Home Blog

ঘন ও লম্বা চুলের জন্য খাদ্যতালিকায় রাখুন বায়োটিন সমৃদ্ধ ৭ খাবার

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-

মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 

মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে।
মাশরুম
মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়।
মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।
ডিম
ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী।
স্যামন মাছ
স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
ফ্ল্যাক্স সিড 
ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়।
কাঠবাদাম 
কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন।

ডালিম নাকি আপেল, হার্টের জন্য কোনটি উপকারী?

ডালিম ও আপেল দুই ফলে খাদ্য আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে। ডালিমে রয়েছে পলিফেনল, যা হার্টের জন্য উপকারী। অন্যদিকে, আপেলেও রয়েছে খাদ্যআঁশসহ বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল। আর এ পলিফেনল হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

ডালিম খাওয়ার উপকারিতা
ডালিম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে। এ ফল প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হৃদযন্ত্রে রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।

আপেল খাওয়ার উপকারিতা
আপেল মোট কোলেস্টেরল ও ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে ভূমিকা রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, শরীরের প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এ ফল। তবে এসব উপকারের মাত্রা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক অবস্থা এবং ফল খাওয়ার পরিমাণের ওপর নির্ভর করে। তবে ফল খাওয়াকে কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা উচিত নয়।

ডালিমের পুষ্টিগুণ 
আধা কাপ ডালিমের দানায় রয়েছে, ক্যালরি ৭২, প্রোটিন ১.৪৫ গ্রাম, মোট চর্বি ১ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ১৬ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৩.৫ গ্রাম, মোট শর্করা ১২ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ১০ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২০৫ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ২.৬ মিলিগ্রাম।

আপেলের পুষ্টিগুণ 
একটি মাঝারি আকারের আপেলে রয়েছে ক্যালরি ৯৬, প্রোটিন ০.৪ গ্রাম, মোট চর্বি ০.৩ গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২৩ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ৪ গ্রাম, মোট শর্করা ১৭ গ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ৮.৫ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৬৯ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ৩.৪ মিলিগ্রাম।

দেখা যায়, একটি মাঝারি আপেলে ডালিমের আধা কাপ দানার তুলনায় খাদ্যআঁশ বেশি। অন্যদিকে, ডালিমে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের পরিমাণ কিছুটা বেশি। আপেলে ক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ও মোট শর্করার পরিমাণও বেশি। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দেয়।

কোন ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বেশি?
ডালিমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জৈব সক্রিয় উপাদান হলো পুনিক্যালাজিন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। হৃদস্বাস্থ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ডালিমে আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পলিফেনল, যেমন এলাজিট্যানিন, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনল, অ্যান্থোসায়ানিন ও এলাজিক অ্যাসিড। অন্যদিকে, আপেলের অন্যতম প্রধান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হলো ফেনলিক যৌগ। আপেলে রয়েছে পলিফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ভিটামিন সি। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে ভূমিকা রাখে। তবে শুধু অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বিবেচনা করে কোন ফল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ফলের পুষ্টিগুণ, শরীরে উপাদানগুলোর কার্যকারিতা এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

যেভাবে খাদ্যতালিকায় রাখবেন ডালিম ও আপেল
ডালিম ও আপেলের পুষ্টিগুণ পেতে প্রতিদিনের খাবারে সহজেই ফল দুটি যোগ করা যায়। যেমন ফলের রসের পরিবর্তে ডালিমের দানা ও খোসাসহ গোটা আপেল খান, সকালের ওটমিল বা চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ডালিমের দানা কিংবা আপেলের টুকরা মিশিয়ে নিন। সালাদ বা শস্যজাতীয় খাবারের সঙ্গে ফল দুটি যোগ করতে পারেন। বাদাম, বীজ, বাদামের মাখন অথবা কম চর্বিযুক্ত পনিরের সঙ্গেও এ দুটি ফল খেতে পারেন।

ডব্লিউটিওর হিসাব এলডিসি থেকে উত্তরণে রপ্তানি কমতে পারে বছরে ৬৩৮ কোটি ডলার

০

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হলে কমবে কিছু বাণিজ্য সুবিধা, যার ওপর দেশের রপ্তানি অনেকটাই নির্ভরশীল। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) এক হিসাব অনুযায়ী, এলডিসি হিসেবে পাওয়া শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উঠে গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ বা বছরে প্রায় ৬৩৮ কোটি ডলার কমতে পারে।

