ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অনেক ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের বাস্তব সংস্কার কার্যক্রম দেখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, টিআইবির লোকজন চোখে সব কিছু দেখতে পায় না। ওদের তো দিব্যদৃষ্টি নেই, ভালো দৃষ্টিও নেই। দেখতে চাইলেও অনেক কিছু তারা দেখতে পারে না। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এই সরকার উন্নয়ন বা সংস্কার যতটা দৃশ্যমান দেখাচ্ছে, বাস্তবে ততটা হয়নি– টিআইবির এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, টিআইবি শুধু আইনকানুনের দিকটাই দেখে। অথচ অনেক প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে, যেগুলো তারা দেখছে না। উপদেষ্টা বলেন, কেউ যদি না দেখার ইচ্ছা করে, তাহলে অনেক কিছুই উপেক্ষা করা যায়। তবে তিনি টিআইবির বদনাম করছেন না। যেগুলো মৌলিক বিষয়, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়ার কথা বলছেন।
দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে দেশের অর্থনীতিকে কোন অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন– এমন প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি মনে করেন, অর্থনীতি এখন একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। সামনে যে সরকার আসবে, তাদের খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হবে না। বেকারত্ব বেড়ে যাওয়া সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি বড় চ্যালেঞ্জ। ছোট ও মাঝারি শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো দরকার ছিল, কিন্তু সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংক চেষ্টা করেছে, তবে বড় কারখানাগুলোতে শ্রমনির্ভরতা তুলনামূলক কম।
অর্থনৈতিক অবস্থাকে ‘সন্তোষজনক’ বলা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি বলেন, সন্তোষজনক বলতে তিনি স্থিতিশীল অবস্থার কথা বোঝাচ্ছেন। অর্থনীতি আগের মতো নড়বড়ে অবস্থায় নেই, ভবিষ্যৎ সরকার এটিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে জাতীয় বেতন কমিশন যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেন অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করে যাবে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সঙ্গে বেতন কমিশনের দেওয়া সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রেখে যাবে বলে জানান তিনি।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, তিনি তাঁর পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন এবং এখন আর কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর স্ত্রীও পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। উপদেষ্টা বলেন, শুধু তিনি নন, অনেকেই পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী সবারই কূটনৈতিক পাসপোর্ট সারেন্ডার করতে হয়।
সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে মরক্কো, সৌদি আরব এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে মোট দুই লাখ ১০ হাজার টন সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব সার কেনায় মোট ব্যয় হবে এক হাজার ৩৭০ কোটি টাকা।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সাইফুল আলম (এস আলম) ও তাঁর পরিবারের করা মামলার বিরুদ্ধে লড়তে ব্রিটিশ ফার্ম হোয়াইট অ্যান্ড কেইস এলএলপিকে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনি লড়াই ও এ সম্পর্কিত কাজে ফার্মটিকে ঘণ্টায় এক হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অর্থ পাচারের ব্যাপারে এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কোনো দেশের সরকার বা কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আইসিএসআইডি আরবিট্রেশন করে। আরবিট্রেশন আমাদের নোটিশ দিয়েছে। আরবিট্রেশনকে জবাব দিতে হবে আমাদের এবং এটা খুব কমপ্লিকেটেড, সহজ তো না।’
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম ও তাঁর পরিবারের আইনজীবীরা সালিশি মামলার আবেদন জমা দেন। আবেদনে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এসব পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির পরিপন্থি। বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন।




