Home Blog

শপথ ভঙ্গ করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক: জামায়াত

০

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, একে ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত বলে আখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। প্রতিমন্ত্রী এর মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন বলে দাবি করেছে দলটি।

আজ রোববার বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তার ঘটাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ঘটেছে। সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইশরাক হোসেন গেন্ডারিয়ায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, অস্ত্র আইন অনুযায়ী, নিজের নিরাপত্তা ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে জনমনে এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন থাকা সত্ত্বেও একজন প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা এবং তার দেহরক্ষীদের আগ্রাসী ভূমিকা অনভিপ্রেত, আইনবিরোধী ও অনাকাঙ্ক্ষিত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সক্রিয় হওয়া জরুরি বলে মনে করি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইশরাক হোসেন নিজের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের যে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন, তা অগ্রহণযোগ্য। তিনি তার এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শপথ ভঙ্গ করেছেন। তার এমন কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসীদের আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণ তা ভালোভাবে নেবে না। সরকারের সব পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদক নির্মূলসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ওয়াজ শুনতে যাওয়া কিশোরীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যাওয়ার পথে এক কিশোরী (১৪) দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ৭ অক্টোবর রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আপসের কথা বলে স্থানীয় একটি চক্র ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা করতে দেয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে গত শনিবার রাতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সরাইল থানায় মামলা করেন মেয়েটির মা।

এতে আসামি করা হয়েছে– জাকির মিয়া (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৫২), আলামিন ওরফে জিকির (৪০) ও বাহার মিয়া (২২)। রাতেই পুলিশ বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার
করেছে। আসামিরা সবাই একই ইউনিয়নের বাড়িউড়া গ্রামের বাসিন্দা।

মেয়েটির স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়,  ৭ অক্টোবর একই গ্রামের একটি মাদ্রাসার মাঠে ওয়াজ মাহফিল ছিল। মাহফিল শোনার জন্য সেখানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় ওই মেয়েটি। পথ থেকে মুখ চেপে অটোরিকশায় উঠিয়ে তাকে নদীতীরের নির্জন স্থানে নিয়ে যায় আসামিরা। সেখানে জাকির, নাঈম ও সোহাগ মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। অন্যরা ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। রাত ১১টার দিকে মেয়েটিকে বাড়ির পাশে ফেলে পালিয়ে যায় তারা। এর আগে কাউকে কিছু জানালে মেয়েটিকে হত্যা করা হবে বলে হুমকিও দেয়।

শারীরিক যন্ত্রণা সইতে না পেরে মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরে গত বৃহস্পতিবার তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালীর ভাষ্য, ওই কিশোরীকে ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে আলামত নষ্ট হওয়ার শঙ্কা বেশি। তার পরও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি জানা যাবে।

মেয়েটির বাবার ভাষ্য, গ্রামে বিষয়টি জানাজানির হওয়ার পর স্থানীয় কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি তাদের বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তারা থানায় কিছু জানাতেও মানা করেন। এ কারণে তাদের পুলিশের কাছে যেতে দেরি হয়। ওই ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় নষ্ট করেও সুরাহা না করায় তারা আইনি প্রতিকারের জন্য শনিবার রাতে থানায় মামলা করেন।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে বাহার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

মহিলা পরিষদের নিন্দা

এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামীমা শিকদার বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। আইনে ফাঁকফোকর দিয়ে যেন এসব অপরাধীরা বের হয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর রাখতে হবে।

দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান-যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।’

সংকটকালে দেশের জনগণ সব সময় দেশ রক্ষায় রাজপথে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে জনগণ ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে নেমেছে। সেসব আন্দোলনেও ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিনও দলমত নির্বিশেষে নারী-পুরুষ, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল। আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গণ-অভ্যুত্থানকে সফল করেছিল।’

দেশ গড়ার সংগ্রামে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশকে স্বাধীন করার জন্য, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যেমন ধর্ম দেখিনি, জাত দেখিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে দেশ গড়ার সংগ্রামেও আমরা ধর্ম দেখব না। আমরা দেখব কে এই দেশের নাগরিক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয়, আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রতিটি ধর্ম ও পেশার মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য হচ্ছে-এ দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করেছে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

রাতে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী মহাখালী রক্ষাকালী মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে তিনি বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

‘হালাল এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এ আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের অংশগ্রহণ

০

দেশের হালাল অর্থনীতির বিকাশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবার প্রসারে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘হালাল এক্সপো ঢাকা ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ১৭ অক্টোবর ব্যাংকের স্টল পরিদর্শন করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাফাত উল্লা খান।

