দেশের শীতের ধরন এবার অনেক আগে দেখা অনিয়মিত রূপ নিয়েছে। রাতের তাপমাত্রা যেমন কমেছে, দিনে রোদের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাস পুরো দেশকে শীতের চাদরে মুড়িয়ে দিয়েছে।
পৌষ মাসের এই তীব্র ঠান্ডা শিশু, বৃদ্ধ এবং কর্মজীবী সবার জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতায় জনজীবন বিপর্যস্ত। পাশাপাশি ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণ প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে।
আবহাওবিদরা জানাচ্ছেন, জানুয়ারিতে দেশজুড়ে ৪-৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এদের মধ্যে দু-তিনটি হবে মাঝারি এবং অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ অত্যন্ত তীব্র। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, “কুয়াশা ঘন হওয়ায় এবং সূর্যের আলো ভূ-পৃষ্ঠে না আসার কারণে শীত আরও প্রবলভাবে অনুভূত হচ্ছে। জানুয়ারিতে শীত থাকবে, মাঝে মাঝে কমবে, মাঝে মাঝে বাড়বে।”
শনিবার দেশের ৯ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ায় ঘন কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন স্থবির। হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
শীতের তীব্রতার কারণে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে কষ্টে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা মেহনাজ বলেছেন, “সুষম খাদ্য গ্রহণ ও পর্যাপ্ত শীতের পোশাক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।”
কৃষকরা তীব্র শীতের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কৃষক মো. সালিম জানান, ইরি ধানের বীজতলা (চারা) নষ্ট হচ্ছে, যা পরবর্তী ধান রোপণে সংকট তৈরি করতে পারে।
কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা নেমেছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। জয়পুরহাট, পঞ্চগড় ও বরিশালেও হাড় কাঁপানো শীতের কারণে জনজীবন স্থবির। পঞ্চগড়ে ইতিমধ্যে ১৬ হাজার ১৪০ পিস কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
সংক্ষেপে, জানুয়ারির শুরুতেই দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের আভাস। ঘন কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা ও তাপমাত্রার হ্রাস জনজীবন, কৃষি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে। সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।




