একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন তারেক রহমান

0
8

বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশের মাটিতে বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরে এক সংবর্ধনা সম্মেলনে বলেছেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

পরবর্তীতে তিনি তার পরিকল্পনার কথা সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সমাবেশে তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনায় তিনি মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলার স্থিতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জাতিকে জানিয়েছেন। তারেক রহমানের পরিকল্পনায় মানুষ সন্তুষ্ট হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপহার দিয়েছেন। এককভাবে ২০৯ আসন লাভ করে পুরো মন্ত্রিসভা গঠন করেন তারেক রহমান।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর শপথ নেন গত মঙ্গলবার।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে তারেক রহমান দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষা করে বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার কথা ব্যক্ত করেন।

একই সঙ্গে তিনি দেশে আইনের শাসনের কথা ধীরভাবে ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কোনো পক্ষ থেকেই কোনো রকম অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতনকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয়কৃত জ্বালানি ব্যবহার করবেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। আজ দিনের কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী সাভার ও শেরেবাংলা নগরে গিয়েছিলেন নিজের টয়োটা গাড়িতে চড়ে। সেখান থেকে সচিবালয়ে গিয়েছেন সেই গাড়িতেই।

বিএনপি সূত্র জানায়, যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সংখ্যা ছিল ১৩–১৪টি। আজ সেটি কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী এখন থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক সচিবালয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে সব মন্ত্রীদের সচিবালয় থেকে যাতায়াতে জট সৃষ্টি হয়, ভিআইপি চলাচলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তির মুখে পড়ে। সেসব কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে বেশিরভাগ সময়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে সড়কের দুইধারে পোশাকধারী পুলিশের অবস্থানের যে বিধান, তা বন্ধ করার জন্যও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।

সকালে গুলশানের বাসা থেকে নিজের সাদা টয়োটা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এই সময়ে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কম ছিল।

সাভার থেকে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। দুই জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুরো মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছিলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে যান।

এদিকে গতকাল বুধবার ছিল তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম কার্যদিবস। সচিবদের তিনি বলেছেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবেরা আন্তরিক হবেন—সেই আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘সবাইকে আমরা বলেছি, কে কার কী অ্যাফিলিয়েশন (সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।’

বুধবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সকলকে নির্দেশ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

অগ্রাধিকার তিনটি হলো—দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান এবং চরমোনাই পীরের সঙ্গে দেখা করে তারেক রহমান রাজনীতির মাঠে অন্যরকম চমক দেখিয়েছেন। এসব জাতীয় নেতৃবৃন্দকে তারেক রহমান নিজের বাসায় না ডেকে, তিনি নিজেই সকলের বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের এমন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি চান সকল দল-মতের মানুষকে নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। নির্বাসিত জীবন শেষ করে ৫৫ দিনের মাথায় তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেক ইতিবাচক ধারা প্রবর্তন করেছেন।

তারা মনে করেন, দেশের সকল রাজনীতিবিদ এবং যারা যে দায়িত্বে আছেন, তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কাজী মাহাবুবুর রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এদেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। তারেক রহমান যে ধারায় রাজনীতি শুরু করেছেন এবং দেশের দায়িত্ব পালন করছেন, তাতে আমরা আশাবাদী। আমরা আশা করছি, আগামীর বাংলাদেশে ভালো কিছু হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here