রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন ওয়ারলেস মোড় এলাকার একটি বাসা থেকে দুই শিশুর (ভাইবোন) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের নাম আফরিদা চৌধুরী (১০) ও তার ছোট ভাই এক বছর বয়সী ইলহাম চৌধুরী। ফুডপয়জনিংয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করছে পুলিশের।
শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে হাতিরঝিল থানা পুলিশ ওয়ারলেস মোড় ৯১ নং এসএইচএস টাওয়ার এর নিচে গ্যারেজে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্স থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়।
হাতিরঝিল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সুমন মিয়া জানান, খবর পেয়ে শনিবার রাতে ওই বাসার নিচে ফ্রিজিং এ্যাম্বুলেন্সে রাখা শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। তবে তাদের শরীরে কোন রকমের জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, শিশুদের বাবা মোসলে উদ্দিন চৌধুরী গার্মেন্টসের জিএম আর মা সাইদা জাকাওয়াত আরা গৃহিণী। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালি থানায়। বর্তমানে ওয়ারলেস মোড়ের ওই বাসায় থাকেন। প্রাথমিক তদন্তে স্থানীয়দের এবং পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় ২ শিশু সন্তানসহ তাদের বাবা মা খাবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে মেয়ে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয় রাসমুন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শনিবার ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে পরিবার যখন তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসে এরপর ছেলেটিও বমি করা শুরু করে। অসুস্থ হয়ে পড়া দেখে পরবর্তীতে তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে শনিবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ছেলে শিশুটি।
শিশুদের চাচা তৌহিদ আলম চৌধুরী বলেন, আফরিদা বেইলি রোডের ভিকারুন্নেসা স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৬ ডিসেম্বর আফরিদার জন্মদিন ছিল। বাবা মা দুই বাচ্চাকে নিয়ে বাইরে কোন এক রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছিল। ৪ দিন পরে তারা অসুস্থ হয়। ওই খাবার খেয়ে তারা অসুস্থ হযেছিল! নাকি অন্য কোন খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছে তা আমরা নিজেরাও বুঝতে পারছি না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে জানতে পারব।
এসআই বলেন, একই খাবার খেয়ে তাদের বাবা মাও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তবে তারা চিকিৎসা শেষে সুস্থ আছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ফুড পয়জনিংয়ের কারণে শিশু দুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।তবে ওই খাবার তারা বাসায় রান্না করেছিলেন নাকি বাইরে থেকে কিনে এনেছিলেন তা এখনো জানতে পারিনি। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।




