২০২৬ সালের নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোক্তাবিষয়ক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন Entrepreneur সম্ভাবনাময় কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসার তালিকা প্রকাশ করেছে। বড় পুঁজি ছাড়াই এগুলো শুরু করা সম্ভব, আর মুনাফার সুযোগও যথেষ্ট। চলুন দেখে নিই, ২০২৬ সালে কোন খাতে ছোট ব্যবসা শুরু করলে সহজেই আয় করা যায়।
১. ল্যান্ডস্কেপিং ও লন কেয়ার
বিশ্বজুড়ে লন কেয়ার ও ল্যান্ডস্কেপিং ব্যবসার বাজার প্রতি বছর কয়েকশো বিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালে বাজার দাঁড়াবে ৩৩৬ বিলিয়ন ডলারে। শুধু গাছপালা নয়, দেয়াল সংস্কার, কৃত্রিম ঘাস বসানো, বেড়া স্থাপন এসব দিয়ে ব্যবসা বাড়ানো সম্ভব। Inc. ম্যাগাজিন জানায়, একটি ল্যান্ডস্কেপিং কোম্পানি তার বার্ষিক মুনাফার তিন থেকে ছয় গুণ দামে বিক্রি হতে পারে।
২. গ্রাফিক ডিজাইন
Photoshop, Canva বা Illustrator-এ দক্ষ হলে নিজস্ব গ্রাফিক ডিজাইন এজেন্সি শুরু করা লাভজনক উদ্যোগ হতে পারে। কোম্পানির নিউজলেটার, বিজ্ঞাপন, ওয়েবসাইট বা কনটেন্ট তৈরিতে সহায়তা করে আয় করা যায়। প্রিন্ট শপ বা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে সমন্বয় করলে ব্যবসার সুযোগ আরও বাড়ানো সম্ভব।
৩. গৃহস্থালির যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি মেরামত
যাদের প্রযুক্তিতে দক্ষতা আছে, তারা ফ্রিজ, ওভেন, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোনের মেরামত ব্যবসা শুরু করতে পারেন। স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স দোকানের সঙ্গে চুক্তি করে ওয়ারেন্টি সার্ভিস দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। পুরনো ডিভাইস কিনে মেরামত করে বিক্রি করাও লাভজনক।
৪. নোটারি সেবা
নোটারি হলেন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যারা চুক্তিপত্র, দলিল বা শপথনামায় স্বাক্ষর নিশ্চিত করেন। যদিও এটি তুলনামূলক পুরনো পেশা, তবুও বন্ধক, সম্পত্তি হস্তান্তর বা আইনি কাজে নোটারির চাহিদা থাকে। ঋণ চুক্তির নোটারাইজেশন থেকে ভালো আয় সম্ভব।
৫. পশুপালন ও পোষা প্রাণীর যত্ন
পোষা প্রাণীর সংখ্যা বাড়ছে। পেট-সিটার, ডগ ওয়াকার বা গ্রুমার হিসেবে শুরু করা যেতে পারে। বিশেষ প্রশিক্ষণ বা লাইসেন্স প্রয়োজন হয় না, খরচও কম। যারা প্রাণী ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
৬. ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট
বিয়ে, জন্মদিন বা কর্পোরেট আয়োজন সবকিছুতে বড় চাহিদা রয়েছে। পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় দক্ষরা এই খাতে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। হোটেল বুকিং, ফ্লাইট টিকিট, দৈনিক রুটিন বা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও আয় বৃদ্ধি করতে পারে।
৭. কোচিং, ট্রেনিং ও পরামর্শসেবা
আপনার বিশেষ দক্ষতা থাকলে তা দিয়ে অন্যদের শেখানো সম্ভব। উদ্যোক্তাদের পরামর্শদাতা, খেলাধুলা বা টেকনিক্যাল প্রশিক্ষক, লাইফ বা মোটিভেশনাল কোচ সবকিছুই লাভজনক। শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করেও আয় করা যায়।
২০২৬ সাল উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগের বছর হতে পারে। বড় প্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু করেও গড়ে তোলা সম্ভব লাভজনক ভবিষ্যৎ। শুরু করুন আজই যেখানেই আপনি আছেন, সেখান থেকেই নিজের উদ্যোগে পথচলা শুরু করুন।