পরিদর্শনকালে ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. হাবীব উল্লাহ, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল আহমেদ ও মো. মজিবর রহমান, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনসুর আহমেদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. কামরুল ইসলাম ও এস.আই.এম শাহরিয়ার, সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মিজানুর রহমান এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মাজহারুল ইসলাম চৌধুরীসহ ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।

খাদ্য ও পানীয়, প্রসাধনী, শালীন পোশাক, ইসলামী ব্যাংকিং ও ফাইন্যান্স এবং হালাল পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতের দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করে। আয়োজকরা জানান, প্রদর্শনীতে হালাল পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক হালাল অর্থনীতির বিকাশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ভূমিকা ও শরিয়াহসম্মত আর্থিক সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংকের বিভিন্ন আমানত, বিনিয়োগ ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা সম্পর্কে অবহিত করার সুযোগ তৈরি হয়, যা দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সংবাদ

দুর্গাপূজার রেসিপি: পাঁচমিশালি সবজির ফোড়ন

আজ পঞ্চমী, কাল মহাষষ্ঠী। আর কাল থেকেই এবছরের মূল পূজা শুরু। পূজার দিনগুলোতে আহারে নিরামিষই বেশি থাকে। বাজারে এখন যে সবজি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো দিয়ে রান্না করে ফেলতে পারেন মজাদার পদ। রেসিপি দিয়েছেন কোহিনুর বেগম।  

উপকরণ: পাঁচ রকমের সবজি যেমন পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, পটল,  ধুন্দল, চিচিঙ্গা আড়াইশো গ্রাম, আদা-রসুন বাটা এক চা চামচ, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া, জিরার গুঁড়া এক চা চামচ, পাঁচফোড়ন এক চা চামচ, পেঁয়াজ ও রসুন কুচি এক টেবিল চামচ, কাঁচা মরিচ ৫-৬টি, শুকনা মরিচ ২টি, লবণ স্বাদমতো, তেল ২ টেবিল চামচ

প্রস্তুত প্রণালি: সবজিগুলো পছন্দের আকারে কেটে নিন। ধুয়ে গরম পানিতে ভাপিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। পাত্রে তেল গরম হলে পাঁচফোড়ন দিন। সাথে সব উপকরণ দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার সবজিগুলো দিয়ে কষিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে রাখুন। ঢাকনা খুলে চুলা বন্ধ করে নিন। গরম গরম ভাতের সাথে পরিবেশন করুন।

কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে আগুনে পুড়ে নিহত ৪, আহত কয়েক ডজন

কানাডার একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে কানাডার মাটিতে ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ শান্তিকালীন ট্র্যাজেডিগুলোর একটি বলে বর্ণনা করেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হলো?
কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইটে স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টার (বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর ৪:০০ টা) দিকে ছড়িয়ে পড়া এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে হয়েছিল, সে সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত খুব কম তথ্যই নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঘাঁটির ময়দানে তাজা গোলাগুলি ব্যবহারের মহড়া (লাইভ ফায়ারিং এক্সারসাইজ) চলাকালীন গ্যাসের একটি মূল লাইনে আঘাত লাগার কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামরিক ও বেসামরিক ফায়ার ক্রুরা (দমকল কর্মীরা) সহকর্মী কানাডিয়ানদের রক্ষায় নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কল্পনাতীত সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে সারারাত এই আগুনের সাথে লড়াই করেছেন।

ওয়েইনরাইট মিউনিসিপ্যাল ডিস্ট্রিক্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছে, প্রচণ্ড বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুনের কারণ তদন্তাধীন রয়েছে এবং এই মুহূর্তে এটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

কতজন নিহত হয়েছেন?
কার্নি জানান, চারজন সামরিক সদস্যের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য না দিয়েই তিনি আরও বলেন, কয়েক ডজন মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

কার্নির জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে কানাডিয়ান গণমাধ্যম নিহতের সংখ্যা সাত বলে জানিয়েছিল। সরকার নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কি না, প্রধানমন্ত্রী তাঁর কোনো ইঙ্গিত দেননি।

নিহতদের নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাঁদের পরিবারকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ঘাঁটিটি কোথায় অবস্থিত?
কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েইনরাইট পশ্চিমাঞ্চলীয় আলবার্টা প্রদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত। এটি প্রদেশের বৃহত্তম দুটি শহর এডমন্টন থেকে প্রায় ১২০ মাইল এবং ক্যালগারি থেকে ১৮০ মাইল দূরে।

এটি কানাডিয়ান সেনাবাহিনীর অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি এবং এর এয়ারফিল্ডটি রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সও ব্যবহার করে। এখানে সবসময় একই পরিমাণ মানুষ থাকেন না। সূত্র নিশ্চিত করেছে, যেকোনো নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে ১,০০০-এর বেশি মানুষ ঘাঁটিটিতে অবস্থান করতে পারেন।

