সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিদেশে চিকিৎসার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে থাইল্যান্ড যাওয়ার অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
শুনানিতে মোয়াজ্জেম হোসেনের আইনজীবী দাবি করেন, তার মক্কেল ষড়যন্ত্রের শিকার এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কাজের সাথে যুক্ত নন। আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেন পড়ে গিয়ে স্পাইনাল কর্ডে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং সেখান থেকে তরল নির্গত হচ্ছে। এই জরুরি চিকিৎসার জন্য আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্টও নির্ধারিত ছিল। তবে আদালত এসব যুক্তি আমলে না নিয়ে তার আবেদনটি নাকচ করে দেন বলে নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিলে তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিজের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। কিন্তু নিয়োগের কিছুদিনের মধ্যেই মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, তদবির এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ ওঠে। এই বিতর্কের জেরে গত বছরের ২১ এপ্রিল তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অব্যাহতির পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত বছরের মে মাসে মোয়াজ্জেমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ওই সময় আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বর্তমান শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চাইলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়ে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।




