গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখির কারুকার্য

0
8

গ্রামবাংলার প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পী বাবুই পাখি—তার নিপুণ বুননে তৈরি বাসা একসময় ছিল গ্রামীণ সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তালগাছের পাতায় ঝুলন্ত সেই কারুকার্যময় বাসা শুধু পাখির আবাস নয়, ছিল প্রকৃতির জীবন্ত স্থাপত্য। কিন্তু পরিবেশের পরিবর্তন, তালগাছ নিধন ও মানবসৃষ্ট নানা কারণে আজ বাবুই পাখি ও তার বাসা দুটোই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে।

এক সময় বাংলার মাঠ-ঘাট, পুকুরপাড় ও গ্রামাঞ্চলের তালগাছে সারি সারি বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়তো। বাতাসে দুলতে থাকা সেই বাসাগুলো গ্রামীণ দৃশ্যকে দিত আলাদা মাত্রা। কবিতায়ও এসেছে বাবুইয়ের শিল্পীসত্তা—খড়-কুটো দিয়ে গড়া তার নিখুঁত নির্মাণশৈলী আজও বিস্ময় জাগায়। অথচ কালের বিবর্তনে সেই পরিচিত দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়ে গেছে।

সাতক্ষীরা জেলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তালগাছ কমে যাওয়ায় বাবুই পাখির আবাসস্থলও দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। শুধু তালগাছ নয়—নারকেল, সুপারি ও অন্যান্য উঁচু গাছেও তারা বাসা বাঁধে। কিন্তু নির্বিচারে গাছ কাটার ফলে নিরাপদ আবাস হারিয়ে বিপদে পড়ছে এই পাখি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে একটি গাছে ১০–২০টি পর্যন্ত বাবুইয়ের বাসা ঝুলতে দেখা যেত। শিশু-কিশোরদের কৌতূহল, ঢিল ছোড়া কিংবা বাসা সংগ্রহের প্রবণতাও ক্ষতির একটি কারণ। অনেক ক্ষেত্রে ডিম ও বাচ্চাসহ বাসা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে এবং সংখ্যা কমে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে।

প্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝড়-ঝঞ্ঝা ও বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবও বাবুই পাখির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাধ্য হয়ে অনিরাপদ স্থানে বাসা বানাতে গিয়ে ঝড়ে বাসা ভেঙে পড়া বা মানুষের হাতে ধ্বংস হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে।

স্থানীয় মাষ্টার হাসানুজ্জামান বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি ও বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম। বাবুই পাখির মতো প্রাকৃতিক কারিগরকে টিকিয়ে রাখতে হলে তালসহ দেশীয় বৃক্ষরোপণ, বাসা ধ্বংস বন্ধ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

প্রকৃতির এই নিখুঁত শিল্পীকে রক্ষা করতে এখনই উদ্যোগ না নিলে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বাবুই পাখির বাসা শুধু বইয়ের পাতায়ই দেখবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here