ইসরায়েলের গণহত্যা গাজায় ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৫ মরদেহ উদ্ধার, একসঙ্গে জানাজা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা ৭৫ ফিলিস্তিনিকে শেষ বিদায় জানানো হয়েছে গতকাল রোববার। দখলদার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ভবন ধসে এসব মানুষ নিহত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তারা সেগুলোর ভেতর পড়ে ছিলেন। এখন এই মরদেহগুলো উদ্ধার করে একসঙ্গে সবার জানাজা পড়ে তাদের কবরস্থ করা হবে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজা সিটির দারাজ এলাকা থেকে ৭৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে গাজার সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনও ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে আছে প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় গণহত্যা শুরু করে দখলদাররা। তিন বছর ধরে চালানো তাদের হামলায় ফিলিস্তিনের এ উপত্যকায় ৭৪ হাজার ৪৬৯ জন নিহত এবং এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। ধারণা করা হয়, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সরকারি হিসাবের তুলনায় আসল নিহত ও আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলা
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রাম তাইবেহের কাছে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা। হামলার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ফ্রান্সের একজন মেয়রও রয়েছেন, তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

শনিবার ফিলিস্তিনি জলপাই সংগ্রহকারীদের দেখতে গিয়েছিল প্রতিনিধি দলটি। এ সময় ইসরায়েলি হামলাকারীরা তাদের বাধা দেয় এবং দলটির মুখোমুখি হয়। এর এক দিন আগে রামাল্লার উত্তরে এক মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছিল বসতি স্থাপনকারীরা। শনিবারের হামলায় বেলজিয়ামের কনসাল জেনারেল, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিক এবং ক্যাথলিক প্রতিনিধিদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রেভো বলেন, ফ্রান্সের একজন মেয়রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বেলজিয়ামের একটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলার কারণে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এসব হামলাকে পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইসরায়েলিদের তাণ্ডবে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কো রুবিও
ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে সেখানে মার্কিন এক নারী আলোকচিত্রী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, আমরা এসব ছবি ও যা দেখছি, তা নিয়ে ‘খুবই উদ্বিগ্ন’। আমরা ইসরায়েলিদের এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলেছি এবং এখনও বলে যাচ্ছি।

টুপটুপ রিসোর্টে আগুন নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকার জন্য ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পোড়া মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পরীক্ষার ফল পেতে তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে স্বজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আরও একজন নিখোঁজ থাকতে পারেন। তাঁর খোঁজে রিসোর্টের ধ্বংসস্তূপে আবারও তল্লাশি চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস।

গত শনিবার সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভ-সংলগ্ন পাটুয়ারটেক এলাকার কাঠের তৈরি তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের সদস্যদের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দগ্ধ ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল বলেন, সিআইডির দল মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাবে। ডিএনএ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে কোনটি কার, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের পর স্বজনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান বলেন, স্বজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি রিসোর্টে ছিলেন কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে। ১০টি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে নিখোঁজ ব্যক্তির বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আরও কেউ নিখোঁজ আছেন কিনা, তা নিশ্চিত হতে রোববার সকাল থেকে ধ্বংসস্তূপে আবার তল্লাশি শুরু হয়েছে।

হাসপাতালে স্বজনের অপেক্ষা

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের বাইরে গতকালও অপেক্ষা করছিলেন স্বজনরা। তাদের কেউ মোবাইল ফোনে স্বজনের মরদেহের ভিডিও দেখাচ্ছিলেন, কেউ পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু আগুনে মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা রিয়াজ মাহমুদ রিপন বলেন, তাঁর পরিবারের ৯ জন সদস্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জন মারা গেছেন এবং তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি দেওয়ান ফয়সালও স্ত্রী নাসরিন আক্তারের খোঁজে কক্সবাজারে এসেছেন। তিনি বলেন, মরদেহের অবস্থা দেখে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন।

মনিরামপুরের একই পরিবারের চারজন নিহত

অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার মোহনপুর এলাকার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। তারা হলেন নাহিদুর রহমান তুহিন (৪০), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৫) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজায়না ইয়ানা (৭) ও সুনায়না ইয়ানা (৩)। আগুনে মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা যায়নি।

নাহিদুর রহমানের বাবা মতিয়ার রহমান জানান, তুহিন ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। শুক্রবার সকালে তারা ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টের একটি কক্ষে ওঠেন। শুক্রবার বিকেলে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। গতকাল তুহিনদের ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা ছিল।

শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার পর তুহিন, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বজনের কাছে তথ্য এসেছে। পরে তারা মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি। উদ্ধারকারীরা বাথরুম থেকে দুই শিশুসহ চারটি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষার আগে সেগুলো তুহিনের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

