আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে পরিচালিত এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, ৯৩ শতাংশের বেশি মানুষ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) এবং বাংলাদেশ ইলেকশন পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজের যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপের ফল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
সিআরএফের স্ট্র্যাটেজিক কো-অর্ডিনেটর জাকারিয়া পলাশ জানান, ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার ১৮০টি আসনে ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের ওপর দুই ধাপে এই জরিপ চালানো হয়েছে।
ভোট স্থানান্তরের প্রবণতা ও রাজনৈতিক মেরুকরণ জরিপের সবচেয়ে আলোচিত তথ্য হলো সাবেক সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভোটারদের গতিপথ। দেখা গেছে, আগে যাঁরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতেন, তাঁদের ৪৮.২ শতাংশ এবার বিএনপিকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া ২৯.৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৬.৫ শতাংশ জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ১৩ শতাংশ ভোটার অন্য দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন।
নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি প্রবল ঝোঁক দেখা গেছে। ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেবেন এমন তরুণদের ৩৭.৪ শতাংশ জামায়াতকে, ২৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে চান।
নির্বাচনী ইস্যু ও ভোটারের অগ্রাধিকার জরিপে উঠে এসেছে যে, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে প্রধানতম ইস্যু হলো ‘দুর্নীতি’। প্রায় ৬৭.৩ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তিকে প্রাধান্য দেবেন। এছাড়া অন্যান্য বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো:
ধর্ম (৩৫.৯ শতাংশ)
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
দেশের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
জননিরাপত্তা
ভোটাররা ব্যক্তিগত ক্যারিশমার চেয়ে ‘জনদরদি’ প্রার্থীকে বেশি পছন্দ করছেন। দল ও প্রার্থী—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন ৩৩.২ শতাংশ মানুষ।
নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত যুক্তরাজ্যের রেডিং ইউনিভার্সিটির ভিজিটিং প্রফেসর এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোট দেওয়ার আগ্রহ ইতিবাচক হলেও ভোটের দিনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৮ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন, যাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারে নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে। নারী ও বয়স্ক ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়া নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকে কঠোর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন, মানুষের মধ্যে উৎসবের পাশাপাশি ভোট সুষ্ঠু হওয়া এবং ব্যালট বাক্স দখল হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভোটাররা এখন ধর্মের চেয়ে দুর্নীতিমুক্ত নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।




