জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের রাজনীতির আপোষহীন এক প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশমাতৃকার প্রতিটি প্রান্তে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও বিষাদের ছোঁয়া। দলীয় নেতা-কর্মীদের চোখে জল, কণ্ঠে কেবলই প্রিয় নেত্রীকে হারানোর ব্যথা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা, সাহসী ও আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, ভোটাধিকারের সংগ্রাম কিংবা স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইবাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে রয়েছে তাঁর দৃপ্ত পদচিহ্ন। ইতিহাসের পাতায় তাঁর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এমনটাই বলছেন তাঁর দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।
মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন রাজপথের লড়াকু নেত্রী। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন আদর্শিক অভিভাবককে হারালাম। তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, চিরকাল থাকবেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু স্মরণ করেন নেত্রীর সংগ্রামী জীবনকে, তিনি কারাবরণ করেছেন, জীবন বাজি রেখে রাজনীতি করেছেন, কিন্তু কোনোদিন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর মতো নেত্রীর অভাব অপূরণীয়।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহামুদুল হাসান বাপ্পী জানান, বেগম খালেদা জিয়া শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, ছিলেন মমতাময়ী অভিভাবকের মতো। দলের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে তিনি পরিবারের সদস্যের মতো আগলে রাখতেন। তাঁর ত্যাগ, আদর্শ ও দেশপ্রেম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে শিক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
নেত্রীর মৃত্যুতে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দোয়া মাহফিল, শোকসভা ও কোরআনখানি। সর্বত্রই বইছে শোকধারা। গ্রামের প্রবীণ, তরুণ-তরুণী, নারী সবাই বলছেন, তিনি ছিলেন আমাদের আস্থা আর ভরসার জায়গা।
জাতি হারালো এক আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেত্রীকে। যিনি গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে আজীবন আপসহীন ছিলেন। তাঁর নাম জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের সঙ্গে।
যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বেগম খালেদা জিয়ার নাম উচ্চারিত হবে শ্রদ্ধা, সংগ্রাম ও সাহসিকতার বাতিঘর হয়ে। তাঁর প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।




