বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান সংবিধানে গণভোট করার সুযোগ নেই।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ভবনের ক্রাইম রিপোর্টার্স মিলনায়তনে লেখক মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিনের ‘আগামীর উন্নত জাতি গঠনের দিক-নির্দেশনামূলক সুপারিশ’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে একটি সংবিধান আছে, যে সংবিধানে অধীনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। এই সংবিধানে গণভোটের কোনো প্রভিশন নাই, কোনো অপশন নাই। এখন গণভোট নির্বাচনে আগে কেন, নির্বাচনের দিনও গণভোট করা এ সংবিধান গ্রহণ করবে না। সুতরাং আমাকে সংবিধান মানতে হবে।’
তিনি বলেন, গণভোট নির্বাচনের দিনে আয়োজন করার সিদ্ধান্তে বিএনপি একমত হয়ে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, যাতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সহনশীল পরিস্থিতি বজায় থাকে। দেশে পরস্পরের মধ্যে সম্মানবোধ থাকে, বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যেসব প্রস্তাবে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে, সেগুলোতে ঐকমত্য হয়নি বলে উল্লেখ করেন আমীর খসরু। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট যেখানে, সেখানে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে। দ্বিমত পোষণ করার অর্থ হচ্ছে ঐকমত্য হয়নি। যে বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি, সেটাও গণভোটে যেতে পারে না। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এখন ঐকমত্য হয়নি, এমন অনেক দাবিও উত্থাপন করা হচ্ছে।
আমীর খসরু বলেন, ‘মানুষ এখন নির্বাচনের মাধ্যমে মুক্তি চায়। আর দেশের মানুষের সব সিদ্ধান্ত এখন স্থগিত। কেন স্থগিত? বলে, আমরা নির্বাচনের পরে করব। এটা বিনিয়োগ হোক, ব্যবসা-বাণিজ্য হোক, মানুষের পারিবারিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত আমি জানি। ভাই, নির্বাচনটা হয়ে যাক, তারপর আমরা এগুলো করব। সবকিছু স্থগিত, স্থবির।’
শাহীন আবদুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, যুবদল দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।




