দলের নেতাদের মধ্যে যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হয়েছে এমন বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এক প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, রাজধানীর তেজগাঁওয়ের তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এমন ঘটনায় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে। তবে এতে করে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কারো কারো বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা তাদের ডেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এরকম একটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলে অনেক প্রার্থী থাকে যাদের প্রত্যাশা থাকে, তারা হয়ত প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কিছু পায়নি, তারা নমিনেশন চেয়েছিল ঠিক আছে। কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে, আমাদের আসন সমঝোতার স্বার্থে এবং পার্লামেন্টে আমরা মাল্টিপার্টি রিপ্রেজেন্টেশনের জন্য চেষ্টা করছি। এতে অনেক পার্টির একটা প্রতিনিধিত্ব থাকবে সেটার স্বার্থে আমাদের অনেক যোগ্য প্রার্থীকে আমরা বঞ্চিত করেছি। সুতরাং তাদের মনোব্যথা আছে তাদের আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি আর কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের আমরা বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করব। আশা করি সেটার মীমাংসা হবে।
সব দলই এখন নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক বলে মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, ইনশা-আল্লাহ সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় এবং সব রাজনৈতিক দলের আন্তরিকতায় আমরা নির্বাচনী বৈতরণী খুব সহজভাবে পার করতে পারব। সবার অনেক দাবি থাকলেও নির্বাচনের জন্য সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তারা গণভোটের বিষয়ে, নির্বাচনের বিষয়ে, বিভিন্ন বিষয়ে, বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন দাবি বা যুক্তি উত্থাপন করেছিল, অভিযোগ উত্থাপন করেছিল এবং আমার মনে হয় তারা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে।
সালাহউদ্দিন বলেন, এখন কোনো দলের যদি কোনো অভিযোগ থাকে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডসহ বিভিন্ন বিষয়ে সেগুলো নির্বাচন কমিশনে তারা জানাবেন। নির্বাচন কমিশন এবং সরকার মিলে সেটা যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করবে সেটা আমরা আশা করি। আমি মনে করি এখন সকল রাজনৈতিক দল একটি জায়গায় উপনীত হয়েছে যে, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সবাই আন্তরিক, জনগণও আন্তরিক।
আরেক প্রশ্নে সালাহউদ্দিন বলেন, তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফরের উদ্দেশ্য শহীদদের কবর জিয়ারত, এখানে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এটাকে তারেক রহমানের উত্তরবঙ্গ সফর বা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে হয়ত অনেকে দেখছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের যথাযথভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা আমাদের জাতীয় দায়িত্বৃ। আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অনেক আগেই সেটা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে আমাদের এখনো সেই যাত্রাটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই শহীদদের (’২৪ র শহীদ) প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা এবং তাদের কবর জিয়ারত করা জাতির প্রত্যাশা। গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আমরা ধারণ করি এবং আমাদের সেই চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। তার জন্যই তারেক রহমানের যাওয়া। এখানে নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো বিষয় নেই। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বিষয়টাকে দেখি।
সালাহউদ্দিন বলেন, সবাইকে অনুরোধ করব যেন ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মর্যাদাকে আমরা প্রশ্নবিদ্ধ না করি। আমরা শহীদদের আত্মত্যাগকে যেন আরও মহিমান্বিত করি। আমাদের দেশের সবচাইতে মেজর পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে তার চূড়ান্ত শীর্ষ নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমান যদি গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেনÑসেটা এই অভ্যুত্থানকে ধারণ করা হবে। এর মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করা হবে এবং এটাই জনপ্রত্যাশা, জাতির প্রত্যাশা এই দৃষ্টিকোণ থেকে যেন আমরা দেখি।