২০১৮ সালের বাণিজ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ হিসাব করা হয়েছে। ফলে এটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চিত্র, বর্তমান রপ্তানি থেকে ঠিক কত আয় কমবে তার হিসাব নয়। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপানসহ কয়েকটি বড় বাজারে শুল্ক বাড়লে বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা আবিদ খান গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক সেমিনারে এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে উপস্থাপনায় এ তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর উপস্থাপনায় ডব্লিউটিওর তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বিএফটিআই ও অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

উপস্থাপনায় বলা হয়, বাজার সুবিধা হারানোর পাশাপাশি রপ্তানি প্রণোদনা, ওষুধশিল্প, আন্তর্জাতিক সংস্থায় চাঁদা ও উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা, রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শ্রমমান ও উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানোর মতো সংস্কার জরুরি।  বিএফটিআইর সুপারিশ, উত্তরণের পর বাজার সুবিধা ধরে রাখার পাশাপাশি পণ্য ও বাজার— দুই দিকেই রপ্তানি বাড়াতে হবে।

নানা ধাপ পেরিয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তবে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।

কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল কর্মকৌশল নিল বিশ্বব্যাংক

০

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কর্মকৌশল উদ্বোধন করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ। এ কৌশলে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিজিটাল সেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ডিজিটাল কর্মকৌশলের উদ্বোধন ঘোষণা করে সংস্থাটি। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংক জানায়, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ১২০ কোটি তরুণ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। অথচ এ সময়ে এসব দেশের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে প্রায় ৪২ কোটি। এ ব্যবধান কমাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে। তবে এর সুফল পেতে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট, সাশ্রয়ী ডিভাইস, ডিজিটাল দক্ষতা ও কার্যকর সেবার সমন্বয় প্রয়োজন। কৌশলের চারটি অগ্রাধিকার হলো– নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণ, স্মার্টফোন ও ডেটার ব্যয় কমানো, ডিজিটাল সেবা ও দক্ষতা বাড়ানো এবং এআই ব্যবহারের প্রস্তুতি তৈরি করা।

নতুন কৌশলের আওতায় ইন্টারনেট অবকাঠামো সম্প্রসারণে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্মার্টফোন ও ব্রডব্যান্ডের ব্যয় কমানো এবং ডিজিটাল পরিচয়, অর্থ পরিশোধ ও নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক। কর্মসংস্থানসংশ্লিষ্ট ডিজিটাল প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগও থাকবে। পাশাপাশি উদীয়মান বাজারের দেশগুলোতে এআই ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে নতুন একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ।

যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চালাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে মার্কিন সামরিক ড্রোন ভূপাতিত, দুই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুই পক্ষের মধ্যে এই যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে কাতার। মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা চালিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ের কঠিন বাস্তবতায় স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

কাতারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, সংঘাত যদি এভাবেই বাড়তে থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে। গতকাল মঙ্গলবার দোহার গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে তিনি বলেন, যে কোনো যুদ্ধবিরতি কোনো গন্তব্য নয়, বরং শান্তির দিকে পৌঁছানোর একটি দরজা মাত্র।

এদিকে আলোচনায় অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির তেহরান সফরে গেছেন। সফরে তিনি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আলোচনায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে তেহরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান আলোচনা এবং কূটনীতির অচলাবস্থার পেছনে কৌশলগত হিসাবনিকাশ কাজ করছে। চারটি ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল যেন বড় ধাক্কা খায়, সে জন্য তেহরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনা দীর্ঘায়িত করছে।
আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ট্রাম্পের জনসমর্থন ইতোমধ্যে রেকর্ড পতন হয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর
ইরানে আবার হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইরান সরকারের পতন ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত সোমবার ইসরায়েল সফরে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেখানে আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

হরমুজে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত, তেল ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ 
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা গতকাল সকালে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া প্রণালিতে নৌমাইনে আঘাতের পর একটি সুপার ট্যাঙ্কারে আগুন ধরে গেছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। তাদের দাবি, জাহাজটি নেভিগেশন ও রাডার ব্যবস্থা বন্ধ করে ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল। ট্যাঙ্কারটিতে ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল ছিল। এর আগে আরও দুটি ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার দাবি করেছিল আইআরজিসি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ দাবি ‘ভুল’ বলে জানিয়েছে আলজাজিরাকে।

যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানের এই হামলা-অবরোধে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। তবে এইচএসবিসির প্রধান নির্বাহী জর্জ এলহেদারি জানিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পাইপলাইন ও লজিস্টিক রুটে বড় ধরনের বিনিয়োগ শুরু করেছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কৌশলগতভাবে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে পারে।

ইরানকে কঠোর চাপে রাখার দাবি ট্রাম্পের 
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। কানসাসের এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের নেতৃত্ব পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং মার্কিন-ইরান আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে মস্কোও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তেহরান সফর করে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিহাসে এই প্রথম ইরান ও রাশিয়া এত ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে তার প্রশাসন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকার মধ্যেই ভিসা বাতিলের এ তথ্য সামনে এল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের সংখ্যা আরও দ্রুত বেড়েছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে তখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।

ট্রাম্পের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করা এবং অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) অভিযানের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে অধিকারকর্মীদের মতে, এসব পদক্ষেপ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও বাকস্বাধীনতার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা নিজেদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইতিহাসের অন্য যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় অনেক দ্রুত বিপুলসংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি আরও বলেন, ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যেসব বিদেশি নাগরিক আইন ভঙ্গ করেন, জালিয়াতি করেন অথবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ান, তাদের বিষয়ে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ বা বিন্দুমাত্র ছাড় না দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে।

অধিকারকর্মীরা যেসব ভিসা বাতিলের ঘটনার সমালোচনা করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের হামলার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল। এ ছাড়া রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্কের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার কারণে বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনাও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

বিদেশি বিক্ষোভকারীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ ছাড়া জালিয়াতির বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটায় বসবাসরত সোমালি-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মতো বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেও নিশানা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও কঠিন করেছে। এর উদাহরণ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার ক্ষেত্রে উচ্চ ফি আরোপের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

তিন বিভাগ সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটে সামরিক বিমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

দুর্গাপূজার মহানবমীতে গতকাল রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে সকাল ৯টায় ঢাকা ছাড়েন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাকে কাছে পেয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তাকে শারদ প্রণাম জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামরিক বিমানে ঢাকায় ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু প্রমুখ।

৫ বছরে দুর্যোগে ২৫৩৩ মৃত্যু ৬০ শতাংশই বজ্রপাতে

দেশে গত পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, বজ্রপাত, ভূমিকম্প ও পাহাড়ধসে মোট দুই হাজার ৫৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৩০ জনই মারা গেছেন বজ্রপাতে, যা মোট প্রাণহানির প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, এসব দুর্যোগের মধ্যে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছে বন্যায়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগের ধরন, ক্ষয়ক্ষতি ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছয় ধরনের দুর্যোগের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম স্থানে রাখা হয়েছে বজ্রপাতকে। গত ৬ অক্টোবর সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বজ্রপাতে মারা গেছেন এক হাজার ৫৩০ জন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে অগ্নিকাণ্ডে। এ সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এক লাখ ২৪ হাজার ৪৮৬টি। বন্যায় মারা গেছেন ১৯৭ জন, পাহাড়ধসে ৯০ জন, ঘূর্ণিঝড়ে ৫২ জন এবং ভূমিকম্পে ১০ জন।

প্রতিবেদনে বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সতর্কবার্তা পৌঁছানো, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ বছরে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্প ও বজ্রপাতে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৪৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার। এর মধ্যে বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ ২৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। ঘূর্ণিঝড়ে ১১ হাজার ৭৩৬ কোটি, অগ্নিকাণ্ডে দুই হাজার ২০ কোটি, ভূমিকম্পে ১০৮ কোটি এবং বজ্রপাতে ১০৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময়ে দেশে ৯টি বড় বন্যা হয়েছে। আর ঘূর্ণিঝড় হয়েছে ছয়টি।
বাংলাদেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা দীর্ঘদিনের। তবে সরকারিভাবে বজ্রপাতকে দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয় ২০১৬ সালে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত জাতীয় পরিকল্পনায় মোট ১৩ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের উল্লেখ রয়েছে। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বজ্রপাতের ঘটনা তুলনামূলক কম থাকে। মার্চ থেকে তা বাড়তে শুরু করে। এপ্রিলে বজ্রপাতের তীব্রতা বাড়ে এবং মে মাসে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। জুন ও জুলাইয়ে আবার কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরে বজ্রপাতের প্রবণতা কিছুটা বাড়ে। দেশের সব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে এর প্রবণতা বেশি। উত্তরাঞ্চলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশ কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় না পাওয়ায় তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-বিশেষজ্ঞ গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলে আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে। বজ্রপাতে মৃত্যু কমানোর কার্যকর প্রস্তুতি নেই। কারণ, বজ্রপাতে যারা মারা যান, তারা খুবই দরিদ্র। বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার তিন-চার গুণ গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। সেই হিসাবও করতে হবে। বজ্রপাতে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য একটি প্রটোকল তৈরি করা প্রয়োজন।

