প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলসহ ৫ দাবিতে উত্তাল আন্দোলন

0
32

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগে ফের রাজপথে নেমেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। স্বচ্ছ, প্রশ্নফাঁসমুক্ত প্রক্রিয়ায় নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ঘেরাও করে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন তারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই অধিদফতরের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভ চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগানে পরীক্ষায় জালিয়াতি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ তুলে পুরো পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।
নিয়োগপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিক অনিয়ম হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্নফাঁস এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে সুবিধা নেওয়ার ঘটনা পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসব কারণেই তারা পাঁচ দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলনে নেমেছেন।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দ্রুত নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া, সব ধরনের চাকরির পরীক্ষা ঢাকায় আয়োজন করা এবং প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস শনাক্তকারী যন্ত্র ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন করা। একই সঙ্গে স্বতন্ত্র একটি কমিটির অধীনে সব পরীক্ষা গ্রহণ, একই দিনে একই সময়ে একাধিক পরীক্ষা না নেওয়া এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনোভাবেই প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব না দেওয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার পাশাপাশি প্রশ্ন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের দাবিও তোলেন আন্দোলনকারীরা।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় একযোগে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার কয়েক দিন আগ থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু প্রশ্ন ফেসবুকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়।
পরীক্ষার্থীদের দাবি, পরীক্ষার দুই দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কয়েকটি প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে। এতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ২৫ ডিসেম্বর জেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পাঠিয়ে দেওয়ার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পর পরীক্ষা নেওয়ায় একটি চক্র প্রশ্নপত্রের নাগাল পেয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবারে দুই ধাপে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০টি। সে হিসাবে প্রতি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭৫ জন করে চাকরিপ্রার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
প্রথম ধাপে রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ হাজার ২১৯টি পদের বিপরীতে আবেদন পড়ে ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৯টি। দ্বিতীয় ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৪ হাজার ১৬৬টি পদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ১৫১টি। তবে ঠিক কতজন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন এবং কতজন অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি অধিদফতর।
পরিস্থিতি নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here