নিহতদের দেহাবশেষ থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই পরিবারে যে ছয়জন মারা গেছেন, তাদের স্বজন এবং অপর এক নিহতের স্বজন গতকাল ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ সমকালকে বলেন, সাতটি মরদেহের জন্য তাদের পরিবারের চারজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। ফরেনসিক বিভাগ এ বিষয়ে কাজ করছে।

ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি

জেলা প্রশাসনের গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গতকাল সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কমিটির সদস্যরা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যক্তিদের বক্তব্য নেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান বলেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। আগুন লাগার কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া রিসোর্ট পরিচালনার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিকে আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। তদন্ত শেষে অনিয়মের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

রিসোর্ট মালিকসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এ ঘটনায় রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রিসোর্টের মালিক তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদ রয়েছেন। অন্য আসামিরা অজ্ঞাতনামা। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

মণ্ডপে ভক্ত-পূজারি, দর্শনার্থীর ভিড়, মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা আজ

শারদীয় দুর্গোৎসবের তৃতীয় দিন মহাসপ্তমীতে গতকাল রোববার মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর ভিড় আরও বেড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপগুলোতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক রাত পর্যন্ত দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করেন।

উৎসবের চতুর্থ দিন আজ সোমবার মহাষ্টমী ও সন্ধি পূজা। রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনসহ বেশ কয়েকটি মণ্ডপে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা।

এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমী তিথি দুদিন পড়ায় শনিবার প্রথম দিনের মহাসপ্তমী পালিত হয়। গতকাল রোববার সকাল ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো দেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত (অধিক) পূজা অনুষ্ঠিত হয়। অনেক মণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন রয়েছে।

মহাষ্টমীতে আজ সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হবে। রামকৃষ্ণ মিশন, মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকামতে দুর্গাপূজা আয়োজনের কারণে এসব মণ্ডপে পূজার সময়ের কিছুটা হেরফের ঘটবে।

তবে আজকের দিনের প্রধান আকর্ষণ থাকবে কুমারী পূজা। সকাল সাড়ে ১০টায় রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপে এ কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, অল্পবয়সী একটি মেয়েকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে পূজা করা হয়। রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথা ও নিরাপত্তার কারণে কুমারী পূজার আগ পর্যন্ত মেয়েটির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয় না।

রাজধানীতে ভক্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস

কেউ দেবী প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়। আবার কারও ব্যস্ততা মণ্ডপের সাজসজ্জা ঘিরে ভিডিও তৈরিতে। এরই মধ্যে মাইকে ভেসে আসে মন্ত্রপাঠের ধ্বনি। শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলির প্রস্তুতি। ছবি তোলা থামিয়ে তখন সবাই দাঁড়ান প্রার্থনায়। রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে এভাবেই ভক্তি, পারিবারিক বন্ধন আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল রোববার বনানী, মৌচাক, রমনা, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজে যোগ হয়েছে নানা মাত্রা।

বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘জলজ’। জলকে জীবন ও সৃষ্টির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে বাঁশ, বেত, পাট ও প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। পদ্মফুলের আদলে নির্মিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পেছনে শঙ্খের অনুষঙ্গ। স্থপতি অমিতি কুণ্ডু এবং শিল্পী পার্থপ্রতিম সাহার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয়েছে এ মণ্ডপ।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরেও পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। মাঝবয়সী অর্ণব দত্তকে দেখা গেল, মেয়েকে নিয়ে দেবী প্রতিমার সামনে ছবি তুলছেন। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী দেশের বাইরে। তাই যতটা সম্ভব ছবি তুলে ও ভিডিও করে তাঁকে পাঠাই।’

রমনা কালীমন্দিরের পূজা প্রাঙ্গণে বসেছে সপ্তাহব্যাপী মেলা। আলোকসজ্জায় সাজানো মেলা ঘুরে পুকুরপাড়ে দেখা যায়, তরুণদের আড্ডা, চা খাওয়া আর ছবি তোলার ব্যস্ততা।

দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইশরাক হোসেন।

পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’

ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’

ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!

 

গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল দিনভর তা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়।

এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর আগে এক অডিও বার্তায় বলেন, এ ধরনের সংবাদ কোনো উড়ো খবর হয়ে আসবে না। অবশ্যই আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স করে বলব এবং আপনারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

একের পর এক বিতর্কে বিএনপিতে অস্বস্তি

বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।

আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছি: ইশরাক

গতকাল দিনের বেলায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। হামলার শঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।

বিবৃতিতে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আগে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবল সংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি তার।

তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইশরাক আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও গত শনিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।

ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা গত শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তারা পরে বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সাধারণভাবে মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট এ অভিযান বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় ছিল কি না–সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।

ইশরাকের ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়: জামায়াত

ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন গেণ্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।’