মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে একটি ফরাসি বিমান। আরব আমিরাত থেকে ফরাসি নাগরিকদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী বিমানটি আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় মাঝপথ থেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ফ্রান্সের পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা এবং আকাশপথের অনিরাপদ পরিস্থিতির কারণে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার রাতে দুবাইয়ের বাসিন্দাদের ফোনে সম্ভাব্য ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়। যদিও পরবর্তীতে সেই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে, তবে দুবাইসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় যুদ্ধংদেহী উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার তারা ইরানের ছোড়া ৬টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০০টিরও বেশি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও আকাশপথের এই অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
উদ্ধারকারী ফরাসি বিমানটি আরব আমিরাতের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই ক্ষেপণাস্ত্রের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মিশন স্থগিত করে ফ্রান্সে ফিরে যায়।
পরিবহন মন্ত্রী ফিলিপ তাবারো জানিয়েছেন, নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এবং আকাশপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানের ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রেখেছে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় দুবাইয়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল, যা পর্যটন ও স্বাভাবিক জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
যুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের মূল ভূখণ্ডে কোনো নাগরিকের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি, তবে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।