বিজয়া দশমী আজ, বিদায়ের সুর মণ্ডপে মণ্ডপে

মণ্ডপে মণ্ডপে বিষাদের ছায়া। ঢাক-কাঁসরের বাদ্যি-বাজনা, রাত্রি উজ্জ্বল করা আরতি ও পূজারি-ভক্তদের পূজা-অর্চনায় শুধু মা দুর্গার বিদায়ের আয়োজন। আজ বুধবার শুভ বিজয়া দশমী। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে। মর্ত্যলোক ছেড়ে বিদায় নেবেন মা। অশ্রুসজল চোখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিসর্জন দেবেন প্রতিমা। এর মাধ্যমে ভাঙবে ছয় দিনের সার্বজনীন মিলনমেলা।

উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় মহানবমী পূজা। এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহানবমী কল্পারম্ভ ও মহানবমীবিহিত পূজার আয়োজন করা হয়। পূজা শেষে হোম
ছাড়াও যথারীতি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সন্ধ্যায় ভোগ-আরতি ছিল।

দিনটির প্রধান আকর্ষণ ছিল মণ্ডপে মণ্ডপে আরতি প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যা ও রাতকে উজ্জ্বল করে ভক্তরা মেতে উঠেছিলেন নানা ঢঙে, আরতি নিবেদনে। সেই সঙ্গে ছিল দিনভর পুরোহিতদের চণ্ডীপাঠ। মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের কীর্তন-বন্দনা। এ উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের পূজামণ্ডপে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় আরতি প্রতিযোগিতা।

আজ বিজয়া দশমীতে সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দশমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন দেওয়া হবে। এরপর সারাদেশে স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধামতো সময়ে বিজয়ার শোভাযাত্রা সহকারে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সর্বত্র বিসর্জন শেষে ভক্তরা শান্তিজল গ্রহণ করবেন।

বিসর্জনের উদ্দেশ্যে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হবে বেলা ৩টায়। এর আগে রাজধানীর ২৫৮টি পূজামণ্ডপের অধিকাংশই এসে জমা হবে পলাশীর মোড়ে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্যি-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বিজয়ার শোভাযাত্রা। এরপর সদরঘাটের ওয়াইজঘাটের বুড়িগঙ্গা নদীর জলে একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে প্রতিমা। নিরাপত্তার কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা রয়েছে।
বিজয়া দশমী উপলক্ষে আজও সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ সংখ্যা ও নিবন্ধ।

শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকালে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবেন।

নবমীর আনন্দ
ঢাকের শব্দে মুখর চারদিক। কোথাও মণ্ডপজুড়ে আলোর ঝলকানি, কোথাও প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনায় মগ্ন ভক্ত। দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মণ্ডপে আনন্দের পাশাপাশি অনুভূত হচ্ছে বিষাদের আবহ।

গতকাল নবমীর দিনে পুরান ঢাকার অলিগলিতে উৎসবের এমনই এক পরিচিত ছবি দেখা যায়। পুরোনো বাড়িঘর, পাশাপাশি দোকানপাট আর সরু রাস্তার ফাঁকে ফাঁকে সাজানো পূজামণ্ডপ। কোথাও ভক্তদের প্রার্থনা, কোথাও ঢাকের বাদ্যি। শাঁখারীবাজারের পথে এগোলে একের পর এক মণ্ডপে চোখে পড়ে প্রতিমার সাজসজ্জা। দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে প্রণাম করছেন ভক্তরা। অনেকে পরিবারের ছোটদের নিয়ে ঘুরছেন, কেউ আবার ছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিমা দর্শনে ব্যস্ত।

জনস্বাস্থ্য ডেঙ্গু সংক্রমণ ২৬ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ

