নির্বাচনী মৌসুম এলেই চায়ের কাপে জমে ওঠে রাজনৈতিক আড্ডা। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—দিন কিংবা রাত, সর্বত্র গমগম করছে চায়ের দোকান। ভোটের উত্তাপে চায়ের কাপে চুমুকের সঙ্গে চলছে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা আর মতবিনিময়। এর প্রভাব পড়েছে চায়ের বাজারে—বিক্রি বেড়েছে চা, চিনি, রুটি, কেক ও বিস্কুটেরও।
চায়ের দোকানিরা বলছেন, শীত মৌসুমে এমনিতেই চায়ের চাহিদা বেশি থাকে। তার ওপর জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মানুষের আনাগোনা ও আড্ডা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেক দোকানে আগে যেখানে দিনে ১৫০ কাপ চা বিক্রি হতো, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ কাপ পর্যন্ত।
নির্বাচনী প্রচারণায় সারা দেশ এখন মুখর। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই চায়ের দোকান হয়ে উঠেছে আলোচনা কেন্দ্র। চায়ের কাপে চুমুকের ফাঁকে চলছে প্রার্থী, দল ও নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে আলোচনা। দোকানিরা জানান, চায়ের পাশাপাশি রুটি, কেক ও বিস্কুটের বিক্রিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি চাহিদা মেটাতে অনেক দোকানি নতুন কাপ-কেটলি কিনেছেন, কেউ কেউ আবার মৌসুমি চায়ের দোকানও খুলেছেন।
এক চা-দোকানি জানান, নির্বাচনের আগে যে পরিমাণ চা বিক্রি হতো, এখন তার তুলনায় বিক্রি দ্বিগুণেরও বেশি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দোকানে ভিড়ও তত বাড়ছে।
এদিকে চাহিদা বৃদ্ধির প্রভাবে চায়ের দামে প্রভাব পড়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চা ও চিনির দাম বাড়িয়েছে। খোলা ও প্যাকেট চায়ের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে যে চায়ের প্যাকেটের দাম ছিল ৩৬০ টাকা, তা এখন বেড়ে হয়েছে ৪২০ টাকা।
বিপণন প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, দেশের চায়ের বাজার বর্তমানে চার হাজার কোটি টাকার বেশি। নির্বাচনী আমেজ এ বাজারে বাড়তি গতি এনেছে বলে তারা মনে করছেন।
টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, ভালো মানের চায়ের দাম সব সময়ই তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে এবার নিম্নমানের চায়ের দামও বেড়েছে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর মতে, নির্বাচনী মৌসুমের কারণেই চায়ের দামে এই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
চায়ের বিক্রি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঙ্গা হয়েছে চিনির বাজারও। সব মিলিয়ে ভোটের উত্তাপে রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি জমে উঠেছে চায়ের ব্যবসাও।




