ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটিতে তাকে একজন পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলতে এবং আলোচনার শেষে তাকে এক হাজার টাকা দিতে দেখা যায়।
এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেকেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার অনুদান বা চাঁদা প্রদান করা নিষিদ্ধ। এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
সমালোচনার মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তার ফেসবুক পেজে ‘মানবিক আবেদন’ শিরোনামে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মিরপুর এলাকায় গণসংযোগের সময় ওই পান বিক্রেতার সারাদিন বিক্রি না হওয়ার কথা জানতে পেরে তিনি কেবল মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকাটি দিয়েছিলেন। এছাড়া একই এলাকায় শিশুদের র্যাকেট কেনার জন্যও তিনি কিছু টাকা উপহার হিসেবে দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এটি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, বরং নিছক মানবিক সাহায্য ছিল এবং গণমাধ্যম যেন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রচার না করে।
শাহরিয়ার কবির তার পোস্টে জুলকারনাইন সায়েরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেন, তার এই মানবিক কাজকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি এই ঘটনায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানান এবং মানুষ হিসেবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
ভাইরাল ভিডিওটির সংলাপে দেখা যায়, শাহরিয়ার কবির ওই বিক্রেতার কাছে ব্যবসার অবস্থা জানতে চাইলে বিক্রেতা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আতঙ্কের কথা জানান। উত্তরে শাহরিয়ার কবির তাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে, রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনি ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার নোটটি গুঁজে দেন।




