ঘরের ড্রয়ার খুললেই চোখে পড়ে একটি ছোট্ট জিনিস -সেফটি পিন। শাড়ির ভাঁজ ঠিক রাখা, পোশাক সামলানো বা হঠাৎ ছেঁড়া কাপড় বাঁচাতে এই পিনের জুড়ি নেই। কিন্তু এত পরিচিত এই জিনিসটির দিকে কখনও গভীর করে তাকিয়েছেন? খেয়াল করেছেন, সেফটি পিনে ছোট বিশেষ ছিদ্র থাকে কেন? সাধারণ নকশার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।
এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন হোলসেল সেফটি পিনস-এর মালিক ও সিইও ল্যারি শোয়ার্টজ। যাঁর ব্যবসার পুরো ভিত্তিই এই সাধারণ অথচ প্রয়োজনীয় জিনিসটি। তাঁর মতে, একটি সেফটি পিনে মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিদ্র থাকে। একটি ছিদ্র থাকে উপরের দিকে, যেখানে পিনের ধারালো অংশটি ঢুকে একটি গার্ড বা ক্লিপের ভেতরে আটকে যায়। আরেকটি ছিদ্র থাকে নিচের দিকে, যেখানে ধাতব তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় কুণ্ডলী বা স্প্রিং।
এই বুদ্ধিদীপ্ত নকশার জন্ম হয় আরও এক শতাব্দীর বেশি আগে। ১৮৪৯ সালে উদ্ভাবক ওয়াল্টার হান্ট একটি ধাতব তার নিয়ে খেলতে খেলতেই আধুনিক সেফটি পিনের স্প্রিং কাঠামো তৈরি করেন। পরে তিনি এর পেটেন্ট নেন। আজকের দিনে যন্ত্রের সাহায্যে ইস্পাতের তার পেঁচিয়ে তৈরি হয় এই কুণ্ডলী, যা সেফটি পিনের কার্যকারিতার মূল চাবিকাঠি।
হান্ট শেষ পর্যন্ত তাঁর সেফটি পিনের পেটেন্টটি ডব্লিউ. আর. গ্রেস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে মাত্র ৪০০ ডলারে বিক্রি করে দেন। অথচ এই নকশা পরবর্তীকালে যে বিপুল বাণিজ্যিক সাফল্য এনে দেয়, তার তুলনায় সেই মূল্য ছিল নিতান্তই নগণ্য।
পরের বার যখন হাতে একটি সেফটি পিন নেবেন, তখন শুধু প্রয়োজনের কথা নয় এর পেছনের চমৎকার বিজ্ঞান আর ইতিহাসটাও মনে পড়ে যাবে।




