ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক ইউপি সদস্যের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ওই জনপ্রতিনিধিকে এখন জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির দায়িত্বে দেখা যাচ্ছে। তিনি উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, শেখ হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিয়মিত অংশ নিতেন দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে। তবে দলীয় কমিটিতে, ২০১৯ সালের ১০ মার্চ অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৩১ নম্বর সদস্য ছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে তাকে সরাসরি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এ ব্যাপারে বর্তমান জামায়েত ইসলামী নেতা ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। যখন যে সরকার থাকে, আমাদেরকে সাধারণত তার সাথেই থাকতে হয়। কে কখন নাম বসিয়েছে, এ বিষয়ে আমি জানি না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা আলোচনা। অনেকের অভিযোগ, অতীতের কর্মকাণ্ড ও বিতর্ক এড়াতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী জানান, মিজান মেম্বার যে আওয়ামী লীগের সদস্য—এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। যদি এলাকাবাসীর কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদর্শের রাজনীতির পরিবর্তে সুবিধাবাদী অবস্থান পরিবর্তন স্থানীয় রাজনীতিতে আস্থার সংকট তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো কী সিদ্ধান্ত নেয়।



