মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার জবাবে ইরানের বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণে উত্তাল হয়ে উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই যুদ্ধাবস্থার কবলে পড়ে দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরে আটকা পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বর্তমানে জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক অবস্থান করছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাহাজটি থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাতার থেকে ৩৮ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন স্টিল কয়েল নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি জাহাজটি এই বন্দরে পৌঁছালেও নিরাপত্তার খাতিরে বর্তমানে এটি জেটিতেই স্থির রয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম. মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন যে, জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তারা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে দুবাইয়ে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় এক বাংলাদেশিসহ তিনজনের নিহতের খবর জেবেল আলী বন্দর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। বিএসসি বহরের বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে নিরাপদ অঞ্চলে থাকলেও ‘জয়যাত্রা’ নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। নাবিকদের পর্যাপ্ত খাবার ও পানি মজুত রাখার পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বিএসসির একমাত্র জাহাজ হিসেবে বর্তমানে এটি বন্দরে অবস্থান করছে। নাবিকদের জীবন রক্ষায় জাহাজটিকে জেটিতেই নিরাপদ অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৩৮ হাজার টনেরও বেশি স্টিল কয়েল খালাসের কাজ শুরু করা হচ্ছে না।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে সার্বক্ষণিক নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দীর্ঘমেয়াদী অবরোধ বা যুদ্ধের আশঙ্কায় জাহাজে অতিরিক্ত খাদ্য ও সুপেয় পানি সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির বাকি ছয়টি জাহাজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও রাশিয়ার মতো নিরাপদ দেশের বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে, যা বিএসসির জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয়।
দুবাইয়ে ইরানের হামলায় এক বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনাটি জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানরত নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।




