ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ঢাকা উত্তর যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি এখনও কলকাতায় পলাতক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া বাপ্পি সম্প্রতি দেশে অনিয়মিতভাবে ঢুকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ভারতে চলে গিয়ে হাদির হত্যার পুরো পরিকল্পনা পরিচালনা করেছেন।
ডিবি পুলিশের চার্জশিটে বাপ্পি ১৭ জন অভিযুক্তের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখিত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হাদিকে গুলি করার পর শুটার ফয়সাল ও সহযোগী আলমগীরকে নির্বিঘ্নে ভারতে পালানোর ব্যবস্থা করেছেন বাপ্পি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তাদের মতে, বাপ্পি বর্তমানে কলকাতার রাজারহাটের ওয়েস্ট বেড়াবেড়ি মেঠোপাড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে আত্মগোপনে রয়েছেন। সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন পলাতক সহযোগী, যাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কয়েকজন নেতা এবং ছাত্রলীগের সাবেক নেতা রয়েছে। তবে ৬ জানুয়ারি চার্জশিট প্রকাশের পর বাপ্পি ওই ফ্ল্যাট থেকে সরে গেছেন এবং বর্তমানে তার অবস্থান অজানা।
সূত্রের বরাত দিয়ে ডিবি জানায়, বাপ্পি দীর্ঘদিন রূপনগর ও পল্লবী এলাকায় রাজনৈতিক ক্ষমতার ছত্রছায়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি, বাড়িদখল এবং সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট রাজধানীর রূপনগরের কাউন্সিলর কার্যালয়ে শেষবার উপস্থিত হন। এরপর ৫ আগস্ট ভারতে চলে যান।
ডিবি জানায়, হাদির হত্যার ঘটনায় মামলা হয় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায়। হাদিকে ১২ ডিসেম্বর রিকশায় থাকা অবস্থায় গুলি করা হয় এবং পরে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। চার্জশিটে ১৭ জনের নাম উল্লেখ থাকলেও, বাপ্পি ও আরও কয়েকজন পলাতক।
ডিবি কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতে পলাতক হওয়ায় তাদের অবস্থান ও ফেরানোর বিষয়টি জটিল। তবে আদালতের অনুমতি পাওয়া গেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।




