঁর দ্বিতীয় দফায় ভারত সফর। যা এই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের জোরালো তৎপরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঊর্ধ্বতন এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন একটি বাণিজ্য চুক্তির খুব কাছাকাছি আছে।

ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমানোর লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে উভয়পক্ষ অস্থায়ী চুক্তি করে। কিন্তু এর কয়েকদিন পর, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করে দেয়। এর ফলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

আদালতের রায়ের পর চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করে দুই দেশ। কিন্তু মস্কোর কাছে থেকে দিল্লি তেল কেনা অব্যাহত রাখলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে আবার টানাপোড়েন দেখা দেয়। পরে ওই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মুম্বাই ও জামনগরে ভারতীয় ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় রুবিও নতুন ধাঁচের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’র প্রস্তাব দেবেন। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের একটি তেল শোধনাগারে ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের অর্থায়নের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি পাবেন দুই গ্রামের বাসিন্দা

০

সুন্দরবন ঘেঁষে অবস্থিত সাতক্ষীরার শ্যামনগরের খাগড়াঘাট গ্রাম। চারপাশে পানির কমতি নেই, অথচ সুপেয় পানির জন্য বছরের পর বছর ধরে ভুগেছেন রহিমা বেগম (৪৫)। তাঁর পরিবারের নারী ও শিশুদের দীর্ঘদিন ধরে পানি আনতে হাঁটতে হয়েছে মাইলের পর মাইল। বর্ষায় তারা বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে ব্যবহার করতেন। বছরের বাকি সময় তাদের সম্বল ছিল নোনাপানি। এ জন্য সন্তানেরা পেটের পীড়ায় ভুগতে হয়েছে বছরভর।

রহিমা বেগমদের সেই দুর্দশার অবসান ঘটিয়েছে বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপ। গতকাল শনিবার খাগড়াঘাটে একটি রিভার্স অসমোসিস (আরও) পানি শোধনাগার বসিয়েছে তারা। একই দিন আরেকটি শোধনাগার বসানো হয়েছে পাশের কৈখালী গ্রামে। এই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আমেনা খাতুন বলেন, আগে এক কলস মিষ্টি পানির জন্য তাদের দুই-তিন মাইল হাঁটতে হতো। এখন বাড়ির কাছে কল বসায় যেন তাদের পুনর্জন্ম হয়েছে।

খাগড়াঘাটের রহিমা বেগম বলছিলেন, এখন কল টিপলেই মিষ্টি পানি বের হয়। এই প্রযুক্তি তাদের জীবন বাঁচিয়ে দিয়েছে। বাড়ির মেয়েদের আর বিদ্যালয় কামাই করে পানির জন্য ছুটতে হবে না।
দুটি পানি শোধনাগারের একটি বসানো হয়েছে খাগড়াঘাট গ্রামের নূরউদ্দীনের বাড়ির সামনে, অপরটি স্থাপন করা হয়েছে কৈখালীর আলাউদ্দিন মল্লিকের বাড়ির সামনে। এগুলো উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল বিভাগের প্রধান শেখ শাবাব আহমেদ। তিনি বলেন, উপকূলের পানির সংকট তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। এ কারণে এমন একটি স্থায়ী সমাধান চেয়েছিলেন, যা সরাসরি মানুষের জীবন বাঁচাবে, শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করবে। সে জন্যই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পানি শোধনাগার স্থাপনের এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
শ্যামনগরের চিকিৎসক আমজাদ হোসেনের ভাষ্য, পানিতে আয়রন বেশি থাকলে পানি লালচে হয়। স্বাদও হয় তেতো। এতে পেটের নানা অসুখ হয়। দাঁত নষ্ট হয়। শোধনাগারের পানিতে সেই লালচে ভাব বা তেতো স্বাদ নেই।

