অন্যতম চ্যালেঞ্জ সিন্ডিকেট দমন

0
4

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করছে বিএনপি। সরকার গঠনের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ করেন জনপ্রতিনিধিরা। এই শপথের মাধ্যমেই শুরু হয়েছে নতুন সরকারের যাত্রা। বিএনপি এমন একটি সময় দায়িত্ব নিয়েছে যখন মুসলিম জাহানের অতি পবিত্র মাস ‘মাহে রমজান’ আসা মাত্র। পবিত্র এই মাসটি এলেই দেখা দেয় নানা ধরনের খাদ্য সংকট। বেড়ে যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জন্য পীড়াদায়ক হয়ে দাঁড়ায়। তাই ঊর্ধ্বগতির এই বাজার নিয়ন্ত্রণ যে নতুন সরকারের প্রথম চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পবিত্র এই মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে ইবাদত বন্দেগিতে নিজেদের সমর্পণ করে। রোজা পালনে প্রায় ১২-১৪ ঘণ্টা অনাহারে কাটান। বৈজ্ঞানিক মতে, দীর্ঘ সময় অনাহারে কাটানোর ফলে শরীরে সৃষ্টি হয় পুষ্টিজনিত ঘাটতি। আর এই ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টির এই চাহিদা পূরণে মুসলিম বিশ্বের ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে নানা রকম মূল্য-ছাড় দিয়ে থাকে। কিন্তু মুসলিম দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পবিত্র এই মাসটিকে ঘিরে মুসলিমরা যেমন উৎসবে মুখরিত হয়ে থাকে, তেমনি বেড়ে যায় চাঁদাবাজ ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য। বাড়িয়ে দেওয়া হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে মাছ-মাংস থেকে শুরু করে চাল, ডাল, ডিম, আলু, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ায় সিন্ডিকেট চক্র। রমজানে এমন ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার হারাবে। বঞ্চিত হবে আমিষসহ পুষ্টিজনিত খাবার থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলে বিশাল অঙ্কের একটি গোষ্ঠী পুষ্টিহীনতায় পড়তে পারে। ফলে দেখা দেয় নানা রকম অপুষ্টিজনিত রোগ।
গত রমজানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ফেরেনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে। কয়েকবছর ধরে প্রতিটি পণ্যের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়েই চলছে। লাগামহীন এসব পণ্য এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। যা তাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। এই মূল্য বৃদ্ধি যে ঈদের আগে চরম রূপ ধারণ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, এ দেশের বাজার নিয়ন্ত্রণ হয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। যাদের মূল লক্ষ্যই রমজানে অধিক মুনাফা অর্জন। তাই তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে। রমজান এলেই সকল ধরনের নিত্যপণ্য ও খাদ্যসামগ্রী মজুত করে ফেলে। মজুত কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে। মানবসৃষ্ট এই কৃত্রিম খাদ্য সংকটের কারণে বাজারে চাহিদার চেয়ে যোগান হয় নিম্নমুখী। অর্থনীতির ভাষায়, ‘যোগানের চেয়ে চাহিদা বেশি হলে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায়’। এটাকে পুঁজি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে। আর এই খুচরা ব্যবসায়ীদের হাত ধরেই অর্থ যায় সিন্ডিকেটদের পকেটে।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারের প্রেক্ষাপট একদমই আলাদা। পূর্ববর্তী সরকার রমজানকে ঘিরে নিজেদের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সময় পেলেও পাচ্ছে না নতুন সরকার। তারা এমন একটি সময় সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে চলেছে যখন রমজান শুরু। তাই বলা যেতে পারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও প্রয়োজনের জন্য এখন সুযোগ থাকছে না তাদের হাতে। অন্যদিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, অগোছালো প্রশাসন, এবং চাঁদাবাজরা ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত প্রতিকূলতার পরেও সরকারের থেমে থাকা চলবে না। যেহেতু তারা জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই জনগণের অসুবিধা লাঘব করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। রমজানে বাজারে স্বস্তি ফেরানোকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কয়েকটি টিম গঠন করে মাঠে নেমে পড়তে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনকে জোর দিতে হবে সিন্ডিকেট ভাঙতে। বিশেষ ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের মাধ্যমে চক্রগুলোকে আইনের আওতায় নিয়ে এসে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। শুধু সিন্ডিকেটই নয়। মূল্যবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে চাঁদাবাজ চক্র। যাদের কারণে পরিবহন খরচসহ ব্যবসায়ীদের অপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়ে যায়, যা সরাসরি মূল্যে প্রভাব ফেলে। তাই শহর কেন্দ্রিক স্বেচ্ছাচারী সংগঠনগুলোকে দায়িত্ব দিতে হবে চাঁদাবাজদের রুখতে। তবেই সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সফল হতে সক্ষম হবে।
পরিশেষে বলতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যবসা একটি মহৎ পেশা। হাশরের ময়দানে সাধু ব্যবসায়ীদের স্থান হবে শহীদদের সঙ্গে আর অসাধুদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তাই আসুন, অসৎ উপায়ে অর্থ  উপার্জন না করে একটি ক্রেতা বান্ধব বাজার গড়ে তুলি। এবং নতুন সরকারকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here