যে জুস খেলেই মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় বদলে যাবে চেহারা!

0
10

হঠাৎ করে মুখ ফোলা, চোখের নিচে ফোলাভাব বা শরীর ভারী লাগা এ ধরনের সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। অনেক সময় মাপলে দেখা যায় ওজন ২–৩ কেজি বেড়ে গেছে, অথচ ডায়েট বা খাবারে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে মূল কারণ ফ্যাট নয়, বরং শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি বা ওয়াটার রিটেনশন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেলারি ও শসার জুস নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই জুস খেলে মুখের ফোলাভাব কমে, শরীর হালকা লাগে এবং সাময়িকভাবে ওজনও কমতে পারে।

শরীরে পানি জমার কারণ
পুষ্টিবিদদের মতে, শরীরে পানি জমার প্রধান কারণগুলো হলো:
অতিরিক্ত লবণ বা সোডিয়াম গ্রহণ
পর্যাপ্ত পানি পান না করা
দীর্ঘ সময় বসে থাকা
হরমোনের পরিবর্তন
শরীরের টিস্যুতে জমে থাকা সোডিয়াম অতিরিক্ত পানি ধরে রাখে, যার ফলে মুখ, গাল, পেট ও হাত-পা ফোলা দেখা দেয়।
সেলারি-শসার জুসের কার্যকারিতা
সেলারি কিডনিকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সহায়তা করে। সোডিয়াম বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অতিরিক্ত পানিও কমে। শসা পটাশিয়ামের কারণে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় থাকে। ফলস্বরূপ, মুখের ফোলাভাব কমে এবং শরীর হালকা অনুভূত হয়।
জুস তৈরি ও খাওয়ার নিয়ম
উপকরণ:
সেলারি ডাঁটা ৪টি
১টি শসা
১টি সবুজ আপেল
অল্প পালং শাক
১টি টুকরো লেবু
সব উপকরণ একসাথে জুস করুন। খালি পেটে দিনে ২ বার পান করুন। টানা ২ দিনেই তাত্ক্ষণিক পার্থক্য দেখা যায়।
বিশেষ সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই জুস স্থায়ীভাবে ওজন কমায় না। এটি কেবল শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে। কিডনি সমস্যা, নিম্ন রক্তচাপ বা ইলেক্ট্রোলাইট সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। দীর্ঘ সময় এই ধরনের ডিটক্স জুস খাওয়া উচিত নয়। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
সেলারি ও শসার জুস সাময়িকভাবে ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে হলে কম লবণযুক্ত খাবার, পর্যাপ্ত পানিপান, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here