স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি যেন থামার নামই নিচ্ছে না। সবশেষ ১০ দফা সমন্বয়ের মধ্যে ৮ বারই বেড়েছে এই মূল্যবান ধাতুর দাম। বিশেষ করে টানা ৬ দফা বাড়ানোর ফলে এ সময়ে ভরিতে মোট দাম বেড়েছে ১৫ হাজার ১৮৭ টাকা। সবশেষ মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম ষষ্ঠবারের মতো বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা, যা কার্যকর হবে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ মূল্য।
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৬৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩১৫ টাকা।
বাজুস আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির পরিমাণে পার্থক্য হতে পারে।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম ছিল। সেই দাম কার্যকর হয়েছিল ২৩ ডিসেম্বর থেকে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ৮৯ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬২ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে। তুলনায় ২০২৪ সালে মোট ৬২ বার সমন্বয়ের মধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও এবার বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম রাখা হয়েছে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে ১২ বার। এর মধ্যে ৯ বার দাম বেড়েছে এবং মাত্র ৩ বার কমেছে। গত বছর রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল তিনবার।




