বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি গভীর ও ভয়ংকর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে গেলেও তাঁর দোসররা এখনো প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে সক্রিয় থেকে পরিকল্পিতভাবে দেশে নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
গতকাল রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দোসররা বিভিন্ন জায়গায় আছে, প্রশাসনে আছে, পুলিশে আছে, সরকারি দপ্তরে আছে। প্রতিটি জায়গা থেকেই তারা নীলনকশা আঁকছে, কীভাবে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নস্যাৎ করা যায়, কীভাবে দেশকে অশান্ত দেখানো যায়। বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়ছে, এই বার্তাই তারা ছড়িয়ে দিতে চায়।
তিনি ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা, চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীকে গুলি করা এবং লক্ষ্মীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, এই তিন ঘটনাকে একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করেন।
রিজভী বলেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা নিজের জীবন দিয়ে শেখ হাসিনার মতো ভয়ংকর দানবীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। কিন্তু তারা থেমে নেই। যেসব জায়গায় তারা আশ্রয় পেয়েছে, যেখান থেকে দুধ-কলা দিয়ে পোষা হচ্ছে, সেখান থেকেই সুতো টানছে।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার নামে প্রকাশিত বিভিন্ন অডিওতে ‘ধর, মার, মেরে ফেলে দে। দেশে যেন শান্তিতে কেউ না থাকতে পারে’। এ ধরনের বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তারা বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ দেখতে চায় না।
বাংলাদেশকে নিয়ে ভয়ংকর চক্রান্তের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “তারা আর পারছে না বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকা পাচার করতে, পারছে না সোনালী বা বেসিক ব্যাংক লুট করতে, পারছে না সরকারি প্লট আত্মসাৎ করতে। এই লুটপাট বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই তারা বাংলাদেশকে অশান্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।”
গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায় বিএনপি নেতা বেলাল হোসেনের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরিবারের অভিযোগ, দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পেট্রল ঢেলে ঘরে আগুন দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বেলাল হোসেনের আট বছর বয়সী কন্যা আয়েশা আক্তার ঘরের ভেতর আটকা পড়ে পুড়ে মারা যায়। গুরুতর দগ্ধ হয় তার আরও দুই কন্যা স্মৃতি আক্তার (১৭) ও বীথি আক্তার (১৪)। তারা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। বেলাল হোসেন নিজেও দগ্ধ হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বেলাল হোসেন জানান, ঘরের দুই দরজাই বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। আগুনের ধোঁয়া আর তাপে আমি ছোট মেয়েকে আর উদ্ধার করতে পারিনি।
এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, নাশকতার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি। ফায়ার সার্ভিসও দরজা তালাবদ্ধ থাকার বিষয়ে নিশ্চিত নয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেলাল হোসেনের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর নির্দেশনায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল রোববার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে ঘটনাস্থলে যান।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীবসহ অনেকে।
এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন- লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সদর (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল নিহত আয়েশা আক্তারের কবর জিয়ারত করেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং বেলালের স্ত্রী নাজমা বেগমের হাতে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন। এর আগে তিনি সদর হাসপাতালে গিয়ে বেলাল হোসেনকে ব্যক্তিগতভাবে ৪ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করেন।




