তিস্তা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান

0
6

শ্রেণি বিভক্ত সমাজে প্রথম এবং চিরস্থায়ী যে বিভাজন সময় আর সভ্যতাকে নাড়া দিয়েছে তা হলো নারী-পুরুষ বিভেদ পার্থক্য। যা একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের মধ্যাহ্নে ও তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তাছাড়া শব্দটি যৌক্তিক না হলেও কঠিন রূঢ় এক সত্যবচন। যা আজও ঘোচানো গেলই না। তথ্য প্রযুক্তির নব বিশ্বায়নে তা আরও অসহনীয় এক দুর্বিসহ বাতাবরণ। শ্রম শক্তি যে কোন সমাজ সংস্কারের অবধারিত নির্ণায়ক যা শুধু পরিবেশ পরিস্থিতির নির্ধারকই নয় বরং অভাবনীয় এক শীক্ত ময়তার চূড়ান্ত নির্দেশক। আর যে কোনো সমাজের অর্থনীতি পুরো ব্যবস্থার নির্ণায়কই নয় বরং চারিকা শক্তির বিচারেও অগ্রগণ্য।
স্বৈরাচার পতনের পর নতুন ও বদলে যাওয়া আধুনিক বাংলাদেশ পুনরায় নতুন অবয়বে তৈরি করতে গেলে হরেক বৈষম্য বিভাজন চিহ্নিত করাও জরুরি। আর শ্রম বাজারে অর্ধাংশ নারীর সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া পরিবর্তিত পরিবেশকে আরও বেশি করে ন্যায্যতা দেওয়া। তবে ইদানীং নারীর শ্রম বাজারে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে পিছু হটা কোনোভাবেই মান্যতা পায় না। সমসংখ্যকের যে কোনো একটি অংশ যদি তার অধিকার, ন্যায্যতা কিংবা এগিয়ে যাওয়ার পথে পিছিয়ে যায় তাহলে সার্বিক উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি অধরা থেকেই যাবে। আর অর্থনীতিতে তো অনেকখানিই। তাছাড়া দশভুজা নারীরা একদিকে সংসার চালান অন্যদিকে কর্মজীবন ও নির্বিঘেœ সম্পন্ন করা সমতার আদলে সবাই এগিয়ে চলার পরম বার্তা তো বটেই। যদিও নারীদের গৃহশ্রমকে কখনোই ধর্তব্যের মধ্যেই আনা হয় না। বরং বিধাতার সৃষ্টিযজ্ঞের অন্যতম কর্মযোগ হিসেবেই ধরা হয়।
সম্প্রতি অর্থনীতি ও ইডেন মহিলা কলেজের এক আলোচনা সভায় নতুন এমন সব সার্বজনীন চিরস্থায়ী তথ্য সত্য উঠে আসছে। শুধু বর্তমানে বিভিন্ন শ্রম শক্তিতে উদ্বেগজনক হারে নারীর অংশগ্রহণ কমে যাওয়াও সংশ্লিষ্টদের জন্য কোনো শুভ সংকেতই নয়। বরং অবধারিত চিরস্থায়ী দুর্ভোগের সময়ের গতিতে আরো বেহাল অবস্থাকেই প্রতীয়মান করছে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ইডেন মহিলা কলেজের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভায় এই আশঙ্কা উঠে আসে। নারীর ক্ষমতায়ন নতুন কিছু নয়Ñ যা যুগ যুগান্তরের পরম নির্মাল্য। সেই সৃষ্টি আদিকাল থেকেই সমাজ সংস্কারের কৃষি সভ্যতার বিকাশও নারীর হাতেই তৈরি হয়েছে বলে নৃ ও সমাজ বিজ্ঞানীদের বদ্ধমূল ধারণা। এমনকি পৃথিবীতে যে আদি ও অকৃত্রিম সংগঠন পরিবার তাও মাতৃতান্ত্রিক বলে আমেরিকান নৃবিজ্ঞানী লুইস হেনরি মর্গান তাঁর আদিম সমাজ বইটিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ভিত্তিতে গবেষণা চালিয়ে এমন চিরস্থায়ী বরমাল্য দুনিয়াকে উপহার দেন। শুধু কি তাই? পরিবার হিসেবেও মাতৃতান্ত্রিকই সবার আগে প্রতিষ্ঠা পায়। অবাধ স্বেচ্ছার আর দলগত বিয়েতে পিতার পরিচয় ছিল এক অজানা বিস্ময়। মায়ের জঠর থেকে সন্তান আসতো বলে মাকেই চেনা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here