প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পানির জন্য সব গ্রাহককে ডিজিটাল কার্ড দেওয়া হয়েছে। কলের সামনে সেই কার্ড ধরলে পানি পড়ে, সরালেই বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিটি প্লান্টে ১০টি করে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে। সেই সৌরবিদ্যুতে পাম্প চলে, ফলে পল্লীবিদ্যুতের ওপর চাপ পড়ে না। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে শ্যামনগরের তরুণদের সংগঠন শরুব ইয়ুথ ক্লাবের সদস্যরা। এর মাধ্যমে গ্রামের বেকারত্ব কিছুটা কমবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় দেখা গেছে, পানি শোধনাগারে শোধনের পর পানিতে লবণের পরিমাণ সরকার নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে নেমেছে। পানিতে গলে থাকা লবণ ও খনিজ মাপা হয় টিডিএস দিয়ে। কৈখালীর সাধারণ নলকূপের পানিতে টিডিএসের পরিমাণ ৮ হাজার ২১৭ মিলিগ্রাম। শোধনের পর তা নেমেছে ২৮ মিলিগ্রামে। খাগড়াঘাটে ছিল চার হাজার ৮১ মিলিগ্রাম, শোধনের পর যা হয়েছে মাত্র ৯২ মিলিগ্রাম। কৈখালীর পানিতে আয়রন ছিল ১ মিলিগ্রাম, শোধনের পর মাত্র ০.০১ মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া গেছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

এজিএমের একদিন পরই নগদ লভ্যাংশ বিতরণ করল ওয়ালটন

০

২০২৫-২৬ হিসাব বছরে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদিত ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এজিএমের একদিন পরই বিতরণ করেছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এর মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ বিতরণে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ালটনের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস জানান, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোম্পানিটির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শেয়ারহোল্ডাররা সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ অনুমোদন করেন। এজিএমের একদিন পরই বিনিয়োগকারীদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে নগদ লভ্যাংশের অর্থ পরিশোধ করা হয়।

কোম্পানি সচিব বলেন, ওয়ালটনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মদক্ষতা ও পরিচালনগত গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শক্তিশালী তারল্য অবস্থান বজায় থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ওয়ালটন।

২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য ওয়ালটন হাই-টেকের ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা ১৮ টাকা নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন। এ ছাড়া প্রতি ১০টি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি করে বোনাস শেয়ার পাবেন তাঁরা।

শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে কোম্পানিটির মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ ৮ হাজার ৪৯৪ টাকা। আগের হিসাব বছরে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৩ টাকা।

আলোচ্য হিসাব বছরে ওয়ালটনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সা, যা আগের হিসাব বছরে ছিল ৩১ টাকা ১১ পয়সা। পুনর্মূল্যায়নসহ কোম্পানিটির মোট নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা। পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া এ মূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সা।

অনুমোদিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ থেকে প্রাপ্ত অর্থ কোম্পানিটির চলমান গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা সম্প্রসারণ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণমূলক (বিএমআরই) কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এ স্টক লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষিত আয় (রিটেইনড আর্নিংস) থেকে দেওয়া হবে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে ঝুঁকিতে পড়বেন তারেক রহমানই

০

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানই ঝুঁকিতে পড়বেন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন ‘স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিলোপ এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আপসের সুযোগ নেই। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়িত না হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই।’

আজ শনিবার রাজধানীর মেহেরবা প্লাজায় দলটির প্রধান কার্যালয়ে জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তিতে ‘সংস্কারের অঙ্গীকার ও প্রতারণার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন হাসনাত কাইয়ূম।

সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সব গণতান্ত্রিক দলকে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ না করলে আবু সাঈদ, মিরাজসহ হাজারো শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি হবে।’

হাসনাত কাইয়ূম দাবি করেন, বিএনপির সব নেতাকর্মী গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধী নয়। তার মতে, দেশি-বিদেশি প্রভুর প্রচারণায় বিএনপির যে অংশ গণরায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, তারা গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেয়নি। এই ষড়যন্ত্র সফল হলে তারেক রহমানই ঝুঁকিতে পড়বেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় নিয়ে সরকার প্রকাশ্যেই প্রতারণার পথ বেছে নিয়েছে।

গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে বিএনপি সরকার সবচেয়ে বেশি প্রতারণা করছে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেই।’

আরও বক্তব্য দেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ সরকার, জুলাই শহীদ মিরাজের বাবা আব্দুর রওফ মিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন প্রমুখ।

সমালোচনার পথ বন্ধ করলে বিপদে পড়বে সরকার

সাইবার অপরাধ দমনের নামে সরকারের সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ রাখা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। কোনো ব্যক্তির অপরাধে সংবাদমাধ্যম বন্ধ, সন্দেহের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা দেওয়ার মতো বিধান অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করবে। একই সঙ্গে অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করেও সুফল পাওয়া যাবে না। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব উদ্বেগ জানিয়ে আইনটির নিবর্তনমূলক ধারা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

