আজ ২৪ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে, বগুড়া জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
আমীরে জামায়াত বলেন, “আপনারা যদি আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন দিয়ে আমাদের সঙ্গে নেন, তাহলে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হেফাজত করব ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে জনগণের একটি টাকার ওপরেও আমরা হাত বসাব না। আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভয় পেয়ো না চাঁদাবাজ। আমরা তোমাদের হাতেও সম্মানের রুজির কাজ তুলে দেব, ইনশাআল্লাহ। তোমরাও গর্বের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করবে। লোভের বশবর্তী হয়ে হয়তো খারাপ করেছো, তোমরা তওবা করে ভালোভাবে চলবে।”
তিনি বলেন, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। ন্যায়বিচার সকলের জন্য নিশ্চিত করা হবে। আদালত পেশা, ধর্ম, বর্ণ দেখবে না—আদালত দেখবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কি না। যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, আদালত অবশ্যই তাঁর পক্ষে রায় দেবে। আদালত বিচার করার ক্ষেত্রে দেখবে না তিনি প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী কি না, বরং দেখবে তিনি অপরাধ করেছেন কি না।
সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, “আপনারা আমাদের দিকে খাড়া দৃষ্টি রাখুন। আপনারা ‘ওয়াচডগ’ হিসেবে অত্যন্ত তীর্যকভাবে দেখবেন। তবে সাদাকে সাদা বলবেন, কালোকে কালো বলবেন। সাদার গায়ে কোনো কালো প্রলেপ লাগাবেন না। কোনো কালোকে গ্রহণ করবেন না। তাহলে দেশ ভালো চলবে এবং আপনাদের অবদানের জন্য দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা মিডিয়াকে সেই জায়গায় দেখতে চাচ্ছি।”
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা দেশকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্মানের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মায়েরা সম্মানের ও মর্যাদার সাথে নিরাপদে ঘরে থাকবেন ও বাইরে চলাচল করবেন। একইভাবে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কর্মক্ষেত্রে তাঁরা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে কাজ করবেন। সকল পেশায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”
দলের ঘোষিত নীতিমালার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। ষাট বছরের ঊর্ধ্বে সকল মানুষের চিকিৎসার ভার নেবে রাষ্ট্র; তবে যাঁদের স্বচ্ছলতার কারণে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবেন—রাষ্ট্র তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এ ছাড়া অন্য বয়সী যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা রাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্বে থাকবেন।
তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেব না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই। তোমাদের কাছে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। দেশে কিংবা বিদেশে তোমরা মর্যাদার সাথে অবদান রাখবে। আমরা তোমাদের শিক্ষা দিয়ে সেইভাবেই গড়ে তুলব। শিক্ষা শেষে কাজ তোমাদের হাতে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে না, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার জন্য যে শিক্ষা প্রযোজ্য, যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য, তার মেধা বিকাশে রাষ্ট্র হবে সেখানে সঙ্গী। সেই মর্যাদার বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি।”
চাঁদাবাজ, দখলবাজ, মামলাবাজদের বিরুদ্ধে জনগণকে ভূমিকা রাখার এবং গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।
পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক তা আমরা চাই না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। আমাদের সন্তানেরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে। এই কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লালকার্ড হিসেবেই থাকবে।”
শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন আমীরে জামায়াত।




