পৈশাচিক আচরণ আর বিকৃত মানসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা জেফ্রি এবস্টেইনের নাম আবারো বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। যৌনপাচার ও কিশোরী নির্যাতনের ভয়ঙ্কর অভিযোগে অভিযুক্ত এই কুখ্যাত ধনকুবেরের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নতুন নথি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
তদন্ত নথিতে ট্রাম্প ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব সম্প্রতি এবস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত নথির বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব নথিতে কারা কারা তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং কারা তার নেটওয়ার্কের আশেপাশে ছিলেন, তা নিয়ে আবারো প্রশ্ন উঠছে। এই নথিতে এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন যে, দেশকে এখন সামনে এগিয়ে যেতে হবে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছুই নেই। এসব বাদ দিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের পাল্টা দাবি ও ইমেইল রহস্য তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এই দাবি পুরোপুরি নির্ভুল নয়। প্রকাশিত নথিতে ট্রাম্পের নাম ৬,০০০ এরও বেশি বার এসেছে। যদিও ৯০-এর দশকের পর তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল বলে ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিন্তু ২০১১ সালে এবস্টেইনের লেখা একটি ইমেইল নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ওই ইমেইলে এবস্টেইন লিখেছিলেন যে, “ট্রাম্পের বিষয়টি এখনো জনসম্মুখে আসেনি।”
বিপাকে বিল গেটস ও ইলন মাস্ক শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই নন, এই নথির কারণে বিপাকে পড়েছেন বিশ্বের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিত্ব। বিল গেটস এবং ইলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের এই নথিতে তাঁদের নামের উপস্থিতির বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিতে হয়েছে।
গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক এদিকে নথি প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু গোপনীয়তা রক্ষার ত্রুটি নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় ভুক্তভোগীদের পরিচয় সঠিকভাবে গোপন না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এবস্টেইন কেলেঙ্কারি শুধু একজন ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং ক্ষমতা, অর্থ আর অন্ধকার জগতের ভয়াবহ বাস্তবতা তুলে ধরেছে। নতুন নথিগুলো এই বিতর্ককে আরও গভীর করে তুলেছে।