আজ রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। টিআইবি, ব্র্যাক, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠনের আয়োজন করে।

সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইন প্রয়োজন, তবে সরকারের সমালোচনা ও অপরাধকে এক করে দেখা যাবে না। গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের সমালোচনা হবেই। ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়—এ কথা বিবেচনায় রেখেই আইন প্রণয়ন করা উচিত।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।’

প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের কারণে পুরো সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেন তিনি। তার আশঙ্কা, আইনের প্রয়োগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হলে স্থানীয় পর্যায়ের ক্ষমতাসীন নেতার ফোনেও কাউকে গ্রেপ্তারের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। কোনো সংবাদ কারও অপছন্দ হলেই সেটিকে ভুল তথ্য বা মানহানিকর বলে দাবি করার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই, ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্যের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জবাবদিহি জরুরি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্য বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ ও যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। এসব প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেওয়া টেকসই সমাধান নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে বর্তমান কাঠামোয় আইন পাস করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সরকারের জন্যও বুমেরাং হতে পারে। অপতথ্য ঠেকানোর নামে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।

ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, রামুতে বৌদ্ধপল্লিতে হামলা, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যায় উসকানি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সংঘবদ্ধ হামলার মতো ঘটনায় প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার দেখা গেছে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ কঠিন হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনের ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়া, ২৫ ধারায় মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা, ৮(৩) ধারার অপব্যবহার রোধ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা বাতিলের দাবি জানান তিনি। মানহানির ক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থার পরিবর্তে দেওয়ানি আইনে ক্ষতিপূরণ ও বড় অঙ্কের জরিমানার বিধান রাখার পরামর্শও দেন।

শফিকুল আলম আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে চরিত্রহনন এবং লাগামহীন অপপ্রচার থেকে সুরক্ষার উপায় বের করতে হবে।

তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে তদন্ত কর্মকর্তাদের শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের ডেটা সেন্টারসহ প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এতে একটি পুরো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আইনে মানহানির সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকাও উদ্বেগজনক। গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নে তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান পিন্টু প্রস্তাবিত আইনের দায়মুক্তির বিধান, অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা এবং অনলাইন কনটেন্ট ব্লকের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। সাংবাদিকতা ও মূলধারার গণমাধ্যম যাতে আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।

জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠনকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শরীফুজ্জামান পিন্টু। তার মতে, প্রস্তাবিত কাঠামোয় নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব নেই। কাউন্সিলের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

বৈঠকে বক্তারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষায় নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেন। তাদের দাবি, সাইবার অপরাধ মোকাবিলার পাশাপাশি আইনের অপপ্রয়োগ ঠেকানোর কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

ব্রিফিংয়ে দুদক সচিব বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান কাতারে গ্রেপ্তার দেশে ফেরানোর উদ্যোগ

দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্টারপোলের মাধ্যমে পাঠানো অনুরোধের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে কাতার পুলিশ। দুদকের সচিব সাইদুর রহমান খান এ কথা জানিয়েছেন।

ঢাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে সাইদুর রহমান খান বলেন, শনিবার অনানুষ্ঠানিকভাবে হান্নানের গ্রেপ্তারের খবর পায় দুদক। আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি কাতারের দোহায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছ থেকে এ তথ্য পেয়েছে দুদক।

শেখ আব্দুল হান্নানকে কাতার থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে দুদক সচিব সাইদুর বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে দুদকের কাছে কিছু তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে।

আব্দুল হান্নান ২০২১ সালের ১২ জুন থেকে ২০২৪ সালের ১১ জুন পর্যন্ত বিমান বাহিনীর প্রধান পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক মো. তানজির হাসিব সরকার বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দুটি দায়ের করেন। দুদকের পক্ষ থেকে তখন সাংবাদিকদের জানানো হয়েছিল যে, আব্দুল হান্নানের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ প্রায় তিন কোটি ২৮ লাখ টাকার সম্পদের খোঁজ তারা পেয়েছে। সেইসঙ্গে, তার নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৫ মে আব্দুল হান্নান ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে আদালত। এরপর তাদের জমি, বাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে, কাতারে অবস্থিত আব্দুল হান্নানকে ইন্টারপোলের সহায়তায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল দুদক।