মঞ্চস্থ শিশুনাট্য ‘আয়না’ শত্রু বাইরের কেউ নয়, নিজেদের আচরণ

0
4

শিল্প-সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে সবকিছুই যেন বড়দের জন্য। ছোটদের পরিবেশনার গুরুত্ববহ উল্লেখযোগ্য আয়োজনের দেখা মেলে না। সেই বাস্তবতায় চমৎকার এক উদ্যোগ নিয়েছে স্পর্ধা একাডেমি অব পারফর্মিং আর্টস। রমজান মাসে সোনামনিদের নিয়ে নয়া মঞ্চনাটক নির্মাণ করেছে স্পর্ধা। শিশুতোষ এ নাটকের নাম ‘আয়না’।
শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান দুই নম্বর সড়কের স্পর্ধা অ্যাটেলিয়ারে মঞ্চস্থ হয়েছে এ প্রযোজনা। ১২ সপ্তাহব্যাপী অভিনয় প্রশিক্ষণ শেষ করা ১৩ প্রতিভাবান শিশু অভিনয় করেছে এই নাটকে। নাটক পরিচালনা করেছেন মো. সোহেল রানা। প্রদর্শনীর সময় উপস্থিত ছিলেন শিশু শিল্পীদের বাবা-মা, পরিবার এবং অন্যান্য নাট্যপ্রেমী। এছাড়া আগ্রহী দর্শকের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই পরিপূর্ণ হয়ে যায় মিলনায়তন।
প্রাণিরাজ্যের গল্পকে উপজীব্য আবর্তিত হয়েছে আয়না নাটকের কাহিনী। সেই গল্পে বনের সব প্রাণি একসঙ্গে থাকলেও সেখানে শান্তির পরিবর্তে অশান্তি বিরাজ করে। ছোট-বড় বিবিধ বিষয় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বিবাদে লিপ্ত হয়। সব সময়ই চলতে থাকে ঝগড়া। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, আদিবাসী-অভিবাসী, ছোট দেশ-বড় দেশ, ধর্ম, জেন-জি ও বুমার-সব কিছুর জন্য তারা বিরোধে লিপ্ত হয়। কেউ নিজের ভুল দেখে না, শুধু অন্যের দোষ খুঁজে বের করে।
এমন বাস্তবতায় বনের রাজা সিংহ ক্লান্ত হয়ে যায় হাজারো বিচার করার পর। তখন সে একটি জাদুকরী আয়না আনে, সেই আয়নায় প্রত্যেকের নিজস্ব প্রতিফলন দেখা যায়। প্রথমে সবাই অবাক হয়। বানর, ভাল্লুক, হাতি, জেব্রা, চিতা, পায়রা- সবাই আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজের আচরণ দেখে। তখন তারা বুঝতে পারে যে ঝগড়ার কারণ হলো নিজেদের ভুল, অহংকার ও লোভ।
এরপর তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে ঝগড়া বন্ধ করবে, একসঙ্গে কাজ করবে এবং বনের সবাইকে নিরাপদ রাখবে। বোধোদয় ঘটায় শান্ত হয় বন। মিলেমিশে থাকতে শেখে সকলে। সিংহ বলে, সত্যিকারের শত্রু বাইরের কেউ নয়, আমাদের নিজের আচরণ। একে অপরকে  বোঝা এবং একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের বন সুন্দর হবে।
সব মিলিয়ে নাটকটি শিশুদের মাঝে অন্তর্ভুক্তি সমাজের গল্পকে মেলে ধরে। তাদের শেখায় যে নানা ধরনের মানুষ একসঙ্গে থেকে একটি বৈচিত্র্যময় ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়া সম্ভব, যদি আমরা নিজেদের সমালোচনা করি এবং আত্মদর্শন করি।
প্রযোজনাটিতে অভিনয় করা ৬ থেকে ১১ বছরের শিশু শিল্পীরা হচ্ছে- আজমাঈন আরাবি হৃদ্য, আমারিসা হার্টম্যান, অগ্নিমিত্রা মজুমদার পিয়েতা, মাহরুস আহসানউল্লাহ, মো. নাঈম, রানী খাতুন মিম, রিয়ামনি, তেহজীব সুহা আলিম, ওয়ারসান ওয়াসেক, অরুদ্ধ রুশদ আলী, আরফা জেহেন রেনেসা, রায়া আহমেদ ও ইনায়া মেহরীশ জুনাইরাহ।
নাটকটির নির্দেশনা সহযোগী শাহানাজ পারভীন জোনাকি ও সাদিয়া মরিয়ম রূপা। মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন সাদিয়া মরিয়ম রূপা ও ফাইজা চৌধুরী। পোশাক পরিকল্পনা করেছেন মহসিনা আক্তার। সংগীত পরিকল্পনা করেছেন অনিরুদ্ধ অনু।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here