বারবার হোঁচট খেয়েও কেন এগিয়ে যান কিছু মানুষ? ব্যর্থতা থেকে শক্তি নেওয়ার ১২টি গোপন কৌশল

0
16

কখনও কি মনে হয়, চারপাশের কিছু মানুষ যেন যা-ই করুক সফল হয়, আর আপনি চেষ্টা করলেই হোঁচট খান? কেউ কেউ বর্তমান অবস্থাতেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন, আবার অনেকের কাছে মনে হয় যত চেষ্টাই করা হোক, এগোনো যায় না। সেই হতাশা থেকেই জন্ম নেয় ব্যর্থতার অনুভূতি। কিন্তু সবার জন্য ব্যর্থতা একরকম নয়।
যারা ব্যর্থতাকে ব্যবহার করে নিজেকে আরও শক্তিশালী ও পরিণত করে তোলেন, তারা অন্যদের থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আলাদা। আত্মসমালোচনা থেকে শুরু করে ভুলকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাথেয় বানানো পর্যন্ত, তাদের কাছে ব্যর্থতা কোনো শেষ নয়। বরং এটি নিজেকে আরও সচেতন, স্থিতিশীল ও দৃঢ় মানুষে পরিণত করার একটি ধাপ।

এমন মানুষদের ১২টি আলাদা অভ্যাস এখানে তুলে ধরা হলো।
এক. তারা ভুলকে নিজের পরিচয় বানান না
এই মানুষগুলো জানেন, ব্যর্থতা মানে শেষ নয়। বরং এটি নিজেকে আরও শাণিত করার প্রক্রিয়া। জীবনের উত্থান-পতন, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা ব্যক্তিগত টানাপোড়েনে অনেক সময় মনে হয় কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। কিন্তু তারা বোঝেন, এটি হয়তো সাময়িক নিম্নচক্র। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ র‍্যাশেল ক্যাসাডা লোহম্যানের মতে, প্রতিটি ভুলই শেখার সুযোগ। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে তা প্রয়োগ করলেই মানুষ আরও প্রজ্ঞাবান হয়।
দুই. নিজের জন্য ভালো কিছু গড়তে তারা আনন্দ খুঁজে পান
ভুলের কারণে যে ক্ষতি হয়, সেটাকেই তারা ভবিষ্যতের ভিত্তি বানান। জীবনে পরিবর্তন আনতে গেলে যে উদ্দীপনা ও আশা জন্ম নেয়, সেই অনুভূতিগুলোই আবার খুঁজে পেতে চান তারা। নিজের জন্য ভালো কিছু তৈরি করতে পারা তাদের কাছে আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।
তিন. তারা সহজেই মানিয়ে নিতে জানেন
ব্যর্থতায় ডুবে না থেকে তারা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেন। সামনে কী পরিবর্তন আসছে, সে বিষয়ে তারা খোলা মন রাখেন। মনোবিজ্ঞানের শিক্ষাবিদ কেন্ড্রা চেরির মতে, মানসিকভাবে নমনীয় মানুষ নতুন পরিস্থিতিতে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন এবং নেতিবাচক চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
চার. ক্ষতির পর তারা নিজেকে গুছিয়ে নেন
যেকোনো ব্যর্থতার পরই দৌড়াতে শুরু করেন না তারা। কিছুটা বিরতি নিয়ে মন পরিষ্কার করেন। পরিবেশ বদল, স্বল্প ভ্রমণ কিংবা নিজের সঙ্গে সময় কাটানো তাদের নতুন শক্তি জোগায়। গবেষণায়ও দেখা গেছে, চিন্তা থেকে সাময়িক বিরতি মানসিকভাবে উপকারী।
পাঁচ. তারা ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে হাঁটেন
ব্যর্থতা তাদের শেখায়, ঝুঁকি বেশি হয়েছিল নাকি কম। সেই অভিজ্ঞতা থেকে লক্ষ্যগুলো নতুন করে ঠিক করেন তারা। ছোট বা বড়, যেকোনো পরিবর্তনই হোক, সেটি যেন জীবনের উন্নতির দিকে যায়, সেটাই তাদের লক্ষ্য।
ছয়. তারা নিজেকে বাস্তবতার আয়নায় দেখেন
আগের ব্যর্থ অভিজ্ঞতাগুলো বিশ্লেষণ করে তারা বুঝতে চান, কোথায় ভুল হয়েছিল আর কোথায় সাফল্যের আভাস ছিল। কোন দক্ষতা বা পরিস্থিতি আগে কাজে লেগেছিল, তা নতুন করে চিহ্নিত করেন।
সাত. একই অভিজ্ঞতার মানুষদের পরামর্শ নেন
একা সব বোঝা টানেন না তারা। যাঁরা আগে একই পথ পেরিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে পরামর্শ নেন। প্রয়োজনে একজন মেন্টরের সহায়তাও নেন। এতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়।
আট. প্রয়োজনীয় সম্পদ খুঁজে নেন
ব্যর্থতার পর তারা বোঝেন, কোথায় সম্পদের ঘাটতি ছিল। তাই নতুন যোগাযোগ, নতুন উপকরণ কিংবা নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে পরবর্তী উদ্যোগের জন্য প্রস্তুতি নেন।
নয়. নিজের ওপর বিশ্বাস রাখেন
নিজের সক্ষমতার ওপর আস্থা হারালে সাফল্য দূরে সরে যায়। যারা ব্যর্থতাকে শক্তিতে বদলায়, তারা এই সত্যটি সবচেয়ে ভালো বোঝেন। নিজের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই বাধা পেরোনোর শক্তি দেয়। লেখক লুইস হাউসের মতে, আত্মবিশ্বাসই সব কিছুর ভিত্তি।
দশ. অন্যের মতামত নিয়ে তারা অতিরিক্ত চিন্তিত হন না
মানুষ কী ভাবছে, তা নিয়ে বেশি ভাবলে নতুন করে চেষ্টা করাই পিছিয়ে যায়। তারা জানেন, ব্যর্থতা লজ্জার নয়। এটি সাময়িক, স্থায়ী নয়।
এগারো. তারা নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন
নতুন বন্ধু, নতুন দল কিংবা নতুন পরিবেশ তাদের এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্য মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং সাফল্যের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।
বারো. তারা আত্মবিশ্লেষণে সময় দেন
ব্যর্থতার পর তারা নিজেকে প্রশ্ন করেন, এই অভিজ্ঞতা থেকে কী শেখা যায়। ভালো জীবনের স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেন না। বরং নতুন ধারণা নিয়ে আবার চেষ্টা চালিয়ে যান। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, অভিজ্ঞতা থেকে শেখার প্রশ্নগুলোই ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানুষকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
ব্যর্থতাকে সাফল্যে রূপ দেওয়া সহজ নয়। তবে যারা লেগে থাকতে জানেন, নতুন করে ভাবতে পারেন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখেন, তাদের জন্য ব্যর্থতা শেষ কথা নয়। বরং সেটিই হয়ে ওঠে আরও শক্ত হয়ে ফিরে আসার সিঁড়ি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here