বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে। রাজনীতি স্থিতিশীল থাকলে অর্থনীতি সামনে আরও ভালোভাবে চলবে।
শনিবার টাঙ্গাইলের বাসাইলে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্টের হলরুমে এমএফআই-ব্যাংক লিংকেজ বিষয়ে আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির উদ্যোগে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকের অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
এ সময় গভর্নর পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার অগ্রগতি নিয়ে বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ইংল্যান্ডে আইনজীবী পাঠানো হয়েছে। বিভিন্ন গ্রুপ অব কোম্পানিগুলোর ক্লেইমটা এসটাবলিস্ট করার চেষ্টা করছে। যদি সাকসেসফুল হয়, তাহলে দ্রুত পজিটিভ রেজাল্ট আসবে।
গভর্নর তার বক্তব্যে বলেন যে, বর্তমানে আমরা এমন এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে ডিজিটাল ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দ্রুত রূপান্তরিত করছে।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন ডিজিটাল যুগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে—ডেটা-ভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অনলাইন সেবা, এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে নিজেদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন করতে হবে। তবে তিনি বলেন খাতটির বিকাশে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। ক্ষুদ্রঋণ খাতে ঋণ বিতরণে এভার গ্রীনিং একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সিআইবি বাস্তায়ন করা হলে এ সমস্যা অনেকাংশে দুর হবে। ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের হিসাবায়নে একটি ফায়ারওয়্যাাল তৈরি করতে হবে যেখানে সামাজিক কার্যক্রম ও ঋণ কার্যক্রম পৃথকভাবে প্রদর্শিত হবে। মডার্ণ ক্যাশলেস সিস্টেমের সাথে ইন্টিগ্রেটেড করা যায় এমনভাবে এমএফআই এর মূল একাউন্ট সংরক্ষণ করতে হবে। একসময় ব্যাংক এমএফআই এর কাছে যেত না, এখন যাচ্ছে। বর্তমানে ফরমাল ব্যাংক এজেন্ট বাংকের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সার্ভিস দিচ্ছে। আগামীতে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন পেলে আরো দ্রুত গ্রমীণ জনগোষ্ঠী সহজে ঋণ পাবে বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, আগামীতে ৫টি কোম্পানি ক্রেডিট স্কোরিং করার অনুমোদন পাচ্ছে, ফলে দ্রুততম সময়ে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ক্রেডিট স্কোর পাওয়া সম্ভব হবে। ব্যাংক থেকে এমএফআইতে কৃষি ঋণ বিতরণের হার বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি ইতিবাচক মতামত প্রদান করেন যাতে গ্রামীণ কৃষিতে অধিকমাত্রায় ঋণের প্রবাহ সৃষ্টি হয়।
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অধিক হারে আমানত গ্রহণের বিষয়ে গভর্ণর মহোদয় বলেন প্রতিষ্ঠানের গভার্নেন্স ইস্যুতে কোয়ালিটেটিভ জাজমেন্ট করার পর সন্তোষজনক হলে এই হার বাড়ানো যেতে পারে । অন্যদিকে ব্যাংক হতে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ব্যাংক-এমএফআই ফ্রেমওয়ার্ক করা জন্য এমআরএ উদ্যোগ নিতে পারে মর্মে তিনি মত প্রকাশ করেন।
সেমিনারে সভাপতি হিসেবে অথরিটি’র এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংক–এমএফআই সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ক্ষুদ্রঋণ খাতের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন এখন ব্যাংকগুলো এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে চড় অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্টির আমানত নিয়ে শহরে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সেসব এলাকায় ঋণ বিতরণ না করা হলে অর্থনৈতিক অসমতা সৃষ্টি হয়। সে বিষয়টিতে খেয়াল রাখার আহবান জানান। বর্তমানে এমএফআই গুলোর ক্ষুদ্রউদ্যোগ ঋণ বিতরণে অধিক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মিশন থেকে সরে যাচ্ছে কিনা সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, অথরিটি নিয়মিতভাবে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের অর্থ প্রবাহ সুনিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। অথরিটি থেকে বৈদেশিক ঋণ, বন্ড ইস্যু, কৃষি ঋণ, উদ্যোগ ঋণ ও গৃহায়ন ঋণের বিষয়ে ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে যা ক্ষুদ্রঋণ খাতে অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করছে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান বলেন অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের খেলাপীর হার অধিক হলেও ক্ষুদ্রঋণখাতে সোনালী ব্যাংকের ঋণ খেলাপীর হার ১ শতাংশেরও কম। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত মহাব্যাবস্থাপক বলেন ক্ষুদ্রঋণ খাতের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০০০ কোটি টাকা মধ্যে ইতিমধ্যে নির্র্দিস্ট ফ্রেমওয়ার্কের আওতায় ৩৫০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং এখাতে আদায়ের হারও সন্তোষজনক।