বছরের প্রথম সাড়ে ৯ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ২০০০ সালে ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর সংক্রমণের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ভাইরাসজনিত এই রোগে প্রাণ গেছে ৩৫৭ জনের। মৃত্যুর দিক থেকে ২৬ বছরের মধ্যে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ।

সংক্রমণের এই হিসাব শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের। ফলে উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নেওয়া, পরীক্ষা না করানো কিংবা হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের সংখ্যা এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। প্রকৃত সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ওই বছর প্রাণ হারান এক হাজার ৭০৫ জন। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০২৪ সালে, ৫৭৫ জনের।
এদিকে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যু বাড়তে থাকলেও সরকার বলছে, এ রোগ নিয়ন্ত্রণে তাদের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার ধরন বদলানোর পাশাপাশি এডিস মশার বিস্তার ও আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া অপরিকল্পিত নগরায়ণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগের অভাব এবং মশক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণে ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ছিটানো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চললেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসায় প্রচলিত কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে পাঁচ হাজার ৫৫১ জন রোগী শনাক্ত হন, মারা যান ৯৩ জন। এর পর বিভিন্ন সময়ে সংক্রমণ বাড়লেও ২০২৩ সালে তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। পরের বছরগুলোতেও ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক ছিল। ২০২৪ সালে এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান ৫৭৫ জন। ২০২৫ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এক হাজার ৩৬৬ জন।

মশক নিয়ন্ত্রণে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন
ডেঙ্গু প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের (ডিপিএফবি) সাধারণ সম্পাদক ও জাপানের ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স টোকিওর গবেষক ডা. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ খান সমকালকে বলেন, মশা নিধনের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে লোক-দেখানো কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ওষুধ ছিটিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেখানে কার্যকরভাবে লার্ভা ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ কার্যক্রমে সাধারণ মানুষকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করলেও মানুষকে সচেতন করে প্রতিরোধ কার্যক্রমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ‘স্কুল অ্যাম্বাসাডর’ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজেও ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও বলেন, মশক নিধন আর এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ এক বিষয় নয়। তাই প্রচলিত মশক নিধন কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্তকরণ, লার্ভা ধ্বংস এবং নিয়মিত তদারকির ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু উড়ন্ত মশা মারার বদলে বংশবিস্তার বন্ধ করতে পারলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ডেঙ্গু একবার কোনো এলাকায় বিস্তার লাভ করলে তা পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন। তবে পরিকল্পিত মশক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, প্রজননস্থল ধ্বংস এবং কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Mosa%20edis 1792553891

একসময় বর্ষাকালকে ডেঙ্গুর প্রধান মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বছরের অন্য সময়েও ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ফলে শুধু বর্ষাকাল সামনে রেখে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা, বৃষ্টি ও আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে এডিস মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণের ধরন বদলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঢেলে সাজাতে হবে। এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুটি পদ্ধতি রয়েছে—মিটিগেশন বা প্রশমন এবং অ্যাডাপটেশন বা অভিযোজন। মশক নিয়ন্ত্রণে যুক্ত সংস্থাগুলোর পক্ষে বড় পরিসরে প্রশমন কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হলেও অভিযোজনের মাধ্যমে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব। কবিরুল বাশারের মতে, পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে এডিস মশার আচরণে যেসব পরিবর্তন ঘটছে, সেগুলো শনাক্ত করে সে অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রাজধানীর বাইরেও বাড়ছে রোগীর চাপ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালের রোগী। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় দুজন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪১৫ জন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১, চট্টগ্রামে ১০৫, খুলনায় ১৪১, ময়মনসিংহে ৮০, রাজশাহীতে ১২৮, রংপুরে ৭২ ও সিলেটে ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোগীর এই বিস্তৃত ভৌগোলিক উপস্থিতি বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নজরদারি জোরদার এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সমকালকে বলেন, ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, মারা যাওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার তিন দিন বা তারও পরে হাসপাতালে এসেছেন। এ ছাড়া ডেঙ্গুর হটস্পট চিহ্নিত করে মশার লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনগুলোও কাজ করছে। হাসপাতালে আসা রোগীদের ঠিকানা যাচাই করে যেসব এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছেন, সেসব এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও লার্ভিসাইড প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। প্রতি সপ্তাহে মেয়র ও প্রশাসকদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে বৈঠক করছেন। সবাই মিলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন।