লবঙ্গ খেলে কী হয়?জেনে নিন ৭টি অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা!

0
12

প্রতিদিনের রান্নায় যে লবঙ্গ আপনি শুধু সুগন্ধ আর স্বাদের জন্য ব্যবহার করেন, সেটিই নীরবে কাজ করে যাচ্ছে আপনার শরীরের ভেতরে। চোখে না পড়লেও এই ক্ষুদ্র মসলার ভেতরে লুকিয়ে আছে শক্তিশালী প্রাকৃতিক ওষুধের গুণ। প্রাচীন চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে আধুনিক গবেষণা সবখানেই লবঙ্গের নাম উঠে আসে রোগ প্রতিরোধ, হজম শক্তি বৃদ্ধি ও শরীরকে ভেতর থেকে সুরক্ষিত রাখার উপাদান হিসেবে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিয়মিত ও পরিমিত ব্যবহারে এই ছোট লবঙ্গই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার বড় ভরসা।

লবঙ্গের সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান ইউজেনল এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ভেতরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এই স্ট্রেস দীর্ঘদিন জমতে থাকলে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে লবঙ্গ গ্রহণ করলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

হজম সমস্যায় ভুগলে লবঙ্গ হতে পারে সহজ সমাধান। এটি হজম এনজাইমের নিঃসরণ বাড়িয়ে খাবার দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে। বদহজম, গ্যাস, পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় খাবারের পর এক বা দুইটি লবঙ্গ চিবিয়ে খাওয়া বা রান্নায় ব্যবহার করলে স্বস্তি মিলতে পারে।
লবঙ্গের প্রদাহ-নাশক গুণ আর্থ্রাইটিস কিংবা সাধারণ জয়েন্টের ব্যথা কমাতেও কার্যকর। নারকেল তেলে লবঙ্গ ভিজিয়ে ব্যথার জায়গায় হালকা মালিশ করলে আরাম পাওয়া যায়। পাশাপাশি এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও ভাইরাস-বিরোধী বৈশিষ্ট্য শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী করে। লবঙ্গ সাদা রক্তকণিকার কার্যকারিতা বাড়িয়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখে।
মুখ ও দাঁতের যত্নে লবঙ্গের ভূমিকা বহুদিনের পরীক্ষিত। দাঁতের ব্যথা, মাড়ির সংক্রমণ কিংবা মুখের দুর্গন্ধ কমাতে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। লবঙ্গ বা লবঙ্গের তেল দাঁত ও মাড়িতে লাগালে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়, যা এখনো অনেক জায়গায় ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে জনপ্রিয়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেও লবঙ্গ আশাব্যঞ্জক ফল দেখিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সীমিত পরিমাণে লবঙ্গ উপকারী হতে পারে।
এছাড়া প্রাথমিক ও প্রাণীভিত্তিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, লবঙ্গের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে সক্ষম। যদিও মানবদেহে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন, তবু সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
লবঙ্গের স্বাদ ও গুণাগুণ বজায় রাখতে এটি এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করা উচিত। পুরো লবঙ্গ পিষা লবঙ্গের তুলনায় বেশি দিন তাজা থাকে এবং স্বাস্থ্যগুণও ভালোভাবে ধরে রাখে। ঝোল, স্টু কিংবা মাংসের রান্নায় লবঙ্গ যোগ করলে স্বাদের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য উপকারিতাও বাড়ে।
সব মিলিয়ে লবঙ্গ শুধু রান্নার উপাদান নয়, এটি হজম শক্তি বাড়ায়, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে, প্রদাহ কমায় এবং সম্ভাব্যভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পরিমিতভাবে লবঙ্গ যুক্ত করলে শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ রাখা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের। গর্ভবতী, স্তন্যদানরত নারী কিংবা যাদের দীর্ঘস্থায়ী রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লবঙ্গ নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here