পাকিস্তান থেকে আসা কনটেইনারে মিলল ২৫ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড

0
45
পাকিস্তান থেকে আসা কনটেইনারে মিলল ২৫ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড
পাকিস্তান থেকে আসা কনটেইনারে মিলল ২৫ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড

পাকিস্তান থেকে আসা দুটি কনটেইনার থেকে ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি আমদানি নিষিদ্ধ ‘পপি সিড (পোস্ত দানা)’ জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা চালানটি আটক করে।

এর আগে গত ৯ অক্টোবর দুই কনটেইনারের চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে নামানো হয়। এই বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা, যেখানে আমদানিকারকরা মিথ্যা ঘোষণায় এর মূল্য দেখিয়েছিলেন মাত্র ৩০ লাখ টাকা।

কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচএম কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা চালানটি আটক করে। চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জের মেসার্স আদিব ট্রেডিংয়ের নামে এই চালান এসেছিল। বন্দর থেকে কনটেইনারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ছাবের আহমেদ টিম্বার কম্পানি লিমিটেড নামের একটি অফডকে। আমদানি নীতি আদেশ এবং দেশের মাদক আইনের চোখ ফাঁকি দিতেই এই কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল বলে মনে করছেন এ কাস্টমস কর্মকর্তা।

আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪ অনুসারে পপি সিড বা পোস্ত দানা আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হলো, এই পপি সিড যদি অঙ্কুরোদগম উপযোগী হয়, তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী এটি ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও ভারতে পোস্ত দানা রান্নার মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু এর মাদক উপাদান বা অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকায় বহু দেশেই এর আমদানিতে কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে।

কাস্টম হাউস সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের শান্তিবাগের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমএইচ ট্রেডিং গত ১৪ অক্টোবর চালানটি খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

সন্দেহ হওয়ায় খালাস স্থগিত করে ২২ অক্টোবর ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়। প্রতারণার কৌশল হিসেবে কনটেইনারের মুখের দিকে সামান্য পরিমাণে ৭ হাজার ২০০ কেজি বার্ড ফুড (পাখির খাবার) সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভেতরের মূল অংশে পাওয়া যায় ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি নিষিদ্ধ পপি সিড।

কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার এইচ এম কবির জানান, আটকের পর পণ্য দুটির নমুনা উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়। ল্যাব রিপোর্টে একটি পণ্য পপি সিড হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পরই কাস্টম আইন, ২০২৩-এর বিধান অনুযায়ী চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here