শরীর সুস্থ রাখতে ভিটামিন ডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের গঠন মজবুত রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো—সব ক্ষেত্রেই এই ভিটামিনের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় অনেকেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে ভুগছেন। প্রশ্ন হলো—ভিটামিন ডি পেতে ঠিক কখন রোদে পোহানো সবচেয়ে উপকারী? এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
কোন সময় রোদে পোহালে ভিটামিন ডি সবচেয়ে ভালো মেলে?
চিকিৎসকদের মতে, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো ভিটামিন ডি তৈরির জন্য সবচেয়ে কার্যকর। এই সময় সূর্যের UVB রশ্মি ত্বকে পড়ে ভিটামিন ডি সংশ্লেষে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
সকাল খুব ভোরের রোদে UVB রশ্মি তুলনামূলক কম থাকে
বিকেলের রোদেও ভিটামিন ডি তৈরির ক্ষমতা কমে যায়
তাই মাঝামাঝি সময়ই সবচেয়ে উপযুক্ত।
কতক্ষণ রোদে থাকা উচিত?
ত্বকের রঙ ও আবহাওয়ার ওপর সময় নির্ভর করে। তবে সাধারণভাবে—
হালকা ত্বক: ১০–১৫ মিনিট
গাঢ় ত্বক: ২০–৩০ মিনিট
এ সময় মুখ, হাত, পা বা ঘাড় খোলা রাখা ভালো। তবে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে সানবার্নের ঝুঁকি থাকে, তাই অতিরিক্ত রোদ এড়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে কি ভিটামিন ডি কমে?
হ্যাঁ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সানস্ক্রিন UVB রশ্মি আটকায়, ফলে ভিটামিন ডি উৎপাদন কমে যেতে পারে। তাই স্বল্প সময়ের জন্য (১০–১৫ মিনিট) রোদে থাকার সময় সানস্ক্রিন না ব্যবহার করাই ভালো। তবে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতে কী সমস্যা হতে পারে?
ভিটামিন ডি-এর অভাবে দেখা দিতে পারে—
হাড় ও দাঁত দুর্বল হওয়া
মাংসপেশির ব্যথা ও দুর্বলতা
শিশুদের ক্ষেত্রে রিকেটস
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া
মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তি
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
শুধু রোদই কি যথেষ্ট?
অনেক ক্ষেত্রে শুধু রোদে থাকা যথেষ্ট নাও হতে পারে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শে—
ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট
ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার
গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকের পরামর্শ
চিকিৎসকরা বলছেন, নিয়মিত সঠিক সময়ে অল্প সময় রোদে থাকাই ভিটামিন ডি পাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়। তবে যাদের দীর্ঘদিন ঘাটতি রয়েছে, তাদের রক্ত পরীক্ষা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।




