মন্ত্রিসভায় থাকছে চমক

0
8

আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে ত্বরিতগতিতে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এমনটা এক প্রকার নিশ্চিত।

আগামীকাল মঙ্গলবার হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। কারা থাকবেন সেখানে, কাদের নিয়ে গঠিত হচ্ছে মন্ত্রিসভা- সেটাই এখন সকলের আগ্রহের বিষয়, ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ও। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে এ প্রশ্নে জবাবে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, নবীন-প্রবীণের মিশেলে হবে এবারের চমকের মন্ত্রিসভা। যেভাবে সারাদেশে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই ছাপ দেখা যাবে মন্ত্রিসভাতেও।

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের ঠাঁই হবে মন্ত্রিসভায়। ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও বিএনপির জোটসঙ্গী কয়েকজনও স্থান পাবে মন্ত্রিসভায়। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে যারা হাল ধরে ছিলেন তাদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে, সেটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিএনপির বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতাই এবার নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাচ্ছেন, সেই ধারণাই পাওয়া গেছে দলটির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদের মতো পরীক্ষিতরা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

এ ছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, লুৎফুজ্জামান বাবর, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, মাহবুব উদ্দিন খোকন, ওসমান ফারুক, আলী আজগর লবি, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মো. বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নওশাদ জমির, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, নিতাই রায় চৌধুরী, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওশাদ জমির, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও এসএম জিলানীর নাম নিয়েও চলছে আলোচনা।

জোটসঙ্গীদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নূর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জোর আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে। সর্বশেষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের সময় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য, তিনি ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নকল দমনে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন। অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, জোর গুঞ্জন রয়েছে, বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ হতে পারেন রাষ্ট্রপতি। তেমনি হলে রুহুল কুদ্দুস তালুকদারকে দেখা যেতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার। আইএমএফে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে তথ্য অথবা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় জোর গুঞ্জন চলছে- দলটির সিনিয়র নেতা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বস্ত্র ও পাট), আবদুল আওয়াল মিন্টু (সমাজকল্যাণ), আবদুস সালাম পিন্টু (শিল্প), এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী (স্বরাষ্ট্র), মাহবুব উদ্দিন খোকন কিংবা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান (আইন ও বিচার),  ইকবাল মাহমুদ টুকু (কৃষি), আমান উল্যাহ আমান (ডাক, টেলিযোগাযোগ), ব্যারিস্টার নওশাদ জামির (খাদ্য), শামা ওবায়েদ (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), নিতাই রায় চৌধুরী (যুব ও ক্রীড়া), সানজিদা ইসলাম তুলি (মহিলা ও শিশু), মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ (ধর্ম), লুৎফুজ্জামান বাবর (পানি সম্পদ), শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী (প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক), জয়নুল আবেদীন ফারুক (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), হাবিবুর রহমান (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা), আজিজুল বারি হেলাল (পরিবেশ ও বন), শিমুল বিশ্বাস (সংস্কৃতি), ববি হাজ্জাজ (পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী), হুম্মাম কাদের চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান) এবং জোট সঙ্গী আন্দালিব পার্থ (রেলপথ), নুরুল ইসলাম নুরু (নৌ পরিবহন) এবং জোনায়েদ সাকি (ভূমি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় যারা আলোচনায় রয়েছেন ॥
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকেও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলও আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এ ছাড়া ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাককেও যে কোনো দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জনকণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কে কোন মন্ত্রণালয় ভালো করবেন তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যান পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তবে, এ মুহূর্তে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here