সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন বেতন স্কেলের সুপারিশমালা পেশ করেছে বেতন কমিশন। গত বুধবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান এই প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতি রেখে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশনের নতুন এই সুপারিশে বৈষম্য দূর করতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন নিম্ন ও মধ্যম ধাপের কর্মচারীরা। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পেতে যাচ্ছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের ১১,০০০ টাকা মূল বেতন এক লাফে ২৪,০০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে, যা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে ২ হাজার ৫৫২ জনের সরাসরি মতামত নিয়ে এই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। এতে শুধু বেতন বাড়ানোই নয়, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এছাড়াও প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবদের জন্য বিশেষ ধাপ তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের জন্য আলাদা কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে।




