জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি হওয়ায় রপ্তানি বাড়বে

0
5

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি দেশের রপ্তানি বাণিজ্য বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ী-বিশেষজ্ঞরা চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এলডিসি উত্তরণের পরও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় রপ্তানিকারকদের দীর্ঘদিনের বড় উদ্বেগ অনেকটাই দূর হয়েছে। আবার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রাক্কালে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। একদিকে চুক্তিটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য কিছু উল্লেখযোগ্য ঝুঁকির কথাও উঠে আসছে। ব্যবসায়ী নেতারা জানান, চুক্তিতে বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ব্যবসার পরিবেশকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে সরকারের জন্য বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এতে দুর্নীতিবিরোধী বিষয়ে বিস্তারিত বিধানও রাখা হয়েছে। ইপিএ চুক্তির আওতায়, কোন ব্যবসায়ীর আমদানি করা পণ্যে মিস-ডিক্লারেশন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হলে এর ফলে সরকারের যে পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হয়, সেই পরিমাণ জরিমানা করা যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে। এদিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানায়, এই ইপিএ বাংলাদেশের বাণিজ্য কূটনীতিতে একটি ‘ঐতিহাসিক ধাপ’। বিজিএমইএ বলেছে, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকবে এবং এক ধাপে উৎপাদনসহ অনুকূল রুলস অব অরিজিন কার্যকর থাকবে, যার ফলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও পোশাক পণ্য শুল্ক ছাড়াই জাপানের বাজারে প্রবেশ করতে পারবে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ব্যাপক পরিসরের পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পোশাক, কাপড়, অ্যাকসেসরিজ, মোটর যন্ত্রাংশ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, কাচ, ধাতু, গয়না ও ওষুধ। এ ছাড়া ১২ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে জাপানি গাড়ি আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের সাবেক মহাপরিচালক ও জাপানের সঙ্গে ইপিএ আলোচনায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, চুক্তির কপি বিশ্লেষণে দেশীয় কয়েকটি খাতের জন্য সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জও চিহ্নিত হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্লাস্টিক সেক্টর যথেষ্ঠ শক্তিশালী এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করলেও ইপিএ চুক্তির আওতায়, জাপানি প্লাস্টিক পণ্য শূন্য শুল্কে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে। এ ছাড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং (হালকা প্রকৌশল) পণ্য এবং সব ধরনের গ্লাস আমদানিতে জাপানকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here